মাইন্ড সিটি
# মাস্তানী অফ রাফিয়ান
# RAJA Bhuiyan. (মি.440)
# পর্ব :- ২
.................
“ রাফাত পিছনের পকেট থেকে একটা মানিব্যাগ বের করে তার থেকে কচকচে একটা পাঁচশত টাকার নোট বের করে দোকানদারের সামনে এগিয়ে দেয়। দোকানি নোট টা ভালো করে দেখে বলতে থাকে ---
• বাবা এই বড় নোটের খুচরা আমার কাছে নেই। (দোকানি)
• রাফাত মুচকি হেসে বলে -- লাগবে না বাকি টাকা পুরো টাকা টা আপনি রেখে দিন। (রাফাত)
• বাবা একটা কথা বলি - তোমাকে দেখে মনে হচ্ছে ঢাকা শহরে নতুন, জামা কাপড়ের অবস্থা তেমন ভালো না। বাকি টাকা টা বরং তুমি রেখে দাও। (দোকানি)
• হিহিহিহি... হয়তো শহরে নতুন কিন্তু এই অচেনা শহরে সবই আমার পরিচিত, জামা কাপড় কিনার পর্যাপ্ত টাকা আমার কাছে আছে। টাকাটা আপনি রেখে দিন। (দোকানি)
“ দোকানির গলার স্বরে স্পস্ট বৈরাগ্য,, যেন বাকি টাকা টা না দিলেও তার কিছু আসে যায় না। রাফাত নতুন সিগারেটের পেকেট থেকে একটা সিগারেট ঠোঁটে চাপে দোকানের সামনে টানানো লাইটার টা দিয়ে আগুন জ্বালায় সিগারেটে। রাফাত সিগারেটে জোরে একটা টান দিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যায়। নিউ পল্টন লাইনের এই গলিটার বেশ কয়েকটি দোকান। কিন্তু মর্ডান সেলুন এবং পাশের ঘরটি ছাড়া সবই বন্ধ। রাফত মর্ডান সেলুনে ঢুকে পড়লো, রাস্তায় হাটাহাটি করার চেয়ে সেলুনে চুল কাটা নিয়ে ব্যস্ত থাকা ভাল। রাফাতের চুল গুলো অনেক টা বড় হয়ে গেছে। সেলুন টা এক সময় মাস্তান ছেলেপুলেদের আড্ডাখানা ছিলো। লম্বা চুলের চার পাঁচ টা ছেলে শার্টের বোকের বোতাম খুলে বেঞ্চের উপর বসে থাকত। সেলুনে একটা ব্যান্ড ট্রানজিস্টার সারাক্ষণই বাজত। ট্রানজিস্টারের ব্যাটারির খরচ দিতে গিয়েই সেলুনের লাটে উঠার কথা কিন্তু তা ওঠেনি। রমরমা ব্যবসা করছে। আজ অবশ্যি জনশূন্য তবে ট্রানজিস্টার বাজছে। আগের মতো ফুল ভলুযমে নয়, মৃদু শব্দে, দেশাত্মবোধক গান। কথা ও সুর নজিবুল হয়। রাফাত বেশ অবাক হয় এমন উন্নত মানের একটা দোকানে পুড়োনো দিনের গান শোনে। রাফাত বেশ মন দিয়েই গান শুনতে লাগলো তবে চোখ রাখলেন রাস্তার উপর।।
• চুলটা একটু ছোট কর। (রাফাত)
“ নাপিত ছেলেটি বিস্মিত হলো। সে ইনার এক বন্ধুর চুল গত মঙ্গলবারে কেটেছিলো। কিন্তু ঐই দিন চুল বড় বড় থাকা সত্যেও কাটায় নি। তাহলে আজ হঠাৎ কাটাতে আসলো --”
