“ খুনি দ্যা মাস্টার মাইন্ড ”
লেখকঃ RAJA Bhuiyan.
পর্ব : ##[ ( ৭) ]##
“ বাইরে আকাশে হালকা মেঘ জমেছে,, পরিবেশ টা ঠান্ডা হয়ে আছে। ব্যালকণির দরজা টা খোলা,, হিমেল হাওয়া এসছে,, সব কিছুতে এক অদ্ভুত ভালো-লাগা আর স্বস্থি নিয়ে এসেছে। রিমি ব্যালকণিতে এসে দাঁড়িয়েছে,, সে ভাবছে রাজ ছেলেটা অনেক গম্ভীর মুখো,,কিন্তু হলেও মনের দিক দিয়ে ছেলেটা অনেক ভালো। তা না হলে সে বাসায় আসার পর থেকে আমাকে খারাপ নজরে দেখে নাই। আজ কাল তো এমন ছেলে পাওয়া যায় না, যারা মেয়েদের কে ভালো চোখে দেখে।
কিন্তু রাজা ছেলেটা অনেক সুন্দর,, বড় বড় চোখ,, মুক্তোর মতো মানিক,, সরু নাক,, সুন্দর কালো চুল,,জীম করা ফিগার,, মুখের চাপ দাঁড়ি,, গোলাপি ঠোঁট, আর একটু রাগলে আরো আকর্ষনীয় দেখায়। একটা মেয়ে মানুষের মনে সুপ্ত অনুভূতি তৈরি করতে তার মুচকি হাসি যথেষ্ট। ছেলেটাকে দেখলে বার বার দেখতে ইচ্ছে করে। কিন্তু কেনো? রিমি উওর খোঁজে পায় না। অবশ্য রিমি রাজের প্রতি একটু রেগে আছে,, কারণ সে তার
পছন্দের রুম টা দখল
করে নিয়েছে। রিমি বুঝতে পারছে না কেনো বার বার রাজের ফেসটা তার চোখের সামনে ভেসে উঠছে,,আর তার মনে কেমন যেন এক অদ্ভুত অনুভূতি তৈরি হচ্ছে। কিন্তু রিমি এই অনুভূতির কি নাম দিবে বুঝতে পারছে না। আবার ভাবে যদি রাজের কোনো গার্লফ্রেন্ড থাকে তবে,,রিমি চায় না তার সুখের অনুভূতির গায়ে কোনো কষ্টের আচর লাগোক,,তাই সে সে এই অজানা অনুভূতির নাম দিতে চায় না।......
** রাত ৯:৩০ মিনিট,, নুসরাত তার বাবাকে বলে-- বাবা, মা বলল তুমি নাকি আমাদের চিলেকোঠার রুম টা ভাড়া দিয়ে দিয়েছো।
প্রতি উওরে নুসরাতের বাবা বলে-- আরে না ভাড়া দেই নাই,, ভাড়া কেনো দিবো। সেখানে একটা ছেলেকে থাকতে দিয়েছি। আর ছেলেটা খুব ভালো। আজ সে না থাকলে কি যে হতো,, সে আজ আমাকে সন্ত্রাসীদের হাত থেকে বাচিয়েছে,, তাই ভাবলাম এখন এমন ছেলে পাওয়া যায় না,, তাই তাকে চিলেকোঠার রুম টায় থাকতে দিয়েছি,, এমনিতেই ঐ রুম টা ফাঁকা পরে থাকে।
নুসরাত,, হুম নুসরাত হলো আনাফ সাহেবের একমাত্র মেয়ে, নুসরাত চৌধুরী
নুসরাত এখনো দেখে নি যে কাকে তার বাবা এখানে থাকতে দিয়েছে।
“ ইতি মধ্যে মেঘের বিরাট ঘর্ষণ কমে গেছে,, বাইরে হিমেল হাওয়া বইছে,, তবে হালকা হালকা ঝিরিঝিরি বৃষ্টি পড়ছে,,পরিবেশে এক
প্রকার শান্তি বিরাজ করছে। মনে হচ্ছে শহরের সব ধরনের ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার হয়ে গেছে। ব্যস্ত শহর টা পরিচ্ছন্ন হয়ে গেছে,,সব কিছু এখন সঠিক ভাবে হবে,,কি যেন আজকের আকাশ বাতাস কিছু বলতে চাইছে। রাতে ছাঁদে বসে বসে রাফি পরিবেশ টা দেখছিলো, উপভোগ করছিলো, আর এগুলো ভাবতেছিল। রাফি আবারো ব্যস্ত শহর টা দেখছে আর নিজে নিজে বলছে----
“ এই শহর ভীষণ রঙিন চোখ ধাধানো আলো, কিন্তু আমার শহর টা আমার মতো অন্ধকার আর কালো। এই ব্যস্ত শহরের মানুষ গুলো টাকার পিছনে দৌড়ায়। আর গরিব দুঃখীদের প্রতি তাদের কোনো মায়া নেই। হঠাৎ গ্রাম থেকে আসা রাফিকে সবাই এমন ভাবে অপমান করলো রাফি তা একদম মেনে নিতে পারছে না। রাফির মনে হলো ছোট বেলার পুরনো কথা গুলো। কিন্তু যারা অতীত কে নিয়ে বেশি ভাবে তাদের এক চোখ নষ্ট, আর যারা অতীত কে নিয়ে একেবারে না ভাবে তাদের দুটো চোখ ই নষ্ট। রাফি আর বেশি কিছু না ভেবে ঘুমাতে চলে যায়........
