Sunday, June 13, 2021

খুনি দ্যা মাস্টার মাইন্ড- পর্ব:-৩---RAJA Bhuiyan

 

রহস্যময়  সিরিজ 




“খুনি দ্যা মাস্টার মাইন্ড ”


পর্বঃ--৩

লেখকঃ__RAJA Bhuiyan 


গুটি গুটি পায়ে চারদিকে চোখ বোলাতে বোলাতে একজন ছেলে ঢাকা ভার্সিটির ক্যামপাসে প্রবেশ করল।  অনেকেই ছেলেটা কে দেখে অবাক চোখে তাকিয়ে রইল।  তাকাবে নাই কেনো তার পড়নে ছিল, ঢিলা 

ঢালা পুরনো একটি শার্ট, কালো পেন্ট, মাথার চুল গুলো বড় বড়, চোখে মোটা ফ্রেমের চশমা।  ছেলেটি সবকিছু দেখে 

মাথা নিচু করে একটা মুচকি হাসি দেয়।  যখন সামনে এক পা বাড়াবে তখনি ছেলেটার ডান পা কিছু একটার সাথে লেগে ধপ করে পড়ে যাচ্ছে, এমন সময় কেউ তার হাতটা ধরে দাড়া করায়। ছেলেটি মোটা ফ্রেমের চশমাটি ঠিক করে সামনে তাকিয়ে দেখে একদল 

ছেলে বেশ উচ্চ স্বরেই হাসছে। ছেলেটি আবারো চোখের চশমাটা ঠিক করে নেয়। সে চুপচাপ হেঁটে সামনে এগুতে যাবে তখনি ছেলেগুলোর নেতা "সজিব" নামের ছেলেটি" তার" হাত ধরে টেনে নেয়।


সজিবঃ কিরে তর নাম কি?


ছেলেটিঃ রাফি।


সজিবঃ আয়ান একটা 

সিগারেট জ্বালিয়ে দে তো।


আয়ান নামের ছেলেটি সিগারেট জ্বালিয়ে সজিবের কাছে দেয়। সজিব জোর পূর্বক ভাবে রাফির মুখের সামনে ধরে বলতে লাগল...


সজিবঃ এই খা..খা...বলছি সিগারেট টা শেষ করতে না পারলে আজ তোকে এমন অবস্থা করবো তুই ভাবতেও পারবি না।


রাফি বিনয় এবং নরম 

গলায়ে বলতে থাকে...


রাফিঃ ভা..ভাই আ..আমি জীবনেও এসব খাই নি আমি খেতে পারবো না ভাই।


রাফির কথা শুনে সব গুলো ছেলে হো হো করে হাসতে লাগল। ছেলেগুলোর মধ্য থেকে শ্রাবণ নামের ছেলেটি রাফির মুখে সিগারেট চেপে ধরে বলল...


শ্রাবণঃ তুই খাবি না আজ,তর চোদ্দ গুষ্টি খাবে আজ। টান সিগারেট টান।


রাফির ঠোঁট সিগারেটের আগুনে লেগে কিছুটা পুড়ে যায়। রাফি কান্না করতে করতে বলে...


রাফিঃ ভাই এটা আমার দ্বারা সম্ভব না।  

আমাকে ছেড়ে দেন। 


সজিবঃ ঐ যে মেয়েটা আসছে।ওর সামনে যাবি ওর ওড়না জোরে টান দিবি। যা এখন। 


রাফিঃ ভাই পারবো না আমি।


কথাটা বলতে দেড়ি হলে কিন্তু সজিব রাফির গালে চড় বসাতে দেড়ি হলো না। রাফির চোখ লাল হয়ে আসছে সে কিছু বলতে যেও বলতে পারলো না।


আজ প্রথম র্যাগিং এ পড়েছে রাফি।


রাফির কাধে আয়ান হাত রেখে বলল..


আয়ানঃ এটাকে কি করবো ভাই।


সোহাগঃ এক কাজ কর ওর গায়ের জামা খুলে নে।


শামিমঃ আরে না না বেচারা তাহলে নেংটা হয়ে ঘুরে বেড়াবে।


সজিবঃ হাহহহাহাহা।


আয়ানঃ ভাই "ওকে" মেয়েদের সব মর্ডান ড্রেস, নাইট পার্টি তে পরে। অর্ধেক খোলা অর্ধেক ঢাকা এই ধরনের ড্রেস পড়িয়ে দেই। কেমন অবস্থা হবে।


সজিবঃ তোরা পারিসও বটে। যা ড্রেস আনা লাগবে না অন্য কি নিয়ে আয়।


শামিমঃ কি আনবো ভাই, গোবর নাকি?


