Tuesday, June 15, 2021

খুনি দ্যা মাস্টার মাইন্ড--পর্ব: ১৩ -- RAJA Bhuiya.

রহস্যময় মাফিয়া সিরিজ 




“ খুনি দ্যা মাস্টার মাইন্ড ”



লেখক: RAJA Bhuiyan. 


পর্ব:->>[( ১৩ )]<<-



..............




“ আশফি তার পিস্তলের ট্রিগারে চাপ দিবে তখনই একটা গুলির শব্দ হয়, গুলিটা আশফির পিস্তল থেকে বের হয় নি,,গুলিটা পাশে থেকে করা হয়েছে। গুলিটা যেয়ে আশফির হাতের কব্জি তে লাগে,,

আশফির হাত থেকে গান টা পরে যায়। সবাই চেয়ে আছে অপরিচিত আগন্তুককের দিকে যার পরনে কালো ভয়ংকর ড্রেস। আগন্তুক টা আস্তে আস্তে সামনের দিকে এগিয়ে আসতে থাকে। সে এসে রাফির বাঁধন খুলে দিলো,,রাফি চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ায়,,অনেক্ক্ষণ যাবত সে বসে বসে অস্থির বোধ করছিল। আগন্তুক টা নিচে থেকে সিগারেট উঠিয়ে মাক্সের কাটা  অংশ দিয়ে সিগারেট টা জোরে জোরে টানছে আর শব্দ করে হাসে।





• রাফি কেবল সেদিকে চেয়ে আছে তার কাছে সব কিছু অচেনা মনে হচ্ছে। রাফি যেয়ে টেবিলের উপরে থাকা সিগারেটের পেকেট থেকে একটা সিগারেট জ্বালায়,, ধোঁয়া গুলো উপরের দিকে ছাড়তে থাকে,,সে নিজের মাইন্ড টাকে ঠান্ডা করছে।




• সজিব একবার রাফির দিকে চায় আরেক বার আগন্তুকের দিকে তাকায়। রাফি সিগারেট টানছে এটা কি করে সম্ভব,, তাকে তু সবাই মিলে খাওয়ার চেষ্টা করছি কিন্তু সে কিছু তো খাই নি বলছে সে কোনো সময় এগুলো খাই নি কিন্তু আজ আমি নিজের চোখে এটা কি দেখছি। কে এই রাফি, আজ তাকে অন্য দিনের চেয়ে আলাদা লাগছে,,আর ভাবছে হঠাৎ কোথা থেকে এই আগন্তুক টা আসছে। সজিব বোকার মতো চেয়ে আছে পাশে আশফি তার এক হাত আরেক হাতের উপর চেপে ধরে দাঁড়িয়ে আছে। আগন্তুক টা বেশি কথা না বলে সজিবের পায়ে একটা গুলি চালায়,, সজিব চিৎকার দিয়ে উঠে। 




• রাফির কাছেও আগন্তুক টা কে কেমন যেন অচেনা লাগছে,,

তবে আগন্তুক টা মাফিয়া দের মতো করে গুলি চালায় আবার তার স্টাইল টাও কেমন যেন অদ্ভুত,, কে এই আগন্তুক রাফি বুঝে উঠতে পারছে না। আজ মনে হচ্ছে এই রুমে বুলেটের বর্ষণ হবে আর কিছু লোকের চিৎকার কিন্তু 

 কেউ আসবে না তাদের বাঁচাতে, হয়তো রক্ত আর লাশের গন্ধে হিংস্র জীবজন্তু এসে খুবরে খুবরে খাবে তাদের নিথর দেহ। ভাবতেই রাফি সামনে চায়। রুমের ভিতর আরেটা গুলির শব্দ হয় কিন্তু এভার আগন্তুকের পিস্তল থেকে গুলি বের হয় নি।  সবার পিছন থেকে শফিক গুলিটা চালায় কেমন যেন করে সে বসে আছে আধ শোয়া অবস্থায় ডান হাত দিয়ে গুলিটা চালায় সোজা গুলিটা যেয়ে লাগে, আগন্তুকের হাতে তার হাত থেকে গান টা নিচে পরে যায়। ঘর টায় এখন নিস্তব্ধতা বিরাজ করছে, কারো জানা নেই এখানে কে মরবে আর কে বাচঁবে।