• ভাই চুল কাটাবেন? (নাপিত)
ছেলেটার কথা শুনে রাফাত হালকা করে গাড়টা বাকা করে। ছেলেটার মুখটা হালকা কালো, চুলগুলো মর্ডান স্টাইলে কাটা, চুলের উপর দিয়ে হালকা হলদে রঙ করা। রাফাত কিছুদিন আগে ফাহাদ কে নিয়ে এখানে এসেছিলো তখন ছেলেটার চুল গুলো বড় বড় ছিলো। হয়তো কম সময়ের ভিতরে চুল গুলো কেটে ফেলেছে।
• পিছনের দিকে একটু ছোট করবি। (রাফাত)
“ রাফাতের কথা শুনে ছেলেটা কাঁচি যন্ত্রের মত খট খট করতে লাগল। কিছুদিন আগে যখন রাফাত এখানে এসেছিলো তখন ছেলেটার কথার যন্ত্রণায় অস্থির হতে হয়েছিলো। ছেলেটার কথা শুনতে রাফাতের খারাপ লাগে না। কিন্তু এই ছেলেটার কথা বলার সময় থুথুর ছিটা এসে লাগে। আজ সে নিঃশচুপি। থুথু গায়ে লাগার কোনো আশংকা নেই। দাম দেওয়ার সময় রাফাত জিজ্ঞেস করে -
• রাতদিন ট্রানজিস্টার চালাস কিভাবে? ব্যাটারির তো অনেক দাম। (রাফাত)
নাপিত ছেলেটি কোনো জবাব দিল না গম্ভীর মুখে টাকা ফেরত দিয়ে বেঞ্চের উপর পা তুলে বসে রইল। রাফাত কোন উওর পেল না। ছেলেটা ঠান্ডা চোখে তাকিয়ে আছে। আজকাল কেউ বাড়তি কথা বলতে চায় না। চেনা মানুষের কাছেও না।
রোদ উঠেছে কড়া এবং ঝাঁঝালো, কিন্তু এই কড়া রোদেও রাফাতের কেমন যেন শীত শীত করতে লাগলো। রাফাত সেই ছোট দোকানের সামনে দ্বিতীয়বার এসে দাঁড়ালেন। মনে করার চেষ্টা করলো ঘরে যথেষ্ট পরিমাণ সিগারেট আছে কি না। পাঁচটার পর কোথাও কিছু পাওয়া যাবে না৷ যেদিন শহরে প্রথম এসেছিলো রাফাত সেদিন রাতে সিগারেটের অভাবে খুব কষ্ট করেছে। রাফাত মানিব্যাগ খুললেন। চাচার দোকানে আগরবাতি জ্বালিয়েছে। সব দোকানদারের মধ্যে এই একটি নতুন অভ্যাস দেখা যাচ্ছে। আগরবাতি জ্বালানো। আগে কেউ সন্ধ্যাবেলা জ্বালাত। এখন প্রায় সারাদিনই জ্বলে, আগরবাতির গন্ধে মৃত্যুর কথা মনে করিয়ে দেয়। রাফাত দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে অস্বস্থি বোধ করতে লাগলো।
• চাচা আরো দুই পেকেট বেনসন সিগারেটের পেকেট দিন। (রাফাত)
দোকানদার চাচা সিগারেট বের করল। সিগারেটের দাম চড়ছে। ছেলে- ছোকরারা এখন সারাদিন ঘরে বসে থাকে এবং সিগারেট ফুকে। এছাড়া আর কি করবে?
• দু'টা ম্যাচও দিন। (রাফাত)
• বাবা একটা কথা জিজ্ঞেস করি। (দোকানী)
• হে চাচা বলেন! (রাফাত)
• তুমি কি কাউকে খুঁজতেছ। (দোকানী)
রাফাত চমকে উঠে। বলে কি এই ব্যাটা টের পেল কিভাবে?
