খুনি দ্যা মাস্টার মাইন্ড
লেখকঃ RAJA Bhuiyan.
পর্বঃ >>[( ১১ ) ]<<
..........
★ পুলিশ অফিসার টা সিগারেট টানছে আর দেখতে ছিলো সজিব কি করে রাফির সাথে
কিন্তু সজিব যখন রাফির শার্টের দুই টা বুতাম খোলে তিন নাম্বারের টায় হাত দিবে তখনই কেউ সজিবের হাত টা ধরে টান দেয়। সবাই সে দিকে তাকায় দেখে পুলিশ অফিসার টা সজিবের হাত টা টান দিয়েছে। সজিব এটা দেখে তার হাত টা ছাড়িয়ে,,অফিসারের কলার টান দিয়ে ধরে সবাই অবাক হয়ে চেয়ে আছে সজিবের দিকে,,কি করে সে পুলিশ অফিসারের কলারে হাত দেয়। সজিব কিছু বলার আগেই অফিসার টা সজিব কে স জোরে একটা চড় মারে। চড় খেয়ে সজিব নিচে পরে যায়। অফিসার সাইফুলকে ডাক দিয়ে বলতে থাকে -- এই বেয়াদব ছেলেটা কে থানায় নিয়ে চলো।
এটা শুনে সজিব বলতে থাকে -- কার এত বড় সাহস আমাকে লকাপে ঢুকাবে আমি মেয়রের ছেলে আমার বাবা জানতে পারলে তদের কাউকে ছাড়বে না। অফিসার আবারো সজিব কে টেনে তুলে চড় মারে। অনেকে এমন দৃশ্য দেখে অবাক হয়ে রয়েছে কেনো একটা ক্ষেত ছেলের জন্য অফিসার টা এমন করলো। রাফি তার শার্টের বুতাম গুলো লাগিয়ে,, চোখের চশমাটা ঠিক করে অফিসারের দিকে তাকিয়ে একটা মুচকি হাসি দেয়। নুসরাত ভাবতেও পারছে না রাফির সাথে এমন হওয়াতে পুলিশ তাকে নিয়ে চলে যাবে। আর এটাও দেখছে যে রাফি অফিসার টার দিকে চেয়ে মুচকি হাসি দিয়েছে। নুসরাত ভাবছে কে এই রাফি,, আবার সময়তে সময়তে মুচতি হাসে। পুলিশ গুলো সজিব কে নিয়ে সেখান থেকে চলে যায় *
• রাজ তুমি কাকে ধরে এনেছো তা কি তুমি জানো। এই ছেলেটার কি ক্ষমতা তা কি তুমি জানো।
• রাজ মুচকি হেসে জবাব দেয় -- সে কে বা তার কি ক্ষমতা তা আমার জানার প্রয়োজন নেই। আমি কে সেটা ওর বুঝা উচিৎ ছিল।
• মেহেরাব রাগান্বিত হয়ে বলে-- দেখো ছেলেটা আমাদের সাইটের কর্পোরেশন
এর মেয়র শহীদ হোসেনের ছেলে। তাকে ধরে আনার জন্য তুমাকে অনেক ঝামেলা ফেঁস করতে হবে,, এর চেয়ে ভালো ছেলেটাকে ছেড়ে দেই
• রাজ একটা মুচকি হাসি দিয়ে বলে-- সব ঝামেলা সামলাতে আমি প্রস্তুত । মেয়র নিজে এসে যতক্ষণ না পর্যন্ত ছাড়িয়ে নিবে ততক্ষণ তাকে আমি আটকি য়ে রাখবো,, বলে রাজ চেয়ার থেকে উঠে সজিবের কাছে যায়।
• সজিব রাজকে দেখে বলতে থাকে -- আর কিছুক্ষণ অপেক্ষা কর,,বাবার কানে এতক্ষণে খবরটা চলে গেছে তর চাকরি টা থাকবে কি না সন্দেহ। তবে তর চাকরির কোনো ক্ষতি হবে না,,কারণ তকে মেরে পেপারের হেড লাইনে আমার নাম উঠবে। মেয়রের ছেলে সজিব হোসেন রাজ নামের পুলিশ অফিসার কে মেরে ফেলসে। কেমন হবে বলতো।
• রাজা কান্না কান্না ভাব নিয়ে বলে-- ভাই আমাকে কিছু করবেন
