Saturday, August 20, 2022

KGF of Diamond City. ৪ # লিখা :- RAJA Bhuiyan. (মি.440) # পর্ব :- ০ ৪

 # গল্প :- KGF of Diamond City. ৪

# লিখা :- RAJA Bhuiyan. (মি.440)

# পর্ব :- ০ ৪

.............



আকাশে তাজা সূর্যের তীব্র আলো। শকুন আর গাংচিলদের ডানা ঢেকে রেখেছে আকাশটাকে। বাতাসে মিশে আছে রক্ত এবং বারুদের গন্ধ। চারদিকে মিঠে-কড়া রোদ, ছায়ায় বসন্তের আমেজ। অথচ একই এলাকার ব্যতিত অন্যন্য শহরে বর্তমানে আষাঢ় মাসের শেষ শ্রাবণের শুরু। দূর লক্ষে একজন ছেলে রাইফেল হাতে দাঁড়িয়ে আছে। বয়স তার বেশি না “ সতেরো আঠারো ” হবে হয়তো। হাফ হাতার নীল শার্টে ধূলোময়লা লেগে আছে। তার নরম হাতে রাইফেলটি বেমানান লাগছে। তবুও কিছু করার নেই, পরিস্থিতি তৈরি করেছে তাকে। 


তার ভেজা কালো কুচকুচে শরীরে ঝিকমিক করছে সোনালি রোদ। অলস দুপুর, রাস্তার পাশের একটা বিদুৎ তারের ওপর থেকে নিঃসঙ্গ এক কাক হঠাৎ জরুরি আবেদনের সুরে

কা - কা - কা করে ডেকে উঠছে। ছেলেটা চোখ তুলে তাকাতেই দেখতে পায় যে একজন অন্যমনস্ক বাদশা হেঁটে আসছে। লোহার তৈরী পোশাক তার, বেশ শক্ত পোক্ত,। পিস্তল কিংবা বন্দুকের বুলেট তার শরীরে লাগলেও ওর কিছু হবে না এমন লোহার তৈরী তার পোশাক। মাথার লম্বা চুল গুলো পিছনের দিকে ঝুটি করে বাঁধা অবস্থায় রয়েছে। গালের বিভিন্ন অংশে ঘন দাঁড়ি গুলো সাদা আকৃতি ধারণ করেছে। কাছ থেকে দেখলে বুঝা যায় তার বয়স বৃদ্ধি পেয়েছে। বয়সের তুলনায় সে এখনো নিজের যৌবন ধরে রেখেছে। বন্দুক হাতে হেঁটে আসছে সে, লম্বা নিঃশ্বাসে তার মদের গন্ধ বিদ্যমান।


সামনের দেয়ালে টার্গেট প্র্যাক্টিসের জন্য তার শীর্ষ বিন্দুতে একজন যুবক কে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তার হাতে পায়ে লোহার শিকল দিয়ে বেঁধে ফেলা হ'য়েছে। এখনকার সবাই যুবকটাকে এক নামে চিনে “ নিলয় ”। গত দু বছর ধরে সে কারাগারে বন্দি অবস্থায় ছিল। বর্তমানে এখানে যা কিছু হচ্ছে, চোখের সামনে সবকিছুর অবস্থান হচ্ছে “ KDF ” শহর, যার পূর্ণরূপ - Kolar Diamond Fields -। এখানকার বর্তমান বাদশার ‘ হায়দার ’। সেই ব্যক্তিটাই হায়দার যার শরীরে লোহার পোশাক পরিধান করা। 



