মাফিয়া সিরিজ ১
# টোকাই যখন মাফিয়া কিং
# RAJA Bhuiyan (মি.440)
#সিজন:- ২
#পর্ব:- ১
.................
সময়টা রাত প্রায় দশটা বেজে একুশ মিনিট থানার ভিতর নিজের কেবিনে চেয়ারে বসে আছে মেহেরাজ হাতে তার জলন্ত সিগারেট । মাথাটা উপরের দিকে করে বসে আসে সে। অনেক চিন্তা যখন মানুষের মাথায় ভিড়ে তখনই মানুষ উপরের আকাশের দিকে চেয়ে অন্যমনষ্ক ভাবে সেই বিষয় টি নিয়ে ভাবতে থাকে। এক বস্তা চিন্তা এসে মাথায় বসে আছে। কি করবে বুঝতে পারছে না মেহেরাজ। নয় বছর ধরে পুলিশে আছে মেহেরাজ। পুলিশের চাকরি জীবনে কখনো সে এরকম কেসের সম্মুখীন হয় নি। কিছুক্ষন আগের ঘটনা টা নিয়ে বেশ গম্ভীর ভাবে চিন্তা করছে মেহেরাজ।
[ একটু থামুন 🖐 আমি আগেই বলে দিচ্ছি যারা এই গল্পের সিজন ১ পড়েন নি তারা কিছু ই বুঝতে পারবেন না আগে যেয়ে সিজন ১ পড়েন। ধন্যবাদ ] এবার পড়তে শুরু করেন। ↓
কিছুক্ষণ আগে - - ☞
মেহেরাজ নিজের কেবিন বসে বসে পুরোনো কিছু ফাইল দেখছিলো তখনই তার কেবিনে প্রবেশ করে কনস্টেবল শেখর। মেহেরাজ নিজের হাতের ফাইল টা টেবিলের উপর রেখে শেখরের দিকে তাকায়,, উওেজিত হয়ে দাঁড়িয়ে শেখর, সবুজ রঙের শার্টের ভিতরে ঘেমে একাকার শেখর বেশ ভালোই বুঝতে পারছে মেহেরাজ। তাকে দেখে মনে হচ্ছে কোথাও থেকে দৌড়ানি খেয়ে এসেছে কিন্তু পুলিশ কে আবার কেউ দৌড়ানি দিবে কার এত সাহস। ভেবে পায় না মেহেরাজ।
• শেখর থানার বাইরে এত আওয়াজ শুনা যাচ্ছে কেনো। মনে হচ্ছে অনেক লোক দাঁড়িয়ে থানার বাইরে ঝামেলা করছে। আর তোমার এমন অবস্থা কেন? (মেহেরাজ)
• স্যার আমার কথা বাদ দেন! বাইরে কি হচ্ছে সেটা আগে দেখবেন চলেন। বসে থাকলে বাইরের লোক গুলো আরো বেশি ঝামেলা করবে। (শেখর)
• মানে? কি বলতে চাচ্ছো সেটা ভালো করে বুঝিয়ে বল আমাকে। (মেহেরাজ)
• স্যার আপনি আমার সাথে বাইরে চলেন তাহলেই বুঝতে পারবেন আমার কথা। (শেখর)
শেখরের কথার উপর ভিওি করে মেহেরাজ কেবিন থেকে বের হয়। থানার সামনে অনেক লোক দাঁড়িয়ে আছে, কিন্তু এত লোক এত রাতে থানার সামনে কি করছে। সবার মুখে একটাই কথা আবির কোথায়? আমাদের আবির কে বের করে দিন। মেহেরাজ কিছুই বুঝতে পারছে না। কে আবির? এখানে এত লোকজন আসার মানে কি এই আবিরের জন্য। উওর টা নিজের মনেই করতে থাকে মেহেরাজ।
• শেখর আমি কিছুই বুঝতে পারছি না,, এত রাতে থানার সামনে লোকজন এমন অবস্থা করছে কেনো। কে আবির? কোথায় আবির? আমি কিছু বুঝতে পারছি না, আমাকে একটু খুলে বলো সবকিছু। (মেহেরাজ)