সজিবঃ আর ওই শামিম দাড়া।


শামিমঃ জ্বি ভাই


সজিবঃ আসার সময় মবিলও আনিস


শামিমঃ ঠিক আছে ভাই, হাহহহাহা


রাফি খুব বাজে ভাবে র্যাগিং এ ফেসে গেসে। কিন্তু ওর কিছু করার নেই।


রাফি কেবল শামিমের চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রইল। রাফি এভাবে কাঁদতে কাঁদতে সজিবকে বলে


রাফিঃ আমাকে মাফ করে দেন ভাইয়া। আমি তো শুধু পড়াশোনা করার জন্য এই শহরে,এই ক্যাম্পাাসে এসেছি। আমি আপনার কিছু করিনি ভাইয়া। আমাকে ছেড়ে দেন ভাইয়া কাল আমার ক্লাস পরীক্ষা ভাইয়া। আমাকে পড়তে হবে। আমি আপনার ছোট ভাই এর মতো।


রাফির কথা শুনে সবাই হো হো করে হাসতে থাকে। ক্যাম্পাস থেকে টেনে রাফিকে পিছনের দিকে নিয়ে আসে,অনেকেই তাদের পিছনে আসতে থাকে,, কেউ রাফিকে বাঁচাতে আসছে না। করন সজিব কে সবাই ভালো করে চেনে। সজিব ঢাকর প্রভাবশালী মেয়র শহীদ হোসেনের ছেলে। সেই সাথে সজিবের চাচা এই ভার্সিটির চেয়ারম্যান। সজিব তৃতীয় বর্ষের ছাএ হয়েও ছোট বড় সবাইকে প্রতিদিন র্যাগ 

করে। তাই সবাই তাকে ভয় পায়। কোনো দিন কেউ কিছু 

বলতে পারে না। রাফি এমন ভাবে র্যাগিং এ ফেসে যাবে ভাবতেও পারে নি। কিছুক্ষণ পর শামিম আসে। অনেক স্টুডেন্ট মজা দেখতে আসছে। 


শ্রাবণঃ কিরে শামিম এত দেরি হলো কেনো আনতে।


শামিমঃ ভাই সাথে করে ৫টা ডিমও নিয়ে আসছি।


আয়ানঃ খেলা শুরু করেন ভাই, এত দেরি কেনো।


ওদের কথা শুনে রাফির বুকের ভিতর ধুকপুক ধুকপুক করছে। গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে আসছে, লজ্জায় মরে যেতে ইচ্ছে হচ্ছে। 


**শ্রবণ, শামিম, আয়ান রাফির শরীর থেকে শার্টা খোলে ফেলল,,,কিন্তু অনেকে 

রাফির বডির দিকে লক্ষ্য করলে,, দবদবে সাদা বুক আবার জিম করা বডি।। রাফি মাথাটা নিচু করে রেখেছে।। তামিম আর রিদয় রাফির গায়ের মধ্যে পোড়া মবিল ডেলে দেয়। রাফির শরীর কালো রং এ ছেয়ে গেছে। সোহাগ রাফির মাথায় ডিম গুলো ভেঙে দেয়। সজিব ওঠে এসে রাফির বুকের মধ্যে লাথি মারে। রাফি ছিটকে পরে যায়। আর সবাই উচ্চস্বরে হাসতে থাকে। রাফি লজ্জায় সেখান থেকে দৌড়ে চলে আসে। অনেকে দেখছে রাফিকে। রাফি সে দিকে তাকিয়ে আবার মাথাটা নিচু করে দৌড়ে গেট দিয়ে বের হতে যাবে এমন সময় কারো সাথে ধাক্কা খেয়ে রাফি নিচে পরে যায়। মবিলের কারণে রাফি কিছু দেখতে পারছে না। খানিকটা মবিল মুছে সামনে তাকিয়ে দেখে একটা মেয়ে রাগি চোখে তার দিকে তাকিয়ে আছে। রাফি কিছু বলবে তার আগেই মেয়েটা রাফির গালে কষে একটা চড় মারে। আর বলতে থাকে।


--বেয়াদব ছেলে। ডাস্টবিন থেকে উঠে এসেছিস শালা মা***


রাফি সেখান থেকে মাথাটা নিচু করে দৌড়ে চলে আসে। রাস্তায় অনেকেই রাফির এমন অবস্থা দেখে হাসতে থাকে। রাফি বাসায় এসে নিজেকে শান্ত করতে পারছে না,, শান্ত ছেলেটা অশান্ত হয়ে পরছে। কোনো এক অশান্ত শহরের শান্ত ছেলে রাফি।আজ তার কাছে সব অনুভূতিহীন মনে হচ্ছে। 

 রাফি আয়নায় নিজেকে দেখে, নিজেই চিনতে পারছে না। তবে সে শান্ত হয়ে নিজেকে আরেক বার আয়নায় দেখে রহস্যময় মুচকি হাসি হাসছে.............


## চলবে##


বানান ভুল হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন 🙏🙏🙏

No comments:

Post a Comment

ok

KGF of Diamond City. ৪ # লিখা :- RAJA Bhuiyan. (মি.440) # পর্ব :- ০ ৪

 # গল্প :- KGF of Diamond City. ৪ # লিখা :- RAJA Bhuiyan. (মি.440) # পর্ব :- ০ ৪ ............. আকাশে তাজা সূর্যের তীব্র আলো। শকুন আর গাংচিলদ...