রিক্কি ভাই কে যখন খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। তখনই হঠাৎ করে আবির্ভাব ঘটে এই নিলয়ের। সে সমস্ত শহরে রাজত্ব করতে শুরু করে, তখন তার রাণী ছিল ‘ নীলা ’। নিলয়ের নেতৃত্বে আবারও শুরু হয় মাইনিং এর কাজ। এক রাতে চারশো কোটি টাকার ডায়মন্ড পাচার করা হয় বর্ডার দিয়ে বার্মাতে। আস্তে আস্তে নিলয় টাকা এবং ক্ষমতার নেশায় আসক্ত হয়ে যায়। ডায়মন্ড সিটির সমস্ত জনগণের উপর সে তার বাহিনী দিয়ে আক্রমণ শুরু করে। দু বেলা খাবার খাওয়ার সুযোগ না দিয়ে সে মাইনিং এর কাজ করাতো এবং সেখান হতে ডায়মন্ডের উৎপত্তি হতো। এইভাবে চলছিল দিনকাল। তবে সেটা বেশিদিন টিকে নি। রিক্কি ভাইয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে হায়দার বসে না থেকে হঠাৎই KDF এর উপর আক্রমণ করে। কোন প্রস্তুতি ছাড়া এমনভাবে আক্রমণ নিলয় বুঝে উঠতে পারে নি। দু দিকের সৈনিক হতাহত হয়ে এক পর্যায়ে নিলয় তা সামাল দিতে ব্যর্থ হয়ে “ ফিফটি থ্রি ” দিনের রাজত্ব থেকে বহিষ্কার হয়ে কারাগারে বন্দি হয়। (কামাল)



আজকে প্রায় দু বছর পর নিলয়কে কারাগার থেকে বের করা হয়েছে। সিটির সমস্ত শ্রমিক গুলো কাজ বাদ দিয়ে এসেছে নিলয়কে কী শাস্তি দেয় হায়দার, সেটা দেখার জন্য। নিলয় আশেপাশে তাকায় রাইফেল তাক করে বেশ কিছু সৈনিক দাঁড়িয়ে আছে, তাদের আঙ্গুল ট্রিগার পর্যন্ত রাখা, অনুমতি পেলেই যেন ট্রিগারে চাপ দিয়ে দিবে। 


কিছুদিন যাবত ডায়মন্ড সিটিতে বেশ গরম পড়েছে অথচ সময়টা শীতকাল। কথাটা শুধু এখানেই গ্রহণযোগ্য কেননা বাংলাদেশের অন্যান্য অঞ্চলে বর্তমানে বর্ষকাল। হায়দার একটি সৈনিক কে চোখ দিয়ে কিছু একটা ইশারা করতেই সে দৌড়ে যেয়ে চেয়ার নিয়ে আসে। হায়দার চেয়ারে স্থির হয়ে বসে। বাম হাতে দিয়ে বন্দুকটি মাটিতে চেপে ধরলো, তার শরীরে সমস্ত ভর এখন বন্দুকের উপর। হুইস্কির বোতলে কয়েকটা চুমুক দিতে দিতে তার চোখ পড়লো, কতগুলো জনগণের মধ্যে নিচে বসে থাকা অন্ধ এক বৃদ্ধ লোকের দিকে। যেটা দেখে মুহুর্তের মধ্যে হায়দারের ঠোঁটের কোণে হাসি ফোটে উঠে। ওর পাশে অবস্থান করা একটি সৈনিক বৃদ্ধ লোকটাকে টেনেহিঁচড়ে হায়দারের সামনে এনে দাঁড় করায়। হায়দার হুইস্কির বোতলে শেষ চুমুক দিয়ে বন্দুক হাতে উঠে দাঁড়ায়। 


- এই নাজিবুর - নিলয়কে নিচে নামিয়ে তার হাত পা থেকে শিকল খুলে দে। 


কথাটা বলতে বলতে হায়দার নিজের লম্বা বাম্বু সিগারেট জ্বালাতে ব্যস্ত হয়ে যায়। নিলয়কে ছেড়ে দেওয়ার কথা শুনে উপস্থিত সকলে অবাক হয়ে যায়। নাজিবুর নামের সৈনিক টা নিজ জায়গা হতে নড়ে না। হায়দার সামনে তাকিয়ে যখন দেখতে পায় নিলয় এখনো উপরে ঝুলে আছে তখন সে রেগে বলে - 


- আমার কথা কী বুঝতে তোর অসুবিধা হচ্ছে নাজিবুর?


