Monday, July 26, 2021

মাস্তানি অফ রাফিয়ান --পর্ব:- ১>>> RAJA Bhuiya. (মি.440)

মাইন্ড সিটি 



# মাস্তানী অফ রাফিয়ান 

# RAJA Bhuiyan. (মি.440)

# পর্ব :- ১

..........



“ রাফাত তুই এত সিগারেট খাস কেনো,, পরে কিন্তু বড় কোনো ধরনের সমস্যায় পরবি ”



কার্তিকের শেষ ইতিমধ্যেই ঢাকা শহরে বেশ ঠান্ডা পড়েছে। পায়ের দিকের খোলা জালানাটা দিয়ে ঝিরিঝিরি করে রাতের হাওয়া এসে ঢুকছে। রাতের অন্ধকারে নিঃশব্দ হিম ঝরছে, তারই আভাস মধ্যরাতের ঠান্ডা হাওয়ায় অন্ধকার আকাশের কোলে শূন্যে স্থির হয়ে আছে, ইতস্তত কয়েকটি আকাশ প্রদীপের আলো। রাফাত সেই খোলা জানালার সামনে দাঁড়িয়ে মনের সুখে একটার পর একটা সিগারেট টানছিলো তখনই একটা মোটা গলার স্বর শোনে পিছনে তাকায় রাফাত। সোফায় পায়ের উপর পা তুলে আরাম করে বসে আছে ফাহাদ। তার মাথায় একটা ফেল্টের ক্যাপ, যেটা ফাহাদ মাঝেমধ্যে পড়ে থাকে, পরিধানে মভ কালারের দামী জিন্স জ্যাকেট, মুখটা নিখুঁতভাবে কামানো। রাফাত মুচকি হেসে সোফায় এসে আরাম করে বসে হাতে থাকা সিগারেট টা প্রায় শেষের দিকে আরেকটা টান দিয়ে নিচে ফেলে দেয় সিগারেটের বাকি অংশ টা। এবার রাফাত গম্ভীর মুখো হয়ে রহস্যময় করে বলে--



  • অভ্যাস ভয়ানক জিনিস। একে হঠাৎ স্বভাব থেকে তুলে ফেলা কঠিন। মানুষ হবার সাধনাতেও তকে সহিষ্ণু হতে হবে। (রাফাত)



• মানে??  (ফাহাদ)



• হিহিহিহি,, আমার কথাটা বুঝতে পারিস নি তাই তো,, আমি উদাহরণ দিয়ে বুঝাচ্ছি - তুই জানিস আমি অনেক আগে থেকেই সিগারেট খাই এখন হুট করে আমি এটা ছেড়ে দিতে পারবো না। সিগারেট খাওয়াটা আমার পেশা না এটা আমার নেশা। আমি এটায় এমন ভাবে আটকে গেছি চাইলেও আর বের হতে পারবো না। (রাফাত)




 • রাফাত তুই হয়তো ভুলে গেছিস মানুষ পারে না এমন কোনো কাজ নেই। তুই চাইলেই তর এই বদ অভ্যাস টা ত্যাগ করতে পারিস। (ফাহাদ)



  • আরে বাদ দে এগুলো!!  আমি এখন আমার চিন্তা নি বেশি ভেবে ফেলছি, তাই সিগারেট টা একটু বেশিই টানছি যাতে টেনশন টা দূর হয়ে যায়। (রাফাত)



  • অতীত কে ভুলে যা। অতীতের দুশ্চিন্তার ভার অতীতকেই নিতে হবে। অতীতের কথা চিন্তা করে অনেক বোকারাই মরেছে। আগামীকালের বোঝা অতীতের বোঝার সাথে মিলে আজকের বোঝা সবচেয়ে বড় হয়ে দাঁড়ায়। তাই অতীতের ব্যর্থতার জন্য আক্ষেপ করে কিংবা ভবিষ্যতের সাফল্যের আশায় বর্তমান কে অবহেলা করা উচিত নয়। (ফাহাদ)




