রহস্যময় মাফিয়া সিরিজ
“ খুনি দ্যা মাস্টার মাইন্ড ”
লেখক: RAJA Bhuiyan.
পর্ব:-##[ ( ৮ ) ]##
“ এই পৃথিবী কখনো খারাপ মানুষের খারাপ কর্মের জন্য ধ্বংস হবে না , যারা খারাপ মানুষের খারাপ কর্ম দেখেও কিছু করেনা তাদের জন্যই পৃথিবী ধ্বংস হবে””
“ অগ্নি শিখায় ঝাঁপিয়ে পড়ে মরে পতঙ্গরা ”
আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও তোমার প্রাণে
“ রাত ১১:৪০ মিনিট ”
রাহাত আর সালমান ভাই সামনাসামনি বসে আছে। পরিবেশ টা থমথমে নিরব, আজ আবার পূর্ণিমা চারিদিকে চাঁদর আলো। রাতের আধার
দূর হয়েছে চাঁদের কিরণ লেগে। পূর্ণিমার শশী যেন হাসে সারা রাত। হৃদয়ে নাচন তোলে চন্দিমা রাত। বেশ কিছুক্ষণ পর পর ই,, সালমান বলে--- শুনলাম সাব্বির আর তর উপর কেউ আক্রমণ করছে। সাব্বির আর তর লোকদের নাকি মেরে দিয়েছে। তাহলে তুই বাচলি কি করে??
রাহাত: ঐ দিনের ঘটনা বলতে থাকে,,শেষের ঘটনার আগন্তুকের কথা বলতে যেয়ে থেমে যায় রাহাত।
সালমান: কি হলো বল
তারপর কি হয়েছে।
রাহাত: আগন্তুক টা আমাকে বলল“ শক্রু কে বিশ্বাস করা যায় কিন্তু বেইমান কে নয় ” খেলবো তোদের শহরে ,, আর মারবো তোদের ই স্টাইলে। এক নিশ্বাসে বলে রাহাত থামে।
চারপাশে হিমেল হাওয়া থাকতেও রাহাত ঘেমে একাকার
সালমান বসা থেকে উঠে দাঁড়ায় সে চিন্তিত
হয়ে গেছে। কিছুক্ষণের জন্য তার মাথার কাজ করা বন্ধ হয়ে গেছে। সালমানের লোকেরা বুঝতে পারছে না যে সালমান কেনো এমন করছে। এতক্ষণে রাহাত বুঝতে পারছে আগন্তুক টা যেই হক না কেনো,, বড় ধরনের মাফিয়া।
সালমান একটার পর একটা সিগারেট শেষ করছে,, তবুও তার চিন্তা দূর হচ্ছে না।
সালমান রাহাতকে বলে-- রাহাত ওরা এই শহরে এসে পরছে।
রাহাত: কে এসছে ভাই,, আপনি বল্লে লোক দিয়ে তুলে আনবো।
সালমান উচ্চ স্বরে হাসতে হাসতে জবাব দেয়-- কাদের তুলে আনার কথা বলসিস তুই। রাফিন আর রাফসান কে চিনিস তো,, তর সামনে ঐদিন রাফিন এসেছিলো। আমি ওদের সঙ্গে কাজ করছি,, তর কথা অনুযায়ী সেটা রাফিন। আমিই তাদের সাথে বেইমানি করেছি,, সেই প্রতিশোধ নিতে তারা এই শহরে এসেছে। রেডি থাকিস যুদ্ধের সময় হয়ে এসেছে। কথা গুলো বলে সালমান তার লোকগুলো নিয়ে চলে আসে।
রাহাত বুঝে উঠতে পারছে না যে সে কি করবে তবে সে........