নাজিবুর কিছু বলতে গেলে এর আগেই নিলয় বলে উঠে - 


- আমি যেই অবস্থায় রয়েছি সেই অবস্থায়ই ভালো। 

- তোকে উপরে রেখে গেম খেলতে ভালো লাগবে না তাই নিচে নামাচ্ছি। (হায়দার) 

- আর কেমন গেম খেলতে বাকি রেখেছো তুমি? (নিলয়)

- হিহিহিহিহি,, আমি তো এখনো আমার খেলা শুরু করি নি। (হায়দার)


নিলয় কিছু বলে না চুপ করে আছে। নাজিবুর নিলয়কে নিচে নামিয়ে, তলোয়ারের এক আঘাতে শরীর থেকে শিকল খুলে দেয়। নিলয়ের এখন কেমন যেন হালকা হালকা মনে হচ্ছে। তার যদি পাখির ন্যায় ডানা থাকতো তাহলে কতোটাই না ভালো হলো বাঁধাহীন আকাশে নিশ্চুপ হলে ঘুরে বেড়াতো। সে ঐ সকল চিন্তা বাদ দিয়ে হায়দারের দিকে তাকায় - হায়দার তার নিজের বন্দুক টি ঐ অন্ধ লোকটার হাতে দিয়ে নিলয়ের দিকে তাক করায়। নিলয় ভয় পেয়ে নাড়াচাড়া করতে গেলেই দুইটা সৈনিক মিলে তাকে ঠিক জায়গায় দাঁড় করিয়ে দেয়। 


- সবাই বন্দুক নামিয়ে ফেল। আর একটা বন্দুক নিলয়ের হাতে দে। তার বন্দুকের বুলেটের কোন অভাব যেন না হয়। (হায়দার) 

হায়দারের মুখ থেকে এমন কথা শুনে সত্যিই অবাক করেছে নিলয়কে৷ আশেপাশের সকল জনগণের চোখ ছানাবড়া হয়ে গিয়েছে। নিলয় হাত বাড়ালে একজন সৈনিক তার নিজের কাঁধ থেকে রাইফেল টা খুলে নিলয়ের হাতে দেয়। প্রায় দু বছর পর হাতে বন্দুক পেয়ে তৃপ্তির মুচকি হাসি হাসে নিলয়। সে বন্দুকের বুলেট চেক করে নেয়, জোড়ায় জোড়ায় ছয়টা বুলেট লোড করা। 


- বুলেট চেক করে লাভ নেই। (হায়দার) 

- তুমি যে কত বড়ো ক্রিমিনাল সেটা আমার জানা আছে। (নিলয়)

- I am nat a criminal. I am King of diamond city. (হায়দার) 

- এই ডায়লগ বলার সময় শেষ হয়ে আসতেছে। তখন হয়তো ডায়লগ বলার জন্য তোমার ঐ মুখটা নাও থাকতে পারে। তোমার সবকিছু শেষ হয়ে যাবে আবারও।

- কে শেষ করবে? কে আছে আমার সাথে সংঘর্ষ করার মতো বীরবল? বল! তুই নিলয় হাজার বছর সাধনা করেও আর পারবি না। (হায়দার) 

- হিহিহিহিহি,, “ রিক্কি ভাই ”। সে আসবে আর তোমার সব কিছু কেড়েঁ নিবে। (নিলয়)

- হাহাহাহা....হোহোহোহো.. সে তো মারা গিয়েছে। এতদিন ওর লাশ পঁচে গিয়ে মাটিতে মিশে গেছে। 

- বাঘের ভয়ে সিংহ লুকিয়ে আছে ঠিকই কিন্তু আরেকবার ডায়মন্ড সিটিতে রাজত্ব করতে পিছ পা হবে না সে। তার আগমন অতি নিকটে। যেটা আমি দেখতে পাচ্ছি। (নিলয়)


হায়দার আর সহ্য করতে পারলো না, বৃদ্ধ লোকটার হাত থেকে বন্দুকটি নিয়ে গুলি করে নিলয়ের উদ্দেশ্যে। নিলয় সরে দাঁড়ায়। বন্দুকের বুলেট যেয়ে লাগে টার্গেট দেয়ালের শীর্ষ বিন্দুতে। হায়দার বন্দকটি আরেকবার রিলোড দিয়ে নেয়, ঠোঁটের বাম কোণে ঝুলে আছে জ্বলন্ত বাম্বু সিগারেট। নিলয়ও থেমে নেই দুজনের বন্দুক থেকে দুইটা বুলেট বের হয়ে একই সাথে সংঘর্ষ হয়। চূর্ণবিচূর্ণ বিকট শব্দে পরিবেশটা থমথমে হয়ে যায়। ঐ পাশ হতে শুনা গেল হায়দারের স্মিথ হাসির শব্দের সাথে কড়কস কন্ঠের আওয়াজ - 


