রহস্যময় মাফিয়া সিরিজ
“ খুনি দ্যা মাস্টার মাইন্ড ”
লেখক: RAJA Bhuiyan
পর্ব :--৫--_
“আজ দু দিন পর রাফি আবারো ভার্সিটিতে যাচ্ছে। কিন্তু যেতে না যেতে সজিবের গ্যাং এর সাথে দেখা হয়ে যায়। রাফি মাথা নিচু করে ওদের সামনে দিয়ে চলে আসবে এমন সময় সজিব রাফিকে ডাক দেয় আর বলতে থাকে...
সজিবঃ কিরে তর নামটা যেন কি মনে পরছে না।
রাফিঃ ভাই আমার নাম রাফি হাসান।
সজিবঃ তা তুই কেমন আসিছ।
রাফিঃ জ্বি ভাই, ভালো। আমি আসি এখন।
সজিব বসা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে রাফির গালে কষে একটা চড় মারে। আর বলতে থাকে....
সজিবঃ প্রথমত তুই বড় ভাইদের দেখে সালাম দেছ নাই। দ্বিতীয়ত আমি তকে ভালো মন্দ জিজ্ঞেস করলাম কিন্তু তুই জিজ্ঞেস করলি না।
রাফি নরম গলায় জবাব দেয়-- আর হবে না ভাই।
সজিবঃ পরের বার থেকে যেন এমন আর না হয়। যা এখন এখান থেকে।
রাফি কিছু না বলে গালে হাত দিয়ে মাথাটা নিচু করে ক্লাসের দিকে চলে আসে। কিন্তু সে বুঝতে পাড়ছে না কোনটা ওর ক্লাস। সে কাউকে জিজ্ঞেস করতে যাবে এমন সময়, পিছন থেকে মেয়েলি কন্ঠের ডাকে রাফি পিছনে ফিরে তাকিয়ে দেখে যে ৬ টা মেয়ে গাছের নিচে বসে আছে। মেয়েগুলোর মধ্য থেকে স্নেহা নামের মেয়েটি বলতে থাকে..
স্নেহা: এই নীল শার্ট, এদিকে আয়।
রাফির পরনে ছিল ঢিলাঢালা একটা নীল রঙের শার্ট, কালো পেন্ট। রাফি আশেপাশে তাকিয়ে দেখতে থাকে তাকে ডাকছে না কি অন্য কাউকে।
স্নেহা আবারো বলতে থাকে -- এই এদিক ওদিক তাকাস না তকেই ডাকছি, এদিকে আয়। রাফি গুটি গুটি পায়ে ওদের সামনে যেয়ে দাঁড়ায়। আর বলতে থাকে ---আপু আমাকে ডেকেছেন।
স্নেহা: হু ডেকেছি, তর নাম কি??
রাফিঃ জ্বি আমার নাম রাফি হাসান।
স্নেহা: তা তুই এসব ড্রেস পরে ভার্সিটিতে কেনো আসিছ।
রাফিঃ আমার তো এই রকম জামা কাপর ছাড়া অন্য কোনো জামা কাপর নেই।
রাফির এই কথা শুনে,,, পাশ থেকে ‘মিরা’ নামের মেয়েটি বলতে থাকে....
মিরা: কেনো রে, তর কাছে কি ভালো কাপড় কিনার টাকা নাই। তাহলে এক কাজ করতে পারিস, ভার্সিটির গেটের সামনে থালা নিয়ে বসে পরবি সবাই তকে টাকা দিবে। সেই টাকা দিয়ে ভালো জামা কাপর কিনবি। এগুলো বলে সবাই হো হো করে হাসতে থাকে।
রাফি তার চশমাটা ঠিক করে মাথাটা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে। হঠাৎ রিয়া নামের মেয়েটি রাফিকে বলতে থাকে---কোন ইয়ারে পরিস তুই।
রাফিঃ ২য় বর্ষে।
রিয়া: তাহলে তো তুই আমাদের জুনিয়র,, যা
এই কাগজটা নিয়ে ঐ যে সাদা ড্রেস পরা মেয়েটা কে দিবি।
রাফিঃ আপু এই কাগজে কি লেখা আছে?