• স্যার এখানে সবাই পাশের বস্তিবাসী, সেখানে একটা ছেলে থাকতো তাদের সবার সাথে তার নামই আবির। গতকাল বিকেল থেকে সেই আবির কে কোথাও দেখা যাচ্ছে না। হঠাৎ কোথায় উধাও হয়ে গেছে আবির। এর জন্য মূলত সবাই এসে থানায় ভিড় জমিয়েছে। আপনি কিছু একটা করুন স্যার। (শেখর)
• শেখর আবির নামের ছেলেটার একটা ছবি নিয়ে সবাইকে পাঁচ মিনিটের মধ্যে থানা থেকে বের করে দেও। আবির কে পেলে আমরা তাকে বস্তিতে দিয়ে আসবো। (মেহেরাজ)
মেহেরাজের এমন কথা শুনে নিজেই বোকা বনে যায়,, শেখর। এক মাস হয় নি এখনো মেহেরাজের এই থানায় যোগ দেওয়ার। নতুন এসেই বেশ কড়া নিয়ম করে দিচ্ছে এই নতুন অফিসার। শেখর আবিরের একটা ছবি সংগ্রহ করে,, বস্তিবাসী কে থানা থেকে বিদায় করে দেয়।
• স্যার এই যে আবির নামের ছেলেটার ছবি। (শেখর)
শেখরের হাত থেকে ছবির কাগজ টা নেয় মেহেরাজ। ছবির দিকে তাকায় তিনি,, ফোল সাইজের একটা ছবি, লম্বা একটা ছেলে দাঁড়িয়ে আছে কাঁধে ব্যাগ নিয়ে। মুখে চাপ দাঁড়ি,, শরীরের রঙটা হালকা চাপা ফর্সা, চোখে মোটা ফ্রেমের চশমা, পড়নে ঢিলেঢালা লম্বা হাতার কালো রঙের একটা শার্ট,, কম দামি এক জোরা চটি পায়ে লেগে আছে। মেহেরাজ নিজেও বুঝতে পারছে না এমন একটা বোকা ছেলে হঠাৎ আবার কোথায় উধাও হয়ে যাবে।
• শেখর ছেলেটা কে দেখে মনে হচ্ছে অনেক বোকা টাইপের। আবিরের সম্পর্কে তুমি কি কি জানো। (মেহেরাজ)
• স্যার ছেলেটা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে। সেখানে গেলেই জানা যাবে আবিরের সম্পর্কে। (শেখর)
• শেখর তুমি কি রকি কে চিনো। (মেহেরাজ)
• কোন রকি স্যার মাফিয়া কিং? (শেখর)
• হু! মাফিয়া কিং রকি। সে ছদ্মবেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলো। কিছু দিন যেতে না যেতে হঠাৎ কোথায় যেন হাড়িয়ে যায় সে। (মেহেরাজ)
• রকি ভার্সিটির সভাপতির ছেলে নাহিদ কে স্টীক দিয়ে পুরো ভার্সিটির সকল স্টুডেন্টের সামনে পিটিয়েছিলো। ঐ দিনই ভার্সিটির শেষ দিন ছিলো রকির এর পর থেকে কেউ আর রকির চেহারা পর্যন্ত দেখে নি। (শেখর)
• শেখর তুমি এখন আসতে পারো। (মেহেরাজ)
শেখর বেরিয়ে যায় কেবিন থেকে,, মেহেরাজ চিন্তা করছে এমন একটা বোকা ছেলেকে কে আবার গুম করে দিবে। আবিরের সাথে কারো শএুত্বা থাকবে এটা কিভাবে সম্ভব। আগেও এমন অনেক কেসের সম্মুখীন হয়েছেন মেহেরাজ কিন্তু এমন কোনো রহস্যময় কেসে কখনো সম্মুখীন হয় নি। মেহেরাজ নিজে একজন বড় মাইন্ড গেমার,, বড় বড় কেস একা সামলেছে তিনি কিন্তু এই টা কিভাবে সব কিছুই ধোঁয়াসা। হাতে থাকা সিগারেট শেষ হয়ে এসেছে। কালকে সকালে ভার্সিটিতে গেলেই জানা যাবে আবিরের সম্পর্কে ততক্ষণ পুরনো কেসের ফাইল গুলো দেখতে থাকে মেহেরাজ৷
...................