- তোকে মাফ করে দিতে পারি একটা শর্তে। আমার হয়ে কাজ করতে হবে, তাও আবার যে সে দ্বায়িত্ব নয়, ডায়মন্ড সিটির সেনাপতি। (হায়দার) 


মৃদুস্বরে হাসে নিলয়। গালের দাঁড়িতে কয়েকটা টান দিয়ে কিছু একটা ভেবে নেয় সে। সামনের দিকে এগিয়ে যেয়ে বন্দুক টা নিচে ফেলে, হায়দারের ঠোঁটের কোণে হতে জ্বলন্ত সিগারেটটা নিয়ে নিজের ঠোঁটে লাগায়। নিলয়ের আচরণ দেখে আশেপাশের সৈনিক গুলো বন্দুক তাক করে। হায়দার হাত দিয়ে ইশারা করে বন্দুক নিচে নামাতে, সৈনিক গুলো তাই করলো বন্দুক নামিয়ে পজিশন নিয়ে ঠিক হয়ে দাঁড়ায়। নিলয় সিগারেটের ধোঁয়া গুলো ছাড়তে ছাড়তে বলে উঠে - 


- উত্তর প্রদেশে একটা চেকপোস্ট রয়েছে। আমি যখন ছিলাম তখন সেটা বন্ধ ছিল। বলে রাখা ভালো রিক্কি ভাই যখন রাজত্ব করতো তখনই এই চেকপোস্ট চালু ছিল। এরপর হতে কোন শ্রমিক সেখানে কাজ করতে যায় না। সবার ধারণা মতে রিক্কি ভাইয়ের কোন বড়ো সড়ো শক্তি ঐ চেকপোস্টের পাশে লুকিয়ে আছে এখনো। (নিলয়)

- তুই এখন কী করতে চাচ্ছিস? (হায়দার) 

- ঐ চেকপোস্ট থেকে মাইনিং এর কাজ আবারও শুরু করবো। (নিলয়)


উপস্থিত শ্রমিক গুলো দু কদম পিছিয়ে যায়। সৈনিক গুলোর চোখে মুখে ভয়ের ছাপ স্পষ্ট। কেননা সবাই রিক্কি ভাইকে জমের মতো ভয় পায়। তার শক্তি মানে ওর মতোই ভয়ংকর। নিলয় আবারও বলে - 


- চেকপোস্টের সাথে একটা পুল রয়েছে। ঐ জায়গার সুরক্ষার জন্য যেখানে গার্ডের প্রয়োজন, অতি দূত চারশো জন গার্ডকে ওখানে শিফট করতে হবে। তবেই খেলা জমবে নয়তো... হিহিহিহিহি.. বাঘ শিকার করার আগে সিংহ শিকার করে চলে যাবে...হাহাহাহা। (নিলয়)


হায়দার শুধু নিলয়ের কথায় সায় দিয়ে জায়গা ত্যাগ করে। নিলয় উচু টিলার উপর উঠে সমস্ত সিটির উপর চোখ বুলায়। ধূলোময়লায় পরিবেশ দূষিত হয়ে যাচ্ছে যার কারণে গাছপালা গুলো মারা যেতে শুরু হয়েছে। হাতে গুনা কয়েকটা গাছ রয়েছে, সেগুলোর অবস্থাও ভালো নয়। এই গাছ গুলো যদি মারা যায় তাহলে হয়তো অক্সিজেনের অভাবে সমস্ত শহরে জীবিত মানুষের চেয়ে মৃত মানুষের সংখ্যা বেড়ে যাবে!..


.....…........


- হায়দার নিজের শক্তি বৃদ্ধি করছে। তার সৈন্য দলের সংখ্যা বাড়ছে। আশেপাশের এলাকাগুলো থেকে বখাটে ছেলেরা এসে ভিড় জমিয়েছে, ডায়মন্ড সিটিতে সৈনিক হিসেবে কাজ করার জন্য। হায়দার নিলয়কে জীবিত ছেড়ে দিয়েছে নিজের রাজ্যের সেনাপতির দ্বায়িত্বে। সে কোন বড়ো ধরনের প্লেন তৈরী করছে। ব্যাপারটা কিন্তু অনেক রহস্যময় হয়ে যাচ্ছে। 


