রহস্যময় মাফিয়া সিরিজ
“ খুনি দ্যা মাস্টার মাইন্ড ”
লেখক: RAJA Bhuiyan.
পর্ব:>>_[( ১৪ )]_<<
................
“ মেহেরাবের মাথায় চিন্তার পাহাড় নেমে আসে করণ এখন মেয়র শহীদ হোসেন তাকে ফোন দিয়েছে ”
তিনি ফোন দিয়ে বল্লেন -- কমিশনার যেভাবে পারেন আমার ছেলের খুনি কে খুজে বের করুন পৃথিবীর বুকে যেখানে লুকিয়ে থাকুক না কেনো ওদের বের করুণ। আর যদি না পারেন তাহলে আমি আমার লোক দিয়ে শহর টা ধ্বংস করে দিবো এখন বলবেন আপনি করবো আমি। এ কথা বলে মেহেরাব কে কোনো কথা বলার সুযোগ না দিয়ে ফোন টা কেটে দেয়। মেহেরাবের কপালে চিন্তার ছাপ পড়ছে। উপর থেকে চাপ দিচ্ছে আবার মেয়রও চাপ দিচ্ছে,,সে বুঝতে পারছে না কি করবে।
রাফির আজ একটু দেরি করে ঘুমটা ভাঙেছে আজ আর ভার্সিটিতে যাওয়া হবে না। তাই সে চলে যায় করিম কাকার চায়ের দোকানে।
প্রতি টা খবরের চ্যানেলের হেড লাইন,, কাল রাতে মেয়রের ছেলে খুন। শহরের অবস্থা খুব খারাপ,, মেয়রের লোকজন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে।
রাফি খবরটা টিভিতে দেখে মুচকি হেসে চা টা শেষ করে চলে আসে। এখন রাফির মাথায় একটা প্রশ্ন ঘুর পাক খাচ্ছে, কে তাকে কালকে রাতে বাচিয়েছে। রাফির কাছে মনে হচ্ছে আগন্তুক টা কোনো রিয়েল মাফিয়া,,রাফি সারাদিন এই সব আর্টিকেল পরে তাই তার মাথায় আসছে সব ই মাফিয়াদের স্টাইলের সাথে মিলে যায় আগন্তুক টার। কিন্তু রাফি আগন্তুকের
মুখ টা দেখতে পারে নি মাক্সের জন্য। কিন্তু আগন্তুক টা রাফিকে এই মুহূর্তে ভাবনার মাঝে ফেলে দিয়েছে। রাফি একটা পার্কের বেঞ্চের উপর আরাম করে বসে বসে এগুলো চিন্তা করছিলো তখই ভাবনার মাঝ থেকে একটা ছেলে দৌড়ে রাফির কাছে আসে মনে হচ্ছে কেউ তাকে দৌড়াচ্ছিল। রাফির সামনে এসে হাঁটুর উপর ভর দিয়ে কিছুক্ষন মন খুলে শ্বাস নিয়ে রাফির হাতে একটা গিফট কাগজে মুরানো বক্স দিয়ে দৌড়ে আবার চলে যায়। রাফি কেবল সেদিকে চেয়ে আছে কোনো কিছু বলছে না। সে কিছু বুঝতে পারছে না যে এটা কার দেওয়া বক্স, হয়তো ছেলেটা ভুল করে দিয়ে চলে গেছে।
কিন্তু রাফি অবাক হয়ে যায় এটা দেখে যে বক্সের উপরে ছোট
করে ‘রাফি দ্যা’ লিখা। সে বুঝে গেছে হয়তো এই শহরে কেউ তাকে চিনে গেছে। রাফি এখন বক্সটা খুলবে না বাসায় যেয়ে বক্স টা খুলবে।
* আপনার কি কোনো গার্লফ্রেন্ড আছে *
রাজ তার কেবিনে বসে বসে কাজ করছিলো তখনই রিমি কথা টা বলে। দুপুরের খাবার দিতে এসে সে আর কোথাও যায় নি রাজের কেবিনে এসে বসে পরে। রাজ অনেক ক্ষন যাবত দেখছিলো রিমি কিছু বলবে,,কিন্তু এমন কথা বলবে সে ভাবতে পারে নি। রাজ কথাটা শুনে বিষম খায়,, টেবিলের উপর থাকা এক গ্লাস পানি খেয়ে ফেলে। তার পর অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে রিমির দিকে। এটা দেখে রিমি বলে,,
• আপনাকে আমার দিকে চেয়ে থাকতে বলি নি,,যেটা বলছি ঐটার উত্তর দিন।( রিমি)
• রাজ নিজেকে স্বাভাবিক করে উত্তর দেয় -- না আমার জীবনে তেমন কোনো মেয়ে বা পছন্দের মানুষ নেই। তুমি আমাকে এমন প্রশ্ন করার মানে কি??
