Saturday, August 20, 2022

KGF of Diamond City. ৪ # লিখা :- RAJA Bhuiyan. (মি.440) # পর্ব :- ০ ৪

 # গল্প :- KGF of Diamond City. ৪

# লিখা :- RAJA Bhuiyan. (মি.440)

# পর্ব :- ০ ৪

.............



আকাশে তাজা সূর্যের তীব্র আলো। শকুন আর গাংচিলদের ডানা ঢেকে রেখেছে আকাশটাকে। বাতাসে মিশে আছে রক্ত এবং বারুদের গন্ধ। চারদিকে মিঠে-কড়া রোদ, ছায়ায় বসন্তের আমেজ। অথচ একই এলাকার ব্যতিত অন্যন্য শহরে বর্তমানে আষাঢ় মাসের শেষ শ্রাবণের শুরু। দূর লক্ষে একজন ছেলে রাইফেল হাতে দাঁড়িয়ে আছে। বয়স তার বেশি না “ সতেরো আঠারো ” হবে হয়তো। হাফ হাতার নীল শার্টে ধূলোময়লা লেগে আছে। তার নরম হাতে রাইফেলটি বেমানান লাগছে। তবুও কিছু করার নেই, পরিস্থিতি তৈরি করেছে তাকে। 


তার ভেজা কালো কুচকুচে শরীরে ঝিকমিক করছে সোনালি রোদ। অলস দুপুর, রাস্তার পাশের একটা বিদুৎ তারের ওপর থেকে নিঃসঙ্গ এক কাক হঠাৎ জরুরি আবেদনের সুরে

কা - কা - কা করে ডেকে উঠছে। ছেলেটা চোখ তুলে তাকাতেই দেখতে পায় যে একজন অন্যমনস্ক বাদশা হেঁটে আসছে। লোহার তৈরী পোশাক তার, বেশ শক্ত পোক্ত,। পিস্তল কিংবা বন্দুকের বুলেট তার শরীরে লাগলেও ওর কিছু হবে না এমন লোহার তৈরী তার পোশাক। মাথার লম্বা চুল গুলো পিছনের দিকে ঝুটি করে বাঁধা অবস্থায় রয়েছে। গালের বিভিন্ন অংশে ঘন দাঁড়ি গুলো সাদা আকৃতি ধারণ করেছে। কাছ থেকে দেখলে বুঝা যায় তার বয়স বৃদ্ধি পেয়েছে। বয়সের তুলনায় সে এখনো নিজের যৌবন ধরে রেখেছে। বন্দুক হাতে হেঁটে আসছে সে, লম্বা নিঃশ্বাসে তার মদের গন্ধ বিদ্যমান।


সামনের দেয়ালে টার্গেট প্র্যাক্টিসের জন্য তার শীর্ষ বিন্দুতে একজন যুবক কে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তার হাতে পায়ে লোহার শিকল দিয়ে বেঁধে ফেলা হ'য়েছে। এখনকার সবাই যুবকটাকে এক নামে চিনে “ নিলয় ”। গত দু বছর ধরে সে কারাগারে বন্দি অবস্থায় ছিল। বর্তমানে এখানে যা কিছু হচ্ছে, চোখের সামনে সবকিছুর অবস্থান হচ্ছে “ KDF ” শহর, যার পূর্ণরূপ - Kolar Diamond Fields -। এখানকার বর্তমান বাদশার ‘ হায়দার ’। সেই ব্যক্তিটাই হায়দার যার শরীরে লোহার পোশাক পরিধান করা। 