রিয়াঃ তকে দিয়ে আসতে বলছি তুই দিয়ে আয়। এত প্রশ্ন করিস কেনো,,যা তাড়াতাড়ি।
“রাফি কাগজটা নিয়ে, মেয়েটাকে পিছন থেকে ডাক দেয়, মেয়েটা পিছনে ফিরলে রাফি দেখে যে
ঐই দিনের চড় দেওয়া
মেয়েটা। রাফির হাত গালে চলে যায়। আর বলতে থাকে ---- আপু এই কাগজটা গাছের নিচে বসা একটা মেয়ে
আপনাকে দিতে বলছে। নুসরাত নামের মেয়েটি কাগজটা নিয়ে পড়তে থাকে, আর পড়া শেষ হওয়ার সাথে সাথে ‘নুসরাত’ রাফির গালে কষে একটা চড় মারে। রাফি তার চশমা টা ঠিক করে নুসরাত কে জিজ্ঞেস করে---- আপু আপনি আমাকে মারলেন কেনো, আমি কি করেছি।
নুসরাত: কি করেছিস জানিস না? তর সাহস কি করে হলো আমাকে প্রেম নিবেদন
করার।
রাফিঃ অবাক হয়ে বলল, আপু চিঠিটা তো আমি লিখি নি। আর আমি তো আপনাকে চিনিও না। ঐখান কার আপু গুলো আমাকে বলছে আপনাকে কাগজ টা দেওয়ার জন্য। আমি তো জানি না এই কাগজে কি লেখা আছে।
নুসরাত: কই ওখানে তো কোনো মেয়ে নেই। আর আমাকে মেয়েরা প্রেমের চিঠি দিতে যাবে কেনো? তুই আমাকে পাগল পেয়েছিস,,,সর এখান থেকে.
রাফি মাথাটা নিচু করে
সেখান থেকে চলে আসে। আর একটা ছেলেকে জিজ্ঞেস করে ২য় বর্ষের ক্লাস রুমে চলে আসে। রাফি দেখে যে সেখানে দু তিনজন ছাড়া কেউ নেই, তাই সে পিছনে যেয়ে বসে পরে। কিছুক্ষন পর আস্তে আস্তে রুমটা ভরে যায় স্টুডেন্ট দিয়ে। কিন্তু কেউ রাফির আশেপাশে বসে না। স্যার ক্লাস রুমে প্রবেশ করলে সবাই দাঁড়িয়ে যায়। স্যার ক্লাস করাচ্ছিল এমন সময় স্যার বলে-- এই পিছনের বেঞ্চের ছেলে দাঁড়াও তুমি। তুমি কি নতুন। তুমার নাম কি?
রাফি: দাড়িয়ে বলতে থাকে, জ্বি স্যার আমি নতুন, আমার নাম রাফি হাসান।
স্যার: তা তুমি কই ছিলে এতদিন।
রাফিঃ স্যার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে টি সি নিয়ে এসছি।
স্যার: তা তোমার ড্রেসের এমন অবস্থা কেনো।
রাফি একটা মুচকি হাসি দিয়ে বলতে থাকে ----““ জীবনে যে কোনোদিন দুঃখ ভোগ করেনি তার পক্ষে দুঃখীর দুঃখ উপলব্ধি করা সহজ নয়। যে ব্যাক্তি সারা জীবন প্রাচুর্য ও বিলাসের মধ্যে জীবন যাপন করে, সে কি করে গরিবের অন্তরের জ্বালা অনুভব করবে”” কঠোর পরিশ্রম করে টাকা উপার্জন করতে হয় আমাকে। আর সেই অল্প টাকা দিয়ে মাস চলতে হয়। তাই স্যার ভালো জামা কাপর কিনার টাকা আমার কাছে নেই। রাফি তার চোখ দুটো মুছে নয়।
