রোমান্টিক সিরিজ ১
# টিচার যখন সাইকো লাভার।
# লিখা:- RAJA Bhuiyan. (মি.440)
# পর্ব :- সূচনা ""
...............
গ্রীষ্মের দুপুর সূর্য মাথার উপর থেকে প্রচন্ড তাপ দিচ্ছে। এই গরমে কিছুই করা যায় না, নিজের কাছেই কেমন যেন একটা অস্বস্তি বোধ হয়। কলেজ ক্যাম্পাসের বড় কৃষ্ণচূড়া গাছের তলায় বসে আছে নুসরাত, মিম, জান্নাত, রিয়া সবার হাতে রয়েছে একটা করে আইসক্রিম। একেকজন একেকজনের বেস্টু, কেউ কাউকে ছাড়া কিছু বুঝে না। নুসরাত বলতে গেলে এই কলেজের সবার ক্রাশ, দেখতে কোনো দিক দিয়ে কম না,, শ্যামলা শরীরের গঠন, গোলগাল মুখ, হাসি দিলে গালের দুইপাশে টোল পড়ে। চোখ জোরা হালকা নীলাভ, কোনো ছেলে প্রথম দেখাতেই রাতের ঘুম হারাম হয়ে যাবে। নুসরাতের বাবা শহরের বড় একজন বিজনেস ম্যান,, বেশ নাম ডাক আছে শহরে তার বাবার। নুসরাত খুব দুষ্টু প্রকৃতির মেয়ে,, বড় লোকের আদরের সন্তান একটু পাজিঁ তো হবেই।
সবাই গাছ তলায় বসে বসে আড্ডা দিচ্ছিলো। মাঝ থেকে মিম বলে উঠে..
• আজকে কলেজে ইকোনমিকস এর নতুন স্যার আসছে। এই সম্বন্ধে কারো কোনো খেয়াল আছে। (মিম)
হঠাৎ মিমের এমন কথা শুনে সবাই মিমের দিকে সরু চোখে তাকায়। সবাই এমন ভাবে তাকিয়ে আছে মনে হচ্ছে মিম অন্য গ্রহ থেকে পালিয়ে এসেছে।
• আরে জানি জানি, এই কলেজের সব গুলো স্যার বুড়া বুড়া সবার বিয়ে হয়ে গেছে। একটা ইয়াং স্যার আনলেই তো হয়। (নুসরাত)
• কেনো রে ইয়াং স্যার আসলে আবার অন্য ভাবে পড়া বুঝাবে নাকি পড়া তো একটাই নাকি। (মিম)
• আরে দূর তুই কিছু বুঝিসই না! আমি বলছি যদি একটা ইয়াং স্যার থাকতো তাহলে একটা প্রেম করা যেতো। (নুসরাত)
• কিহ্ তুই স্যারের সাথে প্রেম করতি। (মিম)
• এত অবাক হওয়ার কি আছে। স্যারের সাথে প্রেম করলে কি কোনো সমস্যা হবে নাকি,, আমাদের আরো বেশি ভালো হবে পরীক্ষায় ভালো নাম্বার পাবো। (নুসরাত)
• নুসরাত তুই যে ভাবে বলছিস সেটা কিন্তু বাস্তবে সম্ভবই না। আর সবচেয়ে বড় কথা হলো এই কলেজে কখনো ইয়াং স্যার আসবে না। (জান্নাত)
• এটাই আমাদের দুরভাগ্য। এটা এমন একটা কলেজ কি আর বলবো নিজের কলেজের নামে। (মিম)
• থাক আর কিছু বলতে হবে না ! গেটের দিকে তাকিয়ে দেখ কে যেন গাড়ি নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করছে। (জান্নাত)
জান্নাতের কথা শুনে সবাই ক্যাম্পাসের গেটের দিকে তাকায়। ব্লেক কালারের একটা দামি গাড়ি ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে। সবাই বলাবলি করছে এত দামি গাড়ি নিয়ে কে কলেজে আসলো নিশ্চয়ই কোনো ক্ষমতাশালী ব্যক্তি হবে। সবাই প্রহর গুনছে কখন গাড়ি থেকে লোকটা নামবে। অবশেষে গাড়ি থেকে একটা সুদর্শন যুবক নামে লম্বায় ৬.৩ ফুট হবে। মাথায় এক বুঝা সিল্কি চুল, নিউ হেয়ার স্টাইলে। চোখে কালো স্টাইলিস চশমা, গোলাপি রঙের ঠোঁট জোরা। মুখে ক্লিন শেপ দেওয়া। পরনে তার সাদা শার্ট কালো পেন্টের সাথে ঈন করা। কলেজের সব মেয়েরা তো ছেলেটাকে দেখে অবাক হয়ে গেছে ছেলেটার গায়ের রঙটা একেবারে ফর্সা। সবাই বলাবলি করছে ছেলেটা কতো হ্যান্ডসাম, কিউট, হট। কিন্তু সেদিকে নুসরাতের কোনো খেয়ালই নেই এক মনে বসে বসে আইসক্রিম খাচ্ছে।
• নুসরাত দেখছিস ছেলেটা কত্তো কিউট, এমন একটা ছেলে যদি আমার বয়ফ্রেন্ড থাকতো তাহলে সারাদিন শুধু ওকে দেখেই যেতাম। (মিম)
মিমের কথা নুসরাতের কাছে কেমন যেন বিরক্ত বিরক্ত লাগছে। একটা ছেলেকে নিয়ে এভাবে পরে থাকলে হবে। দুনিয়ায় মনে হয় না আর এমন ছেলে খুঁজে পাওয়া যাবে।