রিক্কি ভাই কে যখন খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। তখনই হঠাৎ করে আবির্ভাব ঘটে এই নিলয়ের। সে সমস্ত শহরে রাজত্ব করতে শুরু করে, তখন তার রাণী ছিল ‘ নীলা ’। নিলয়ের নেতৃত্বে আবারও শুরু হয় মাইনিং এর কাজ। এক রাতে চারশো কোটি টাকার ডায়মন্ড পাচার করা হয় বর্ডার দিয়ে বার্মাতে। আস্তে আস্তে নিলয় টাকা এবং ক্ষমতার নেশায় আসক্ত হয়ে যায়। ডায়মন্ড সিটির সমস্ত জনগণের উপর সে তার বাহিনী দিয়ে আক্রমণ শুরু করে। দু বেলা খাবার খাওয়ার সুযোগ না দিয়ে সে মাইনিং এর কাজ করাতো এবং সেখান হতে ডায়মন্ডের উৎপত্তি হতো। এইভাবে চলছিল দিনকাল। তবে সেটা বেশিদিন টিকে নি। রিক্কি ভাইয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে হায়দার বসে না থেকে হঠাৎই KDF এর উপর আক্রমণ করে। কোন প্রস্তুতি ছাড়া এমনভাবে আক্রমণ নিলয় বুঝে উঠতে পারে নি। দু দিকের সৈনিক হতাহত হয়ে এক পর্যায়ে নিলয় তা সামাল দিতে ব্যর্থ হয়ে “ ফিফটি থ্রি ” দিনের রাজত্ব থেকে বহিষ্কার হয়ে কারাগারে বন্দি হয়। (কামাল)



আজকে প্রায় দু বছর পর নিলয়কে কারাগার থেকে বের করা হয়েছে। সিটির সমস্ত শ্রমিক গুলো কাজ বাদ দিয়ে এসেছে নিলয়কে কী শাস্তি দেয় হায়দার, সেটা দেখার জন্য। নিলয় আশেপাশে তাকায় রাইফেল তাক করে বেশ কিছু সৈনিক দাঁড়িয়ে আছে, তাদের আঙ্গুল ট্রিগার পর্যন্ত রাখা, অনুমতি পেলেই যেন ট্রিগারে চাপ দিয়ে দিবে। 


কিছুদিন যাবত ডায়মন্ড সিটিতে বেশ গরম পড়েছে অথচ সময়টা শীতকাল। কথাটা শুধু এখানেই গ্রহণযোগ্য কেননা বাংলাদেশের অন্যান্য অঞ্চলে বর্তমানে বর্ষকাল। হায়দার একটি সৈনিক কে চোখ দিয়ে কিছু একটা ইশারা করতেই সে দৌড়ে যেয়ে চেয়ার নিয়ে আসে। হায়দার চেয়ারে স্থির হয়ে বসে। বাম হাতে দিয়ে বন্দুকটি মাটিতে চেপে ধরলো, তার শরীরে সমস্ত ভর এখন বন্দুকের উপর। হুইস্কির বোতলে কয়েকটা চুমুক দিতে দিতে তার চোখ পড়লো, কতগুলো জনগণের মধ্যে নিচে বসে থাকা অন্ধ এক বৃদ্ধ লোকের দিকে। যেটা দেখে মুহুর্তের মধ্যে হায়দারের ঠোঁটের কোণে হাসি ফোটে উঠে। ওর পাশে অবস্থান করা একটি সৈনিক বৃদ্ধ লোকটাকে টেনেহিঁচড়ে হায়দারের সামনে এনে দাঁড় করায়। হায়দার হুইস্কির বোতলে শেষ চুমুক দিয়ে বন্দুক হাতে উঠে দাঁড়ায়। 


- এই নাজিবুর - নিলয়কে নিচে নামিয়ে তার হাত পা থেকে শিকল খুলে দে। 


কথাটা বলতে বলতে হায়দার নিজের লম্বা বাম্বু সিগারেট জ্বালাতে ব্যস্ত হয়ে যায়। নিলয়কে ছেড়ে দেওয়ার কথা শুনে উপস্থিত সকলে অবাক হয়ে যায়। নাজিবুর নামের সৈনিক টা নিজ জায়গা হতে নড়ে না। হায়দার সামনে তাকিয়ে যখন দেখতে পায় নিলয় এখনো উপরে ঝুলে আছে তখন সে রেগে বলে - 


- আমার কথা কী বুঝতে তোর অসুবিধা হচ্ছে নাজিবুর?