  • অতীত কে চাইলেও আমি ভুলতে পারবো না। আমার সেই কালো অতীতে রয়ে গেছে আমার পরিচয় কে আমি?  আমাকে সেটা জানার জন্য এই রঙহীন শহরে আসা। (রাফাত)




  • আমার জানা নেই তুই কি আসলেই তর আসল পরিচয় এখান থেকে পাবি না কি আবারো শূন্য হাতে ফিরে যাবি দূষিত সেই শহরে। (ফাহাদ)




  • আমি রাফাত কোনো সময় ভুল ডিসিশন নেই না। সঠিক সময়ে সঠিক কথা বলা, সঠিক সময়ে সঠিক জায়গায় থাকা আমার স্টাইল। নিজের ঠান্ডা মাইন্ড দিয়ে এই শহরের সব অশান্ত মাইন্ড গেমারদের উনমাদ করে দিবো আমি,, চাইলেও কেউ থামাতে পারবে না আমাকে, এটাই রাফাতের কথা, পিস্তলের বুলেট মিস হতে পারে কিন্তু আমার ডিসিশন ভুল হতে পারে না। (রাফাত)




  • রাফাত কালকে তো ঢাকা কলেজে তর প্রথম দিন তা তুই কি নিজের আসল পরিচয় নিয়ে কলেজে প্রবেশ করবি, না কি ছদ্মবেশ নিয়ে। (ফাহাদ)




  • হিহিহিহি,,, আসল পরিচয় দিয়ে কলেজে প্রবেশ করলে আমার সাথে কেউ মিশবে না, তার থেকে ভালো হবে ছদ্মবেশেই যাই। (রাফাত)




  • আমারো তাই মনে হয়। তবে কালকে তর সাথে কি হবে তা আমি নিজ চোখে দেখতেছি, কালকে তর ভাগ্য টাই খারাপ যাবে। (ফাহাদ)




  • এ জগতে অমঙ্গল ছাড়া মঙ্গলের কোনো অস্তিত্ব কল্পনাতীত। অন্ধকারে সাথে আলোর, সাদার সাথে কালোর, দুঃখের সুখের যে সম্পর্ক, অমঙ্গলের সাথে মঙ্গলেরও সেরূপ সম্পর্ক। অমঙ্গলের পাশেই মঙ্গল কে চেনা যায়। (রাফাত) 




* কথাটা বলে বসা থেকে উঠে দাঁড়ায় রাফাত। দুই তলা বাড়ির নিচ তলায় বসে বসে এতক্ষণ কথা বলছিলো তারা দুজন। রাফাত উপরের উঠার জন্য সিরির কাছে যেতে থাকে,, সময়  অনেক হয়েছে গভীর অন্ধকার মনোমুগ্ধকর রাত পাশে চাঁদের আলোয় সারা বাড়িটা ছেয়ে গেছে। ফাহাদ বসা থেকে উঠে নিজের ঘরের দিকে পা বাড়ায় *






চোখে মোটা ফ্রেমের স্টুডেন্ট চশমা, ফুল হাতার হালকা ময়লা সাদা কালারের শার্ট, কালো পেন্ট, মাথার চুল গুলো অনেক বড় বড়, মাথাটা নিচু করে ঢাকা কলেজের ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে রাফাত। পরিবেশ টা নিত্যান্ত মনোরম আশেপাশে অনেক স্টুডেন্ট কেউ বসে কেউ দাঁড়িয়ে আড্ডা দিচ্ছে। রাফাত ডান হাত দিয়ে চোখের চশমাটা ঠিক করে মাথাটা হালকা উচু করে,, কম বেশি সবাই রাফাতের দিকে ব্রু কুঁচকে তাকিয়ে আছে এটা দেখে রাফাত মুচকি হাসি দেয়। সবাই  হয়তো ভাবছে এমন একটা বড় কলেজে কিভাবে ক্ষেত ছেলেটা চান্স পেয়েছে। রাফাত মাথাটা নিচু করে ক্লাসের দিকে রওনা দেয়,, হঠাৎ পিছন থেকে মেয়েলি কন্ঠে কারো ডাকে রাফাত পিছনে ফিরে তাকায় দেখে কতগুলো মেয়ে মাঠের চওরে বসে বসে আড্ডা দিচ্ছে তার মধ্যে থেকে আকাশি কালারের ড্রেস পরা মেয়েটা রাফাত কে ডাক দেয়। রাফাত মেয়ে গুলোর সামনে যেয়ে বলে --





