Thursday, September 23, 2021

টোকাই যখন মাফিয়া কিং-- সিজন:- ২--- পর্ব:- ৩




 মাফিয়া সিরিজ ৩


# টোকাই যখন মাফিয়া কিং 

# RAJA Bhuiyan (মি.440)

#সিজন:- ২

#পর্ব:- ০ ৩


.................



আজ প্রায় তিন দিন পরে আবির কলেজে যাচ্ছে। আগের মতো করেই একই ড্রেস আপ নিয়ে ভার্সিটিতে এসেছে সে। এখন একটাই ভয় কাজ করে আবিরের মনের ভিতর যদি নাহিদের সাথে দেখা হয়ে যায় কোনো ভাবে। আর নাহিদ যদি বলে বসে রকি কোথায়। কি জবাব দিবে তখন আবির,, মুখের ভাষা কোথায় হাড়িয়ে যাবে সে সময়। রকির সাথে থেকে না হয় সেদিন বেঁচে গেছিলো কিন্তু আজ বাঁচাবে কে। শয়তানের নাম নিতে না নিতে শয়তান এসে উপস্থিত হয়ে গেছে। নাহিদ তার বন্ধুদের নিয়ে সেই আগের নির্দিষ্ট জায়গায় বসে বসে আড্ডা দিচ্ছে। এখন যদি আবির ক্লাসে যায় তাহলে নাহিদ দের সামনে দিয়েই যেতে হবে। আবির কোনো কিছু না ভেবেই ক্লাসের দিকে হাঁটা ধরে। সামনে গেলে যে বিপদ এটা যেনেও আবির থামে না। 


.... .... ... .... … … … …



“ নাহিদ সামনে তাকিয়ে দেখ আবির আসতেছে। ”



প্রতিদিনের ন্যায় আজকেও নাহিদ বাইকের উপর আরাম করে বসে সিগারেট টানছে আর সামনে দিয়ে চলে  যাওয়া মেয়ে গুলোর সাথে ইভটিজিং করছে। রকি সেদিন যখন ভার্সিটির সকলের সামনে নিজের ক্ষমতা দেখিয়ে নাহিদ কে মেরেছিলো। সেদিন থেকেই নাহিদের একটাই প্রতিজ্ঞা সেটা হলো রকি কে নিজ হাতে মারা। রকিকে এখন  আর শহরে দেখা যায় না। যদি নাহিদের সামনে রকি পরে যায় তাহলে রকিকে শেষ করে দিবে নাহিদ। আরাফের কথা শুনে নাহিদের  মুখ থেকে জ্বলন্ত সিগারেট টা নিচে পরে যায়। এটা নাহিদ কাকে দেখছে,, আবির!  সে বেচে আছে কি করে। নাকি মৃত্যুর পর আত্মা হয়ে এসেছে। আত্মা হলে তো নাহিদ একাই দেখতো,, কিন্তু আরাফও সাথে দেখেছে। তাহলে এটা আবিরের আত্মা না সত্যি সত্যিই আবিরই এটা। কিন্তু এটা কি করে সম্ভব,, আবির বেঁচে আছে। তাহলে!! 


 নাহিদ উওেজিত হয়ে সবাইকে উদ্দেশ্য করে বলে :-



• সামনে যে আবির আসছে এটা কি আরো কেউ দেখতে পারছিস,, নাকি আমি আর আরাফই দেখছি শুধু।( নাহিদ ) 



 সবাই অন্য রকম দৃষ্টিতে নাহিদের দিকে তাকায়,, ছেলেটা কি বলছে এটা,,, সামনে দিয়ে আবির নামের ছেলেটা তো স্ব শরীরে গুটি গুটি পায়ে হেঁটে আসছে। তাহলে নাহিদের এমন বলার কারণ কি। পাগল হয়ে যায় নি তো আবার,, বলাও যায় না,, নাহিদ যেই ভাবে প্রতিদিন মদ পান করে নেশা করে,, এর প্রতিত্রুিয়ায় হয়তো মাথার তার ছিড়ে গেলে। নাহিদের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা রিফাত বলে :-



• আমি তো আবির কে ভালো করেই দেখতেই পাচ্ছি। কেমন যেন  ক্ষেত টাইপের ছেলেটা,, বোকাসোকা চেহারা। অন্য রা দেখছে কি না এটা আমি জানি না। (রিফাত)



 রিফাতের কথা শুনে সবাই হ্যাঁ সূচক ইঙ্গিতে মাথা  নাড়ায় যার মানে সবাই আবির কে দেখতে পাচ্ছে। নাহিদ অবাক হয়ে যায় আবিরকে এমন ভাবে ক্যাম্পাসে আসতে দেখে। 



