রহস্যময় মাফিয়া সিরিজ
“ খুনি দ্যা মাস্টার মাইন্ড ”
লেখক:_ RAJA Bhuiya.
লেখক:>>[( ১৬ )<<
...............
“ আমি আপনাকে ভালোবাসি ”
আজ আকাশ টা মেঘলা কখন যে বৃষ্টি শুরু হয়ে যায় বলা যাবে না। হালকা হালকা মেঘের কালো আবাস আবার কোথাও দিয়ে সূর্যী মামা তার আলো দিচ্ছে পরিবেশ টা খুবই মনোমুগ্ধকর। বৃষ্টি মনেই হচ্ছে ফুটবল খেলার আমেজ,,শহরের দিকে বৃষ্টি মানে ঘরে বসে থাকা,,শহরের লোকজন বৃষ্টি টা ভালো করে অনুভব করতে পারে না। কিন্তু গ্রামের লোকজন বৃষ্টির আমেজ টা নিয়ে বেশ আনন্দ উপভোগ করে। আকাশে কালো মেঘ দেখা দিলেই ফুটবল নিয়ে মাঠে দৌড়,,বৃষ্টি শুরু হলেই খেলা শুরু ছোট বড় সবাই বৃষ্টি টা উপভোগ করে। মাঠে ফুটবল খেলা মানে কাঁদা দিয়ে শরীর মাখামাখি সেই কাঁদা ধোয়ার জন্য শরৎের খাল বিল ভরা পানিই যথেষ্ট। রাফি নিচের দিকে চেয়ে চেয়ে এগুলো ভাবছিল আর হাসছিল। ঠিক তখনই মেয়েলি কন্ঠে কেউ ভালোবাসি কথাটা বলে উঠে,,রাফি কথাটা শুনে মাথাটা হালকা উঁচু করে দেখে কালো বোরকা পড়া একটা সুন্দরী মেয়ে তার সামনে দাঁড়িয়ে কথাটা বলছে। রাফি যেন বেশ অবাক হয়েছে কোনো এক অচেনা অজানা মেয়ে এসে ভালোবাসি বলবে ভাবতে পারছে না রাফি। ভার্সিটির সবচেয়ে গরীব ক্ষেত ছেলেটা কে কেউ ভালোবাসবে ভাবতে পারছে না রাফি। রাফি মেয়েটার চোখের দিকে তাকিয়ে দেখ মুখে লেগে আছে মায়া, চোখের কোণে সামান্য পানি, তার চোখে ভয় স্পষ্ট দেখতে পারছে রাফি। কিন্তু কি জন্য ভয় পাচ্ছে সেটা বুঝতে পারছে না রাফি। তাই রাফি কিছু জিজ্ঞেস করতে যাবে তার আগেই মেয়েটা বলে।
• দেখেন আমি খুবই লজ্জিত আপনার কাছে। ( জান্নাত)
• রাফি বুঝতে পারছে না যে হঠাৎ ভালোবাসি বলে এখন আবার বলছে সে লজ্জিত। ঠিক বুঝতে পারছে না রাফি তাই সে জিজ্ঞেস করলো - কি কারণে আপনি লজ্জিত জানতে পারি
• মেয়েটা কাঁদো কাঁদো গলায় বলতে থাকে -- আসলে আমি ভার্সিটি তে নতুন তাই ঐই যে মেয়ে আর ছেলে গুলো আছে ওরা আমাকে র্যাগ দিচ্ছে।
• র্যাগ শব্দ টা রাফির কাছে খুবই পরিচিত একটা শব্দ। সে কম বেশি প্রতিদিনই ভার্সিটির বড় ভাই দের হাতে র্যাগ খায়। রাফির মনে হয়ে যায় তার ভার্সিটির প্রথম দিনের কথা,,ভাবতেই কেমন যেন নিজেকে অচেনা লাগছে। প্রতি উওরে রাফি বলে - এখন আমাকে কি করতে হবে। (রাফি)
• আপনাকে আর কিছু করতে হবে না। আর ধন্যবাদ। জান্নাত রাফির কে আর কিছু না বলে চলে আসে আয়ানদের কাছে। সবাই জান্নাত কে নিয়ে মজা করছে,,জান্নাত নিরবে সব সহ্য করছে। জান্নাত ওদের অপমান আর সহ্য করতে না পেরে দৌড়ে চলে আসে ক্লাসের দিকে। আর এদিকে সবাই জান্নাতের কন্ড দেখে অট্ট হাসিতে মেতে উঠছে। রাফি ওদের হাসির দিকে চেয়ে আছে,,সবার প্রতি রাফির একটা রাগ হয়।
..