• আশফি এভার একটু শব্দ করে হাসে শফিক কে বলে সাবাস বেটা ভালো একটা কাজ করছিস।

সালা কোথা থেকে এসে আমার লোক কে মেরে দিয়ে চলে যাবি।কি ভেবছিস তুই তকে ছেড়ে দিবো সালা বা*




• আগন্তুক টা উচ্চ সরে হাসতে থাকে কিন্তু কোনো কথা বলে না। পাগল হয়ে গেছে মনে হয় লোকটা কিন্তু সে এতক্ষণ তো ঠিকই ছিলো। আশফি বলে- কিরে পাগল হয়ে গেছিস নাকি এমন ভাবে হাসতেছিস কেনো৷ তবু আগন্তুক টা কিছু বলে না। 




• সজিব বসা থেকে উঠে কোনো রকমে এসে রাফির শার্টের কলার ধরে টানতে টানতে শার্ট টা ছিরে ফেলে রাফি কিছু বলছে না শুধু দেখছে সজিব কি করে তার সাথে,, মা** তর জন্য এই সব হচ্ছে তকে আজ আমি মেরে ফেলবো বলে কোনো রকমে  রাফি কে একটা গুসি মারে রাফি একটু দূরে যেয়ে পরে। রাফি মুচকি হেসে সজিব কে বলে-- সজিব বাঁচতে চাইলে পালিয়ে যা নয়তো তর এমন অবস্থা করবো যে কুকুর পর্যন্ত তকে দেকে দূরে সরে যাবে। সজিব রাফির কথা না শুনে নিচে থেকে স্টীক টা তুলে রাফিকে বারি মারতে যাবে তখনি রাফি টেবিলের উপর থেকে আগন্তুকের বড় টুপি টা মাথায় দিয়ে হাতে গান টা নিয়ে সোজা একটা গুলি করে,, গুলিটা যেয়ে লাগে শফিকের কাপলে সাথে সাথে কপাল থেকে রক্ত বের হতে থাকে। রাফি আরেকটা গুলি চালায় সেটা যেয়ে লাগে সজিবের বাম পায়ে, সজিব চিৎকার দিয়ে নিচে পরে যায়। আগন্তুক টা আবারো হাসে। আশফি সাটার টা খুলে বের হতে যাবে তখনই আশফির 

পিঠে যেয়ে একটা গুলি লাগে আশফি নিচে পরে যায়। আশফির দেহ টা ছটফট করছে সে মনে হয় তার যম ধুত কে দেখে ফেলছে। আশফির এমন অবস্থা দেখে সজিব কান্না করে দেয়। রাফি যেয়ে সামনের চেয়ার টায় পায়ের উপর পা তুলে বসে পরে ডান হাতে পিস্তল, বাম হাতে জ্বলন্ত সিগারেট, মাথায় বড় টুপি, সাদা শরীরে বিভিন্ন জায়গায় রক্তের দাগ। রাফি কে দেখে যে কেউ বলে দিবে সে কোনো মাফিয়া কিন্তু সে কি আসলেই মাফিয়া জানা নেই সব ধুয়াশা। 




• সজিব কান্না করতে করতে বলে -- ভাই কে আপনারা আমাদের সাথে এমন করছেন কেনো। 




• আগন্তুক টা উচ্চ সরে হাসতে থাকে আর সিগারেট টানতে থাকে,,সে যেয়ে চেয়ারে চুপ করে বসে থাকে।




• রাফি হাত দিয়ে গান টা নারাচ্ছে আর হাসতেছে। সজিব তুই এখন বল আমাকে এখানে ধরে আনার মনে কি?




• সজিব একটা ডুক গিলে বলে ফেলে-- রাফি ঐই দিন তুমার জন্য আমাকে থানায় যেতে হয়েছে তাই আমি তোমার উপর প্রতিশোধ নিতে এখানে আনছি প্লিজ আমাকে মাফ করে দেও। বলে চিৎকার দিয়ে কান্না করতে থাকে। 




• রাফি মুচকি হেসে জবাব দেয় -- তোদের উচিৎ ছিল আমাকে আরো আগে মেরে ফেলার কিন্তু সবাই যেই ভুলটা করে তুরাও সেই একই ভুল করছিস। তুই ভার্সিটিতে আমাকে অনেক অপমান করেছিস, তাই বলে আমি সবসময় চুপ করে থাকবো তা আর হবে না,, তুই যেমন তর অপমানের প্রতিশোধ নিতে আমাকে ধরে এনেছিস,,এখন আমি আমাকে অপমান করার প্রতিশোধ নিবো, তাহলে কেমন হবে গেমটা। বলে জোরে জোরে হাসতে থাকে। 