• আরাফ আবিরকে ডাক দে আর আমার সামনে আসতে বল তাড়াতাড়ি। (নাহিদ) 



 নাহিদের বলা কথায় আরাফ একটু জোরেই আবির কে ডাক দেয় :-



• আবির! এই আবির... কানে শুনতে পাস না নাকি,, এদিকে আয় নাহিদ ডাকছে তকে। (আরাফ)




 আরাফ অনেক টা জোরেই আবির কে ডাক দিয়েছে যার কারণে ক্যাম্পাসের মাঠে বসে থাকা আড্ডা দেওয়া স্টুডেন্ট গুলো সেদিকে নজর দেয়। আবির আরাফের ডাক শোনে সেদিকে তাকায়,, নাহিদের পাশে সারাদিন চাকরের মতো বসে থাকে আরাফ। ছেলেটা পুরো ই একটা ফাউল,, নিজের বাবার নেই কিছু অন্য জনের ক্ষমতা বিক্রি করে খায়। আবির সবচেয়ে বেশি অপছন্দ করে এই আরাফ ছেলেটাকে। আবির যেয়ে একেবারে নাহিদের সামনে দাঁড়ায়।  আশ্চর্যের ব্যাপার হচ্ছে এটা যে নাহিদ আবিরের এমন দূর সাহস দেখে কিছু বলছে না। নাহিদ কি কোনো কারণে আবিরের উপর ভয় পেয়ে আছে। নাহিদ কে দেখে তো এমন মনে হচ্ছে না । আগে কেউ কখনো এমন ভাবে নাহিদের সামনে এসে কাছাকাছি দাঁড়ায় নি। এই প্রথম আবির এমন করলো। গত এক বছর ধরে আবির এই ক্যাম্পাসে আসছে। কিন্তু নাহিদ তেমন কঠোর ভাবে আবির কে কখনো র্যাগ দেয় নি। ব্যাপার টা খুবই রহস্যজনক। 



 আবির এমন করে দাঁড়িয়ে আছে দেখে আরাফ রেগে বলে- 



• আবির তুই রকির সাথে দুইদিন চলেফিরে মনে হয় সাহস টা একটু বেরে গিয়েছে। নাহিদের সামনে এসে এমন কাছাকাছি দাঁড়িয়ে আছিস কেনো দূরে যেয়ে দাঁড়া। (আরাফ)




• আরাফ ভাই তুমার সমস্যা কোথায়,, নাহিদ ভাইয়ের সামনে আমি দাঁড়িয়ে আছি,, ওনি কিছু বলছে না তুমি এত লাফালাফি করছো কেন?? (আবির)




• দেখ আবির আমি কিন্তু রেগে যাচ্ছি। আর যদি একটা কথা বলিস তাহলে কিন্তু আমি কি করতে পারি সেটা তুই  বুঝতেই পারছিস । (আরাফ)




• যা করার করে ফেলো,, আমি এখন কাউকে ভয় পাই না। (আবির)



 নাহিদ চুপ করে বসে আছে,, আবির আর আরাফের ঝগড়ার মতো কথাবার্তা শুনে যাচ্ছে, কাউকে কিছু বলছে না। দুজনের নামের প্রথম অক্ষর অ দিয়ে শুরু,, আবার নামের মধ্যে অনেক মিল পাওয়া যায়। তাদের দুজনের উচিত ছিল নিজেদের মধ্যে বন্ধ সূলভ আচরণ করা কিন্তু তারা এটা না করে বাচ্চাদের মতো  ঝগড়াঝাটি করছে।

আরাফ যখন  রেগে আবির কে মারতে যাবে যাবে তখনই নাহিদ হাত দিয়ে  আরাফ কে বাঁধা দেয়। সবাই অবাক হয়ে নাহিদের দিকে তাকিয়ে আছে,, আবির মাথাটা নিচু করে মুচকি হাসি দেয়। 


নাহিদ নিজের নিরবতা ভেঙে বলে:-


• আরাফ আবিরের কথা টা কিন্তু সঠিক। সে আমার সামনে এসে দাড়িয়েছে আমি কিন্তু তাকে কিছু বলি নি তাহলে তুই এমন করছিস কেনো। (নাহিদ)




• কি বলছিস এটা তুই নাহিদ। আবিরের মতো ক্ষেত একটা ছেলে তর সামনে এসে এভাবে দাঁড়াবে এটা দেখে আমি চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকবো। (আরাফ)




• সব সময় সব জায়গায়,, সবার সাথে মাথা গরম করে কথা বলতে নেই। হয়তো সামনে দাঁড়িয়ে থাকা লোক টা অনেক বড় কিছু হতে পারে। (নাহিদ)