• কারে খুঁজতেছ। (দোকানী)
• আরে না, কাকে খুঁজব? চুল কাটতে গিয়েছিলাম। চুল একটু বড় হলেই আমার অসহ্য লাগে,, এবার একটু বেশি বড় হয়েছিলো তাই ছোট করে এলাম। (রাফাত)
কথাটা বলে রাফাত আর সেখানে দাঁড়ায় না রওনা দেয় বাসার উদ্দেশ্য। গোরস্থান ঘেঁষে রাস্তা গিয়েছে। সেই জন্যেই কী গা ছমছম করছে রাফাতের? না অন্য কোনো কারণ আছে। একটু কটু গন্ধ আসছে নিউ পল্টন লাইনের লোকজনদের ধারণা, বর্ষাকালে এই গন্ধ পাওয়া যায়। লাশ পচে গন্ধ ছড়ায়। এখন তো শীতকাল তাহলে এমন গন্ধ বুঝতে পারছে না রাফাত।
“ অভিজ্ঞতাহীন মানুষ যর্থতা বিষয়ের মর্ম উপলব্ধি করতে পারে না। আর যে চিরসুখী সে তা কখনোই ব্যথিতের বেদনার স্বরূপ বুঝতে পারবে না। এ পৃথিবীতে দুঃখী মানুষের অভাব নেই। কিন্তু সুখী ব্যক্তি সুখভোগে অভ্যস্ত থাকে বলে দুঃখের জ্বালা বুঝতে পারে না। নির্ধন যদি চায় ধনীর সহযোগিতা তবে ধনী কখনও দারিদ্র্যের ক্ষুধার কষ্ট বুঝতে পারে না। ”
সন্ধ্যার পর থেকে রাফাতের কেমন যেন লাগতে লাগল। কেমন এক ধরনের অস্বস্তি। হঠাৎ ঘুম ভাঙলে যে রকম লাগে সে রকম। সমস্ত শরীর ঝিম ধরে আছে। অনেক দিন হলো কেনো শিকার করার সুযোগ হয় নি তার। মাথার ভেতরটা ফাঁকা ফাঁকা, রাফাত বারান্দায় এসে দাঁড়াল। এ বাড়ির বারান্দাটা সুন্দর। কল্যানপুরের দিকে শহর তেমন বাড়তে শুরু করে নি। গ্রাম গ্রাম একটা ভাব আছে, বারান্দায় দাঁড়ালে ঝিলের মতো খানিকটা জায়গা চোখে পড়ে। গত শীতের আগের শীতে ঝাঁকে ঝাঁকে বুনো হাঁস নেমেছিল। কী অদ্ভুত দৃশ্য! এ বৎসর নামবে কি না কে জানে। বোধহয় না। শহর এগিয়ে আসছে। পাখিরা শহর পছন্দ করে না। ঠান্ডা বাতাস দিচ্ছে। বেশ শীত পড়েছে এবার। রাফাত এই মনোরম পরিবেশে কি যেন একটা শূন্য অনুভব করছে। রাফাত পকেট থেকে একটা সিগারেটের পেকেট আর লাইটার টা বের করে একটা সিগারেট জ্বালায়। কত ধরনের মানুষ থাকে এই সংসারে। রাফাত ছোট একটা নিঃশ্বাস ফেলল। বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকতে ইচ্ছা করছে না। আবার ভেতরে যেতেও ইচ্ছা করছে না। কেমন যেন আজ রক্ত নিয়ে খেলা করতে ইচ্ছা করছে।
“ রাফাত মেহেরাব সাহেব খবর পাঠিয়েছে ”
হঠাৎ পিছন থেকে কারো মোটা গলার শব্দ শোনে রাফাত পিছনে ফিরে তাকায়, সাদা কালারের একটা মোটা সুয়েটার আর মাথায় একটা ফেল্টের ক্যাপ পড়ে দাঁড়িয়ে আছে ফাহাদ। রাফাত আরেকটা সিগারেট ধরিয়ে উদাস চোখে দূরে থাকা বড় নিম গাছের দিকে তাকিয়ে রইল। এবার সে বেশ গম্ভীর গলায় বলে --
• কোথায়, কখন দেখা করতে বলছে। (রাফাত)
• উনার নিজের বাড়িতে আর তকে সময় বের করে বলছে আমার সাথে যেতে। (ফাহাদ)