স্যার, স্যার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে একটা লাশ পাওয়া গেছে। মানুষজন আতংকিত হয়ে গেছে।
সকাল নয়টা মেহেরাজ নিজের কেবিনে বসে বসে সদ্য গরম চায়ে চুমুক দিচ্ছিলো তখন তার কেবিনে প্রবেশ করে শেখর চোখে তার ভয়ের আভাস স্পষ্ট দেখতে পারছে মেহেরাজ। লাশের কথা শুনেই গরম চা টা টেবিলের উপর রেখে বসা থেকে উঠে দাঁড়ায় তিনি। পিস্তল টা কোমরের কাভার পয়েন্টে রাখে। টেবিলের উপর থেকে পুলিশের কালো কালারের লাঠি টা হাতে নেয় মেহেরাজ। গড়িতে যেয়ে বসে তিনি,, উদ্দেশ্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে।
একটা লাশ রাস্তায় পরে আছে কাফনের কাপড় দিয়ে মুড়ানো। আশেপাশে কেমন যেন একটা গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে হয়তো এটা লাশের তাজা গন্ধ৷ মানুষজন মুখে কাপড় দিয়ে গন্ধ থেকে বাঁচার চেষ্টা করছে। এখনো লাশের মুখ কেউ দেখছে না, পুলিশ ছাড়া কেউ হাত দিতে সাহস পাচ্ছে না। মেহেরাজের হাতের ইশারায় শেখর যেয়ে ভয়ে ভয়ে লাশের কাফনে মুড়ানো মুখ টা খুলে দেয়। মৃত ব্যক্তির মুখ টা দেখে ভিষণ ভয় পেয়ে যায় শেখর। কারণ মৃত ব্যক্তির মুখ টা কিছুই বুঝা যাচ্ছে না মনে হয় কেউ বড় পাথর দিয়ে মুখটা থেতলিয়ে দিয়েছে। মুখ দেখে লাশ টা সনাক্ত করা সম্ভব না, মেহেরাজ লাশ টা পোস্টমর্টেম জন্য মর্গে পাঠিয়ে দেয়। শহরের অবস্থা বেশি একটা ভালো না সবাই আতংকিত। একদিন পরে পরে এমন মানুষ খুন হয়েই যাচ্ছে , পুলিশ অফিসার রা খুনি কে এখনো ধরতে পারে নি। তাহলে কি এমন ভাবে শহরে খুন হতেই থাকবে। আর খুনি সাধারণ মানুষের ভিড়ে মিলিয়ে যাবে। এখন অপেক্ষা পোস্টমর্টেম রিপোর্টের জন্য।
.............
প্রায় দুই ঘন্টা পর মেহেরাজের হাতে পোস্টমর্টেমের ফাইনাল রিপোর্ট আসে। রিপোর্ট টা দেখে মেহেরাজ অনেক অবাক, কারণ - রিপোর্টে এসেছে,, লাশ টা একজন ছেলের। মৃত ব্যক্তিকে কেউ গুলি করে মেরেছে প্রায় ছয়টা বুলেট শরীর থেকে পাওয়া যায়। ছেলেটা মারা যাওয়ার পরও খুনি নিজের রাগ কমাতে বড় পাথর দিয়ে মৃত ব্যক্তির মুখ মন্ডলে মেরেছে। কোনো সাইকো টাইপের লোক ছাড়া এমন খুন কেউ করতে পারবে না। দুইটা কেস সামনে দাঁড়িয়ে আছে এক আবিরের নিখোঁজ, দুই সকলের খুনের তদন্তের। কখনো এমন নাজেহাল অবস্থায় পরে নি মেহেরাজ।
.....................