“ সময় টা রাত ২টা ”
ফাহাদ,তাহের,সিয়াম,আকিব মদ খেয়ে মাতলামো করতে করতে রাস্তা দিয়ে আসছিল। তখনই তাদের সামনে একটা কালো কালারের বাইক থামে। হঠাৎ তাদের সামনে বাইক থামার কারণে তারা দাঁড়িয়ে যায়,,বাইক থেকে নামে অচেনা অজানা একটা আগন্তুক তার স্টাইল টাও কেমন যেন অন্য রকম। পরনে কালো কোর্ট যা পায়ের হাঁটু সমান লম্বা,মাথায় লম্বা টুপি, পায়ে কালো জুতা, মুখটা ভালো করে দেখা যাচ্ছে না। ফাহাদ রা বুঝতে পারছে না কে এই আগন্তুক যে এত রাতে ওদের সামনে এসে বাইক থামায়,আগন্তুক টা ছেলে নাকি মেয়ে তাও বুঝা যাচ্ছে না। ফাহাদ রেগে বলে- কে তুই ভাই এত রাতে আমাদের সামনে বাইক থামিয়েছিস।
• তাদের কথা শুনে আগন্তুক টা উচ্চ সরে হাসতে থাকে,,পকেট থেকে সিগারেট বের করে একটা সিগারেট জ্বালায় আর বিষাক্ত ধোঁয়া গুলো উপরের দিকে ছাড়তে থাকে।
• সবাই আগন্তুকের আচরণে বেশ অবাক কিন্তু সবচেয়ে বেশি অবাক হয় তখনই যখন আগন্তুক টা হাসে। কারণ আগন্তুক টা আসলে একজন মেয়ে,,আর মেয়ে হয়ে সিগারেট টানছে খুবই অবাক হয়ে যায় সবাই। তাহের এবার বলে-- এই খা*** বাচ্চা এমন ভাবে হাসতেছিস কেনো।
• তবুও আগন্তুক টা কিছু বলে না সিগারেটে জোরে টান দিয়ে বলতে থাকে -- শুনলাম তরা নাকি শহরে মাস্তানি করে বেড়াস। তা কার ক্ষমতায় তরা মাস্তানি করিস।
• সিয়াম জোরে বলে- আমাদের ক্ষমতা লাগে না মাস্তানি করতে। তবে আমাদের শক্তি জানিস কে রাফিন আর রাফসান।
• রাফিন আর রাফসানের কথা শুনে আগন্তুক টা জোরে জোরে হাসতে থাকে আর বলে-- কিহ্ হাহাহাহা রাফিন, রাফসান তাদের কি তরা দেখেছিস।
• আকিব বলে-- তাদের দেখতে হয় না এমনিতেই আমারা তাদের অনুভব করি।
• আগন্তুক টা দাঁতে দাঁত চেপে বলে-- তাহলে ডাক তদের ভাইদের,,দেখি আজ তদের কে বাঁচায়।
• ফাহাদ হাসতে হাসতে বলে -- ভাইদের ডাকতে হবে কেনো,, আর আমাদের মারবে কে যে বাঁচানোর জন্য ডাক...ফাহাদ আর কিছু বলতে পারে না তার আগেই একটা গুলি চালানোর শব্দ হয়,,বুলেট টা যেয়ে লাগে আকিবের হাঁটুর ঠিক উপরে। আকিব জোরে একটা চিৎকার দিয়ে মাটিতে বসে পরে। ফাহাদ পিছন থেকে গান বের করার আগেই তিন টা গুলির শব্দ হয়,, একটা বুলেট যেয়ে সিয়ামের বাম পায়ের মধ্যাংশে লাগে সিয়াম যেন ব্যাথা সহ্য করতে পারে না নিচে