• রাফাত এক গাল হেসে বলে - দেখা করবো এক শর্তে ঐ বাড়িতে যে আমি যেয়ে ওনার মেয়ে আর স্ত্রী কে না দেখি, তুই এটা জানিয়ে দে। (রাফাত)
• আমি সব ব্যাবস্থা করছি। রাফাত আমার কি মনে হয় জানিস। (ফাহাদ)
• কী? (রাফাত)
• মেহেরাব সাহেব তকে আবারো সেই জগতের রাজা বানাতে চায়। (ফাহাদ)
• হিহিহিহিহি.. আমি তো সব সময় রাজা, আমাকে কে আবার নতুন করে রাজা বানাবে। (রাফাত)
ফাহাদ সেখানে আর দাঁড়ায় না। সে জানে রাফাত এখন আর বেশি কথা বলবে না। সে চায় একা থাকতে। রাফাত বাইরে থেকে ভিতরে প্রবেশ করে,, বাইরে অনেক ঠান্ডা পড়েছে, কুয়াশায় শহর টা ছেয়ে গেছে।
দরজায় কড়া নড়ছে। রাফাত লেপের ভেতর থেকে মাথা বের শব্দ শুনল, আবার লেপের ভেতর ঢুকে পড়ল। এর মধ্যেই মাথার পাশে রাখা ঘড়ি দেখে নিয়েছে, সাতটা চল্লিশ। রাফাত নিজেকে প্রতিনিয়ত একজন বুদ্ধিমান লোক মনে করে। কোনো বুদ্ধিমান লোক কঠিন শীতের মধ্যে ভোর সাতটা চল্লিশ মিনিটে লেপের ভেতর থেকে বেরুতে পারে না। যে কড়া নাড়ছে সে যদি বুদ্ধিমান হয় তাহলে, আরো কয়েকবার কড়া নেড়ে চলে যাবে। পাঠা শ্রেণির হলে যাবে না। বিপুল উৎসাহে কড়া নাড়তেই থাকবে। নাড়ুক ইচ্ছে হলে দরজা ভেঙে ফেলুক। হু কেয়ারস? এখন লেপের ভেতর থেকে বের হওয়া যাবে না। রাফাত গত রাতে একটু দেড়ি করেই ঘুমের দেশে পারি জমিয়েছিল। ঘুমটা ভালো হয় নি কারণ সে রাতে ঘুমাতে গেছে মোটামুটি ক্ষিধে নিয়ে। বেশি রাত জাগলে ক্ষিধে পায়। শরীরের জন্য বাড়তি কার্বোহাইড্রেটের প্রয়োজন হয়। সেই ব্যবস্থায় ঘরে থাকে দু তিন রকমের জেলী এবং পাউরুটি। কাল রাতে জেলী ছিল কিন্তু পাউরুটি ছিলো না। বিস্কুটের টিনে কিছু বিস্কুটের গুড়া পাওয়া গেল। এক চামচ মুখে দিয়ে মনে হলো সাবানের গুড়া খাচ্ছে। নাড়িভুড়ি উল্টে আসার উপক্রম। রাফাত সেই খালি পেটেই ঘুমাতে যায়, চোখ জোরা প্রায় ধরে এসেছে এমন সময় বাথরুম পেয়ে গেল। বাথরুম পাচ্ছে তবে সেই তাগিদ জোরালো নয়, উঠে যেতে ইচ্ছা করছে না। শীতের রাতে লেপের ভেতর একবার ঢুকে পড়লে বেরুতে
ইচ্ছা করে না।
এখনো খট খট শব্দ হচ্ছে, গাধা নাকি? গাধা তো বটেই, অতি নিম্নমানের গাধা। গাধা সমাজের কলঙ্ক। রাফাত লেপের ভেতর থেকে মুখ বের করে উচু গলায় বলল, ‘ইউ স্টুপিড অ্যাস ’ ইউ হ্যাভ নো বিজনেস হিয়ার। (রাফাত)
রাফাতের এটা প্রিয় গালি। সে শিখেছে অনেক আগে সেই স্কুল জীবনে। ইংরেজি মেডামের কাছ থেকে প্রথম এই শব্দ টা শুনে রাফাত অনেক ভেবেছিল শব্দটার মানে কি ২ দিন পর যেয়ে সাহস নিয়ে মেডামকে জিজ্ঞেস করে ফেলল এই শব্দের মানে কি। তিনি তৎক্ষনাৎ বাংলা তরজমাও করে বলেন ‘ ওহে বোকা গাধা, এখানে তোমার কোনো কর্ম নেই। ’ সেই ছোট বেলার বাক্য টা যেন রাফাতের মনে গেথে গেছে। তাই এই বাক্যটা সে রেগে গেলে বেশি ব্যবহার করে।