স্যার দুঃখ প্রকাশ করে বলে---- তুমিই জীবনে কিছু করতে পারবে। দোয়া করি।
স্যার ক্লাস শেষ করে চলে যায়। কিছু ছেলে এসে রাফির সাথে মজা করা শুরু করে। রাফি এইসব সহ্য করতে না পেরে, বেগটা নিয়ে ক্লাস থেকে বের হয়ে যায়। পুকুর পারে বসে বসে রাফি বলতে থাকে
“ “এই শহরে কত রঙ কত লোকের আনাগোনা, শুধু আমার গলির চাপাকান্না এই শহরে যায় না শুনা””
** রাজ কেসটা নিয়ে কত দূর এগিয়েছো**
রাজ থানায় বসে বসে কিছু ফাইল দেখতে ছিল, হটাৎ মেহেরাব তার কেবিনে এসে উক্তি টা বলে ---
রাজঃ স্যার একটা কথা বলি,
““ সত্যিকারের জ্ঞানী, গুণী ও বিদ্বান ব্যক্তিদের আত্মপ্রচারের প্রয়োজন হয় না। স্যার
যে যেখানে আছে তাকে সেখানে থাকতে দেন, তবেই তার স্বাভাবিক রুপ টা ফুটে
উঠবে।
মেহেরাবঃ রাজ তুমি কি বলতে আর কি বুঝতে চাচ্ছ আমি বুঝতে পারছি না, আমাকে বুঝিয়ে বল।
রাজ: থাক না স্যার কিছু কথা বুঝতেও হবে না। আমি জানি আপনিও মাইন্ড গেম খেলতে ভালোবাসেন,
তাই কথা টার অর্থ আপনার অজানা থাকবে না।,, আর আপনাকে একটু রহস্যময় করে তুলি।।।
বলে রাজ কেবিন থেকে বেরিয়ে আসে আর রহস্যময় মুচকি হাসি হাসতে থাকে-------
“ রাত ১০:১০ মিনিট ”
সাব্বির ভাই আর রাহাত ভাই, সামনাসামনি বসে আছে। এলাকা টা শহর থেকে দূরে কোলাকোহল মুক্ত জায়গা। চারদিকে জোনাকিপোকার ডাক
দূর থেকে ভেসে আসা শেয়াল কুকুরের ডাক। পিন পিন নিরবতা,
সাব্বির বলে--- রাহাত দেখ এই ডিলটা আমার জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ ৪ কোটি টাকা লাভ হবে তাই আমি এটা মিছ করতে চাই না।
রাহাত তার হাতের জ্বলন্ত সিগারেট টা জোরে জোরে টান দিয়ে বলতে থাকে---
রাহাত: দেখ সাব্বির ডিলটা যেমন তর গুরুত্বপূর্ণ ঠিক তেমন ই আমারও গুরুত্বপূর্ণ।
কিন্তু.....
সাব্বিরঃ কিন্তু কি রাহাত,
রাহাতঃ দেখ সালমান ভাই চায় না তুই কোনো ঝামেলা করিস
এই ডিল টা নিয়ে। তবেই তুই ডিলটা পাবি।
সাব্বিরঃ বল্লাম তো কোনো ঝামেলা করবো না। তর বেগটা দে আমারটা নিয়ে জা।
সাব্বির ও রাহাতের হাতের ইশারায় তাদের লোকেরা বেগ আদান প্রদান করে।
যখন সাব্বির আর রাহাত বসা থেকে উঠবে তখনই।,
একটা বাইক এসে থামে তাদের সামনে..
বাইকের উপর আরাম করে বসে পায়ের উপর পা তুলে সিগারেট টানছে আগন্তুক টি,,,, পড়নে তার মাথায় লম্বা টুপি,কালো পেন্ট,কালো বুট, মুখে রকস্টার মাক্স..........