• রিমি আমতা আমতা করে বলে--এমনি জিজ্ঞেস করলাম। রিমির এমন অবস্থা দেখে রাজ মুচকি হাসে। রিমি চলে যায় রাজের কেবিন থেকে। রাজ শুধু চেয়ে আছে রিমির চলে যাওয়ার দিকে।
..
আজ সজিবের মৃত্যুর চার দিন। পুলিশ এখনো খুনিদের ধরতে পারে নি। মেহেরাব কি করবে বুঝে উঠতে পারছে না,,কেনো শহরে এত এত খুন হচ্ছে কে করছে এগুলো। যদি এগুলো রাফিনদের গ্যাং রা মিলে করে তাহলে সজিব আর আশফির সাথে ওদের কি শক্রুতা ছিল। মেহেরাব যত দূর জানে মাফিয়াদের আলাদা ড্রেস আপ থাকে, তাহলে রাফিনদের দ্বারা এই খুন সম্ভব না,, করণ সজিবদের লাশের পাশে শার্টের বুতাম পাওয়া গেছে। তাহলে সজিব আর আশফি কে তাদের কোনো কাছের শক্র মারছে। কিন্তু সজিব আর আশফির শক্র এক হতে যাবে কেনো। খুনটা তাহলে কে করতে পারে ভাবতে থাকে মেহেরাব,,সব যেন ধুয়ানো ধুয়াশা।
“ স্যার ভিতরে আসতে পারি ”
হঠাৎ কারো কথার আওয়াজে মেহেরাব সামনের দিকে তাকিয়ে দেখ ইকবাল ভিতরে আসার জন্য অনুমতি চাচ্ছে। মেহেরাব হাতের ইশারায় আসতে বলে। আজ ইকবাল অন্য দিনের চেয়ে আলাদা ড্রেস আপ পরছে,, সাদা কালারের মোটা জ্যাকেট, মাথায় কেপ, এই গরমের সময় যে কেউ এমন জ্যাকেট পরতে পারে তা ইকবাল কে দেখেই বুঝা যাবে। মেহেরাব জানে ইকবাল যখন থানায় আসে তখন সে কোনো না কোনো গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ নিয়ে আসে। তাই মেহেরাবই আগে বলে- তা এই অসময়ে থানায় কেনো।
• ইকবাল বলে- স্যার আপনি তো জানেন আমি কোনো দরকারি বা গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ ছাড়া থানায় আসি না। যদি কিছু মনে না করেন তাহলে আমি কি একটা সিগারেট জ্বালাতে পারি।
• ইকবালের এমন কথা শুনে মেহেরাব চমকে উঠে। কেবল তিনি ইকবালের দিকে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। অন্য দিনের চেয়ে আজকের ব্যবহার টা কেমন যেন লাগছে মেহেরাবের কাছে। ইকবাল তো আমার সামনে সিগারেট তো দূরের কথা চাও পান করতো না,,তাহলে আজ তার কি হলো। মেহেরাব একটা মুচকি হাসি দিয়ে সিগারেট জ্বালানোর অনুমতি দেয়।
• ইকবালও অনুমতি পেয়ে মুচকি হেসে পেকেট থেকে দুইটা দামি ব্যান্ডের সিগারেট বের করে একটা তার ঠোঁটে চেপে আরেক টা মেহেরাবের দিকে দেয়।
• এবার মেহেরাব অবাকের চরম পর্যায়ে চলে যায়,,সে ভাবতেও পারে নি ইকবাল এমন একটা দূর সাহস দেখাবে। মেহেরাবও ঠান্ডা মাথার খেলোয়ার তাই সে আর কিছু না ভেবে সিগারেট টা তার ঠোঁটে চাপে। হুম বলো এবার তুমার কি গুরুত্বপূর্ণ কথা।
• ইকবাল একটা রহস্যময় মুচকি হাসি দেয়। মেহেরাব ভাবতেও পারে নি ইকবাল এমন রহস্যময় মুচকি হাসি দিতে পারে। আজ চার বছর ধরে ইকবাল মেহেরাবের হয়ে কাজ করে,,কিন্তু কখনো তো এমন করে রহস্যময় মুচকি হাসে নি,,আর আজকের মতো ব্যবহার তো কখনো করে নি।
• কি ব্যাপার তুমি এমন করে হাসতেছ কেনো কিছু বলার থাকলে বলো না হলে তুমি এখন আসতে পারো,,একটা কেসের ঝামেলায় ভালো ভাবে ফেসে গেছি। তুমি আবার সময় নষ্ট করছো। কি বলবে তাড়াতাড়ি করে বলবা।