নাজিবুর কিছু বলতে গেলে এর আগেই নিলয় বলে উঠে - 


- আমি যেই অবস্থায় রয়েছি সেই অবস্থায়ই ভালো। 

- তোকে উপরে রেখে গেম খেলতে ভালো লাগবে না তাই নিচে নামাচ্ছি। (হায়দার) 

- আর কেমন গেম খেলতে বাকি রেখেছো তুমি? (নিলয়)

- হিহিহিহিহি,, আমি তো এখনো আমার খেলা শুরু করি নি। (হায়দার)


নিলয় কিছু বলে না চুপ করে আছে। নাজিবুর নিলয়কে নিচে নামিয়ে, তলোয়ারের এক আঘাতে শরীর থেকে শিকল খুলে দেয়। নিলয়ের এখন কেমন যেন হালকা হালকা মনে হচ্ছে। তার যদি পাখির ন্যায় ডানা থাকতো তাহলে কতোটাই না ভালো হলো বাঁধাহীন আকাশে নিশ্চুপ হলে ঘুরে বেড়াতো। সে ঐ সকল চিন্তা বাদ দিয়ে হায়দারের দিকে তাকায় - হায়দার তার নিজের বন্দুক টি ঐ অন্ধ লোকটার হাতে দিয়ে নিলয়ের দিকে তাক করায়। নিলয় ভয় পেয়ে নাড়াচাড়া করতে গেলেই দুইটা সৈনিক মিলে তাকে ঠিক জায়গায় দাঁড় করিয়ে দেয়। 


- সবাই বন্দুক নামিয়ে ফেল। আর একটা বন্দুক নিলয়ের হাতে দে। তার বন্দুকের বুলেটের কোন অভাব যেন না হয়। (হায়দার) 

হায়দারের মুখ থেকে এমন কথা শুনে সত্যিই অবাক করেছে নিলয়কে৷ আশেপাশের সকল জনগণের চোখ ছানাবড়া হয়ে গিয়েছে। নিলয় হাত বাড়ালে একজন সৈনিক তার নিজের কাঁধ থেকে রাইফেল টা খুলে নিলয়ের হাতে দেয়। প্রায় দু বছর পর হাতে বন্দুক পেয়ে তৃপ্তির মুচকি হাসি হাসে নিলয়। সে বন্দুকের বুলেট চেক করে নেয়, জোড়ায় জোড়ায় ছয়টা বুলেট লোড করা। 


- বুলেট চেক করে লাভ নেই। (হায়দার) 

- তুমি যে কত বড়ো ক্রিমিনাল সেটা আমার জানা আছে। (নিলয়)

- I am nat a criminal. I am King of diamond city. (হায়দার) 

- এই ডায়লগ বলার সময় শেষ হয়ে আসতেছে। তখন হয়তো ডায়লগ বলার জন্য তোমার ঐ মুখটা নাও থাকতে পারে। তোমার সবকিছু শেষ হয়ে যাবে আবারও।

- কে শেষ করবে? কে আছে আমার সাথে সংঘর্ষ করার মতো বীরবল? বল! তুই নিলয় হাজার বছর সাধনা করেও আর পারবি না। (হায়দার) 

- হিহিহিহিহি,, “ রিক্কি ভাই ”। সে আসবে আর তোমার সব কিছু কেড়েঁ নিবে। (নিলয়)

- হাহাহাহা....হোহোহোহো.. সে তো মারা গিয়েছে। এতদিন ওর লাশ পঁচে গিয়ে মাটিতে মিশে গেছে। 

- বাঘের ভয়ে সিংহ লুকিয়ে আছে ঠিকই কিন্তু আরেকবার ডায়মন্ড সিটিতে রাজত্ব করতে পিছ পা হবে না সে। তার আগমন অতি নিকটে। যেটা আমি দেখতে পাচ্ছি। (নিলয়)