পরে যায়। আরেকটা বুলেট তাহেরের ডান হাতের কব্জিতে লাগে,,সে বাম হাত দিয়ে কোনো রকমে কব্জি টা ধরে রেখেছে। ফহাদের উরুর মাঝের দিকে লাগে। পরিবেশ টা এখন থমথমে অবস্থা কিন্তু চারজনের অনাতকংক চিৎকার,, এত রাতে এই রাস্তা দিয়ে কোনো গাড়ি চলা নিষেধ তাই রাস্তা টা পুরো ফাকা,, ল্যামপোস্টের আলো হালকা আগন্তুকের উপর পরছে। মাফিয়াদের স্টাইলে গুলি করে আবার বাইকের সাথে হেলান দিয়ে। ঠোঁট দিয়ে পিস্তলের থেকে বের হওয়া সামান্য ধোঁয়া গুলো ফু দিয়ে উড়িয়ে দেয়। সবাই চোখে ভয় বিরাজ করছে আর মনের ভিতর আতংক সৃষ্টি হয়েছে কোথা থেকে হঠাৎ একটা আগন্তুক এসে সব এলোমেলো করে দিয়েছে।
• আগন্তুক আরেক টা সিগারেট জ্বালায় ধোঁয়া গুলো উড়াচ্ছে আর দেখছে চারজন ছেলের ভয়কাতর চেহারা গুলো। আগন্তুক মুচকি হেসে বলে-- ফোন দে তর ভাইদের দেখি কি করে তদের বাঁচায় দে ফোন দে। জোরে ধমক দিয়ে বলে।
• ফাহাদ কাঁপা কাঁপা হাতে পিছনের পকেট থেকে ফোন টা বের করে রুহানের নাম্বার ডায়াল করল কিন্তু ভাগ্য খারাপ হলে যা হয় রুহানের ফোন বন্ধ। আ..আপু ফো..ফোন তো বন্ধ দেখায়।
• আগন্তুক টা হাসতে থাকে। কিরে তুই এভাবে তুতলাচ্ছিস কেনো। তদের কোনো ভাই কি ফোন ধরে না এটা বলে আরো জোরে হাসতে থাকে।
• তাহের করুণ কন্ঠে বলে- আপু আপনি আমাদের সাথে এমন করছেন কেনো। আমরা আপনার কি ক্ষতি করছি। কেন এমন করছেন দয়া করে বলেন।
• আগন্তুক কিছু বলে না শান্ত হয়ে শুধু হাসতে থাকে। আমার দরকার তদের ভাই দের যারা মাফিয়া রাজ্য দখল করে বসে আছে। আজ তদের থেকে একজন কে বাঁচিয়ে রাখবো আর তিনটা কেই মেরে দিব এবার বল কে আগে মরবি। কেউ কোনো কথা বলছে না যেকোনো একজন বাদে সবাই মারা যাবে। কে কি করবে বুঝতে পারছে না। সিয়াম সাহস দেখিয়ে পিছন থেকে গান টা বের করে আগন্তুকের দিকে একটা সর্ট করে কিন্তু গুলির দিকশূন্য হয়ে যাওয়ায় বুলেট টা যেয়ে লাগে বাইকের ছিটে,,সিয়াম পর পর তিনটা গুলি করে কিন্তু সে একটা গুলিও লাগাতে পারে না। সিয়াম গান টা রিলোট নিয়ে গুলি করতে যাবে,,কিন্তু তার আগেই একটা গুলি চালানোর আওয়াজ হয় ১০০°c তাপমাত্রার একটা বুলেট সোজা যেয়ে সিয়ামের কপালে লাগে গুলিটা কপাল ভেদ করে পিছন দিয়ে বেড়িয়ে যায়। আকিব জোরে চিৎকার দিয়ে বলে উঠে..
