রহস্যময় মাফিয়া সিরিজ
“ খুনি দ্যা মাস্টার মাইন্ড ”
লেখকঃ RAJA Bhuiyan.
পর্বঃ >>[( ১২ )]<<
...........
“ দুপুর ১টা ১৫ ” নুসরাত থানার বাইরে দাঁড়িয়ে আছে ভিতরে যাওয়ার সাহস পাচ্ছে না। সে কোনো দিন থানার আসে পাশে যায় নি। কিন্তু আজ রাফি ছেলেটা সম্পর্কে
জানার জন্য সে থানায় আসছে। নুসরাত ভেবে পায় না হঠাৎই অচেনা ছেলের সম্পর্কে জানার জন্য তার কেনো এমন আগ্রহ। সে আর কিছু না ভেবে থানাতে প্রবেশ করে। অনেক অফিসার রা নুসরাতের দিকে চেয়ে আছে,,তারা সবাই আগ্রহের দৃষ্টিতে চেয়ে আছে কেনো এই মেয়ে থানায় এসেছে। নুসরাত যেয়ে একজন
কনস্টেবল কে জিজ্ঞেস করে-- স্যার কালকে এই থানাতে একজন অফিসার মেয়রের ছেলে কে ধরে নিয়ে এসেছে,, ঐ স্যারের কেবিন টা কোনটা।
• কনস্টেবল টা বলে-- কেনো ওনাকে কি প্রয়োজন,,কোনো কেস লিখতে আসছেন তাহলে আমাকে বলেন।
• নুসরাত বলে-- প্লিজ বলেন ওনার কেবিন টা কোনটা ওনাকে আমার খুবই প্রয়োজন
• কনস্টেবল টা কিছুক্ষন নুসরাতের দিকে চেয়ে বলে-- ঐ যে বাম পাশের কেবিন টা রাজ স্যারের।
• নুসরাত কনস্টেবল টা কে ধন্যবাদ দিয়ে রাজের কেবিনের দিকে চলে আসে।
** স্যার ভিতরে আসতে পারি **
রাজ বসে বসে মনোযোগ দিয়ে কিছু ফাইল দেখছিলো তখনই কেউ কথাটা বলে। রাজ সামনে চেয়ে দেখে একজন মেয়ে ভিতরে আসার জন্য অনুমতি চাচ্ছে।
• রাজ বলে-- প্লিজ আসেন। নুসরাত ভিতরে যেয়ে অনুমতি নিয়ে বসে।
• রাজ বলে-- ম্যাম আপনাকে কিভাবে সাহায্য করতে পারি।
• নুসরাত বলে-- স্যার আপনার কাছে আসছি একজনের সম্পর্কে জানার জন্য।
• জ্বি বলেন কার সম্পর্কে জানতে থানায় এসেছেন।
• নুসরাত একটু বেশি আগ্রহ নিয়ে বলে-- স্যার কালকে আপনি আমাদের ভার্সিটি থেকে একজন কে ধরে নিয়ে এসেছেন,,
যার নাম সজিব।
• রাজ একটু রাগান্বিত হয়ে বলে-- ঐ বেয়াদব ছেলেটার ইনফরমেশন জানার জন্য এসেছেন।
• রাজের রাগ দেখে নুসরাত একটু ভয় পেয়ে বলে-- আ..আসলে স্যার ওর সম্পর্কে জানতে চাই না।
• তাহলে??