• ইকবাল জ্বলন্ত সিগারেট টা জোরে টান দিয়ে বিষাক্ত ধোঁয়া গুলো উপরের দিকে ছেড়ে বলতে থাকে - আপনার কেস টা যদি আমি সামলে দেই কেমন হবে।
• মানে বুঝতে পারছি না কি বলতে চাচ্ছ।(মেহেরাব)
• না বুঝা লাগবে না। আপনাকে একটা গল্প শুনাই। শহরে নতুন দুইটা ছেলে আসে, তাদের উদ্দেশ্য শহর টা তে তাদের রাজ চলবে কিন্তু দেশের সব শহরের মতো এই শহর টা এক না,তাই রাজ করতে হলে অনেক টপ মাফিয়া, রাজনৈতিক নেতা , পুলিশ প্রশাসন হাত করতে হবে। সব কিছু করছে এখন শুধু মানুষের ভিতর ভয় আর আতংক ঢুকাবে, কিন্তু এক সময় তাদের একটা বন্ধু বা দলের লোক ওদের সাথে বেইমানি করে তাহলে কেমন হবে বলেন তো। এগুলো বলে ইকবাল আরেক টা সিগারেট জ্বালায় আরেক টা মেহেরাব কে দেয়। ঘর টার ভিতর এখন বিষাক্ত ধোঁয়া গুলো উড়ছে।
• মেহেরাব ইকবালের কিছু কথা বুঝতে পারছে কিন্তু শেষে বেইমানি করে কে সেটা বুঝতে পারছে না। তাই মেহেরাব তাড়াতাড়ি প্রশ্ন করে ফেলে, কে সেই বেইমান।
• ইকবাল বিষাক্ত ধোঁয়া উড়াচ্ছে আর দেখছে মেহেরাবও শান্ত দৃষ্টিতে অধির অপেক্ষায় বসে আছে কখন তার প্রশ্নের উত্তর পাবে। ইকবাল মুচকি হেসে আবার বলতে শুরু করে, ধরেন বেইমানি টা আমিই করলাম। মেহেরাব মনে হয় এমন উওর আশা করে নি তাই দাঁড়িয়ে যায়। ইকবাল শান্ত হয়ে ই বলে-- স্যার আপনাকে শুধু ধরতে বলছি আর কিছু না। শান্ত হয়ে বসেন মেন পয়েন্ট এ তো এখনো আসি নি। আপনি যেই কেস গুলো নিয়ে এত দূর চিন্তা করছেন খুনির পিছনে এত সময় নষ্ট করছেন আমি যদি আপনার কাজটা কে সহজ করে দেই তাহলে কেমন হবে।
• মেহেরাব এবার অশান্ত হয়ে যায়। সে এত দিন ধরে কেস গুলোর কিছু বের করতে পারলো না। কিন্তু আজ হঠাৎ ইকবাল এমন কথা বলছে কিভাবে সে কিভাবে এই কেস গুলো সহজ করে দিবে। তাই মেহেরাব তাড়াতাড়ি প্রশ্ন করে ফেলে,,এটা কিভাবে সম্ভব আমি এত দিন যাবত কেসের তদন্ত করে কিছু পেলাম না কিন্তু তুমি কি করে সহায়তা করবে।
• মেহেরাবের এমন অস্থিরতা দেখে ইকবাল জোরেই হেসে দিয়ে বলে। আপনার থানায় এমন কোনো পুলিশ আছে যাকে আপনার সন্দেহ হয়, যেমন সে আপনাদের সকল তথ্য ফাস করে দেয় বা সেই অফিসার নিজেই একজন মাফিয়া এমন কাউকে সন্দেহ হয় কি আপনার।
• মেহেরাব রেগে বলে- তুমার কি মনে হয় থানায় কোনো মাফিয়া বা ওদের লোক আছে। যদি এমন হতো তাহলে কি আমি বসে আছি। সাথে সাথে কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা করতাম,,না আমার থানায় এমন কোনো অফিসার নেই। আর না কারো প্রতি সন্দেহ করি।
• ইকবাল হাসতে হাসতে বলে, সন্দেহ করেন না বলেই তো আপনি এখন খুনের রহস্যের ভিতর পরে আছেন। তা আপনার কাছে রাজ ছেলেটা কেমন লাগে,, না মানে সন্দেহ করার মতো কি না। ( ইকবাল)
• মেহেরাব বলে -- কি বলতে চাচ্ছো সোজা সোজি ভাবে বলো। আর রাজ কে কেনো অযথা সন্দেহ করবো সেটার তো কোনো প্রশ্ন ই উঠে না।
• স্যার একটা কথা বলি আপনাকে যে গল্প টা এতক্ষণ বল্লাম ঐটার বেইমান টা আমিই। আর আপনার আশেপাশে সেই ছদ্মবেশী মাফিয়া খুনি টা ঘুরাঘুরি করছে কিন্তু আপনি তা উপলব্ধি করতে পারছেন না। সেটা আপনার ব্যপার কিন্তু আমার যা জানা আছে আমি তা বলে দিয়েছি,,আর!