• সিয়াম....... এই কুত্তার বাচ্চা তুই এটা কি করলি তুই সিয়াম কে মেরে দিয়ে..... আকিব আর কথা বলতে পারে না তার আগেই ১০০°c তাপমাত্রার একটা বুলেট আকিবের চোখে লাগে,,আকিব ‘মা’ বলে একটা চিৎকার দিয়ে নিচে পরে যায়। তাহের তার কব্জির ব্যাথা ভুলে গিয়ে বাম হাত দিয়ে পিছন থেকে গান টা বের করে একটা গুলি করে কিন্তু গুলির নিশানা সঠিক হলেও বুলেট টা শূন্য চলে যায়। তাহের আর ট্রিগারে চাপ দিতে পারে না এর আগেই দুইটা গরম বুলেট তার বুকটা ঝাঁজরা করে দেয়। ফাহাদ কি বলবে বুঝতে পারছে না নিরব দর্শকের মতো চেয়ে আছে তার বন্ধুদের দিকে। একবার আগন্তুকের দিকে আরেক বার তাহের,সিয়াম,আকিব এর নিথর দেহের দিকে চেয়ে থাকে।
• আগন্তুক টা আবারো একটা সিগারেট তার ঠোঁটে চাপে সিগারেটে জোরে একটা টান দিয়ে ধোঁয়া গুলো ফাহাদের মুখের উপর ছাড়ে। ফাহাদ কেবল বোকার মতো চেয়ে আছে তার দিকে। আগন্তুক তার পিস্তল টা ফাহাদের সামনে ধরে বলতে থাকে-- এটা জানিস কি আগুন,,সে নিজেও জ্বলে আর অন্যকে সেই আগুন দিয়ে ঠান্ডা করে দেয়। বলে আবারও সিগারেটে টান দিয়ে ধোঁয়া গুলো ফাহাদের মুখের উপর ছাড়ে। গান যার হাতে থাকে সে কিন্তু বাঘ না এই জিনিস টা কে যে যত বেশি ভালো চালাতে পারে সে ই হলো আসল বাঘ। যেটা চালাতে পারো না সেটা কখনো পের্ক্টিস ছাড়া চালিও না। যেমন তর বন্ধু গুলো এখনো বাচ্চা জিনিস টা ভালো করে চালাতে শিখে নি। আমি কিন্তু কাউকে দ্বিতীয় বার সুযোগ দেই না তকে দিলাম কারণ রাফিন আর রাফসানের কাছে যেন খবর টা পৌঁছে যায়। রাফিন আর রাফসান এই শহরে থাকে,,আমার উপর কেউ এই শহরে মাফিয়ার রাজ্যত্ব করতে পারবে না। বলে দিবি তর ভাইদের। এটা বলে আগন্তুক টা তার হাতের সিগারেট টা জোরে টান দিয়ে মাটিতে ফেলে পা দিয়ে পিসে বাইকের উপর বসে। আরেক বার ফাহাদের দিকে তাকিয়ে হাত দিয়ে গুলি করার স্টাইল টা দেখিয়ে যায়। রাস্তা টা সোজা হওয়ায় আগন্তুক টা যতক্ষন পর্যন্ত অন্ধকারে মিলিয়ে না যায় ততক্ষণ পর্যন্ত ফাহাদ সেদিকে চেয়ে থাকে একসময় আগন্তুক রাতের আধারে মিলিয়ে যায়........
...............