• আসসালামু আলাইকুম আপুরা, আমাকে কি জন্য ডেকেছেন। (রাফাত)




• রাফাতকে ডাক দেওয়া মেয়েটা নাম নিশিতা বলে -- এই ছেলে নাম কি তর। (নিশিতা)




• রাফাত আহম্মেদ । (রাফাত)




• নাম টা ত ভালো কিন্তু নামের সাথে পোশাকের চেহারার অবস্থা তো ভালো না,, বাড়ি কোথায় তর। (নিশিতা)




• কুমিল্লার ছোট একটা গ্রামে। (রাফাত)




• তার মানে তুই গ্রাম থেকে এসেছিস, তাই তো বলি এরকম একটা ক্ষেত ছেলে ঢাকা শহরের হবে কি করে। কথাটা বলে সব গুলো মেয়ে জোরে জোরে হাসতে থাকে। রাফাত কেবল বোকার মতো করে চেয়ে আছে, সে বুঝতে পারছে না যে কেনো তারা অহেতুক এবাবে হাসতেছে। নিশিতা হাসি থামিয়ে বলে -- কোন ইয়ারে ভর্তি হয়েছিস তুই। (নিশিতা)



• ২য় বর্ষে। (রাফাত)




• তুই তাহলে আমাদের সাথেই পরিস কিন্তু তর সাথে আমরা ক্লাস করবো কিভাবে। এখনই শরীর থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছে পরে যাদি ক্লাসের আবার কি অবস্থা হয়। আচ্ছা তুই এখন আমাদের একটা কাজ করে দে,, দোকান থেকে কিছু শুকনা খাবার এনে দে তাড়াতাড়ি যা। (নিশিতা)




• আপু আমার ক্লাসে যেতে হবে, আমি আপনাদের কাজ টা করতে পারবো না। (রাফাত)



• রাফাতের কথাটা শুনে নিশিতা রেগে বলে -- তুই চিনিস আমাকে, কি আমার পরিচয়, কে আমার বাবা। (নিশিতা)



• আপু ঢাকা শহরে আমি নতুন কাউকে চিনি না। আপনার পরিচয় টা যদি আপনি নিজ থেকে দিতেন তাহলে ভালো হতো। (রাফাত)



• এখন আমি যা বলবো এটা মাথায় গেথে রাখ -- আমি নিশিতা, আমার বাবা এই শহরের কমিশনার। কলেজের সবাই আমাকে ভয় পায়, আমার অর্ডার  অমান্য করার কারো সাহস নেই। আজ থেকে কথাটা যেন মনে থাকে,, এখন তুই যেয়ে খাবার গুলো নিয়ে আয়। রাফাত নিজ জায়গা থেকে সরে না, সেখানে মাথাটা নিচু করে স্থীর হয়ে দাঁড়িয়ে আছে এটা দেখে নিশিতা রেগে রাফাতের বাম গালে কষে একটা চড় মেরে বলতে থাকে -- তকে কয় বার বলতে হবে এক কথা, তবুও তুই এখানে মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে আছিস, সমস্যা কি তর যা এখান থেকে। (নিশিতা) 




• রাফাত বাম গালে হাত দিয়ে মাথাটা নিচু করেই বলে -- আপু আমার কাছে টাকা নেই। (রাফাত)




• হাহাহাহাহা... জানতাম এটাই বলবি তুই যা এখান থেকে, তর মতো ফকিরের টাকা দিয়ে আমি কিছু খাবো এটা তুই ভাবলি কি করে। (নিশিতা)