সাব্বির বলতে থাকে-- কে তুই এখানে কি জন্য এসেছিস।
আগন্তুক টা কিছু না বলে সিগারেট টায় আবার টান দিয়ে হো হো করে হাসতে থাকে।
রাহাতের রাগ উঠে যায় সে তার পিছন থেকে গান বের করে টিগারে চাপ দিবে, এমন সময় আগন্তুক টি সিগারেট টা মাটিতে
পিসে বলতে থাকে ---- আহা এত তাড়াহুরা কিসের, আয় বসি বসে শান্তিতে কথা বলি এত উওেজিত হলে তো হবে না।
সাব্বির: কি চাস তুই। এখানে কেনো আসলি।
আগন্তুক টি হো হো করে হেসে বলতে থাকে,,, --উুম তদের এই ডিল থেকে 65% শেয়ার আমার চাই।
সব্বির আর রাহাত, হাসতে হাসতে বলে, কিহ্ তকে 65% দিতে হবে।
সাব্বির তার গান টা বের করে টেবিলের উপর নাড়াতে নাড়াতে বলে --- যদি এক % ও না দেই তাহলে কি করবি।
আগন্তুক টা উচ্চ সরে হাসতে হাসতে বলতে থাকে --- যদি তরা কিছুক্ষণ পর আমার পা ধরে বলিস 90% শেয়ার আমাকে দিবি তখন কেমন লাগবে।
রাহাত আর সময় নষ্ট না করে আগন্তুকের মাথায় গান টা ধরে,
আর আগন্তুক জোরে জোরে হাসতে থাকে।
বলতে থাকে,, একটু পিছনের দিকে তাকিয়ে দেখ।।
সাব্বির ও রাহাত পিছনে ফিরতে দেখে তাদের একটা একটা লোক পরে যাতে থাকে। কারো কপালে কারো বুকে গরম বুলেটের আস্তরন পরে আছে। বুঝা যাচ্ছে কোথা থেকে যেন স্নাইপার চালানো হচ্ছে।
পরিবেশ টা থমথম পিন পিন নিরবতা,,, চাঁদের আলোয় জায়গাটা অনেক টুকু পরিষ্কার বুঝা যাচ্ছে। আর চারিপাশে সাব্বির আর রাহাতের লোকের নিথর দেহ পরে রইছে। কিছুক্ষণ পর ই লাশ গুলো খেক শিয়াল খুবরে খুবরে খাবে।। আর সাব্বির ও রাহাত আগন্তুকের পায়ের কাছে বসে আছে।
সাব্বির ও রাহাতঃ ভাই ডিলের পুরা টাকাই আপনি নিয়ে চলে যান। আমাদেরকে দয়া করে ছেড়ে দেন।
আগন্তুক হো হো করে হাসতে থাকে আর বলতে থাকে --- কিরে বলেছিলাম না আমার পা ধরে ক্ষমা চাইবি। হাহহহা।...
আগন্তুক টা বসা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে, গানটা হাতে নিয়ে ট্রিগারে চাপ দিয়ে পর পর ৫ এটা বুলেট সাব্বিরের বুকে নষ্ট করে। এটা দেখে রাহাত কান্না করতে করতে আগন্তুকের পায়ে ধরে। আগন্তুক উচ্চসরে হেসে বলতে থাকে --- তকে মারবো না, তুই যেয়ে সালমান কে বলে দিবি,,,““ শক্র কে বিশ্বাস করা যায় কিন্তু বেইমান কে নয়”” খেলবো তোদের শহরে, আর মারবো তোদের ই স্টাইলে।।
বলে আগন্তুক তার বাইক নিয়ে চলে অন্ধকারে মিলিয়ে যায়।
রাহাত সেখানে বসে না গাড়িতে এসে বসে আর ভাবতে থাকে কে এই আগন্তুক ---------
## চলবে##
[ কিছু কিছু ভাইয়ারা গল্পের এমন মন্তব্য করছেন,,,যে আমি কপি করে গল্পটা লিখছি। আপনাদের সম্পূর্ণ ধারণা ভুল। গল্প টা নিজেই লিখছি। কিন্তু গল্পটা সামান্য নিলয় ভাইয়ের গল্পের সাথে মিলে যাচ্ছে, সমস্যা নেই গল্পে আরো টোয়িস্ট বাকি আছে। আর অনুরোধ করছি এমন মন্তব্য করে গল্প লেখার মন মানসিকতা নষ্ট করবেন না,প্লিজ 🙏🙏🙏]]
No comments:
Post a Comment
ok