রহস্যময় মাফিয়া সিরিজ
“ খুনি দ্যা মাস্টার মাইন্ড ”
পর্বঃ ৪
লেখকঃ RAJA Bhuiyan
"ব্রেকিং নিউজ বিশিষ্ট ব্যবসায়ী 'নিজামউদ্দিন হাওলাদার' কে গত কাল রাতে কে বা কারা যেন মারাত্মক ভাবে খুন করেছে।""
নিউজ টা দেখে মেহেরাব বসা থেকে উঠে দাঁড়ায়, মোবাইলটা বের করে থানায় ফোন করে, বেড়িয়ে পরে মেহেরাব......
এদিকে রাজ সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে নিচে নেমে দেখে কেউ নেই তাই সে মেহেরাবের রুমের সামনে যেয়ে নক করে
কিন্তু ভিতর থেকে কোনো সাড়া শব্দ পায় না। চিন্তিত হয়ে সে মেহেরাবকে ফোন লাগায়...২ বার রিং হওয়ার পর ধরে...
রাজঃ হ্যালো স্যার কোথায় আপনি??
মেহেরাবঃ রাজ তুমি রেডি হয়ে থানায় চলে আসো।
রাজঃ কিন্তু স্যার আমার তো কালকে জয়েন হবার কথা ছিল।
মেহেরাবঃ আজই চলে আসো আমি সব কিছুর ব্যবস্থা করছি।।গুরুত্বপূর্ণ একটা কেস চলে এসেছে। তাড়াতাড়ি আসো।
রাজঃ ওকে স্যার।
রাজ রেডি হয়ে মেহেরাবের বাসার গাড়ি নিয়ে বেড়িয়ে পরে। কিন্তু মাঝ পথে যেয়ে দেখতে পায় তিনটা ছেলে ১টা মেয়েকে জোর করে গলি দিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। রাজ গাড়ি থেকে নেমে সেখানে যায় এবং বলতে থাকে......
রাজঃ ভাই আপনারা মেয়েটাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন।
---প্রতি উত্তরে লোকগুলো রাজকে দেখে বলতে থাকে দেখ পুলিশ চলে এসেছে, এটা বলে হাহহাহা করে হাসতে থাকে। শুন অফিসার আমরা সাব্বির ভাই এর লোক। আমরা যা ইচ্ছা তাই করবো,,,,তুই চলে যা বেশি ঝামেলা করলে খারাপ হয়ে যাবে কিন্তু।
রাজ নিজের রাগ টা কন্ট্রোল করে আবারো.বলে......
রাজঃ কি কারণে তরা মেয়েটিকে নিয়ে যাচ্ছিস।
--তাদের মধ্যে থেকে একজন বলল,,এই মেয়েকে আমি প্রপোজ করছি বলে সে আমাকে সবার সামনে চড় মারছে, তাই আজ ওকে আমরা 'রেপ' করে আমার প্রতিশোধ নিব।
রাজঃ দেখ ভাই আমি ঝামেলা করতে চাই না
তাই ঝামেলা করার আগেই মেয়েটা কে ছেড়ে দে বলছি।
--লোকগুলোর মধ্যে থেকে একজন এসে রাজের কলার ধরে মারতে যাবে এমন সময় কোথা থেকে যেন একটা বুলেট শক
করে ছেলেটির মাথায় লাগে। গরম বুলেট তার মাথাতে লেগে তাজা ' রক্ত ' রাস্তা টা ভিজে যায়। সেটা দেখে বাকি ২টা ছেলে মেয়েটাকে ছেড়ে রাজকে মারতে যাবে এমন সময় কোথা থেকে যেন দুই টা বুলেট এসে একজনের গলায় লাগে,, আর আরেক জনের বুকে। তাজা রক্তে রাস্তা টা ভিজে গেছে।।। মেয়েটা চিৎকার দিয়ে এসে রাজের পিছনে দাঁড়িয়ে কাঁদতে থাকে।রাজ অবাক হয়ে লাশ গুলোর দিকে তাকিয়ে আছে,, আর ভাবতে থাকে কে তাকে বাঁচাতে ৩ জন কে মেরে দিলো। হঠাৎ একটা ছেলে সাইকেল
থেকে নেমে এসে রাজের হাতে একটা বক্স দিয়ে দ্রুত সাইকেল চালিয়ে চলে যায়। কিছুক্ষণের মধ্যে
সেখানে মেহেরাব চলে আসে এবং এসব কি করে হলো জানতে চায়। রাজ তাকে প্রথম থেকে ঘটনা টা খুলে বলে....মেহেরাব গম্ভীর হয়ে রাজকে বলে প্রথম দিনই ঝামেলা করে ফেল্লে...
মেহেরাব রাজের হাত থেকে বক্স টি নিয়ে বলে, খুলে দেখ কি আছে এর ভিতর,, সাবধানে।। বক্স খুলে দেখতে পায় একটা চিঠি আর রাজের একটা ছবি আর কিছু গোলাপ ফুলের পােপড়ি।। রাজ চিঠি টা পড়তে শুরু করে সেখানে লেখা.......
" ওয়েলকাম ওয়েলকাম মি. রাজ, আমার মাফিয়া মাস্টার মাইন্ড সিটিতে। খেলবো তোমায় নিয়ে আমার মাইন্ড সিটিতে। রেডি থেকো...হাহাহহহাহা...
প্রিয়
........ তোমার শুভাকাঙ্ক্ষী.
চিঠি টা পড়ে রাজ চিন্তায় পরে যায় কে দিলো চিঠি টা। রাজের
হাত থেকে মেহেরাব চিঠি টা নিয়ে পড়তে থাকলো,,, তিনিও চিন্তায় পরে গেলো। সব জেনো গোলক ধাঁধাঁর মতো......
