রহস্যময় মাফিয়া সিরিজ
“ খুনি দ্যা মাস্টার মাইন্ড ”
লেখকঃ RAJA Bhuiyan
পর্ব: #[( ৬ ) ]#
“ সকাল ৬:২০ মিনিট”
কাকের ডাকে রাজের ঘুম ভেঙে যায়। সে আবারো ঘুমানোর চেষ্টা করে, কিন্তু ঘুম আর রাজের চোখে হানা দেয় না। শহরেরে কাক গুলো এমনই, কারণ ছাড়া কাঁ কাঁ করতে থাকে। রাজ বিরক্ত হয়ে চলে যায় ফ্রেশ হতে। ফ্রেশ হয়ে এসে ভাবতে থাকে ছাদে গেলে মন্দ হয় না। যেই ভাবা সেই কাজ,, ছাঁদে এসে রাজের মন টা ভালো হয়ে যায়। কারণ চারিদিক থেকে শীতল হাওয়া, হালকা হালকা করে সূর্য তার আলো ছড়াচ্ছে, শান্ত পরিবেশ মাঝে মধ্যে গাড়ির হর্ণ দিচ্ছে,, তার সাথে কাকের বিরক্ত করা ডাক। রাজ সময় এবং পরিবেশ টা মন দিয়ে উপভোগ করছে।
“ এত সকালে আপনি ছাঁদে কি করছেন ”
হঠাৎ পিছন থেকে মেয়েলি কন্ঠে কেউ কথাটা বলে,, রাজ পিছনে ফিরে তাকিয়ে দেখে, একটা হলদে পরি দাঁড়িয়ে আছে। রিমি মেয়েটা অসম্ভব পরিমাণে সুন্দর। যাকে একবার দেখলে পরের বার মানুষ ফিরে তাকিয়ে দেখবে,, লম্বা লম্বা চুল কোমড় ছড়িয়ে পড়েছে, ঘন কালো লম্বা চোখের পল্লব, বাচ্চাদের মতো ইনোসেন্ট চেহারা, গায়ের রঙটা উজ্জ্বল শ্যামলা। যে কোনো পুরুষ মানুষের মনে সুপ্ত অনুভূতি তৈরি করতে তার চখের চাহনি যথেষ্ট। কিন্তু রাজ এই মায়ায় জড়াতে চায় না।
রিমির বলা কথায় রাজ উত্তর দেয়--
রাজ: না তেমন কিছু না হঠাৎ ঘুম টা ভেঙে যাওয়ায় ছাঁদে চলে আসলাম, এখন মন টা ভালো হয়ে গেলো।
রিমি বিরক্ত হয়ে বল্ল--অহ্
রাজঃ আসার পর থেকে তো তুমার সাথে কোনো কথাই হলো না। তা তুমি এত সকালে ছাদে কি করো।
রিমিঃ আমি প্রতিদিনই
সকালে ছাদে আসি, আর পরিবেশ টা কে মন দিয়ে অনুভব করি।
রাজঃ আচ্ছা রিমি তুমি কি কোনো কারণে আমার সাথে রেগে আছো।
রিমিঃ হু আপনাকে আমার সহ্য হয় না।
রাজ অবাক হয়ে ভাবতে থাকে কি করণে সে আমার ওপর রেগে আছে, আমি তো এমন কোনো কিছু করি নি যাতে সে রাগ করবে। রাজ ভাবতে ভাবতে প্রশ্ন করে ফেলে--- কেনো সহ্য হয় না আমাকে। কি করেছি আমি??