• সজিব অনেক কান্না কাটি করছে কিন্তু রাফির কানে যেন এগুলো যাচ্ছে না। সজিব কিছু বলতে যাবে কিন্তু তা আর বলতে পারে না। করণ রাফি একটা গরম বুলেট সজিবের মাথায় মেরে দেয়। সজিব নিস্তব্ধ হয়ে শুয়ে পরে,,ঘরে এখন পিনপিন নিরবতা বিরাজ করছে,,হলদে আলোর নিচে দু জন বসে আছে পুরো ঘরে রক্তের গন্ধে ম ম করছে,, ফ্লোরে পরে আছে চারজনের লাশ, 

রাফির মাথার টুপি টা খুলে টেবিলে রাখে, হাতের গান টাও টেবিলে রেখে আগন্তুক টা কে প্রশ্ন করে-- কে আপনি আর আমাকে এভাবে বাঁচানোর মানে কি। 




• আগন্তুক টা কিছু না বলে জোরে জোরে হাসতে থাকে।




• কি হলো বলেন কে আপনি আর এভাবে হাসতেছেন কেনো। (রাফি)




• এভার আগন্তুক টা হাসি থামিয়ে জবাব দেয় -- আমি কে সেটা না জানাই ভালো,,

আমি শুনছি তুমি নাকি অনেক বুদ্ধিমান তাহলে আমাকে নিয়ে ভাবো, দেখ আমি কে আসি আবার দেখে হবে কোনো এক বিষেশ সময়ে। বলে উপরের দিকে সিগারেটের ধোঁয়া ছেরে বেরিয়ে পরে রুম থেকে এক সময় দেখতে দেখতে সে অদৃশ্য হয়ে যায়। 




• রাফি কেবল চেয়ে থাকে আগন্তুকের চলে 

 যাওয়ার দিকে। রাফি তার ছেড়া শার্ট টা গায়ে দিয়ে বেরিয়ে পরে,,বাসার উদ্দেশ্য। 



...............




“ আজ তকে আর বাসার ভিতর ডুকতে দিবো না,,তুই প্রতিদিন  

 অনেক সময় করে বাড়িতে এসে আমার ঘুম নষ্ট করিস যা আজ যা হবার হবে তুকে আমি ডুকতে দিবো না ”

এতক্ষণ আনাফ সাহেবের বাড়ির দারোয়ান মফিজ মিয়া রাফিকে বাড়িতে ঢুকতে নিষেধ করছেলো, তার এক কথা সে আজ গেট খুলবে না। কোনো উপায় না পেয়ে রাফি মাথাটা ঠান্ডা করে বলে-- মফিজ কাকা আজ শেষ বার ডুকতে দেও কাল থেকে আর দেরি হবে না। খুলে দেও দয়া করে কাল থেকে আর দেরি হবে না বল্লাম তো।




• মফিজ মিয়া আর কিছু না বলে গেটা খুলে দিয়ে বলে -- দেখো শুধু আজই শেষ বার কাল থেকে দেরি করে আসলে আমি আর গেট খুলবো না। মফিজ মিয়া তার হাতের লাইট টা ভালো করে রাফির দিকে ধরে দেখে রাফির শার্ট টা ছিড়ে গেছে শরীরে ময়লায় ভরা। মফিজ মিয়া অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল-- তুমার কি হইছে কোথাও কোনো এক্সিডেন্ট করছো নাকি যে শরীরের এমন অবস্থা। 




• রাফি মুচকি হেসে বলে -- হু ছোট একটা এক্সিডেন্ট করছি সমস্যা নেই ডাক্তার দেখিয়ে আসছি। আর এই জন্যই আজ দেরি হয়ে গেছে আমি যাই তাহলে। রাফি গোসল করছে আর ভাবছে কে ঐই আগন্তুক আর 

 আমাকে এগুলো বলে গেলো কেন,, তাহলে কি না না এটা তো হতে পারে না৷ আর কালকে সকালে কি হবে। 