না,, আমার ভুল হয়ে গেছে আমি আপনাকে চিনতে পারি নাই,,আপনাকে এখন ই ছেড়ে দিবো। রাজ এবার উচ্চ সরে হাসতে হাসতে বলে,, তুই কি ভাবছিস আমি তর কাছে এগুলো বলে মিনতি করবো
‘হিহিহি ’ তর ধারণা পুরোপুরি ভুল। কি বলছিলি যেন আমার চাকরি থাকবে কি না। হাহাহাাহা আমার চাকরি নিয়ে আমার কোনো মাথা ব্যাথা নেই। তুই তর চিন্তা কর। আরো বলছিলি আমাকে মেরে পেপারের হেড লাইনের সুপার স্টার হয়ে যাবি। তর বাবাকে আসতে দে তর বাবার সামনে তকে পিটাবো।
“ আপাকে আর কষ্ট করে পিটাতে হবে না, এই যে জামিনের কাগজ সজিব হোসেন কে ছেড়ে দিন”
• রাজ সজিব কে এগুলো বলছিলো তখন ই পিছন থেকে কেউ কথাটা বলে উঠে। রাজ চমকে যেয়ে পিছে তাকায় দেখে। একটা মধ্যে বয়সী উকিল কথাটা বলছে। রাজ ওনার হাত থেকে কাগজ টা নিয়ে পড়ে সজিবের দিকে তাকিয়ে দেখে সজিব হাসতেছে,,
রাজও মুচকি হেসে একটানে কাগজটা ছিড়ে ফেলে। সেটা দেখে সজিব ও উকিলটা অবাক।
• উকিল জিজ্ঞেস করে -- এটা আপনি কি করেছেন,,এটা ছিড়েছেন কেনো।
• রাজ মুচকি হেসে জবাব দেয় -- ওর বাবা মেয়র শহীদ কে নিয়ে আসেন তাহলে ছাড়বো,, এই সব কাগজে হবে না,,আপনি যেতে পারেন এখন। উকিল বাইরে চলে যায়।
• সজিব শুধু চিন্তা করছে এর কি চাকরির যাওয়ার কোনো ভয় নেই৷ এই তুই কাগজ টা ছিড়ে ফেল্লি কেনো,, তর তো সাহস কম না তুই আমার বাবা কে থানায় আসার জন্য বলিস।
• ঐ দেখ তর বাবা থানায় চলে এসেছে এখন তর বাবার সামনে তকে পিটাবো, তাহলে আমার সাহস দেখতে পারবি,,বলে নিচে থেকে লাঠিটা উঠিয়ে সজিব কে মারতে যায় কিন্তু সজিব বাঁধা দেয়।
• সজিব বলে দেখ আমার শরীরে যদি একটা আচঁর লাগে,, আমি তকে যে কি করবো তুই ভাবতেও পারবি না। রাজ হাসতে থাকে এই কথা শুনে।
• কোন অফিসারের এত বড় সাহস যে আমার ছেলেকে এখনে আটকে রাখছে
আবার মারার হুমকিও দিয়েছে কই সে অফিসার। শহীদ হোসেন জোরে জোরে কথাগুলো বলছে।
• রাজ বলে -- মেয়র হয়েছেন বলে থানায় এসে উশৃংখল করতে পারবেন না। থানায় আপনার মেয়র গিরি করতে পারবেন না। থানার বাহিরে যা ইচ্ছে করবেন। মনে হয় কথাটা বুঝতে পারছেন। আর আপনার ছেলে পুলিশের কলার ধরে টান দিয়েছে আবার পুলিশ কে হুমকিও দিয়েছে। মেয়রের ছেলে বলে আমি ছেড়ে দিবো না কিন্তু,, আর যাতে এমন দূর সাহস না দেখাতে পারে তাই আপনার সামনে ওকে,, বলেই রাজ তার লাঠি দিয়ে জোরে জোরে ৫ টা বারি দেয়।
• অফিসার কাজটা ভালো করলেন না, হয়তো আপনার সাথে আমার ২য় বার দেখা হবে,, কিন্তু তা কোথায় দেখা হবে তা সময় ই বলে দিবে। বলে শহীদ তার ছেলেকে নিয়ে থানা থেকে চলে যায়। সব টাই মেহেরাব নিজ
চোখে দেখছে কিন্তু কিছু বলতে পারেন নি।
.........
