রহস্যময় মাফিয়া সিরিজ
“খুনি দ্যা মাস্টার মাইন্ড ”
লেখক: RAJA Bhuiyan.
পর্ব:>>[(১৭)]<<
.................
রিয়াজ বুঝতে পারছে না কি বলবে সবাইকে। কোনো রকমে আমতা আমতা করে বলে-- আ..আরে আমি তো এই বইটা পড়ছি কিন্তু ঢাকায় আসার সময় বাসায় ফেলে আসছি,,কিছু অংশ পড়া বাদ আছে তাই অনেক লাইব্রেরীতে খোজ করছি কিন্তু পাই নি। সবাই অবাক কারণ একটা বাইয়ের জন্য রিয়াজ কেমন অস্থিরতা প্রকাশ করেছে। এবার নুসরাত বলে।
• দেখো রিয়াজ তুমি কিন্তু বইটা পরে নিবে। আজ আমি বই টা নিবো আমার পড়া শেষ হলে তুমি পড়িও।(নুসরাত)
• রিয়াজ শান্ত ভাবে বলে -- ওকে সমস্যা নেই তুমার পড়া শেষ হলে আমাকে দিয়ে দিবে আগে থেকেই বলে দিলাম।(রিয়াজ)
• আয়ান রেগে বলে- আমার বই এখন পর্যন্ত আমি পড়তে পারি নাই আর তরা আমাকে পড়তে না দিয়েই কাড়াকাড়ি করা শুরু করছিস।(আয়ান)
• আয়ান আমি যত টুকু পর্যন্ত পড়েছি তত টুকু তোমাদের শুনাই।(রিয়াজ)
• বইয়ের কাহিনি টা পড়লেই একটা ফিল হবে আর মুখ দিয়ে শুনলে আরেক রকম ফিল হবে। তার চেয়ে ভালো হবে আমি পরে পড়ে নিব,,তুমাদের শেষ হলে। (আয়ান)
• এর মধ্যে রিয়া সিরিয়াসলি হয়ে বলে-- এই সবাই একটা ব্যপার খেয়াল করেছিস।( রিয়া)
• কি..?(সবাই)
• এই যে রাকিব ভাই ভার্সিটিতে আর কোনো কড়া নির্দেশ দেয় না। কোনো ঝামেলা করে না কেমন জানি হয়ে গেছে বুঝতে পারছি না। (রিয়া)
• রিয়ার কথা শোনে রিয়াজ রহস্যময়ী একটা হাসি দেয়। কিন্তু তার হাসি টা কেউ না দেখলেও নুসরাতের চোখ এরালো না। কিন্তু কি কারণে এই রহস্যময় মুচকি হাসি বুঝতে পারছে না নুসরাত।....
.........
“ কি মি. মেহেরাব আপনারা কি করছেন আপনার টিম রা কি করছে। শহরে এত খুন খারাপি হয়ে যাচ্ছে আর আপনারা কোনো কিছু করতে পারছেন না। ”
আজ মেহেরাব আর রাজ কে সিএম ফরহাদ নিজের অফিসে ডেকেছে। শহরের এই অবস্থা কিন্তু পুলিশ টিম কিছু করতে পারছে না তাই তিনি কিছু কথা বলার জন্য ডেকেছেন। তাদের কথা কপোনের মধ্যে ই ফরহাদ উক্ত কথা টা বলে।
• মেহেরাব কি বলবে বুঝতে পারছে না তবু্ও আমতা আমতা করে জবাব দেয় -- স্যার আমরা আমাদের সবোচ্চ দিয়ে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তবে আমরা খুনিকে ধরতে পারলে আইনের কঠিন শাস্তি দিবো।
• ফারহাদ কথাটা শুনে একটা মুচকি হাসি দিয়ে রাজকে বলে.. মি. রাজ কি অবস্থা আপনার,,আপনাকে তো শহরে আনা হয়েছিল সন্ত্রাসবাধ কমানোর জন্য কিন্তু আপনি আশার পর থেকে কেমন জানি খুন গুলো একটু বেশি হয়ে যাচ্ছে,, কি করেন সারাদিন এবাবে যদি শহরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় তবে জনগণের তো অনেক ক্ষতি।
• রাজ চোখ জোরা ছোট্ট করে ঠোঁটের কোনে একটা হাসির ঝলক দিয়ে বলে-- স্যার আমি আমার মতো করে চেষ্টা করছি তবে আশা আছে খুব তাড়াতাড়ি আসামি কে ধরে ফেলবো। আর স্যার পুলিশ যেখানে বেশি সেখানে সন্ত্রাস একটু বেশি থাকবেই।