টিপ টিপ করে চোখ জোরা মেলে তাকায় আবির। নিজেকে কোন নরম বিছানার উপর আবিষ্কার করে সে,, আশেপাশে তাকায় সে, হাতের বাম পাশে ইনজেকশন নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে মধ্যে বয়সী একটা মহিলা পরনে তার সাদা কালারের নার্সের ড্রেস,, আবির বুঝে গেছে সে কোনো হাসপাতালের বেডের উপর সুয়ে আছে। হাতের ডান পাশে পুলিশের পোশাক পড়ে গম্ভীর মুখো হয়ে দাঁড়িয়ে আছে একটা পুলিশ অফিসার। পিছনে দাঁড়ানো একটা পুলিশ কনস্টেবল। ছোট থেকেই আবির পুলিশ কে ভয় পায়,, এখনও তেমন ভয় পাচ্ছে। আবির উঠে বসার চেষ্টা করে সাথে সাথে বাম হাতে হালকা ব্যথা অনুভব করে, আবিরের শরীরে স্যালাইন চলছে। আবির কে চোখ খুলা অবস্থায় দেখে ডান পাশে দাঁড়ানো পুলিশ অফিসার মেহেরাজ বলে।
• আবির তুমি অনেক টা দুর্বল একটু রেস্ট করো এখন উঠে বসার প্রয়োজন নেই । (মেহেরাজ)
আবির অবাক হয় কারণ অচেনা অজানা একটা পুলিশ অফিসার আবিরের নাম ধরে ডাকছে। কিন্তু এই পুলিশ অফিসারের সাথে আবিরের কখনো দেখা বা কথা হয় নি তাহলে নাম কিভাবে জানলো। ভেবে পায় না আবির। কিছুই স্পষ্ট দেখতে পারছে না আবির,, নিজের মাইনাস ওয়ান পয়েন্টের চশমা টা নিজের চোখে নেই।
• আমার চশমা,, আমার চশমা কোথায়? আমি সব কিছু অস্পষ্ট দেখছি। (আবির)
• আবির উওেজিত হবার কোনো কারণ নেই। তুমার চশমার স্ত্র্যাচ টা ভেঙে গেছে, তুমার জন্য নতুন একটা চশমার ব্যবস্থা করা হয়েছে। (মেহেরাজ)
বেডের পাশে টেবিলের উপর রাখা মোটা ফ্রেমের চশমাটা মেহেরাজ আবিরের হাতে দেয়। আবির চশমা টা চোখে লাগায় এখন সবকিছুই স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে।
• আবির এখন কেমন লাগছে তুমার? (মেহেরাজ)
• জ্বি ভালো! কিন্তু মাথায় অনেক ব্যথা করছে। কেমম যেন লাগছে মনে হয় মাথার ভিতর কিছু চলছে। (আবির)
• সব কিছু ঠিক হয়ে যাবে তুমি এখন রেস্ট করো আমরা তুমার জন্য বাইরে অপেক্ষা করছি। (মেহেরাজ)
কথাটা বলেই বেরিয়ে যায় মেহেরাজ সাথে শেখরও।
............