থানায় এসে মেহেরাব ভাবতে থাকে, যেই দিন রাফিন ও রাফসান এই শহরে আসে আবার সেই দিনই ব্যাংক থেকে ১৫০ কোটি টাকা চুরি হয়। পরের দিন সি এম রাজকে এই শহরে আনে,, আর সবচেয়ে অবাক করার
বিষয় ঢাকায় এত অফিসার থাকতে কেনো আমার বাসায় রাজকে থাকতে দিলো। আবার কালকে রাতে নিজামউদ্দিন খুন,,, আর আজ রাজকে চিঠি কে দিলো।। সব কিছু মেহেরাব কে অনেক কিছু ভাবাচ্ছে।
মেহেরাব ও শান্তশিষ্ঠ মাথার একজন মাইন্ড গেমার। তাহলে সে কি নিজেই,, নিজেকে গুলিয়ে ফেলতেছেন.?
“ রাত ২:৪৫ মিনিট ”
নাইট ক্লাব থেকে গাড়িতে করে ফিরছে সজিব,আয়ান,সোহাগ, শামিম, রিদয়। ওরা প্রতিদিন ই নাইট ক্লাবে
যায়। গাড়ি চালাতে চালাতে হঠাৎ সজিব দেখলো কে যেন রাস্তার মাঝে বাইকের উপর এক পা আরেক পায়ের উপর দিয়ে বসে আছে। পড়নে তার লম্বা টুপি, মুখে মাক্স কিন্তু মাক্সের ঠুটের অংশ টুকু কাটা, লম্বা একটা জ্যাকেট, কালো পেন্ট, কালো বুট। বাইকের উপর আরাম করে বসে বসে সিগারেট টানছে। সজিব দূর থেকে হর্ণ দিচ্ছে কিন্তু আগন্তুক টি সেখানেই স্থির হয়ে বসে রয়েছে। সজিবের এভার রাগ ওঠে যায় যার কারণে গাড়ি থেকে নেমে বলতে থাকে....
সজিবঃ এই কে তুই, এইভাবে রাস্তার মধ্যে বসে আছিস কেনো।
*চারিদিকে পিন পিন নিরবতা হঠাৎ করে রাস্তার পাশে থাকা কুকুর গুলো গেউ গেউ করছে,,,পাশে লেম্পোস্টের আলো ছড়িয়ে পড়ে আছে**
আগন্তুক টা কিছু বলছে না দেখে সজিব
রেগে গিয়ে তার কলার ধরতে যাবে, এমত অবস্থায় আগন্তুক টা উঠে এসে
সজিব কে স জোরে একটা চড় বসিয়ে দেয়। তখন গাড়ি থেকে সবাই নেমে আগন্তুক টা মারতে যাবে তখনি, আগন্তুক পিছন থেকে একটা ৫ বুলেটের M500 গান বের করে, শামিমের পায়ে গুলি করে দেয়। শামিম ব্যাথায় চিৎকার দিয়ে উঠে,। সবাই ভয়ে পিছিয়ে যায়, আর বলতে থাকে ভাই কে আপনি গুলি করলেন কেনো।
আগন্তুক টা জোরে জোরে হাসতে থাকে, আর বলতে থাকে....
আগন্তুকঃ কি রে শুনলাম ভার্সিটিতে নাকি র্যাগিং করিস।
সবাই মাথাটা নিচু করে চুপ করে থাকে। তাদের এমন ভয় পেতে দেখে আগন্তুক টা আবারো হাসতে থাকে আর বলতে থাকে.........
আগন্তুকঃ আর যদি ভার্সিটিতে যেয়ে র্যাগিং করিস তাহলে,,,এখন তো শুধু একটার পায়ে
পায়ে গুলি করছি
পরে কিন্তু সব গুলোর, গরম বুলেট দিয়ে মাথার খুলিটাই উড়াইয়া দিবো। আর আমি কিন্তু সবাইকে ২ বার ই চান্স দেই। প্রথম বার বুঝাই,,, আর তা না বুঝলে দ্বিতীয় বার গরম বুলেট দিয়ে মাথাটা টা ঠান্ডা করে দেই। কথা টা বলে আগন্তুক টা বাইক নিয়ে অন্ধকারে মিলিয়ে যায়।
শামিম বুলেটের ব্যাথা সহ্য করতে না পেরে জ্ঞান হাড়ায়। সবাই তাকে ধরে গাড়িতে উঠিয়ে হাসপাতালে নিয়ে আসে। কিন্তু গুলি খাওয়া রোগি পুলিশ কেস তাই কেউ তাকে ভর্তি করায় না। সজিব মেয়রের ছেলে হওয়ায় কিছুক্ষণ পর সব ব্যাবস্থা হয়ে যায়। সবাই শামিমের মা-বাবাকে খবর দিয়ে এনে,, সজিব রা চলে যায়।। সজিব ভাবতে থাকে কে সেই ‘আগন্তুক’ হঠাৎ এসে অন্ধকারে মিলিয়ে গেলো.......কি রহস্য টা কি বুঝতে পারছে না..................
## চলবে ##
[ কেউ কেউ বলতেছেন যে আমি গল্পটা কপি করে লিখছি, আর গল্প টা নিলয় ভাইয়ের গল্পের মতো হচ্ছে তাদের উদ্দেশ্য করে বলতে চাই,,, আমি গল্প টা নতুন লিখছি আর তাই নিলয় ভাইয়ের গল্পের থেকে সামান্য ধারণা নিচ্ছি,,,,কেউ এমন কমেন্ট করবেন না যাতে মনে কষ্ট পাই🙏🙏🙏😓😓🙏]
No comments:
Post a Comment
ok