• ফরহাদ রহস্যময় হাসি দিয়ে বলে-- শুনলাম শহরে নাকি মাফিয়ার লোকে ভরে গেছে। তা আপনারা কি ওদের ধরতে পারবেন,,না কি আরো ফোর্সের ব্যবস্থা করবো।
• মেহেরাব কথা বলবে কিন্তু আর বলতে পারে না,,রাজ আগেই বলে উঠে -- স্যার আমারও তাই মনে হয় কিছু নতুন ফোর্সের ব্যবস্থা করতে হবে। যে ভাবে শহরের অবস্থা করেছে এই কয়েক দিনে আর কিছু দিন দেরি হলে মনে হয় শেষ করে দিবে শহর টা কে।
• ফরহাদ চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ায়-- আমি সব কিছুর ব্যবস্থা করছি আপনারা আপনাদের মতো চেষ্টা চালিয়ে যান। রাজ আর মেহেরাব চলে আসবে তখনই ফরহাদ একটা বলে- “দেখা হবে তোমার সাথে কোনো এক অচেনা অজানা জায়গায় খেলবো মাইন্ড দিয়ে ”
রাজ আর মেহেরাব কথাটা শুনে চমকে পিছনের দিকে তাকায় তাদের তাকানো দেখে ফরহাদ একটা মুচকি হাসি দেয়। রাজ প্রতি উওরে ঠোঁটের কোনে একটা হাসির ঝলক দিয়ে বাইরে বেড়িয়ে আসে।
..
জান্নাত আজও বোরকা পড়ে ভার্সিটিতে এসেছে। চারিদিকে তাকিয়ে সে সামনের দিকে এগিয়ে যায়। হঠাৎ তার চোখ যায়- গাছের নিচে বসা একটা ছেলের দিকে ময়লা একটা সাদা শার্টের সাথে চকলেট কালারের পেন্ট,,মোটা ফ্রেমের চশমা ঠোঁটের কোনে হাসি রেখে পাশে বসে থাকা মুন্নার সাথে কথা বলছে। জান্নাত মনে করার চেষ্টা করছে ছেলেটাকে কোথায় যেন দেখেছে,,আরেক টু এগিয়ে দেখে ছেলেটা ঐই দিনের বোকা ছেলেটা নাম রাফি। জান্নাত ক্লাসের দিকে না যেয়ে কি যেন মনে করে রাফিদের দিকে এগিয়ে যায়।
* কি ব্যপার মুন্না আজ দেখি তর ফুল সব বেচাঁ শেষ * রাফি মুন্নাকে উদ্দেশ্য করে কথাটা বলে।
• মুন্না তার সবগুলো দাঁত বের করে একটা হাসি দিয়ে বলে-- হ ভাইজান আজকা সব ফুল বেচাঁ শেষ আমার তয়। (মুন্না)
• তবে কি..??(রাফি)
• আজকার মতো কোনোদিন ফুল বেচতে পারি নাই।(মুন্না)
• হিহিহিহিহিহিহি.... কেনো রে আগে কি কেউ ফুল নিতো না।(রাফি)
• মুন্না মুখটাকে বড় করে জবাব দেয় -- আগে নিতো তয় আজকা একটা পুলিশ অফিসার সব ফুল লইয়া গেছে গা। (মুন্না)
• তা পুলিশ অফিসার একসাথে এত ফুল দিয়ে কি করবে।(রাফি)
• হে ডা আমি কেমনে কমু কেরে এত ফুল নিছে।(মুন্না)
* হ্যালো মি.রাফি ধন্যবাদ *
রাফি আর মুন্না কথা বলছিলো তখনই পিছন থেকে রাফিকে উদ্দেশ্য করে কথাটা বলে জান্নাত। রাফি বুঝতে পারছে না কেনো অচেনা একটা মেয়ে তাকে ধন্যবাদ দিলো। রাফি অবাক হয়ে জান্নাতের দিকে চেয়ে আছে।
• জান্নাত সেটা বুঝতে পেরে একটা মুচকি হাসি দেয়। তা মি. আমাকে চিন্তে পেরেছেন। রাফি প্রতি উওরে মাথাটা নাড়ায় মানে চিন্তে পেরেছে।
• রাফি মুখ ফোটে বলে-- জ্বি আপু আমি আপনাকে চিনতে পেরেছি। তা হঠাৎ আমাকে ধন্যবাদ দেওয়ার কি কারণ।
• জান্নাত তার ঠোঁট টা বাকা করে বলে-- জানাটা কি বেশি জরুরী। (জান্নাত)