আবির সামনের দেয়ালের দিকে তাকায়,, দেয়াল ঘড়িতে এখন সময় সকাল এগারোটা । সে মনে করার চেষ্টা করে কালকের ঘটনা। ভার্সিটির উদ্দেশ্য যখন বাসা থেকে বের তখনই তার সামনে একটা গাড়ি থামে,, আবির কিছু বলবে এর আগেই গাড়ির ভিতর থেকে কেউ আবিরের মুখের রুমাল চেপে ধরে,, সে অজ্ঞান হয়ে যায়। প্রায় আট ঘন্টা পর আবিরের জ্ঞান ফিরে। নিজেকে কোনো বদ্ধ রুমে আবিষ্কার করে সে। মাথার উপর জ্বলছে ষাট ওয়াটের একটা হলদে বাল্ব। আশেপাশে পুরনো অনেক জিনিস পত্র রাখে দেখে মনে হচ্ছে এগুলো কেউ অনেক দিন ধরে ব্যবহার করে না। খুবই গরম রুমের ভিতর,, হঠাৎ রুমের সাটার টা উঠিয়ে একটা ছেলে ভিতরে প্রবেশ করে। ছেলেটার হাতে ভয়ংকর একটা ধারালো ছুরি। আবিরের সামনের চেয়ারের উপর আরাম করে বসে ছেলেটা।
• কেমন আছিস মাফিয়া কিং এর বন্ধু? (ছেলেটা)
আবির বুঝতে পারছে না ছেলেটা কেন মাফিয়া কিং এর বন্ধু বলছে। আবির বোকাসোকা চেহারা করে বলতে থাকে...
• মাফিয়া কিং এর বন্ধু মানে! কি বলছেন আপনি। (আবির)
• হাহাহাহাহা,, কেন বুঝতে পারছিস না আমি কি বলছি। নাকি বুঝেও না বুঝার চেষ্টা করছিস।
• সত্যি ভাইয়া আমি আপনার কথা বুঝতে পারছি না । দয়া করে আমাকে বুঝিয়ে বলেন। (আবির)
• বাংলাদেশের টপ মাফিয়া কিং রকি ভাই,, তর বন্ধু ছিলো না। একই সাথে একই ভার্সিটিতে পরতি তরা দুইজন। কোথায় এখন রকি সেটা বল আমাকে। (ছেলেটা)
আবির মনে করার চেষ্টা করে রকির কথা সেইদিন ভার্সিটিতে নাহিদের সাথে ঝামেলা করার পর থেকে রকির সাথে আর দেখা হয় নি আবিরের। রকি বলে গিয়েছিলো দেখা হবে কিন্তু এখন আবিরের সাথে দেখা হয় নি রকির।
• আমার সাথে রকির কোনো যোগাযোগ নেই। সেইদিন ভার্সিটিতে ওর সাথে আমার শেষ দেখা হয় এর পর আর দেখা হয় নি। আমি জানি না রকি কোথায়। (আবির)
আবিরের কথাটা বিশ্বাস করে না ছেলেটা। ধারালো ছুরি টা হাতে নিয়ে বলতে থাকে....
• সত্যি কথা বল বেঁচে যাবি! নয়তো এই চুরি টা দিয়ে এখনই শেষ করে দিবো। বল রকি কোথায়। (ছেলেটা)
ছুরিটা দেখে আবির ভয় পেয়ে যায়। গলার পানি শুকিয়ে গেছে,, একটা ঢুক গিলে গলাটা হালকা ভিজিয়ে নেয় সে। ভয় কাতর গলায় বলতে থাকে....