• কি শুরু করেছিস তরা কতক্ষণ ধরে একটা ছেলেকে নিয়ে সবাই এমন করছিস কেনো। পৃথিবীতে কি এটাই একমাত্র ছেলে। আরো আছে। (নুসরাত)
• আমার আর কোনো ছেলে চাই না এটা হলেই যথেষ্ট। এখন সামনে সুদর্শন ছেলে থাকতে পৃথিবী ঘুরতে হবে কেনো। (জান্নাত)
• এবার থাম তরা,, ক্লাসের সময় হয়ে এসেছে তাড়াতাড়ি চল ক্লাসে যাই। (নুসরাত)
নুসরাতের কথা শুনে সবাই বিরক্ত বোধ করে। কত সুন্দর করে বসে বসে মজার আড্ডা দিচ্ছিলো কিন্তু এই ক্লাসের যন্ত্রণায় তা আর হলো না। একদিন ক্লাস না করলে কি আর এমন হবে ভেবে পায় না কেউ। এখনো ক্লাসে স্যার আসে নি। নুসরাত সবসময়ই সামনের বেঞ্চে বসে। পড়াশোনা নিয়ে সে একটু সিরিয়াস,, মজার সময় মজা,, লেখাপড়ার সময় লেখাপড়া।
• এখনো স্যার আসে নি আরো কিছুক্ষন বসে আড্ডা দিলে কতোই না ভালো হতো। এই নুসরাতের জন্য আসতে হয়েছে। (মিম)
• আরো কিছুক্ষণ বসে থাকতাম আর তরা সবাই সেই অচেনা ছেলেটার বিষয়ে কথা বলে আমাকে পাগল করে দিতি। (নুসরাত)
• ছেলেটার সম্পর্কে আর কিছু বলতাম না। তুই আমাদের সাথে বসে আড্ডা দিলেই দেখতি। (জান্নাত)
• জানা আছে তদের সম্পর্কে। তদের এক এক টা কে আমি খুব ভালো করেই চিনা আছে আমার। (নুসরাত)
• তবে নুসরাত তুই আর যাই বলিস না কেনো,, ছেলেটা কিন্তু সেই লেভেলের কিউট ছিলো। ফরেনার ফরেনার একটা ভাব আছে। (জান্নাত)
• ঐ ছেলেটার সম্পর্কে আমার কাছে যদি আরেকটা কথা বলিস তাহলে কিন্তু ভালো হবে না। (নুসরাত)
• এই নুসরাত আমি তখন থেকে একটা ব্যাপার লক্ষ্য করছি তুই ছেলেটার কথা শুনে এমন রেগে যাচ্ছিস। কিন্তু কেনো? (মিম)
• রাগবো না কেনো সেটা বল আমাকে! একটা অচেনা অজানা ছেলেকে নিয়ে এমন এমন মন্তব্য করছিস যা শুনে আমার প্রচন্ড রাগ লাগতেছে। (নুসরাত)
• আমরা একটা ছেলেকে নিয়ে এমন মন্তব্য করতেই পারি। সেটা আমাদের জানা শুনা বা অচেনা থাকলেও তর সমস্যা কোথায় সেটাই ত বুঝতে পারছি না। (মিম)
• কি ব্যাপার নুসরাত মামুনি! ছেলেটা কে দেখে তুইও মনে হয় ক্রাশ খেয়েছিস। নিজের পছন্দের জিনিস তো কখনো আমাদের কাউকে দিস না। তার মানে তুই ছেলেটার উপর ফিদা। (জান্নাত)
• কি বলতে চাচ্ছিস তুই! এই নুসরাত চৌধুরী কারো উপর ক্রাশ খাবে। আমি নুসরাত চৌধুরী কতো ছেলে আমার পিছনে পরে থাকে খবর নিয়ে দেখতে পারিস। আমার ক্রাশ হবে নাকি ঐ রকম একটা ছেলে। এটা তুই ভাবলি কি করে। (নুসরাত)
• হয়েছে হয়েছে থাম এবার তুই। প্রিন্সিপাল স্যার আসছে মনে হয় সামনে দেখ। (জান্নাত)
জান্নাতের কথা শুনে সবাই সামনে দিকে তাকায় প্রিন্সিপাল স্যার ক্লাসে প্রবেশ করছে ওনার পিছনে পিছনে কেউ আসছে কিন্তু সেই লোকটার মুখের ফেস টা স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে না। এইবার সবার সামনে এসে দাঁড়ায় প্রিন্সিপাল স্যার আর লোকটা,,, সবাই অবাক দৃষ্টিতে সেদিকে তাকিয়ে আছে বুঝার চেষ্টা করছে, কিছুক্ষণ আগে গাড়ি থেকে নামা হ্যান্ডসাম ছেলেটা এই ক্লাসে প্রিন্সিপাল স্যারের সাথে কিসের জন্য এসেছে কেউ বুঝতে পারছে না। প্রিন্সিপাল স্যার খুব মজার একটা মানুষ সবসময়ই হাসি খুশি থাকতে পছন্দ করেন।
.........
@@ It will continue @@
☞☞☞Copying can be done with my permission or copying is prohibited☜☜☜🙏🙏
wait for the next part.
লেখকের আইডি লিংক :- https://www.facebook.com/rayan.rahmanraja
☞ RAJA Bhuiyan. (মি.440)
No comments:
Post a Comment
ok