“ ভার্সিটির গেট দিয়ে কালো বাইক নিয়ে একটা ছেলে প্রবেশ করে।” পরনে তার ব্ল্যাক শার্ট, ব্ল্যাক পেন্ট, চোখে স্টাইলিস চশমা, ছেলেটা আর কেউ না এই ভার্সিটির ভিপি প্লাস বড় ভাই ‘রাকিব’। রাকিব তার বাইক টা থামায় রাফিদের সামনে। রাকিব কে ভার্সিটির সবাই জমের মতো ভয় পায়। অনেকে এতক্ষণে ক্লাসে চলে গেছে। রাকিব বাইক থেকে নেমে রাফিদের সামনে এসে দাঁড়ায়। কিন্তু রাকিব রাফিকে দেখে কিছু বলতে যাবে, তখন ই রাফি চোখ দিয়ে কিছু ইশারা করে মুচকি হাসি দেয়,, যেই হাসির
মানে রাকিব বুঝে যায়। রাকিব সবার উদ্দেশ্য করে বলে--- এখানে কি হচ্ছে।
রিয়া: কিছু না ভাইয়া। আমরা তো আড্ডা দিচ্ছিলাম।
রাকিব: ক্লাসে চলে যাও। আর এই ছেলে তুমিও চলে যাও।
সবাই চলে যেতে থাকে,,রাফি পিছন থেকে রাকিবের দিকে তাকিয়ে একটা মুচকি হাসি দেয়......
রাকিব ভাবতে থাকে, রাফি এখানে কি করে.।।
“ স্যার সাব্বিরদের যেখানে খুন করা হয়েছে সেখান থেকে এটা পাওয়া গেছে ”
মেহেরাব শহরটা দেখতে যখন ব্যস্ত ছিল,, তখন ই ইন্সপেক্টর ‘ সাইফুল ’ কথাটা বলে। মেহেরাব
বাইরে দিকের দৃষ্টি ত্যাগ করে,,সাইফুলের
আনা জিনিস টা দেখতে থাকে। মেহেরাব বলে যে -- সাইফুল এটার মধ্যে তু দুই টা মারবেল। এগুলো ছাড়া আর কিছু পাওয়া যায় নি।
সাইফুলঃ না স্যার আর তেমন কিছু পাওয়া যাই নি।
মেহেরাব: সাইফুল তুমি এবার আসতে পারো।
সাইফুল সেখান থেকে চলে যায়। আর মেহেরাব ভাবতে থাকে খুনি মারবেল দিয়ে কি করছে। হঠাৎ
মেহেরাব তার ডয়ের থেকে,,“মিফিয়া কিং” আর্টিকেল টা বের পড়তে থাকে,, কিছু অংশ পড়ে দেখে সেখানে লেখা আছে,, “রাফিন সব সময় মাইন্ড গেম খেলার সময়, দুই টা মারবেল হাত দিয়ে নারায় আর মাথাটা ঠান্ডা করে” মেহেরাব এবার সিউর
হয় যে খুনি টা হচ্ছে রাফিন। রাফিন ছাড়া সাব্বিরের শরীরে হাত দেওয়ার কারো সাহস নেই। মেহেরাব আরো কিছু ভেবে হাসতে থাকে,.........