“ আপনি আমার থেকে এভাবে দূরে দূরে থাকেন কেনো”
রিমির কথায় মোটেও অবাক হয় নি রাজ কারণ সে যানে রিমি এমনই কিছু বলবে। রাতে রাজের ঘুম আসছিল না বলে সে ছাঁদে চলে আসে। কিন্তু কিছুক্ষন পরই রিমিও চলে আসে ছাঁদে,,প্রথমে রাজ বুঝতে না পারলেও কিছুক্ষন পর বুঝে যায় রিমি রাজের কারণে ছাঁদে এসেছে। রাজ রিমিকে ছাঁদে দেখে অন্য সাইটে চলে গেলে রিমি যেয়ে রাজকে কথাটা বলে।
• রাজ মুচকি হেসে জবাব দেয়-- রিমি তুমি এত রাতে ছাঁদে কি করছো,,তুমার বাবা যদি একবার দেখে আমি আর তুমি এত রাতে ছাঁদে দাঁড়িয়ে কথা বলছি তাহলে কিন্তু সমস্যা হয়ে যাবে।
• রিমি রাজের কথা শুনে শুধু মুচকি হাসে। আপনার কথা আমি বাবাকে বলছি।
• রাজের চোখ বড় বড় হয়ে যায়,,বলে কি এই মেয়ে। কিহ্
• রিমি হাসতে হাসতে বলে-- আরে ভয় পাবেন না আমি তো এমনি বলছি মজা করছি আপনার সাথে।
• রাজ যেন হাফ ছেড়ে বাচে। রাগি কন্ঠে বলে-- দেখ রিমি তুমার মাথায় এখন যা আসছে তা সব আবেগ। আবেগ কেটে গেলে সব শেষ হয়ে যাবে। আর আমি তো আমার মতামত জানিয়ে দিয়েছি,, আমি আমার জীবনের সাথে কোনো মেয়ে মানুষ জড়াবো না। তবে তা শুনে কেনো তুমি এমন পাগলামো করছো প্লিজ বল আমাকে।
• রিমি বলে-- অনেক রাত হয়েছে ঘরে চলেন আর এসব কিছু আমার আবেগ না সত্যি আমি আপনাকে ভালোবাসি।
• আচ্ছা যদি কখনো শুনো আমি কোনো পুলিশ না বরং একজন মাফিয়া তখন কি তুমি আমাকে মেনে নিবে,,নিবে না তাইতো তাহলে এটা বলে রাজ মুচকি হেসে চলে আসে ছাঁদ থেকে। রিমি সেখানে দাঁড়িয়ে চিন্তা করছে কি বলে গেলো রাজ সে কিছুই বুঝতে পারছে না কি তার মুচকি হাসির মানে। আবারো রাজ রিমিকে গোকল ধাঁদার মধ্যে ফেলে দিয়েছে।.....
..
আজ আবারো পুলিশ বনানীর একটা নির্জন এলাকা থেকে তিনটা ছেলের লাশ উদ্ধার করেছে। শহরের অবস্থা বেশি একটা ভালো না,,দুই তিন দিন পর পর কেউ খুন করে চলে যাচ্ছে পুলিশ এখনো কোনো কেসের খুনি কে সনাক্ত করতে পারে নি। শহরে একধরনের আতংক সৃষ্টি হয়েছে। কে বা কারা এই খুন গুলো করেছে তা জনগণের কাছে ধোয়াসা।
* রাজ আজকের কেসটা তুমি হেন্ডল করো আমি অন্য গুলো নিয়ে অনেক ব্যস্ত”
রাজ বসে বসে চিন্তা করছিল কে ছেলে গুলো কে এভাবে মারলো। ঠিক তখনই মেহেরাব রাজের কেবিনে এসে কথাটা বলে। রাজ যেন এটাই চাচ্ছিলো যে কেসটা মেহেরাব রাজের হাতে দিবে। রাজ মুচকি হেসে জবাব দেয় -- স্যার কোনো সমস্যা নেই আমি সামলে নিব আপনি অন্য গুলো দেখেন। মেহেরাব রহস্যময়ী একটা হাসি রাজকে উপহার দিয়ে তার কেবিন থেকে চলে আসে। রাজ বুঝতে পারছে না কিছু দিন ধরে মেহেরাবের সাথে কথা হলে শুধু তিনি রহস্যময় মুচকি হাসি হাসে। কিন্তু কেন এই মুচকি হাসি তা রাজের এখনো জানা নেই।
• মেহেরাব বসে বসে পুরোনো কিছু ফাইল চেক করছিল ঠিক তখনই তার মোবাইলে একটা মেসেজ আসে। তাড়াতাড়ি করে মেহেরাব মোবাইলটা হাতে নিয়ে মেসেজ টা পড়তে থাকে। সে যেন এই মেসেজ টার জন্য অপেক্ষা করছিলো। মেসেজ টা পড়ে মেহেরাব নিঃশব্দে হাসতে থাকে হাসিটা তিনি নিজের মধ্যেই লুকিয়ে রাখছেন ।
..