এখনও কড়া নড়ছে, রাফাত বিরক্ত হয়ে বিছানা থেকে নামতে নামতে দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলে ভাবলো - কে হতে পারে এটা। এমন পাগলের মতো করে দরজা ধাক্কাচ্ছে। রাফাত দরজা খুলল কিন্তু অবাক করার বিষয় হলো বাইরে কেউ নেই। সামনের ঘরটা ফাহাদের কিন্তু দেখে মনে হচ্ছে ভিতর থেকে আটকানো তাহলে কে হতে পারে। রাফাত এত কিছু চিন্তা না করে আবারো বিছানার দিকে আসবে তখনই তার চোখ পড়ল ফ্লোরের দিকে। গিফটের কাগজে মোড়ানো নতুন চিকচিক করা একটা গিফট পেকেট। রাফাত পেকেট টা হাতে নিয়ে নাড়াচাড়া করে, ভিতরে মনে হচ্ছে হালকা কোনো জিনিস, কি হতে পারে। বুক ভরা সাহস নিয়ে পেকেট টা খুলতে থাকে। অবাক করার বিষয় হলো পেকেটে একটা 9mm এর ছোট একটা পিস্তলের বুলেট আর পাশে লাল কালারের একটা কাগজ। রাফাত কাগজের ভাজ টা খোলে, ভিতরে কিছু লেখা, সে তা পড়তে শুরু করে - “ এই শীতের সকালে ঘুম থেকে তুলার জন্য আমি দুঃখীত কিন্তু কি করবো বলো,,, না উঠিয়ে উপায় নেই আমার শহরে এসেছো, আমি তোমাকে শুভেচ্ছা জানাবো না এটা কি হয়। ওয়েলকাম রাফাত ওয়েলকাম আমার অন্ধকার শহরে। যারা কাপুরুষ তারাই ভাগ্যের দিকে চেয়ে থাকে, পুরুষ চায় নিজের শক্তির দিকে। তোমার বাহু, তোমার মাথা তোমাকে টেনে তুলবে, তোমার কপাল নয়। ”
আর কিছু লেখা নেই, লেখাটা পড়ে রাফাত একটু রহস্যময়ী হয়ে যায়। চিন্তা করতে থাকে কে এই চিঠিটা পাঠিয়েছে। তেমন কেউ তো এই শহরে রাফাত কে চিনে না, তবে কি! সবই ধুয়াশা??
......
নিশিতা দেখ ক্ষেত ছেলেটা আজকে আবারো কলেজে এসেছে। এটাকে দেখলেই আমার কেমন কেমন যেন ঘৃণ ঘৃণ লাগে। নাদিয়ার কথা শুনে সবাই কলেজের গেটের দিকে তাকায়, পুড়নো একটা লম্বা হাতার গেঞ্জি চকলেট কালারের ময়লা পেন্ট। চোখে মোটা ফ্রেমের সাদা চশমা, মাথা ভরা কোকড়া কোকড়া লম্বা চুল, কিন্তু কাছ থেকে চুল গুলো অতটা লম্বা বুঝা যাবে না। কাঁধে একটা ছেঁড়া ব্যাগ ঝুলিয়ে সমান পায়ে রাফাত ছেলেটা এগিয়ে আসছে। রাফাতের দিকে ভালো করে তাকিয়ে নিশিতা বাকা হেসে বলতে থাকে --
• নাদিয়া ক্ষেত টা কে ডাক দে। আজকে আমাদের সাথে নুসরাত আছে বেশ মজা হবে আজ। (নিশিতা)
• হাহহাহাহাহা,,,কালকে কোনো মজাই করতে পারছি না আজকে ছেলেটাকে এমন অবস্থা করবো যা সে চিন্তাও করতে পারবে না। (নাদিয়া)
...........চলবে...............
[আগের পর্বে তেমন সাড়া পাই নি যার কারণে পোস্ট করতে দেড়ি হচ্ছে যদি গল্প টা ভালো না লাগে তাহলে আমাকে কমেন্টের মাধ্যমে জানাবেন।
আমি এটা না দেওয়ার চেষ্টা করবো। ] ধন্যবাদ
wait for the next part.
No comments:
Post a Comment
ok