• এটা আমি জানি। কিন্তু এখনে সেই বড় ক্ষমতাবান লোকটা কোথায়। (আরাফ)



• হয়তো নেই আবার আছে। এর মধ্যেই লুকিয়ে আছে রহস্য। এখন এগুলো বাদ দে। পরে এটা নিয়ে কথা হবে। এখন আবির তকে যেই কারণে ডেকেছি। (নাহিদ)



• জ্বি ভাইয়া বলেন। (আবির)



 নাহিদের চোখ যায় আবিরের মাথার দিকে,, এতক্ষণ নাহিদ দেখেই নি যে আবিরের মাথায় সাদা কাপড়ের বেন্ডেজ করা। আবির কি তাহলে মাথায় কোনো বড় ধরনের আঘাত পেয়েছে। না হলে তো মাথায় এমন সাদা কাপড় দিয়ে বেন্ডেজ করা থাকতো না। কিন্তু আবির আঘাত পেয়েছে কিভাবে। 


নাহিদ আবির কে প্রশ্ন করে :-



• আবির তর কপালে এমন বেন্ডেজ করা কেন?  মাথায় কিভাবে ব্যাথা পেয়েছিস। (নাহিদ)



উপস্থিত সবাই আবিরের কপালের দিকে তাকায় ,, সত্যি ছেলেটা বড় কোনো আঘাত পেয়েছে,, সাদা কালারের বেন্ডেজের উপর রক্তের দাগ লেগে আছে। আবির নিজের কপালে হাত দিয়ে মুচকি হেসে বলে। :-



• তেমন কিছু না ভাই, রাস্তায় পরে গিয়ে সামান্য ব্যাথা পেয়েছি। (আবির)



• মিথ্যা কথা বলার প্রয়োজন নেই। আমি জানি তুই কিভাবে ব্যাথা পেয়েছিস। (নাহিদ)




 আবির অবাক হয়ে বলে :-



• আপনি জানেন মানে কিভাবে। আমার ব্যাথা পাওয়ার কথা আমি ছাড়া বাইরের কেউ জানে না,, আপনি কিভাবে জানলেন। (আবির)




• আমি তকে উওর দিতে বাধ্য নই। এখন তুই এটা বল যে তর কাছের বন্ধু রকি কোথায়। আমাকে সামান্য  মেরে ত চলে গেছে। আর ক্যাম্পাসে আসে না। (নাহিদ)




 আবির যেটার ভয় পাচ্ছিলো সেটাই হয়েছে। আবির একটা জিনিস বুঝতে পারছে না কিছুদিন ধরে সে যেগুলো ভাবছে তা সত্যি সত্যি হয়ে যাচ্ছে। মানুষ নাকি ভোরে সপ্ন দেখলে তা পূরণ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আবির দিনের বেলা যা চিন্তা করে ওর সাথে ঠিক তেমন টাই ঘটে। এর মধ্যে কোনো মিস যায় না । আজকে সে ভার্সিটিতে আসার সময় রাস্তায় দাঁড়িয়ে ভাবছিলো ক্যাম্পাসে নাহিদের সাথে দেখা হলে সে যদি রকির কথা জিজ্ঞেস করে তাহলে। এখন সেই কথাটার বাস্তব বলে নাহিদ প্রমাণ করে দিলো। আবির জানে নাহিদ অনেক খারাপ একটা ছেলে,, যখন তখন খারাপ কিছু করে দিতে পারে। এখন যদি আবির বলে সে জানে না রকি কোথায়, তাহলে নাহিদ কি করবে সেটা বেশ ভালোই উপলব্ধি করতে পারছে আবির।



আবির মিথ্যা কথা বলতে পারে না,, মুখ দিয়ে আটকে যায় মিথ্যা কথা বলার সময়। আবির আর কিছু ভাবতে চায় সত্যি কথা বলে দিবে এমন সিদ্ধান্ত নেয় সে। 




• ভাইয়া আমি আসলে জানি না রকি এখন কোথায়। সেই দিন আপনাদের সামনে যে আমার সাথে কথা বলে ছিলো এটাই আমার সাথে শেষ কথা হয়েছিলো রকির সাথে। (আবির)




 নাহিদ মুচকি হাসে আবির যে মিথ্যা  কথা বলছে এটা বুঝে গেছে সে। 




• তাই নাকি রকির সাথে তর কথা হয় না। রকির মতো এমন একটা ছেলে ভার্সিটিতে এসেই তর সাথে প্রথম বন্ধুত্ব করে আর তুই এখন বলছিস তর সাথে রকির কোনো যোগাযোগ নেই। (নাহিদ)