• জানাটা জরুরী না, ব্যপার টা হেয়েছে এমন যে আপনি কেনো অচেনা একটা ছেলেকে এমনি এমনি তো আর ধন্যবাদ দিতে পারেন না কোনো না কোনো কারণ তো নিশ্চয়ই আছে,,সেটা জানার চেষ্টায় আছি।(রাফি)
• অ আচ্ছা, আমি আপনাকে ধন্যবাদ দিয়েছি করণ ঐ দিন আপনি আমার বলা কথায় কিছু মনে করেন নি,,আবার আপনি আমার সমস্যা টা বুঝতে পেরেছেন তাই ধন্যবাদ দিয়েছি।(জান্নাত)
• এবার বুঝতে পেরেছি।( রাফি)
• আমরা তো একই ক্লাসে পড়ি আমারা কি ফ্রেন্ড হতে পারি,, বলেই জান্নাত তার হাত টা বাড়িয়ে দেয়।কিন্তু রাফি কিছু একটা ভেবে তার হাত টা আর বাড়ায় না,, মাথাটা নিচু করে বসে থাকে। জান্নাত প্রশ্ন করে-- কি হয়েছে আমরা কি ফ্রেন্ড হতে পারি না।
• রাফি কঠিন গলায় উত্তর দেয় -- দেখেন এই শহরে আমার কোনো বন্ধু নেই। আমি একা থাকতে পছন্দ করি আমার কারো প্রয়োজন নেই,, কথাটা বলে রাফি সেখান থেকে চলে যায়। জান্নাত কেবল রাফির চলে যাওয়ার দিকে চেয়ে আছে।
‘ আফা ভাইজান এমনই হেয় কারো লগে বন্ধুত্ব করে না।’
মুন্নার কথায় জান্নাতের ঘোর ভাঙে জান্নাত মুচকি হেসে মুন্নার মাথায় হাত বুলিয়ে চলে আসে সেখান থেকে। সে ভেবে পায় না একটা মেয়ে তাকে বন্ধু হওয়ার জন্য প্রস্তাব দিয়েছে কিন্তু সে তা একসেপ্ট করে নি,, যে দিকে একটা মেয়ের সাথে কথা বলার জন্য অনেক ছেলে পাগল। কিন্তু রাফি সেই ছেলেদের থেকে অনেক টা আলাদা। জান্নাত আর কিছু ভাবতে চায় না রওনা দেয় ক্লাসের উদ্দেশ্য...
..
“ স্যার তাহেরদের লাশের পাশে এই লকেট টা পাওয়া গেছে ”
রাজ তার কেবিনে বসে বসে সিগারেট টানছে আর ভাবছে কে এই খুন গুলো করেছে কার এত সাহস যে ফাহাদের উপর হামলা করলো।কে সেই রাতের আগন্তুক,,সকালে আবার ঐই ফোন, ফরহাদের রহস্যময় কথা বুঝতে পারছে না রাজ তাহলে কি...ঠিক তখনই কেবিনের দরজায় কড়া নাড়ে সাইফুল,,রাজ সাইফুলের হাত থেকে লকেট না নিয়ে ঘোর ভাবে দেখতে থাকে। তবে তার জানা নেই এই লকেট থেকে কিভাবে সে আগন্তুক টা কে খুঁজে বের করবে।
• সাইফুল তুমি ভালো করে চেক করছো জায়গা টা। (রাজ)
• জ্বি স্যার আমি ভালো করে চেক করে শুধুই এই লকেট টা পেয়েছি। (সাইফুল)
• সাইফুল তুমি এখন আসতে পারো। (রাজ)
সাইফুল চলে যায়,,বাইরে দাঁড়িয়ে কোনো এক আগন্তুক তাঁদের দুজনের কথাকোপন শুনে মুচকি হেসে চলে যায়।
রাজের কাছে সব যেন ধোঁয়াশা ধোঁয়াশা মনে হচ্ছে কে এই আগন্তুক। নাকি শহরে কোনো নতুন গ্যাং এর আবির্ভাব ঘটেছে। তাহলে কে ঐই গ্যাং এর লিডার,,তবে কি কেউ রাজের সাথে মাইন্ড গেম খেলতে চাচ্ছে,,খেলতে পারে শুধু মেহেরাব কিন্তু তাহেরদের মেরে ওনি আমার সাথে কি মাইন্ড গেম খেলবে,, বুঝে উঠতে পারছে না। রাজ আরেক টা সিগারেট জ্বালায় যেন ঠোঁট জোরা জ্বলন্ত আগুনে পুরে ছাই হয়ে যাচ্ছে। রাজ মুচকি হেসে চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ায় রওনা দেয় অজানা উদ্দেশ্য।
..