রিমিঃ কারণ আপনাকে বাবা আমার রুমটা দিয়ে দিছে,, সেই রুম টা ছিলো আমার পছন্দের রুম। আর আপনি ভুলেও ঐই রুমের, আমার পছন্দের জিনিসে হাত দিবেন না। বাবার কারণে শুধু আপনাকে কিছু বলছি না,, নয়তো।।
রাজঃ তুমি সকালের এই পরিবেশ টা কে উপভোগ না করে আমার সাথে ঝগড়া করছো কেনো।
রিমিঃ কিহ্ আমি আপনার সাথে ঝগড়া করছি। আচ্ছা আমার পছন্দের জিনিসের জন্য না হয় ঝগড়া করবোই।
রাজঃ শুনো “ বুদ্ধিমানেরা নিজেদের মধ্যে ঝগড়া করে না” রাজ এটা বলে সিস বাজাতে বাজাতে ছাঁদ থেকে নেমে আসে।
** আজ শহর থেকে দূরে নির্জন এলাকা থেকে পুলিশ ৭ টা লাশ উদ্বার করছে।
লাশগুলোকে নিয়ে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে কে বা কারা এই হত্যাকান্ডটি চালিয়েছে তা এখনো জানা যায় নি। এই ছিল সকালের ৮ টার খবর। এতক্ষণ পাশে থাকার জন্য ধন্যবাদ ”
মেহেরাব খবর টা শুনে রাজকে ডাকতে থাকে। রাজ পুরু রেডি হয়ে মেহেরাবের সামনে এসে অনুমতি নিয়ে বসে পরে।
রাজঃ স্যার ডেকেছিলেন, কোনো সমস্যা।
মেহেরাবঃ রাজ সমস্যা তো অনেক। শহরে একটার পর একটা “ খুন” হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু আসল খুনি কে সেটাই তো বুঝতে পারছি না।
রাজঃ স্যার আজ যেখানে খুন হয়েছে সেখানে কে তদন্ত করছে।
মেহেরাবঃ টিভিতে দেখলাম ‘ আফজাল ’
সেখানে আছে। তাহলে মনে হয় সে এই কেসের দ্বায়িত্ব নিছে। কিন্তু আমার কি মনে হয় জানো রাজ, খুন টা রাফিন বা রাফসান করেছে।
রাজ নরম এবং ভয় পাওয়া কন্ঠে বলল--- কেনো স্যার আপনার এমন মনে হলো।
মেহেরাব: দেখো খুন হওয়া লোক গুলোর মধ্যে, ঢাকার বড় ড্রাগ ব্যাবসায়ী “সাব্বির” কেও সেখানে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। আর সবচেয়ে বড় কথা সাব্বির হলো সি এম ফরহাদ স্যারের কাছের লোক। তাই সাব্বিরকে মারার সাহস কেউ করবে না।
রাজ মুচকি হেসে বলে -- হয় তো স্যার সাব্বির টাকার লোভে তার শক্রদের সাথে হাত মিলিয়েছে, তাই কোনো রহস্যময়ী আগন্তুক তাকে মেরে চলে গেছে।
মেহেরাব রাজের কথা কিছুটা বুঝতে পেরে মুচকি হেসে, রাজকে নিয়ে থানায় চলে আসে.........
“ রাফি সকালে হেঁটে হেঁটে ভার্সিটিতে যাওয়ার সময়,,,
হঠাৎ কারো বাঁচাও বাঁচাও চিৎকার শুনে রাফি পিছনে ফিরে তাকায় দেখে ৬ জন লোক, একটা লোক কে জোরা জোরি করছে। কিন্তু একজন লোক ৬ জনের সাথে পেরে উঠতে পারছে না। ৬ জনের থেকে ৪ জনের কাছে পিস্তল আছে। তাই রাফি তার পকেট থেকে পুরনো আমলের একটা বাটন
সেট বের করে কাকে যেন ফোন দেয়। কিন্তু নেটওয়ার্কের কারণে ফোনটা বন্ধ দেখাচ্ছে।
রাফি গুটি গুটি পায়ে সেখানে যেতে থাকে, ছেলেগুলো মধ্যে থেকে নেতা টাইপের ‘রাসেল’ নামের ছেলেটি রাফিকে দেখে রেগে বলতে থাকে ---- কিরে কে তুই এখানে কি করিস।