কথাটা বলে গালের নিচে হাত রেখে টেবিলের উপর ভর দিয়ে মিস্টার কামাল সাহেবের দিকে হাসি উজ্জ্বল দৃষ্টিতে তাকায় জয়ন্তিকা দাস। কামাল সাহেব কফির কাপ হাতে এক চিবুক হাসলো এবং মিষ্টি সুরে বলেন - 


- এত অভিনয় করার কিছু নেই। এটা শুধু কল্পিক এছাড়া অন্য কিছু নয়৷ (কামাল)

- Raja Bhuiyan কে আমি ভালো করেই চিনি। তিনি যা লিখেছেন সেটার বাস্তবতা রয়েছে। সামান্য কিছুর কাল্পনিক মিলে তৈরী হয়েছে এই গল্পের সম্পূর্ণ বাস্তবিক কাহিনি। প্লিজ আপনি পরবর্তীতে শুরু করেন। 


জয়ন্তিকা দাসের আত্মবিশ্বাস দেখে বেশ পরিমাণ মুগ্ধ হয় কামাল সাহেব। তবে বলে রাখা ভালো এই গল্পের বেশ কিছু স্ট্রিপ্ট অবাস্তব হতে তুলে ধার হয়েছে। যেগুলো কামাল সাহেব উপস্থাপনা করতে শুরু করেছেন। 


...............


প্রায় একঘন্টা হয়ে গেল একজায়গায় বসে রয়েছে রকি। তার সামনে তিনটি হুইস্কির বোতল, দুই প্লেটে আস্ত দুইটা ফায়ার চিকেন, সাথে কাজু এবং চিনাবাদাম। অনেকেই আছে হুইস্কি খাওয়ার সময় স্ন্যাকস তাঁদের চাই-ই চাই। অনেকেই আবার মনে করে, অ্যালকোহলের সঙ্গে স্ন্যাকস খেলে সেটা শরীরে তেমন ক্ষতি করে না এবং হুইস্কি হজম করা সহজ হয়। 


কাজু এবং চিনাবাদাম বেশিরভাগ মানুষ চাখনা হিসেবে কাজু এবং চিনাবাদাম খায়। তবে অ্যালকোহলযুক্ত পানীয়ের সাথে কাজু এবং চিনাবাদাম খেলে কোলেস্টেরলের মাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি পায়। দুটি জিনিসেই কোলেস্টেরল থাকে, যা খিদের ভাব কমায়। অ্যালকোহল পান করার পরে ভারী হওয়ার অনুভূতি রয়েছে। এ ছাড়া অ্যালকোহলের সঙ্গে সোডা বা কোল্ড ড্রিংক মিশিয়ে পান করলে শরীরের জলশূন্যতার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। 


পাশের টেবিলে বসে থাকা একজন বয়স্ক লোক কথাটা বলে উঠে। রকি নিজের টেবিলের উপর তাকিয়ে বুঝতে পারে লোকটা তাকে উদ্দেশ্য করেই কথাটা বলেছে। রকি সেদিকে গুরুত্ব দিলো না কেননা লোকটার মাথায় সমস্যা রয়েছে তা না হলে কেউ বিনা পয়সায় বারে আসে মদ পান করতে! 


দশ মিনিট পরপরই গ্লাস ভরে দেয়ার জন্যে হাতছানি দিয়ে ডাকলো লোকটা। রকি উঠলো না নিজ জায়গায় স্থির হয়ে বসে থাকলো। লোকটার উচ্চ স্বরে ডাকাডাকি শুনে বারের মালিক এসে লোকটাকে গাল মন্দ করতে থাকে। ব্যাপারটা রকির কাছে মোটেও ভালো লাগে নি। তাই সে উঠে যায় বিষয়টা সমাধান করার জন্য কিন্তু অবাক করার বিষয় হচ্ছে রকি সেখানে যাওয়ার আগেই একজন আগন্তুকের আগমন ঘটে সেখানে। রকি একটু এগিয়ে গেলে দেখতে পায়, আগন্তুক একটা ছেলে, যার - গম্ভীর মুখ, নিরাসক্ত দৃষ্টি, মুখে দুটো দাগ, একটা ডান চোখের নিচে, আরেকটা কপালের বাম দিক ঘেঁষে। সারা মুখে এক ইঞ্চি লম্বা কুচকুচে কালো দাড়ি, নাকটা লম্বাটে, গায়ের রং রোদে পুড়ে তামাটে মত। ছেলেটাকে দেখে অনেকটা আফ্রিকা মহাদেশীয় জাতির মতো লাগছে কিন্তু সে বাংলাদেশী এটা তার মুখ থেকে অনবরত বাংলা ভাষা শুনে বেশ বুঝতে পারা যাচ্ছে। 