• ভাই আমার কথাটা বিশ্বাস করেন,, আমার সাথে রকির কোনো দেখা হয় নি। আমাকে মারবেন না দয়া করে। ছেড়ে দেন প্লিজ। (আবির)
• মিথ্যা সব কিছু মিথ্যা,, তুই একমাত্র জানিস রকি এখন কোথায় আছে। তর সময় শেষ মৃত্যুর প্রহর গুনতে শুরু কর এখনই। (ছেলেটা)
কথাটা বলে ছেলেটা ধারালো ছুরি টা নিয়ে আবিরের গলার দিকে নিতে থাকে। আবির ভয় পেয়ে যায়। ছুরি টা আবিরের গলায় চালিয়ে দিবে এমত অবস্থায়,, রুমের সাটারে ঠাস ঠাস করে আওয়াজ হয়। ছেলেটা ছুরি টা নামিয়ে নেয়। আবির হাফঁ ছেড়ে বাঁচে, হয়তো সৃষ্টিকর্তা আবিরকে বাঁচাতে কাউকে পাঠিয়েছেন। ছেলেটা ভয়ে ভয়ে সাটারের পাশে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করে....
• বাইরে কে? কে সাটার ধাক্কা মেরেছে! কোন সালা বাইরে দাঁড়িয়ে আছিস, কথা বলছিস না কেনো। (ছেলেটা)
বাইরে থেকে কোনো প্রতি উওর আসে না,, ছেলেটা রেগে রুমের সাটার টা উপরের দিকে তুলে। বাইরে দাঁড়িয়ে আছে কোনো এক অচেনা আগন্তুক। আবির আর ছেলেটার স্তম্ভিত দৃষ্টির সামনে দিয়ে নীরবে এগিয়ে গিয়ে আগন্তুক টা শূন্য চেয়ারে বসে পরে। নিশ্চল নিরব। আগন্তুক এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে উপরে ঝুলে থাকা বাল্বের সহস্র আলোকরশ্মির কেন্দ্রস্থলে। ষাট ওয়াটের হলদে আলো- পরিসীমার মধ্যে কালো কালারের রকস্টার ড্রেস মুখে ভুতুড়ে মাক্স জ্বলজ্বল করছে। পিছন থেকে ছুরি হাতে নিয়ে এগুলো থেকে ছেলেটা আগন্তুকের দিকে।
• এই কে তুই? এখানে আসলি কি করে! আমার চেয়ারে বসে পড়লি। ভালোই ভালোই বলছি এখান থেকে চলে যা নয়তো তর অস্তিত্ব বিলীন করে দিবো। (ছেলেটা)
আগন্তুক উচ্চ সরে হেসে উঠে। ওর মনের ভিতর মনে হয় না মৃত্যুর কোনো ভয় আছে। আবির বাঁচার ভরসা পায়। মৃত্যুর সামনে থেকে বাঁচার এটাই বড় সুযোগ।
• কি রে তুই এমন করে হাসছিস কেনো,, মরার ভয় নেই। দাঁড়া তকে আর বেশি সুযোগ দেওয়া যাবে না। তকে মেরে আবির সালাকেও মেরে দিবো। (ছেলেটা)
কথাটা বলে ছেলেটা ধারালো ছুরি আগন্তুকের পিছন দিয়ে আঘাত করবে। এর আগেই আগন্তুক পায়ের কাভার পয়েন্ট থেকে ছোট একটা পিস্তল বের করে,, পর পর দুইটা গুলি করে,, একটা বুলেট এসে ছেলেটার তল পেটে লাগে আরেকটা মিছ ফায়ার হয়ে পিছনের দিকে চলে যায়। ছুরি হাতে ছেলেটা নিচে পরে যায়, আগন্তুক বসা থেকে উঠে দাঁড়ায় ছেলেটার বুকের উপর ডান পা টা রেখে পিস্তলের সব গুলো বুলেট খরচ করে ছেলেটার উপর। এর পর কি হয় জানে না আবির।
হাসপাতালের বেডের উপর সুয়ে সুয়ে এগুলো ভাবছিলো আবির তখনি রুমের দরজা ঠেলে একটা লোক প্রবেশ করে আবির লোকটাকে দেখে হালকা ভয় পেয়ে যায়। কারণ.......
[ সাড়া পেলে পরের পাঠ তাড়াতাড়ি দিব ]
wait for the next part.
No comments:
Post a Comment
ok