** ব্রেকিং নিউজ কাল রাতে কে বা কারা যেন 

মেয়র শহীদ হোসেনের ছেলে সজিব ও ছাএলীগের নেতা আশফি, আর তার দুজন লোককে মারাত্মক ভাবে খুন করে। পুলিশ এখনো বলতে পরছেন না যে কে বা কারা খুন টা করছে। এতক্ষণ শুনছিলেন সকাল ৮ টার খবর,, আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।  নিউজ টা দেখে নুসরাত বসা থেকে উঠে দাঁড়ায় তার যেন বিশ্বাস হচ্ছে না সজিব মারা গেছে,, ফোনটা নিয়ে সে আয়ান কে ফোন করে তার ফোন বন্ধ দেখাচ্ছে। আবার রিদয় কে ফোন দেয় কিছুক্ষন ফোন বাজার 

 পর সে ফোন ধরে কান্না করে দেয়। 




• রিদয় কান্না করতে করতে বলে -- নুসরাত সজিব কে কারা যেন খুন করে ফেলছে আমি তাদের বাসায় আছি,, তুমি চলে এসো সবাই এখানে চলে এসেছে। রিদয় ফোনটা কেটে দেয়।




• নুসরাতের ও খারাপ লাগছে এত দিন চলাফেরা করেছে,,

তাকে বিরক্ত করছে ঠিক আছে কিন্তু তবু নুসরাতের খারাপ লাগছে। সে রেডি হয়ে চলে যায় সজিবদের বাড়ি।





‘ স্যার কোনো ক্লো পাই নি ’



যেখানে খুন টা হয়েছে সেই এরিয়া টা মেহেরাবের এরিয়া তাই ওনার উপর কেসের দ্বায়িত্ব টা পরছে। মেহেরাব পুরো 

 জায়গা টা পরিদর্শন করছিল,,রক্তে পুরো ঘর ছেয়ে আছে, একজন আরেকজনের উপর পরা,,একজন সাটারের সাথে লেগে আছে, ষাট ওয়াটের বাল্ব টা এখনো জ্বলছে। টেবিলের উপর দুটো সিগারেটের পেকেট, ফ্লোরে জুতার ছাপ স্পষ্ট। এগুলো দেখছিলো মেহেরাব তখনই সাইফুল কথাটা বলে। 




• মেহেরাব রেগে বলে- কোনো ক্লো পাওয়া যায় নি মানে কি খুনি কি কোনো ক্লো রেখে যায় নি।




• সাইফুল কথাটা শুনে  

 মাথাটা নিচু করে জবাব দেয় -- স্যার এমন কোনো ক্লো পাওয়া যায় নি যেটা দিয়ে আমরা খুনিদের কাছে পৌঁছাতে পারবো। স্যার ৬ টা বুতাম পাওয়া গেছে কিন্তু সব গুলো রক্ত লেগে আছে। 




• মেহেরাব আর কিছু ভাবতে পরছে না,,এটা 

 কি করে সম্ভব খুনি কোনো প্রমাণ রেখে যায় নি। তাহলে এই খুনের পিছনে কার হাত থাকতে পারে। সজিব আর আশফি কি খুনির প্রধান টার্গেট ছিলো। যদি সজিবের শত্রু থাকে তাহলে সে আবার আশফি কে মারলো কেনো। সজিব আর আশফি এরা দু জন এক সাথে হলো কিভাবে। একজন ভার্সিটির স্টুডেন্ট আর 

 একজন রাজনৈতিক নেতা। তাহলে কি না না মেহেরাব আর ভাবতে পারছে না,,সব 

 তার কাছে ধুয়াশা মনে হচ্ছে। তখনই মেহেরাবের কাছে একটা ফোন আসে, ফোনে এমন কথা শুনে সে চমকে উঠে.............. 




### চলবে ###




[ সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি-- আমি নতুন একটা গ্রুপ খুলেছি, আপনারা চাইলে আসতে পারেন সমস্যা নেই। ঐই গ্রুপে সর্ব  প্রথম আমি গল্প পোস্ট করবো। আর গল্প টা পড়ে ভালো লাগলে ভালো মন্তব্য আশা করছি ] ধন্যবাদ






wait for the next part.

2 comments:

ok

KGF of Diamond City. ৪ # লিখা :- RAJA Bhuiyan. (মি.440) # পর্ব :- ০ ৪

 # গল্প :- KGF of Diamond City. ৪ # লিখা :- RAJA Bhuiyan. (মি.440) # পর্ব :- ০ ৪ ............. আকাশে তাজা সূর্যের তীব্র আলো। শকুন আর গাংচিলদ...