• স্যার সজিব যে একটা ছেলের শার্টের কলার ধরে টানতে টানতে রাস্তায় নিয়ে এসছিলো তার সম্পর্কে জানতে চাই। রাফিকে আপনি চিনেন কিভাবে, আপনার কি কোনো আত্মীয় হয়।
• রাজ মুচকি হেসে জবাব দেয় -- ঐ ছেলের নাম রাফি। আমি তো ওকে এই প্রথম দেখলাম। আর সে আমার আত্মীয় হতে যাবে কেনো। আর ঐই দিন সজিব রাফির সাথে এমন করলো কেনো।
• নুসরাত ভয়ে ভয়ে বলে-- আসলে স্যার রাফি গরীব আর আন স্মার্ট তো তাই রাফিকে সবাই অপমান করে। ঐই দিন সজিব রাফিকে একটা কাজ দিয়েছিলো,, রাফি সেটা করবে না বলছে তাই এমন করেছে।
• ওও আচ্ছা,, তা আপনার আরো কিছু জানার আছে। না থাকলে আসতে পারেন এখন। নুসরাত থানার বাইরে এসে মন
খুলে শ্বাস নিতে থাকে
তার মনে হচ্ছে এখন খুবই শান্তি। সে আবার ভার্সিটিতে চলে আসে।
* আজ রাফির সাথে কেউ কোনো ঝামেলা করে নি তার সাথে কেউ কোনো কথাও বলে নি,, এতে রাফি মনে মনে একটু খুশি লাগছে * অনুমান বা ধারনা থেকেই সত্যের উৎপত্তি। তাহলে কি রাফির সাথে কেউ আর খারাপ ব্যবহার করবে না। আজ সকাল থেকে ই রাফির
খারাপ লাগছে মনে হচ্ছে আজ তার সাথে কিছু ঘটতে চলছে। সামনে রাফির কি বিপদ তা ওর জানা নেই।
• ভাই আমনে সব সময় একলা একলা বইসা কি করেন। আমনের কি কোনো বন্ধু নাই,, কারো লগে মিশেন ও না করণ কি ভাই।
“ হঠাৎ মুন্না কথা শুনে রাফি ভাবনার জগৎ থেকে বেড়িয়ে আসে আর দাঁত গুলো বের করে একটা সুন্দর হাসি দিয়ে বলতে থাকে --- বন্ধু দিয়ে কি করবো যদি সেই বন্ধু বেইমানি করে। আমি এখন একাকিত্ব থাকি করণ একাকিত্ব কখনো কারো সাথে বেইমানি করে না। আমার যেই পোশাক কে আমার সাথে বন্ধুত্ব
করতে আসবে।
• তাও ঠিক কতা আমরা তো গরীব,, পৃথিবীতে তো গরীব দের কোনো দাম নাই।
তা আমনে কি কোনো কাম করেন না।
• রাফি বলে-- না তেমন কোনো কাজ করি না। তুই এখন ফুল নিয়ে বিক্রি কর,,আমার সাথে বসে থাকলে লাভ হবে না। মুন্না কিছুক্ষন থেকে চলে যায়,,রাফি আর সেখানে বসে থাকে না চলে আসে গন্তব্য। রাফি রাস্তা দিয়ে বাসার দিকে যাচ্ছি লো তখন ই তার সামনে দিয়ে দুইটা বাইক নিয়ে যায় মাক্স পরা তিন টা ছেলে। রাফির সামনে এসে বাইক গুলো থামে,, দুই টা ছেলে রাফির দিকে আসছে আর একটা ছেলে বাইকের উপর আরাম করে বসে আছে। দুইটা ছেলে এসে রাফিকে বলে-- তর নাম কি রাফি।
• রাফি বলে -- জ্বি আমি রাফি। এটা বলতে দেরি কিন্তু একটা ছেলে রাফির মুখে ‘ ক্লোরোফম ’ মেরে দেয়,, রাফি আর
কিছু বলতে পারে না হয়তো সে অজ্ঞান হয়ে
গেছে,,,,,,,,,
...............