রাফির ভয়ে গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে, আর নিরব পরিবেশ টা কে অনুভব করছে, কাকের কাঁ কাঁ করা ডাক, কিছুক্ষণ পর পর গাড়ির হর্ণ আর রাফির বুকের ধুক পুক আওয়াজ। রাফি ভয়ে ভয়ে বলতে থাকে ---- ভা.. ভাইয়া পি.. পিছন থেকে চিৎকার শুনে এখানে এসেছি, দেখলাম লোকটা বিপদে পরছে তাই সাহায্য করতে এলাম। রাফির কথা শুনে লোকগুলো হো হো করে হাসতে থাকে আর বলতে থাকে --- কি তুই ওকে সাহায্য করবি, দেখেতো মনে হয় বসতি থেকে এসছিস আবার মনে হয় দু দিন ধরে কিছু খাস না।, রাসেল তার বন্ধুক টা রাফির মাথায় ধরে বলে, এখানে ৫ টা বুলেট আছে বাঁচতে চাইলে চলে যা, নয়তো একটা খা একেবারে শান্ত হয়ে যাবি।
রাফি ভয়ে ভয়ে নরম গলায় বলতে থাকে -- ভাই ওনি কি করেছেন
ওনাকে এভাবে মারছেন কেনো।
রাসেলঃ সে এই শহরে ব্যাবসা করে অথচ ‘ সালমান ভাই কে চাঁদা না দিয়ে। আজ ওকে মেরে সালমান ভাই কে
গিফট করবো। রসেল এসে রাফির কলার ধরে, আর রাফি রাসেলের কানে কানে বলতে থাকে -- আমার
কলার ধরা মনে, বাঘের সাথে যুদ্ধ ঘোষণা করা। রাফি এবার সবার সামনে বলতে থাকে--- ভাই আমাকে মারবেন না, ভাই আমাকে ছেড়ে দেন।
রাসেল: এই ধর দুই শালাকে একে বারে ঠান্ডা করে দেই। গুলির ট্রিগার চাপ দিবে এমন সময় পুলিশের জিপ এসে থামে সবার সামনে। তা দেখে রাসেল ও তার দলের লোকেরা দৌড়ে পালাবে, কিন্তু পুলিশ তাদের ধরে ফেলে। ‘এস আই ’ কামরুল এসে লোকটাকে সালাম দিয়ে বলতে থাকে -- স্যার কোনো ক্ষতি হয় নি তো।
আনাফ চৌধুরী ঢাকার ১০ জন ব্যাবসায়ীর মধ্যে একজন প্রচোর সম্পদের মালিক।
আনাফ এস আই এর প্রতিউওরে বলে--- না আমার কিছু ক্ষতি হয় নি। ওদের থানায় নিয়ে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করেন।
পুলিশ চলে গেলে, আনাফ সাহেব আমাকে প্রশ্ন করে-- বাসা কোথায় তোমার।
রাফি: স্যার চট্টগ্রাম।
আনাফ: স্যার বলতে হবে না আংকেল বইলো। আর তুমি ঢাকায় কি করো।
রাফিঃ জ্বি আংকেল আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি।
আনাফ কিছুক্ষণ ভাবার পর রাফিকে বলল-- তুমিতো আমার জীবন বাঁচিয়ে ছো। বলো তুমি আমার কাছে কি চাও।
রাফিঃ কি যে বলেন আংকেল এটা তো আমার কর্তব্য আপনি শুধু আমার জন্য দোয়া করবেন।
আনাফ সাহেব কিছু একটা ভেবে রাফিকে বলে-- আমি একটা কথা বলবো তোমাকে কিন্তু রাখতে হবে।
রাফিঃ জ্বি আংকেল বলেন রাখার চেষ্টা করবো।
আনাফঃ দেখো তুমি এখন থেকে আমার সাথে আমার বাসায় থাকবে,,, এটা তুমি না করতে পারবে না।
রাফি চিন্তা করে দেখে সে কি খায় না খায় কোথায় ঘুমায় তার থেকে ভালো আনাফ সাহেবের বাসায় চলে যাওয়া। রাফি একটু দূরে যেয়ে মোবাইলে কার সাথে যেন কথা বলে হাসি মুখে চলে আসে।
রাফি আর আনাফ সাহেবের গন্তব্য এখন,, আনাফের বাসায়.........
##- চলবে -##
[আশা করি গল্প টা পড়ে আপনাদের সবার সঠিক মন্তব্য প্রকাশ করবেন]
No comments:
Post a Comment
ok