হায়দার আর সহ্য করতে পারলো না, বৃদ্ধ লোকটার হাত থেকে বন্দুকটি নিয়ে গুলি করে নিলয়ের উদ্দেশ্যে। নিলয় সরে দাঁড়ায়। বন্দুকের বুলেট যেয়ে লাগে টার্গেট দেয়ালের শীর্ষ বিন্দুতে। হায়দার বন্দকটি আরেকবার রিলোড দিয়ে নেয়, ঠোঁটের বাম কোণে ঝুলে আছে জ্বলন্ত বাম্বু সিগারেট। নিলয়ও থেমে নেই দুজনের বন্দুক থেকে দুইটা বুলেট বের হয়ে একই সাথে সংঘর্ষ হয়। চূর্ণবিচূর্ণ বিকট শব্দে পরিবেশটা থমথমে হয়ে যায়। ঐ পাশ হতে শুনা গেল হায়দারের স্মিথ হাসির শব্দের সাথে কড়কস কন্ঠের আওয়াজ - 


- তোকে মাফ করে দিতে পারি একটা শর্তে। আমার হয়ে কাজ করতে হবে, তাও আবার যে সে দ্বায়িত্ব নয়, ডায়মন্ড সিটির সেনাপতি। (হায়দার) 


মৃদুস্বরে হাসে নিলয়। গালের দাঁড়িতে কয়েকটা টান দিয়ে কিছু একটা ভেবে নেয় সে। সামনের দিকে এগিয়ে যেয়ে বন্দুক টা নিচে ফেলে, হায়দারের ঠোঁটের কোণে হতে জ্বলন্ত সিগারেটটা নিয়ে নিজের ঠোঁটে লাগায়। নিলয়ের আচরণ দেখে আশেপাশের সৈনিক গুলো বন্দুক তাক করে। হায়দার হাত দিয়ে ইশারা করে বন্দুক নিচে নামাতে, সৈনিক গুলো তাই করলো বন্দুক নামিয়ে পজিশন নিয়ে ঠিক হয়ে দাঁড়ায়। নিলয় সিগারেটের ধোঁয়া গুলো ছাড়তে ছাড়তে বলে উঠে - 


- উত্তর প্রদেশে একটা চেকপোস্ট রয়েছে। আমি যখন ছিলাম তখন সেটা বন্ধ ছিল। বলে রাখা ভালো রিক্কি ভাই যখন রাজত্ব করতো তখনই এই চেকপোস্ট চালু ছিল। এরপর হতে কোন শ্রমিক সেখানে কাজ করতে যায় না। সবার ধারণা মতে রিক্কি ভাইয়ের কোন বড়ো সড়ো শক্তি ঐ চেকপোস্টের পাশে লুকিয়ে আছে এখনো। (নিলয়)

- তুই এখন কী করতে চাচ্ছিস? (হায়দার) 

- ঐ চেকপোস্ট থেকে মাইনিং এর কাজ আবারও শুরু করবো। (নিলয়)


উপস্থিত শ্রমিক গুলো দু কদম পিছিয়ে যায়। সৈনিক গুলোর চোখে মুখে ভয়ের ছাপ স্পষ্ট। কেননা সবাই রিক্কি ভাইকে জমের মতো ভয় পায়। তার শক্তি মানে ওর মতোই ভয়ংকর। নিলয় আবারও বলে - 


- চেকপোস্টের সাথে একটা পুল রয়েছে। ঐ জায়গার সুরক্ষার জন্য যেখানে গার্ডের প্রয়োজন, অতি দূত চারশো জন গার্ডকে ওখানে শিফট করতে হবে। তবেই খেলা জমবে নয়তো... হিহিহিহিহি.. বাঘ শিকার করার আগে সিংহ শিকার করে চলে যাবে...হাহাহাহা। (নিলয়)