“ রূপ জিনিস টা কার পছন্দ নয়? সবাই রূপবতী তরুণী পছন্দ করেন। সবাই চায় সুন্দরী হতে। অনেকে আবার রূপ বিক্রি করে খায়। নারী আসলে যা, তার বদলে যখন সে অন্য কিছুর প্রতীক হয়ে দাঁড়ায়,, তখন তার আকর্ষণ করার শক্তি হাজার গুণ বেড়ে যায়। নারীদের তৃতীয় নয়ন থাকে। এই নয়নে সে প্রেমে পড়া বিষয়টি চট করে বুঝে ফেলে। পুরুষের খারাপ দৃষ্টিও বুঝে ফেলে। রাত ২ টার পর থেকে নিশিরাতের পরীদের আনাগোনা দেখা যায়। আর ঠিক ৩ টার পর থেকে ঐ নিশিরাতের পরীদের চিৎকার শোনা যায় ”
রাফি আনাফ সাহেবের সাথে আসার আগেই বলে দিয়েছে যে,, সে রাতের বেলা হাঁটতে বের হয়। তাই আনাফ সাহেব তার দারোয়ান কে বলে দিয়েছেন যে রাফি রাতে কোথাও বের হলে গেটা খুলে দিতে। রাফি আজ রাতের নিলিবিলি পরিবেশ টা উপভোগ করবে তাই সে বেরিয়ে পরে হাটার উদ্দেশ্য। আর নারীদের সম্পর্কে ভাবতে থাকে। নারীরা ব্যক্তিগত চাহিদার কাছে কখনো হেরে যায় না।
হঠাৎ রাফির সামনে
৯ থেকে ১০ বছরের একটা ছেলে আসে। ছেলেটার পরনে ছেঁড়া শার্ট, একটা র্থিকোয়াটার। মনে হচ্ছে সে অনেকক্ষণ ধরে দৌরাচ্ছে,,রাফিকে দেখে সে থামে আর জোরে জোরে শ্বাস নিতে থাকে। রাফি কেবল ছেলেটাকে দেখেই যাচ্ছে,, কিছু বলছে না। এবার ছেলেটা বলে উঠলো--
“ ভাই আমাকে একটু সাহায্য করেন,,ওরা ওরা আমার মাকে নিয়ে চলে গেছে” রাফি ভাবছে এত
রাতে কে তার মাকে নিয়ে চলে গেছে। তাই রাফি জিজ্ঞেস করল--
কে তোমার মাকে নিয়ে গেছে। আর তোমার নাম কি।
ছেলেটা: ভাই আমার নাম মুন্না। দয়া করে আমার সাথে আসেন।
রাফির ও মায়া লাগলো তাই মুন্নার সাথে যেতে থাকে। কিছু দূর যাওয়ার পর মুন্না থামে,, হাত দিয়ে ইশারা করে বলে এটা আমার বাড়ি। এবার রাফি মুন্নাকে জিজ্ঞেস করে --- আচ্ছা আমাকে ঘটনা টা খুলে বলো।
আমার বাবা চোখে দেখে না,, হেইলেইগা মা টাকা রোজকার করে আমাদের খাওয়ায়। জানি না মা কি কাজ করে তয় প্রতিদিন রাইতে বাসা থেইকা বার হয়ে যায়। আর সকালে চইলা আসে। আজ মায়ের শরীর ভালা আছিলো না তাই ঘরে শুইয়া আছিল,,কিন্তু তিনটা
পোলা আইসা মারে জোর কইরা লইয়া গেছে গা। রাফি বুঝতে পারছে মুন্নার মা হচ্ছে নিশিরাতের পরি। মুন্না আবার বলতে থাকে --
ভাই সবাই আমারে বলে আমার মা নাকি বেইস্যা**। ইস্কুলের কেউ আমার লগে মিশে না।
রাফির চোখ লাল হয়ে আসছে,, মনে হচ্ছে এই শহর টা বড়ই নিষ্টুর। রাফি বলে -- কাল সকালে তর মা চলে আসবে,, তর মাকে নিয়ে থানা কেস করে আসবি। আর তুই কি করিস।
মুন্না: ভাই আমি তো হারা দিন ফুল বেছি। আফনেরে তো আমি হেদিন কলেজে দেখছি।
রাফি মুন্নার মাথায় হাত বুলিয়ে চলে আসে,, বাসার উদ্দেশ্য। এই শহর টা আসলেই নিষ্ঠুর কেউ কারো প্রতি দয়া মায়া নেই যে যাকে পারছে অত্যাচার করে যাচ্ছে।কোনো বিচার নেই। এক সময় রাফি অন্ধকারে মিলিয়ে যায়.............
## চলবে##
[ হয় তো বা মুন্নার কথা গুলো আপনাদের বুঝতে একটু সমস্যা হবে। আশা করি মানিয়ে নিবেন]
wait for the next part.
No comments:
Post a Comment
ok