“ আজ আকাশ টা মেঘলায় আচ্ছন্ন হয়ে গেছে,, মাঝে মধ্যে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে আকাশে কোনো তাঁরা নেই মনে হচ্ছে মেঘের কালো আবরনে ডেকে গেছে পুরো আকাশ
টা। চারিদিকে হাওয়া বইছে,, মনে হচ্ছে কিছুক্ষন পর ই বৃষ্টি শুরু হয়ে যাবে। রাফি দাড়িয়ে পরিবেশ টা উপভোগ করছে আর অন্য পাশে নুসরাত দোলনায় বসে বসে মোবাইল চালাচ্ছে। বাতাসে তার চুল গুলো এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে বার বার সে বিরক্ত হয়ে বার বারই ঠিক করে নিচ্ছে। মেয়েটা দেখতে অনেক সুন্দর কিন্তু তার মন টা খুবই খারাপ,,গরীব দের পছন্দ করে না। গরীব দের সাথে মিশতে সংকোচ বোধ করে। রাফি এগুলো দেখছিলো আর ভাবছিলো কিন্তু সে এই মায়ায় পরতে চায় না। সে মনে করে এই একাকিত্ব থাকাটাই সর্বোত্তম কারণ সবাই বিশ্বাসঘাতকতা করলেও একাকিত্ব কখনো কারো সাথে বেইমানি করে না।
তাই রাফি সব সময় একা একা থাকতে পছন্দ করে ”
রাফি ছেলেটা গরীব হলেও মনটা তার ভালো। কেননা সে সব সময় সবার সাথে বিনয়ী আচরণ করে। ওর সাথে আমি বা আমারা কত মজা করি কিন্তু সে কোনো প্রতিবাদ করে না,সব মাথা পেতে নেয়। আজকের ঘটনা না মনে হচ্ছে অবিশ্বাস্য কর। রাফির সাথে সজিব এমন করাতে পুলিশ অফিসার টা রেগে সজিবকে নিয়ে চলে যায়। সামান্য বেপার টা নিয়ে এত কিছু হয়ে যাবে নুসরাত ভাবতে পারছে না। রাফির সাথে কি পুলিশ অফিসার টার কোনো সম্পর্ক আছে। নুসরাত আর কিছু ভাবতে পারছে না। হালকা হালকা করে বৃষ্টির ফোটা পরছে তাই নুসরাত ছাঁদ থেকে নেমে যায়।
• রাফি আজ ভিজবে অনেক ভিজবে সে, আজকের ঘটনা টা নিয়ে বেশ চিন্তিত সে যদি ঠিক সময় করে পুলিশ অফিসার টা না আসতো তাহলে কি হতো ভাবতে পারছে না রাফি। রাফি বৃষ্টির দিন ই এই শহরে আসে আর পরের দিন থেকেই তার জীবন ট বদলে যায়। ভাবতেই তার ঠোঁটের কোনে নিশ্বব্দের হাসি ফোটে উঠে।
........
সজিব বাসায় গিয়ে সব জিনিস পএ ভেঙে ফেলছে,,কেউ তাকে থামাতে পারছেনা। শহীদ হোসেন ব্যর্থ হয়ে সোফায় বসে পরে। তিনি একটা কথা শুধু চিন্তা করছে এমন একটা ছোট পুলিশ অফিসার তার ক্ষমতার কথা জেনেও ভয় না পেয়ে কথা বলেছে। তবে শহীদ রাজের চোখে অন্ন কি দেখেছে কি সেটা তা বুঝতে পারছে না। সজিবের একটাই কথা ঐ পুলিশ অফিসার কে সে মেরে ফেলবে। আর যার কারণে সজিবের এত অপমান হতে হয়েছে রাফি,,তাকে সে প্রথম মারবে তাই সজিব তার বড় ভাই কে ফোন দেয় সে বড় রাজনৈতিক নেতা।
• সজিব ফোন দেওয়ার কিছুক্ষন পর
তার বড় ভাই এর ফোন আসে সজিব বলতে থাকে -- আশফি ভাই একটা সমস্যা হইছে।
• ঐই পাশ থেকে আশফি বলে-- কিরে তর আবার কি সমস্যা। আচ্ছা বল কি
সমস্যা।
• ভাই সমস্যা টা অনেক বড় এক জন কে তুলে আনতে হবে।
• কাকে তুলে আনতে হবে, সেটা বল আর তুই তো জানিস আমার কাছে এই ধরনের সমস্যা কোনো সমস্যাই না।
• ভাই তুমি তুমার লোকজন দিয়ে তুলে আনবা আর তোমাকে আমি ছবি সহ সব কিছু পাঠাচ্ছি। যত টাকা লাগে আমি দিবো চিন্তা করো না।
• টাকার চিন্তা আমি করি না। আমি চিন্তা করছি যে তুই আবার কাকে তুলে আনবি।
• সেটা ছবি পাঠাইলে দেখে নিও। কাজটা কিন্তু আমার হওয়া চাই।
• সব ঠিক হয়ে যাবে। তুই আর টেনশন করিস না,,দ্বায়িত্ব টা এখন আমার সো আমার ই চিন্তা থাকবে।
• আচ্ছা বলে সজিব ফোন কেটে দেয়।
শহীদ সাহেব চিন্তা মুক্ত হতে একজন কে ফোন লাগায়,, ফোনের ঐই পাশের আগন্তুক টা ফোন উঠিয়ে হাসতে থাকে। শহীদ সাহেব শুধু হাসির ই শব্দ পাচ্ছে এবার তিনি বলতে শুরু করেন...........
## চলবে ##
[ অনেকের রিকোয়েস্ট এ আজকের পর্ব টা দিয়েছি। সবারই ভালো মন্তব্য আশা করছি ]
wait for the next part
শুধুই রহস্য
ReplyDeleteজ্বি ভাইয়া
Delete