নুসরাত কাল রাতে যে বনানী এলাকায় তিনটি ছেলে খুন হয়েছে খবর দেখছিস। রিয়ার কথা শোনে নুসরাত একটা মুচকি হাসি দিয়ে বলে--হু শোনছি ছেলে গুলোকে নাকি খুব বাজে বাবে মারা হয়েছে ভাবতেই আমার কেমন যেন লাগছে।
• আসলে শহরের এখন যেই অবস্থা খুব খারাপ। কোন দিন জানি আমাদের কিছু হয়ে না যায়। ( রিয়া)
• আরে আমাদের কি হবে আমারা কি ওদের কোনো ক্ষতি করছি নাকি।(নুসরাত)
• আয়ান বলে-- তবে তুরা যাই বলিস না কেনো আমাদের কিন্তু সাবধানে থাকতে হবে,,আমাদের বন্ধু সজিব কে কেউ খুন করে দিলো। কারো সাথে তো সজীবের এমন কোনো শত্রুতা ছিল না যে তাকে মেরে দিবে। আমি কিন্তু ঐই দিন একটা আর্টিকেল কিনছি খুবই ভালো। তরা কেউ নিয়ে পড়তে চাইলে আমাকে বলিস। সবাই বইয়ের নাম জানতে চাইলে আয়ান তার ব্যাগ থেকে বইটা বের করে দেখায়। বইয়ের উপরে সুন্দর করে লিখা -
They are mafiya king.
Rafin and Rafsan.
বইয়ের উপরের গ্রফিক্স টা এরকম- কিছু লোক স্নাইপার নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে পরনে কালো কোর্ট, মুখ ডাকার জন্য মাক্স,মাথায় লম্বা টুপি। সবার সামনে দুইজন স্টাইল নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে,,পরনে তার মাফিয়াদের মতো ড্রেস,,গলায় মোটা স্বর্ণের চেইন মাক্সের কাটা অংশ দিয়ে সিগারেট টানছে,, দুইজনের হাতেই দুইটা পিস্তল।
• রিয়াজ বইটা দেখে অস্থির ভাবে আয়ান কে জিজ্ঞেস করে-- আয়ান তুমি এই বইটা কোথা থেকে কিনেছো। (রিয়াজ)
• আরে ম্যান কিনছি একটা লাইব্রেরী থেকে,, আর তুমি এমন অস্থির হচ্ছ কেনো,,, এর পর রিয়াজ এমন একটা কথা বলে যা শুনে সবাই অবাক...........
### চলবে ###
[ আগেই ক্ষমা করবেন আমাকে পর্ব টা দেরি করে দেওয়ার জন্য। শরীর টা বেশি ভালো না তাই একটু বেশি সময় লাগছে ]
( ধন্যবাদ )
wait for the next part.
No comments:
Post a Comment
ok