সকালে ঘুম থেকে উঠে নুসরাত ছাঁদে চলে যায়,,যেয়ে এমন কিছু দেখবে আশা করে নি। করণ নুসরাত ছাঁদে যেয়ে দেখে ভার্সিটির ক্ষেত ছেলেটা ছাঁদে দাঁড়িয়ে আছে। নুসরাত রেগে রাফির কাছে যেয়ে দাঁড়িয়ে বলতে থাকে ---- কি তুই এখানে কি করিস।
হঠাৎ পাশ থেকে কারো গলার আওয়াজ শোনে রাফি
সেদিকে তাকিয়ে দেখে যে ভার্সিটির চড়
দেওয়া মেয়েটা,, রাফি
নুসরাত কে এখানে দেখবে ভাবতে পারে নি,,, তাই সে নুসরাতের কথার জবাবে বলে-- আপু আপনি, আপনি এখানে কি করেন??
নুসরাত: তা এখানে আমি থাকবো না ত কে থাকবে। তার আগে বল তুই এখানে কেনো।
রাফি: আনাফ আংকেল আমাকে এখানে থাকতে দিয়েছে।
নুসরাতঃ অ তার মানে বাবা তুকেই এই চিলেকোঠার রুমে থাকতে দিয়েছে। আর শুন আমি আনাফ চৌধুরীর মেয়ে নুসরাত চৌধুরী।
অগ্নি চোখে কথাটা বলে নুসরাত নিচে চলে আসে। আর ভাবতে থাকে,, ভার্সিটির কেউ যদি শুনে ক্ষেত টা আমার বাসায় থাকে,, তাহলে আমার কেউ চলবে না। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ওকে এখন থেকে তাড়াতে হবে।
রাফি শুধু নুসরাতের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে আছে,, ভাবতে থাকে গরিব দের কেউই সহ্য করতে পারে না, রাফি একটা দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলে......
“ রিমি আজ থেকে তুমাকে রাজ ভার্সিটিতে দিয়ে, আসবে ”
রিমি: কিন্তু বাবা আমি তো একা যেতে পারবো।
মেহেরাব: দেখো রিমি দেশের অবস্থা বেশি একটা ভালো না। তুমাকে নিয়ে আমি অনেক সিরিয়াস। রাজ তুমি রিমিকে ভার্সিটিতে দিয়ে, থানায় চলে আসো।
রাজঃ জ্বি স্যার।
রাজ রিমিকে ভার্সিটিতে দিয়ে চলে যায় থানায়,, কিন্তু সে থানায় যেয়ে এমন কিছু দেখবে আশা করে নি। রাজ মেহেরাবের কেবিনে এসে দেখে যে মেহেরাব ইকবালের সাথে কথা বলছে। রাজ থানায় ইকবাল কে দেখবে ভাবতে পারে নি। সে নিজেকে ঠিক করে অনুমতি নিয়ে ভিতরে প্রবেশ করে।
ইকবাল রাজ কে দেখে বসা থেকে উঠে দাঁড়ায়,, মেহেরাব এটা
ঠিকই লক্ষ্য করেছে। রাজ বসে আছে কিন্তু ইকবাল বসছে না দেখে মেহেরাব বলল-- কি হলো ইকবাল বস দাঁড়িয়ে আছো কেনো।
ইকবাল: স্যার আমি এখন আসি, পরে আপনার সাথে যোগাযোগ করবো।
রাজ মেহেরাব কে প্রশ্ন করে-- কে স্যার এই ইকবাল।
মেহেরাব: সে একজন বড় মাপের হ্যাকার,, সে আমাদের কেসটাকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে।
রাজ মুচকি হেসে বলে -- ও স্যার,, সে কি হ্যাকারের সন্ধান আমাদের দিতে পারবে।