হায়দার শুধু নিলয়ের কথায় সায় দিয়ে জায়গা ত্যাগ করে। নিলয় উচু টিলার উপর উঠে সমস্ত সিটির উপর চোখ বুলায়। ধূলোময়লায় পরিবেশ দূষিত হয়ে যাচ্ছে যার কারণে গাছপালা গুলো মারা যেতে শুরু হয়েছে। হাতে গুনা কয়েকটা গাছ রয়েছে, সেগুলোর অবস্থাও ভালো নয়। এই গাছ গুলো যদি মারা যায় তাহলে হয়তো অক্সিজেনের অভাবে সমস্ত শহরে জীবিত মানুষের চেয়ে মৃত মানুষের সংখ্যা বেড়ে যাবে!..


.....…........


- হায়দার নিজের শক্তি বৃদ্ধি করছে। তার সৈন্য দলের সংখ্যা বাড়ছে। আশেপাশের এলাকাগুলো থেকে বখাটে ছেলেরা এসে ভিড় জমিয়েছে, ডায়মন্ড সিটিতে সৈনিক হিসেবে কাজ করার জন্য। হায়দার নিলয়কে জীবিত ছেড়ে দিয়েছে নিজের রাজ্যের সেনাপতির দ্বায়িত্বে। সে কোন বড়ো ধরনের প্লেন তৈরী করছে। ব্যাপারটা কিন্তু অনেক রহস্যময় হয়ে যাচ্ছে। 


কথাটা বলে গালের নিচে হাত রেখে টেবিলের উপর ভর দিয়ে মিস্টার কামাল সাহেবের দিকে হাসি উজ্জ্বল দৃষ্টিতে তাকায় জয়ন্তিকা দাস। কামাল সাহেব কফির কাপ হাতে এক চিবুক হাসলো এবং মিষ্টি সুরে বলেন - 


- এত অভিনয় করার কিছু নেই। এটা শুধু কল্পিক এছাড়া অন্য কিছু নয়৷ (কামাল)

- Raja Bhuiyan কে আমি ভালো করেই চিনি। তিনি যা লিখেছেন সেটার বাস্তবতা রয়েছে। সামান্য কিছুর কাল্পনিক মিলে তৈরী হয়েছে এই গল্পের সম্পূর্ণ বাস্তবিক কাহিনি। প্লিজ আপনি পরবর্তীতে শুরু করেন। 


জয়ন্তিকা দাসের আত্মবিশ্বাস দেখে বেশ পরিমাণ মুগ্ধ হয় কামাল সাহেব। তবে বলে রাখা ভালো এই গল্পের বেশ কিছু স্ট্রিপ্ট অবাস্তব হতে তুলে ধার হয়েছে। যেগুলো কামাল সাহেব উপস্থাপনা করতে শুরু করেছেন। 


...............


প্রায় একঘন্টা হয়ে গেল একজায়গায় বসে রয়েছে রকি। তার সামনে তিনটি হুইস্কির বোতল, দুই প্লেটে আস্ত দুইটা ফায়ার চিকেন, সাথে কাজু এবং চিনাবাদাম। অনেকেই আছে হুইস্কি খাওয়ার সময় স্ন্যাকস তাঁদের চাই-ই চাই। অনেকেই আবার মনে করে, অ্যালকোহলের সঙ্গে স্ন্যাকস খেলে সেটা শরীরে তেমন ক্ষতি করে না এবং হুইস্কি হজম করা সহজ হয়। 


কাজু এবং চিনাবাদাম বেশিরভাগ মানুষ চাখনা হিসেবে কাজু এবং চিনাবাদাম খায়। তবে অ্যালকোহলযুক্ত পানীয়ের সাথে কাজু এবং চিনাবাদাম খেলে কোলেস্টেরলের মাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি পায়। দুটি জিনিসেই কোলেস্টেরল থাকে, যা খিদের ভাব কমায়। অ্যালকোহল পান করার পরে ভারী হওয়ার অনুভূতি রয়েছে। এ ছাড়া অ্যালকোহলের সঙ্গে সোডা বা কোল্ড ড্রিংক মিশিয়ে পান করলে শরীরের জলশূন্যতার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। 