“রাত ১২টা ৪০মিনিট ”
রাফি চেহারের সাথে বাঁধা অবস্থা নিজেকে অাবিষ্কার করে ”
* ষাট ওয়াটের একটা হলদে বাল্বে পুরো ঘরটা আলোকিত হয়ে গেছে। রাফির পরনে সাকালের ময়লা শার্ট,
কালো পেন্ট এখন ঘেমে একাকার হয়ে গেছে,, ঘামের গন্ধটা খুবই বিশ্রি মনে হচ্ছে রাফির কাছে। মোটামুটি ভালোভাবে রাফিকে বাঁধা হয়েছে, মুখে টেইপ, সে এখন চাইলেও চিৎকার দিয়ে পারবে না। সামনে আশফি একটা চেয়ারে পায়ের উপর পা তুলে বসে সিগারেট টানছে,,আর দুইটা ছেলে রাফির পিছনে দাঁড়িয়ে আছে। কিছুক্ষণ পর কেউ রুমের সাটার টা খুলে ভিতরে প্রবেশ করে। আশফি পিছনে তাকিয়ে দেখে সজিব আসছে, তা দেখে বলে-- দেখ তুই এই ছোট ছেলেটার জন্য আমাকে বলছিস। তুই ই ত পারবি একে শেষ করতে,আমি সামলে নিতাম সব।
• সজিব মুচকি হেসে একটা চেয়ারে বসে সিগারেট জ্বালিয়ে টানতে টানতে আশফি
কে বলে-- আমার জন্য এটা কোনো ব্যপার ছিল না। তবে সামনে বাবার মেয়র নির্বাচন তাই তিনি কোনো ঝামেলা করতে নিষেধ করছে,,
তাই তুমাকে বল্লাম। তা ওকে এনে কি কোনো খাতির যত্ন করছো সেটা বল।
• পিছন থেকে মাহাবুর
নামের একটা ছেলে বলে -- সালার জ্ঞান ফিরছে মাএ তাই এখনো কিছু করি নি।
এটা শুনে সজিব বসা থেকে উঠে এসে রাফির মুখ থেকে টেইপ টা খুলে দেয়। রাফি এখন একটু ভালোভাবে শ্বাস নিতে পারছে।
• সজিব তার হাত দিয়ে রাফির মুখটা চেপে ধরে বলে- তর কারণে সে দিন আমাকে থানায় যেতে হেয়েছে। আজ তুই আর বাসায় ফিরে যেতে পারবি না, এটা আমি ঐই দিন থানায় বসে বসে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এটা বলে সজিবের মুখের সিগারেট টা রাফির মুখে চেপে ধরে,, রাফি
সিগারেটের ধোঁয়া সহ্য করতে পারছে না তাই কাশতে শুরু করছে। এটা দেখে সবাই উচ্চ সরে হাসতে থাকে। রাফি চিৎকার করতে থাকে কিন্তু যেখানকার শব্দ সেখানেই ফিরে আসছে।
• সজিব হাসি দিয়ে বলে-- চিৎকার করে লাভ নেই, এখানে তকে কেউ বাঁচাতে আসবে না, আর তর চিৎকার বাইরের কেউই শুনতে পারবে না। সজিব চেয়ারে যেয়ে বসে শফিক নামের ছেলেটাকে বলে--শফিক ওখান থেকে রড টা নিয়ে আয়। শফিক সজিবের কথা মতো রড টা নিয়ে আসে।
• রাফির মনে হচ্ছে আজ আর কেউ তাকে বাঁচাতে আসবে না। আজ এই পৃথিবীর বুকে তার শেষ দিন,,
রাফির চোখ দুটো কেন যেন আজ হিংস্র হবার অনুপেরনা দিচ্ছে তাকে। রাফি এগুলো ভাবছিলো তখনই শফিক রড নিয়ে এসে রাফির হাঁটুর গোড়ায় বারি মারে,,সাথে সাথে রাফি ব্যাথায় চোখ বন্ধ করে ফেলে। মাহাবুর ছেলেটা তার হাতের স্টীক টা দিয়ে রাফির বা পায়ের হাটুঁর নিচে বারি মারে।রাফি ব্যাথা সহ্য করতে না পেরে জোরে ‘ মা ’ বলে চিৎকার দিয়ে উঠে। রাফি কিছু একটা ভেবে কান্নার মাঝে শব্দ করে হেসে উঠে। সবার দৃষ্টি তখন রাফির দিকে পাগল হয়ে গেছে নাকি ছেলেটা।
• তার এমন হাসি যেন সজিবের সহ্য হয় না,, তাই সে রাফির বড় বড় চুল গুলো শক্ত করে ধরে মুখের কাছে মুখ এনে বলতে থাকে-- কিরে তুই এমন পাগলের মতো হসছিস কেনো,,মরার আগে মানুষ কাদে কিন্তু তুই কেদে কেদে আবার হাসছিস কেনো।