“ রাফাত কিছু বলে না সবার চোখের আড়ালে স্বপ্নের রূপকথার হাসি দেয় যার মানে এই কলেজে কেউ তাকে চিনতে পারছে না। রাফাত ২য় বর্ষের ক্লাস রুম খুঁজতে খুঁজতে ক্লাসে প্রবেশ করে। ক্লাসের পরিবেশ টা কতিপয় নিরব কারণ এখন আশরাফ স্যারের ক্লাস। ইকোনমিকস ক্লাস নেয় এই স্যার খুবই গম্ভীর। ইকোনমিকসের স্যারেরা এমনিতেই গম্ভীর হয়ে থাকেন। কঠিন হয়ে থাকতে ভালোবাসে আশরাফ স্যার। হাসি তামাশা, ঠাট্টা, ফাজলামি তার একেবারে সহ্য হয় না। তার কথা হলো - হাসি তামাশাই যদি শিক্ষার্থীরা করবে, তাহলে পড়াশোনা করবে। কখন? পৃথিবী টা কোনো নাট্যশালা না যে হাসি- তামাশা করে লোক হাসাতে হবে। আশরাফ স্যারের দুর্ভাগ্য তার আশেপাশে মানুষজনের স্বভাব তার স্বভাবের একেবারে উল্টো। স্টুডেন্টরা অনেক কষ্টে স্যারের সামনে হাসি আটকিয়ে রাখে। কিছুক্ষণ পর আশরাফ স্যার ক্লাসে প্রবেশ করে সবাই তাকে দাঁড়িয়ে সম্মান জানায়। আজ সোমবার আশরাফ স্যার অর্থনীতির কিছু গুরুত্বপূর্ণ ট্রপিক নিয়ে আলোচনা করবে তাই সকল স্টুডেন্ট সাবধান হয়ে আছে। এবার আশরাফ স্যার শীতল গলায় বলতে থাকে ----




  • আজকে কি নিয়ে আলোচনা করবো মনে আছে সবার। (আশরাফ) 



  • সবাই একসাথে জবাব দেয় - জ্বি স্যার। 



  “ আশরাফ স্যার কিছু বলতে যাবে তখনই তার চোখের দৃষ্টি যায় সবার লাস্ট বেঞ্চে। চোখে মোটা ফ্রেমের স্টুডেন্ট চশমা, হালকা ময়লা শার্ট পড়ে আছে যার জন্য শরীরের রঙটা ভালো করে বুঝা যাচ্ছে না, গুটি শুটি মেরে নিচের দিকে তাকিয়ে বসে আছে। ছেলেটাকে দেখে মনে হচ্ছে কোনো অসহায় পথিক এখানে এসে বিশ্রাম করার জন্য আশ্রয় নিয়েছে। ক্লাসের সময় কেউ অমনোযোগী হয়ে থাকবে এটা আশরাফ স্যার সহ্য করতে পারে না, তাই তিনি গম্ভীর মুখো হয়ে একটু শব্দ করে বলে --




  • এই কে তুমি?  আমার ক্লাসে নতুন মনে হচ্ছে। (আশরাফ) 



 হঠাৎ এরকম হুংকারে কম বেশি সবাই ভয় পেয়ে যায়। রাফাত নিজেকে স্বাভাবিক করে সামনের দিকে চেয়ে দেখে আশরাফ স্যার রাগি দৃষ্টিতে চেয়ে আছে। এটা দেখে রাফাত হালকা ভয়কাতর চোখে স্যারের দিকে তাকায়, আশরাফ স্যার আবারও বলে --



  • এই ছেলে তুমাকেই বলছি, এমন চুপ হয়ে বসে আছ কেনো, আমার প্রশ্নের জবাব দেও। (আশরাফ) 



  • রাফাত করুন দৃষ্টিতে চেয়ে নরম গলায় বলে - স্যা...স্যার আমি নতুন ভর্তি হয়েছি। আজই প্রথম ক্লাস তাও আবার আপনার বিষয়। (রাফাত)



  

  • বুঝতে পারছি, কিন্তু তোমার জামার অবস্থা এমন কেনো। মনে হচ্ছে জামা কাপড় কাঁচার সময় পাও না। তোমার সাথের ক্লাসমেট গুলোর জামা দেখছো কত পরিষ্কার, তারা কতো পরিপাটি হয়ে এসেছে ক্লাসে, কাল থেকে ভালো জামা পড়ে আসবে। (আশরাফ) 