পাশের টেবিলে বসে থাকা একজন বয়স্ক লোক কথাটা বলে উঠে। রকি নিজের টেবিলের উপর তাকিয়ে বুঝতে পারে লোকটা তাকে উদ্দেশ্য করেই কথাটা বলেছে। রকি সেদিকে গুরুত্ব দিলো না কেননা লোকটার মাথায় সমস্যা রয়েছে তা না হলে কেউ বিনা পয়সায় বারে আসে মদ পান করতে! 


দশ মিনিট পরপরই গ্লাস ভরে দেয়ার জন্যে হাতছানি দিয়ে ডাকলো লোকটা। রকি উঠলো না নিজ জায়গায় স্থির হয়ে বসে থাকলো। লোকটার উচ্চ স্বরে ডাকাডাকি শুনে বারের মালিক এসে লোকটাকে গাল মন্দ করতে থাকে। ব্যাপারটা রকির কাছে মোটেও ভালো লাগে নি। তাই সে উঠে যায় বিষয়টা সমাধান করার জন্য কিন্তু অবাক করার বিষয় হচ্ছে রকি সেখানে যাওয়ার আগেই একজন আগন্তুকের আগমন ঘটে সেখানে। রকি একটু এগিয়ে গেলে দেখতে পায়, আগন্তুক একটা ছেলে, যার - গম্ভীর মুখ, নিরাসক্ত দৃষ্টি, মুখে দুটো দাগ, একটা ডান চোখের নিচে, আরেকটা কপালের বাম দিক ঘেঁষে। সারা মুখে এক ইঞ্চি লম্বা কুচকুচে কালো দাড়ি, নাকটা লম্বাটে, গায়ের রং রোদে পুড়ে তামাটে মত। ছেলেটাকে দেখে অনেকটা আফ্রিকা মহাদেশীয় জাতির মতো লাগছে কিন্তু সে বাংলাদেশী এটা তার মুখ থেকে অনবরত বাংলা ভাষা শুনে বেশ বুঝতে পারা যাচ্ছে। 


মদ পান করে টাকা না দেওয়ার কারণে মূলত বারের মালিক গালমন্দ করছিলো লোকটাকে। হঠাৎ ছেলেটা এসে বারের মালিক কে সমস্ত খরচাপাতি দিয়ে ভাগিয়ে দেয়। সে একটা চেয়ার টেনে বসে, বয়স্ক লোকটা তার সামনাসামনি বসে মাতলামি করছে, এই মাত্রই একজন ওয়েটার এসে ওদের টেবিলে বেশ দামি ব্রেন্ডের দুইটা হুইস্কির বোতল দিয়ে যায় সাথে প্লেট ভর্তি কালো জলপাই আর খোসা ছাড়ানো কাজু বাদাম। 


ভাঁজ করা হাত দুটো এক করা, তার ওপর চিবুক রেখে গভীর মনোযোগের সাথে বয়স্ক লোকটার জলপাই আর হুইস্কি খাওয়া লক্ষ্য করছে রকি। কালো করে ছেলেটা একটার পর একটা প্যাক বানাচ্ছে আর লোকটা শেষ করছে। রকি এইবার বেশ বুঝতে পারলো যে লোকটা প্রফেশনাল খিলাড়ী। সে উঠে দাঁড়ায়, হাতে গুনে তিনবার কালো ছেলেটাকে লক্ষ্য করে বেরিয়ে যায় বার থেকে। 


wait for the next part.


KGF of Diamond City. ৪ # লিখা :- RAJA Bhuiyan. (মি.440) # পর্ব :- ০ ৪

 # গল্প :- KGF of Diamond City. ৪ # লিখা :- RAJA Bhuiyan. (মি.440) # পর্ব :- ০ ৪ ............. আকাশে তাজা সূর্যের তীব্র আলো। শকুন আর গাংচিলদ...