• সত্যি কথা! ভাই বিশ্বাস করেন আমাকে।  আমি মিথ্যা কথা বলতে পারি না,, মিথ্যা কথা বলতে গেলেই আমার কথা আটকে আসে। (আবির)




• এখন বিশ্বাস করা ছাড়া আমার আর কোনো উপায় নেই। সামনে আমার বাবা মেয়র নির্বাচন করবে। এখন আমি কারো সাথে কোন প্রকার ঝামেলা করবো না। আবির তুই এখন যেতে পারিস।  (নাহিদ)




 আবির নিজের মুখ টা নাহিদের কানের কাছে নিয়ে যায় আর ফিস ফিস করে বলে :-




• সিংহ জঙ্গলে চুপ করে থাকে দেখে মনে করো না তার কোনো পাওয়ার নেই। যখন সে রেগে যায় তখন তার এক গর্জনে জঙ্গল কিন্তু কেঁপে উঠে। (আবির)




 আবির নাহিদের কানের কাছ থেকে নিজের মুখ টা সরিয়ে নেয়। আবির নাহিদের থেকে একটু দূরে যেয়ে আবার পিছনে ফিরে তাকিয়ে একটা রহস্যময় মুচকি হাসি দেয়। 



… … নাহিদ তো পুরাই অবাক আবিরের মতো এমন একটা বোকা ছেলে এত রহস্যময় কথা আবার রহস্যময় মুচকি হাসি দিতে পারে। কে এই আবির জানা নেই কারো। আবিরের  একটাই পরিচয় জানে সবাই সেটা হলো সে একটা গরীব এতিম ছেলে,, ভার্সিটির পাশের বস্তিবাসীর সাথে থাকে সে। ছোট্ট বেলা নাকি আবিরের মা বাবা রোড এক্সিডেন্টে মারা যায় আর সেই থেকে আবির এখনো একা এই পৃথিবীতে। 



 • নাহিদ তুই আবিরকে এমন ভাবে ছেড়ে দিলি কেনো। ব্যায়াদপ টা অতি বেড়ে গেছে,, নতুন পাখা গজিয়েছে। ওর এই পাখা আমি ভেঙে দিবো। (আরাফ)




• নাহ্ ,, এখন এমন ভুল করা যাবে না সামনে বাবার মেয়র নির্বাচন আমি কোনো ঝামেলা করবো না। আমি চাই তরা সবাই এখন ঝামেলা থেকে মুক্ত থাক। (নাহিদ)




• আবির সালা কে আমার এক বিন্দুর জন্যও সহ্য হয় না। আরেক বার কাছে পেলে সুযোগ মতো ঠিক করে দিবো। (আরাফ)



• নির্বাচন টা শেষ হতে দে আগে। তারপর আমি নিজে আবিরের ব্যবস্থা করবো। সালা কে এমন মার দিবো যে কখনো আর এমন বড় বড়  কথা বলার সুযোগ পাবে না । (নাহিদ) 



.... …,… … ….... 



 মিমের বয়স বাইশ বছর চলে। 


 একজন রূপসী মেয়ের যা যা থাকতে হয় সব গুন ই মিমের মধ্যে বিদ্যমান। গায়ের রঙ সাদা। গড়গড়তা মেয়েদের তুলনায় মিম অনেক টা লম্বা। কাটা কাটা চোখ মুখ,, ঠোঁটের নিচে চোখে পরার  মতো কালো তিল। তবুই মিমের ধারণা  তার চেহারা অতি সাধারণ। আবার বাজেও। মিমের এমন মনে হওয়ার অনেক কারণ আছে এর মধ্যে একটা হলো বিয়ে। মিম কে আজ পর্যন্ত অনেক ছেলে পক্ষ  বিয়ের জন্য  দেখে গেছে কিন্তু কেউ মিম কে পছন্দ করে নি। কারণ মিম রান্নাবান্না কিছুই পারে না। ছেলে পক্ষের লোক প্রথমে এসেই জিজ্ঞেস করে,, মেয়ে রান্না জানে তো বিয়ের পর স্বামী কে রান্না করে ঠিক মতো খাওয়াতে পারবে তো। এমন কথা শুনে মিমের বাবা আশরাফ সাহেব ছেলে পক্ষ কে না করে দেয়। মিমের চেহারা দেখে সব ছেলেরা পাগল হওয়ার মতো কিন্তু মিমের ঐ একটাই সমস্যা রান্না করতে পারে না। অবশ্য মিম নিজেও চায় না  রান্না শিখতে,, রান্না শিখে ফেল্লে যে কোনো ছেলে পক্ষ মিম কে নিতে রাজি হবে। মিম চায় না মা বাবা কে ছেড়ে অন্য কোথাও চলে যেতে। কিন্তু মেয়ে হয়ে জন্ম নিলে তো স্বামীর ঘরে যেতেই হবে। এখন মিম বাসায় থাকলে তার একটাই কাজ মায়ের সাথে রান্না ঘরে রান্না শিখা। মিম এতে খুবই বিরক্ত বোধ করে।