  • স্যারের কথা শুনে রাফাত মুচকি হেসে বলে -- স্যার বর্তমান বিশ্বে জাতিতে জাতিতে বিভেদ ও বিচ্ছেদ একটি নিত্যনৈমিওিক ঘটনা। এর মধ্যে আবার উচু নিচুর বিভেদ। এবং এর মূলে আছে একটি শ্রেণির ক্ষমতা ও অধিকার লাভের হীন প্রচেষ্টা। আমি গরীব আমার যা আয় তা দিয়ে আমি চলি এখন ভালো ড্রেস টা আমার প্রয়োজন না। আমার সকল ড্রেস এরকমই ময়লা হালকা ছেড়া, কাপড় কাঁচলেও এমন থাকে। (রাফাত)




  • রাফাতের কথার মানে কিছুটা স্যার বুঝতে পারছে। তাই তিনি আবারো বলে -- মানুষ চাইলেই সব পারে তুমিও চেষ্টা করে দেখতে পারো। (আশরাফ) 



  • স্যার দারিদ্র্যের নির্মমতায় যে মানুষ বিড়ম্বিত, বিওবান আত্নীয়ের সম্পর্কে তার ক্ষোভের শেষ নেই। বিওবান চিরকাল বিওহীনকে তাচ্ছিল্য করে অস্বীকার করে। অর্থশালীর সাথে তার যে একটা রক্তের সম্পর্ক রয়েছে, সেই ঘনিষ্ঠ আত্নীয়তার কথাটি সে সবসময় অর্থশালীকে স্মরণ করিয়ে দিতে চায় এবং তার দ্বারস্থ হয়ে কিছু না পেলে তাকে স্বার্থপর বলে ধিক্কার দিতে থাকে। (রাফাত)




রাফাত কথা গুলো বলে থামে কতক্ষণ আগে  আশেপাশে অনেকেই হাসাহাসি করছিলো কিন্তু এখন পরিবেশ যেন থমকে গেছে পিনপিন নিরবতা বিরাজ করছে শুনা যাচ্ছে কিছু মানুষের নিশ্বাস ফেলার নিরব শব্দ। রাফাতের কথা গুলো  যেন সবার বুকে যেয়ে আঘাত করেছে। আশরাফ স্যার অনেক কঠিন মনের মানুষ কিন্তু আজ রাফাতের কথা শোনে উনার মন হালকা গলেছে কিন্তু তিনি এটা কাউকে প্রকাশ করে না। এবার সবার নিরবতা ভেঙে আশরাফ স্যার বলতে শুরু করে ---




  • তোমার নাম কি? কোথা থেকে এসেছো? তোমার কথা গুলো অনেক সুন্দর, আমার ভালো লেগেছে!! (আশরাফ) 




  • হিহিহিহি...স্যার আমার নাম টা অনেক ছোট রাফাত কিন্তু অনেকের কাছে আমার নামটাই অমঙ্গলের প্রতীক। আর আমার বাসা কুমিল্লার ছোট একটা গ্রামে। (রাফাত)