“ রিমি আমি কিন্তু একটা জিনিস ভালো করে খেয়াল করেছি”
মেহেরাব আর রিমি সামনাসামনি বসে আছে। মেহেরাব সাদা পাঞ্জাবি পরে পায়ের উপর পা দিয়ে আরাম করে,,মুখটা কে গম্ভীর করে রাগি দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে রিমির দিকে। রিমি বুঝতে পারছে না কি ব্যপার তার বাবা ভালো করে লক্ষ্য করছে তাই সে মেহেরাব কে প্রশ্ন করে
• বাবা আমি বুঝতে পারছি না তুমি কি বলছো। (রিমি)
• কি বলছি বুঝতে পারছো না কি না বুঝার ভান করছো।(মেহেরাব)
• বাবা সত্যি কথা আমি তুমার কথা বুঝতে পারছি না। (রিমি)
• তুমি কি রাজের প্রতি কোনো ভাবে দুর্বল।(মেহেরাব)
• রিমি ঘাবড়ে যায়,, কিভাবে তার বাবা বুঝতে পারলো আমি রাজের প্রতি দুর্বল। তাই সে আমতা আমতা করে বলে-- বা..বাবা আ..আমি রাজের প্রতি দুর্বল এটা তুমায় কে বলছে। আমি তো রাজের আশেপাশেও যাই না।(রিমি)
• মেহেরাব মুচকি হাসি দিয়ে ধোঁয়া ঊড়া গরম চায়ে চুমুক দিয়ে বলে-- তুমার মা মারা গেছে পনেরো বছর হয়েছে, তার পর থেকে তুমার সব কিছু আমি দেওয়ার চেষ্টা করছি। আর আমার মেয়ে কি করে না করে কিভাবে চলাফেরা করে,, তুমার সব মোবমেন্ট আমার জানা আছে,তুমার কাছে আমার একটা রিকোয়েস্ট। (মেহেরাব)
• কি..?(রিমি)
• আমি কষ্ট পাবো এমন কাজ তুমি করবে না,, আশা করি আমার কথাটা বুঝতে পেরেছো। কথাটা বলে চা টা শেষ করে মেহেরাব উঠে দাঁড়ায়।
• রিমি খুবই আবেগ নিয়ে বলে-- বাবা রাজ তো তুমার মতো পুলিশ অফিসার ই তাহলে সমস্যা কোথায় সেটা আমি বুঝতে পারছি না। (রিমি)
• মেহেরাব তার চোখের পাওয়ারের চশমা টা ঠিক করে বলে-- সেটা তুই সময় হলেই বুঝতে ও জানতে পারবি কথাটা বলেই মেহেরাব আর দাঁড়ায় না,,চলে আসে ঘরে।
• রিমি সেখানে বসে বসে ভাবতে থাকে কি বলে গেলো বাবা রাজের সম্পর্কে কি জানতে পারবো সময় হলে কিছুই ভাবতে পারছে না রিমি সেও চলে যায় ঘরে।।
..
* সময়টা রাত ১২টার থেকেও একটু বেশি নুসরাত ছাঁদে দাড়িয়ে আছে,, সে কিছুক্ষন আগের ঘটনা মনে করার চেষ্টা করছে.....
@@@ চলবে @@@
[ অসুস্থ ছিলাম তাই দিতে দেরি হয়েছে আমি আন্তরিক ভাবে দুঃখীত। সবারই ভালো মন্তব্য আশা করছি। ]ধন্যবাদ
wait for the next part.
No comments:
Post a Comment
ok