 আজ দুই দিন পর মিম  বাসা থেকে বের হয়েছে ভার্সিটির উদ্দেশ্য। এই দুইদিন সে মায়ের সঙ্গে রান্না শিখেছে। অনেক টা শিখে গেছে রান্না। মিমের রান্নার প্রতি তেমন কোনো আকর্ষণ নেই। ক্যাম্পাসের মাঠের এক কোণে দাঁড়িয়ে আছে প্রিতি।  মিমের সাথে ১ম বর্ষে পড়ে সে। এখন বলতে গেলে প্রিতি আর মিম দুইজন খুব ভালো বন্ধু। তাদের মধ্যে সুন্দর একটা সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। মিম লম্বা লম্বা পায়ে এসে প্রিতির সামনে দাঁড়ায়। 



প্রিতি মিম কে দেখে নিজের হাত ঘড়ির দিকে তাকায়,, ঠিক পনেরো মিনিট লেট করেছে মিম। 


প্রিতি রেগে বলে:-


• এই তর আসার সময় হলো,, সেই কখন ফোন করে বলেছিলি অপেক্ষা করতে আর পাঁচ মিনিট লাগবে। এই তর পাঁচ মিনিট। (প্রিতি)



• আমি অনেক অনেক দুঃখীত প্রিতি। আসলে বাসার সামনে দাঁড়িয়ে ফোন করেছিলাম তকে,, যদি সঠিক সময়ে রিকশা পেয়ে যেতাম তাহলে ঠিকই চলে আসতাম। (মিম)




• পাঁচ মিনিটের রাস্তা সেটাও নাকি রিকশা দিয়ে আসতে হয়। (প্রিতি)




• ক্যাম্পাস থেকে আমার বাসা পাঁচ মিনিটের দূরত্ব  না। আরো বেশি সময় লাগে আসতে। (মিম)




• হয়েছে হয়েছে থাম এবার তুই,, ক্যাম্পাস থেকে তর বাসা কত টুকু দূরত্ব সেটা আমার জানা আছে। এখন এটা বল ,, গত শুত্রুবারে যে ছেলে পক্ষ তকে দেখতে এসেছিলো তারা কি বলে গেছে। (প্রিতি)




• আর বলিস না ছেলেটার কথা,, আমার থেকে অনেক খাটো,, আমি আর সে যাদি এক সাথে দাঁড়াই তাহলে আমার থেকে পাঁচ থেকে  ছয় ইঞ্চি ছোট দেখাবে। (মিম)




• এত ছোট হবে না মনে হয় তর থেকে। তা ছেলেটার চেহারা সম্পর্কে কিছু বল আমাকে। (প্রিতি)



• মুখ টা সাদা, ক্লিন শেপ করা ,, নাকের নিচে হিটলারী গোফ রেখেছে। মাথায় চুল তেমন একটা নেই বল্লেই চলে। কেমন যেন দেখতে। আর সবচেয়ে বড় কথা হলো ছেলেটা ছিলো ব্যাংকার। (মিম)




• বুঝতে পেরেছি,, এখন তর বাবা মা কি বল্লো ছেলে পক্ষ কে। (প্রিতি)



• কি আর বলবে, বলেছে পরে জানানো হবে তাদের। এরপর আর কি হয়েছে আমি তা জানি না। (মিম)



• ক্লাসের সময় হয়ে এসেছে,, চল ক্লাসের দিকে যাওয়া যাক। (প্রিতি)



 মিম আর প্রিতি ক্লাসের দিকে রওনা দেয়,, তখনই........... 



wait for the next part. 



অফিসিয়াল ফেসবুক গ্রুপ :

https://facebook.com/groups/996977107509672/

No comments:

Post a Comment

ok

KGF of Diamond City. ৪ # লিখা :- RAJA Bhuiyan. (মি.440) # পর্ব :- ০ ৪

 # গল্প :- KGF of Diamond City. ৪ # লিখা :- RAJA Bhuiyan. (মি.440) # পর্ব :- ০ ৪ ............. আকাশে তাজা সূর্যের তীব্র আলো। শকুন আর গাংচিলদ...