 “ আশরাফ স্যার বেশি কথা বলতে বা শোনতে পছন্দ করে না। তাই তিনি সেই প্রসঙ্গে আর কথা না বাড়িয়ে ক্লাসের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা শুরু করে। রাফাতের ড্রেস আর কথা বলা চলাফেরার স্টাইল দেখে অনেকে হাসাহাসি করছে অনেকে আবার কটু কথা বলছে সে কাউকে তেমন কোনো শক্ত জবাব দিতে পারছে না, কোনো এক বিশেষ কারণে। নিন্দা না থাকলে পৃথিবীতে জীবনের গৌরব কি থাকত? নীরব ভাষায় বৃক্ষ আমাদের সার্থকতা গান গেয়ে শোনায়। অনুভূতির কান দিয়ে সে গান শোনতে হবে। তাহলে বুঝতে পারা যাবে, জীবনের মানে বৃদ্ধি, ধর্মের মানেও তাই। প্রকৃতির যে ধর্ম মানুষেরও সে ধর্ম। পার্থক্য কেবল তরুলতা ও জীবজন্তুর বৃদ্ধির ওপর তাদের নিজেদের কোনো হাত নেই, মানুষের বৃদ্ধির উপরে তার হাত রয়েছে। আর এখানেই মানুষের মর্যাদা। মানুষের বৃদ্ধি কেবল দৈহিক নয়, আত্নিকও। মানুষ কে আত্না সৃষ্টি করে নিতে হয়, তা তৈরি পাওয়া যায় না। সুখ দুঃখ বেদনা উপলব্ধির ফলে অন্তরের যে পরিপক্বতা, তাইতো আত্না।  দুপুরের কড়া রোদ্রে কুয়াশা কেটে গেছে, এখন হালকা গরম লাগছে, শহরটা ঘনবসতি থাকার কারণে শীতটা এত পরিমাণে ফেস করা যায় না। রাফাত কলেজ থেকে বের হয় গেটের সামনে দাঁড়িয়ে আছে, রাস্তা ফাঁকা। রাফাত ব্যাগ থেকে সিগারেটের পেকেট বের করলো মাএ দুইটা সিগারেট আছে, সে পরপর দুইটা সিগারেট শেষ করলো। এর মধ্যে মাএ একটা রিকশা গেল। কিছুদিন আগেও দুপুর বেলায় রিকশার যন্ত্রণায় হাঁটা যেত না। রাফাত রাস্তার মোড় পর্যন্ত গেলো। সামনেই একটা ছোট দোকান দেখা যাচ্ছে যেটাতে চা, পান আরো কিছু জিনিস রয়েছে, রাফাত দোকানের সামনে দাঁড়ায়, এবার সে দোকানদার টা কে বলতে শুরু করে ---




  • চাচা বিত্রুি বাটা কেমন হয়? (রাফাত)




  • আর বিত্রুি। কিনব কে? কিনার মানুষ আছে? (দোকানী) 




  • দেখি একটা বেনসন সিগারেটের পেকেট দেন! (রাফাত)




 “ রাফাতের এখনো দুপুরের খাওয়া হয় নি, এক্ষুণি গিয়ে খেতে হবে। একটা দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে থাকার কোনো মানেই হয় না। ব্যাপার টা সন্দেহ জনক, এখন সময় খারাপ। আচার আচরণে কোন রকম সন্দেহের ছাপ থাকা ঠিক না। রাফাত দোকানদারের দিকে ভালো করে খেয়াল করলো তার মাথায় ঝুটি বিহীন একটা লাল ফেজ টুপি। কোথা থেকে জোগাড় করেছে কে জানে। চিবুকের কাছে অল্প দাঁড়ি, তাও আবার হালকা পেকে গেছে। 




  • দাম কত হয়েছে টাকা। (রাফাত)



  • দেও তুমি বাবা, তোমরা তো প্রতিনিয়ত সিগারেট খাও তবুও আমি কেন বলবো। (দোকানী) 




এবার রাফাত পিছনের পকেট থেকে একটা মানিব্যাগ বের করে তার থেকে কচকচে একটা পাঁচশত টাকার নোট বের করে দোকানদারের সামনে এগিয়ে দেয়। দোকানি নোট টা ভালো করে দেখে বলে ---





## চলবে ##




[ আমার গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা শেষ না করে গল্প টা লিখছি আশা করি সবাই একটা করে ভালো মন্তব্য করবেন। আরেক টা কথা এই গল্পের পরের পাঠ গুলো এই গ্রুপে না দেওয়ার সম্ভবনা বেশি,, পরবর্তী পাঠ গুলো আমার অফিসিয়াল ফেসবুক গ্রুপে দিবো ] ধন্যবাদ 





 wait for the next part. 


No comments:

Post a Comment

ok

KGF of Diamond City. ৪ # লিখা :- RAJA Bhuiyan. (মি.440) # পর্ব :- ০ ৪

 # গল্প :- KGF of Diamond City. ৪ # লিখা :- RAJA Bhuiyan. (মি.440) # পর্ব :- ০ ৪ ............. আকাশে তাজা সূর্যের তীব্র আলো। শকুন আর গাংচিলদ...