• মেহেরাব বসা থেকে উঠে দাঁড়ায় আর উত্তেজিত কন্ঠে বলে কে সেই অফিসার নাম টা বলো। কে ঐই মা**
যে আমার থানায় বসে বসে আমার সাথে বেইমানি করছে।
• ইকবাল দাঁড়িয়ে বলে-- অফিসার টা আপনার অতি কাছের.....
ইকবাল আর কথা বলতে পারে না,,সে চেয়ার থেকে পরে যায় আর মাথা থেকে রক্ত পরতে থাকে। মেহেরাব সাথে সাথে ইকবালের কাছে আসে কিন্তু ইকবাল তার আগেই পরপারে চলে যায়। তার শেষ নিশ্বাস টা ত্যাগ করে বিদায় নেয় পৃথিবী থেকে। মেহেরাব তাড়াতাড়ি সবাইকে ডাক দেয়। সবাই এসে দেখে ইকবাল নিচে পরে আছে আর তার কপাল টা থেকে রক্ত পরতেছে। কিছু দূরে দাঁড়িয়ে আছে মেহেরাব। কিছুক্ষন আগের ঘটনা টা মনে করার চেষ্টা করছে। ইকবালের লাসটা কে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে...
...............
“নুসরাত আজ পাঁচ দিন যাবত রাফি কে নিয়ে সন্দেহ করছে অতি মাএায়,,দুই দিন ধরে সে কোথায় উদাও হয়ে গিয়েছে। কিন্তু সে তার সন্দেহ টা নিজের মনের ভিতর পুষে রাখে”
নুসরাত খেয়াল করছে যে রাফি অন্য দিনের চেয়ে আজকে কি নিয়ে যেন বেশি নিন্তিত,,রাফির আবার কিসের চিন্তা। সে দুই দিন কোথায় ছিলো জানতেই হবে এগুলো ভাবছিল নুসরাত তখনই রিয়া বলে উঠে
• কিরে কতক্ষণ ধরে দেখছি তুই ঐই ক্ষেত ছেলেটার দিকে তাকিয়ে আছিস। ভালোবেসে ফেলেছিস নাকি? ( রিয়া)
• কি যে বলিস না তুই, আমি আর ঐই ক্ষেত টা কে কখনো সম্ভব না। আমি ভাবছি রাফি দুই দিন ধরে আমাদের বাসায় ছিলো না আবার ভার্সিটিতেও আসছে না,,এগুলো ভাবছিলাম।(নুসরাত)
• তর এত মাথা ব্যাথা কেনো ঐই ছেলেটা যা ইচ্ছে করুক তাতে তর কি? ( সাদিয়া)
• আমার কি মনে হয় জানিস,, সজিবের খুনের পিছনে রাফির কোনো হাত আছে।(নুসরাত)
নুসরাতের কথা টা শুনে সবাই জোরে হাসতে থাকে। এবার রিয়া বলে-- তর মনে হয় মাথার তার ছিড়ে গেছে ডাক্তার দেখা তাড়াতাড়ি। রাফি ক্ষেত, বোকা ছোট দেখতে বুঝা যায় ই তো না সে মানুষ খুন করবে তর সন্দেহ সম্পূর্ণ ভুল।
• নুসরাত তাদের কথা মানতে রাজি না। সে যেয়ে নিজে রাফিকে জিজ্ঞেস করবে দুই দিন কোথায় ছিলো।
...
* স্যার ইকবালের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট চলে এসেছে আপনি এখন দেখতে পারেন*
মেহেরাব রিপোর্ট টা হাতে নিয়ে বড় ধরনের একটা শক খায়,, রিপোর্ট আসছে..........
### চলবে ###
[ সবার সাপোর্ট করবেন ইনশাআল্লাহ, আর গল্প টা পড়ে কমেন্ট করতে ভুলবেন না ]ধন্যবাদ
wait for the next part.
রহস্যের মায়া জাল
ReplyDeleteআরো রহস্য আছে। পর্ব গুলো ধৈর্য ধরে পড়ার অনুরুধ রইল
DeleteNice
ReplyDelete