• রাফি বলে মৃত্যু.. হাহাহাহহ...ভীতুরা মরার আগে বারে বারে মরে কিন্তু সাহসীরা মৃত্যুর স্বাদ একবারই গ্রহণ করে মি. সজিব,, বলে হাসতে থাকে রাফি।
• হঠাৎ রাফি তাকে এমন কিছু বলবে সে তা ভাবতেও পারে নি। আর রাফির গলার আওয়াজ টা কেমন যেন পরিবর্তন লাগছে। রাফির এমন কথা সহ্য হয় না যেন সজিবের তাই সে গালি দিয়ে বলে-- মা*** কে তুই বল,তর গলার স্বর ত আগে এমন ছিলো না, বল কে তুই বলে রাফির দু গালে কষে দুইটা চর মারে। রাফি আর কিছু বলে না শান্ত হয়ে বসে থাকে। সেটা দেখে সজিব মাহাবুরের কাছ থেকে স্টীক টা নিয়ে রাফিকে মারতে যাবে তখনই রুমের সাটারে কারো ধাক্কানোর শব্দ হয়। সজীব স্টীক টা ফেলে চেয়ারে এসে বসে পরে।
• আশফির হাতের ইশারায় মাহাবুর ছেলেটা যেয়ে সাটারটা উঠায়, সাটার
টা উঠানোর সাথে সাথে শক করে একটা শব্দ হয়। সবাই পিছনে ফিরে তাকিয়ে দেখে মাহাবুর নিচে পরে আছে,, মাথা দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে সে রক্ত দিয়ে ঘরটা ছড়িয়ে পড়ছে। মনে হচ্ছে কেউ খুব কাছ থেকে মাহাবুরের কপালে গুলি করছে,, তার চোখ দুটো এখনো যেন কি বলতে
চাচ্ছে, মনে হয় সে তার মৃত্যু কে খুব কাছ থেকে দেখেছে। সারা ঘরে পিনপিন নিরবতা হলদে আলোয় আর লাল রক্তের মিশ্রণে পরিবেশ টা কেমন যেন থমথমে অবস্থা।
• রাফি এটা দেখে শব্দ করে হাসে। এই হাসির মানে কি কেউ জানে না। সবার মনে ভয় ঢুকে যায় কেনো হঠাৎ করে রাফির মতো ক্ষেত,গরীব, অসহায় ছেলেটা অচেনার মতো করে আচরণ করছে কেউ তা বুঝতে পারছে না। আশফির হাতের ইশারায় রড টা নিয়ে শফিক সাটারের কাছে যেয়ে বলতে থাকে কে বাইরে আছিস,,দেখ ভালোই ভালোই বলছি চলে যা এখান থেকে নয়তো কেউ জান নিয়ে বাড়িতে যেতে পারবি না। রাফি তাদের অবস্থা দেখে জেরে হেসে দেয়।
• সজিব যেয়ে রাফিকে মারতে যাবে তখনি আরেকটা শব্দ হয়। রাফি মুচকি হেসে সামনের দিকে তাকাতে বলে সজিব কে,, সজিব চেয়ে দেখে শফিক পায়ে হাত দিয়ে বসে আছে তার হাত প পা দিয়ে অঝরে রক্ত পরছে। সজিব আর আশফি ভয় পেয়ে চিৎকার করে বলে-- কে বাইরে
আছে,,সাহস থাকলে সামনে আয় কাপুরুষের মতো বাইরে দাঁড়িয়ে আছিস
কেনো।
• বাইরে থেকে কোনো শব্দ না পেয়ে আশফি বলে-- সজিব রাফির জন্য এই সব হচ্ছে সে মনে হয় কোনো ভাবে কাউ কে বলে দিয়েছে। চল একে মেরে দিয়ে আমরা পালিয়ে যাই বলে আশফি তার পিছন থেকে গান বের করে রাফির দিকে তাক করে যেন ট্রিগারে চাপ দিলে রাফির মাথাটা ভেদ করে বুলেট টা চলে যাবে। রাফি শুধু মুচকি হাসি হাসছে,,
কেউ বুঝতে পারছে না সে কিভাবে মৃত্যু কে সামনে থেকে দেখে মাথাটা ঠান্ডা করে বসে আছে।
আশফি যখন ই ট্রিগারে চাপ দিবে তখনই একটা গুলির শব্দ হয়, রুমটা এখন নিস্তব্ধতায় বিরাজ করছে,, কিছু মানুষের বুটের আওয়াজ আবার কারো হাসির শব্দ.............
## চলবে ##
[ মনে হচ্ছে অনেকের এই গল্প পড়ার আগ্রহ কমে গেছে। সবার কাছে ভালো কিছু আশা করছি ]
wait for the next part.
nice
ReplyDeleteরহস্যটা আরও বারলো
ReplyDelete