মেহেরাব: দেখা যাক কি হয়।
“নুসরাত দেখ দেখ ক্ষেত টা আসতেছে”
অনির কথায় নুসরাত দেখে রাফি, ময়লা একটা হলদে শার্ট, সাদা পেন্ট, পরে মাথাটা নিচু করে অসতেছে। রিয়া বলে চল আজ আবার ক্ষেত টার সঙে মজা করি। নুসরাত বলে থাক ওর সাথে মজা করে লাভ নেই।
রিয়া: কেনো।
নুসরাত: আরে আর বলিস না বাবা এই ক্ষেত টা কে আমাদের চিলেকোঠার রুম টা তে থাকতে দিয়েছে।
সবাই অবাক হয়ে বলল -- কিহ্ কেনো।
নুসরাত: বাবা কে কাল গুন্ডাদের হাত থেকে বাচিয়েছে তাই। এখন যদি ওকে র্যাগ দেই তাহলে আবার বাবার কাছে বিচর দিতে পারে।
মিথিলা: আরে তুই বসে বসে দেখ শুধু আমরা কি করি।
নুসরাত: যা কিন্তু আমার যাতে সমস্যা না হয়।
রিয়াঃ তাহলে তুই এখানে বস,, আমরা যাই,, চল সবাই।
হঠাৎ রাফির সামনে কতগুলো মেয়ে এসে দাড়ায়। রাফি দেখে সেদিন কার কাগজ দেওয়া মেয়ে গুলো। তাই সে কিছু না বলে পাশ কাটিয়ে চলে যাবে এমন সময়,, রিয়া বলতে থাকে -- কিরে কই যাস।
রাফিঃ জ্বি আপু ক্লাসে।
মেয়েগুলো হো হো করে হাসতে হাসতে বলতে থাকে -- তুই আবার কি ক্লাস করবি। স্যার কি তকে ক্লাসে ঢুকতে দিবে।
রাফি তার মাথাটা নিচু করে নেয়।
রিয়া আবার বলে-- তকে আজকে একটা সহজ কাজ দিবো,, তুই সেটা করে দেখাবি।
রাফি: আপু দুঃখীত আমি আপনাদের কোনো কাজ করছে পারবো না।
রিয়া: কি বল্লি তুই পারবি না,, দাঁড়া দেখাচ্ছি তকে,, এই সামিয়া বেত টা নিয়ায় তো। সামিয়া চলে যায় বেত আনতে। বল তুই এখান কাজ টা করবি না বেতের বারি খাবি।
রাফি মাথাটা নিচু করেই জবাব দেয় কি কাজ বলেন আপু।
রিয়া: তুই এখন ছাদিয়াকে প্রপোজ করবি।
ছাদিয়া: কিহ্ এই ছোটলোকটা আমাকে প্রপোজ করবে। রিয়া তুই অন্য কাউকে বল প্রপোজ করতে।
রিয়া: আরে দেখি কি হয় বলে ছাদিয়া কে চোখ টিপ দেয়।
রাফি কি করবে বুঝতে পারছে না। এখন যদি কেউ এসে রাফিকে বাঁচিয়ে নিতো,, তাহলে ভালো হতো কিন্তু রাফির ভাগ্যে কেউ সহায় হয় নি।
কিরে প্রপোজ করিস না কেনো তাড়াতাড়ি কর।
রাফি সেই জায়গায় ই দাঁড়িয়ে আছে। রিমিরা
রাফিকে অনেক কিছু বলছে কিন্তু রাফি তা শুনতে বা বুঝতে পারছে না।
হঠাৎ ই একটা বাইক এসে থামে রাফিদের সামনে,, বাইকের আগন্তুক টা কে দেখে.........
## চলবে ##
[ নতুন একটা রোমান্টিক গল্প লিখছি যদি বলেন তো, পোস্ট করবো]
গল্প টা পড়ে ভালো লাগলে অবশ্যই একটা ভালো মন্তব্য দিবেন আশা করছি।
nice
ReplyDeletethanks
Delete