মদ পান করে টাকা না দেওয়ার কারণে মূলত বারের মালিক গালমন্দ করছিলো লোকটাকে। হঠাৎ ছেলেটা এসে বারের মালিক কে সমস্ত খরচাপাতি দিয়ে ভাগিয়ে দেয়। সে একটা চেয়ার টেনে বসে, বয়স্ক লোকটা তার সামনাসামনি বসে মাতলামি করছে, এই মাত্রই একজন ওয়েটার এসে ওদের টেবিলে বেশ দামি ব্রেন্ডের দুইটা হুইস্কির বোতল দিয়ে যায় সাথে প্লেট ভর্তি কালো জলপাই আর খোসা ছাড়ানো কাজু বাদাম। 


ভাঁজ করা হাত দুটো এক করা, তার ওপর চিবুক রেখে গভীর মনোযোগের সাথে বয়স্ক লোকটার জলপাই আর হুইস্কি খাওয়া লক্ষ্য করছে রকি। কালো করে ছেলেটা একটার পর একটা প্যাক বানাচ্ছে আর লোকটা শেষ করছে। রকি এইবার বেশ বুঝতে পারলো যে লোকটা প্রফেশনাল খিলাড়ী। সে উঠে দাঁড়ায়, হাতে গুনে তিনবার কালো ছেলেটাকে লক্ষ্য করে বেরিয়ে যায় বার থেকে। 


wait for the next part.


Thursday, September 23, 2021

টোকাই যখন মাফিয়া কিং-- সিজন:- ২--- পর্ব:- ৩




 মাফিয়া সিরিজ ৩


# টোকাই যখন মাফিয়া কিং 

# RAJA Bhuiyan (মি.440)

#সিজন:- ২

#পর্ব:- ০ ৩


.................



আজ প্রায় তিন দিন পরে আবির কলেজে যাচ্ছে। আগের মতো করেই একই ড্রেস আপ নিয়ে ভার্সিটিতে এসেছে সে। এখন একটাই ভয় কাজ করে আবিরের মনের ভিতর যদি নাহিদের সাথে দেখা হয়ে যায় কোনো ভাবে। আর নাহিদ যদি বলে বসে রকি কোথায়। কি জবাব দিবে তখন আবির,, মুখের ভাষা কোথায় হাড়িয়ে যাবে সে সময়। রকির সাথে থেকে না হয় সেদিন বেঁচে গেছিলো কিন্তু আজ বাঁচাবে কে। শয়তানের নাম নিতে না নিতে শয়তান এসে উপস্থিত হয়ে গেছে। নাহিদ তার বন্ধুদের নিয়ে সেই আগের নির্দিষ্ট জায়গায় বসে বসে আড্ডা দিচ্ছে। এখন যদি আবির ক্লাসে যায় তাহলে নাহিদ দের সামনে দিয়েই যেতে হবে। আবির কোনো কিছু না ভেবেই ক্লাসের দিকে হাঁটা ধরে। সামনে গেলে যে বিপদ এটা যেনেও আবির থামে না। 


.... .... ... .... … … … …



“ নাহিদ সামনে তাকিয়ে দেখ আবির আসতেছে। ”



প্রতিদিনের ন্যায় আজকেও নাহিদ বাইকের উপর আরাম করে বসে সিগারেট টানছে আর সামনে দিয়ে চলে  যাওয়া মেয়ে গুলোর সাথে ইভটিজিং করছে। রকি সেদিন যখন ভার্সিটির সকলের সামনে নিজের ক্ষমতা দেখিয়ে নাহিদ কে মেরেছিলো। সেদিন থেকেই নাহিদের একটাই প্রতিজ্ঞা সেটা হলো রকি কে নিজ হাতে মারা। রকিকে এখন  আর শহরে দেখা যায় না। যদি নাহিদের সামনে রকি পরে যায় তাহলে রকিকে শেষ করে দিবে নাহিদ। আরাফের কথা শুনে নাহিদের  মুখ থেকে জ্বলন্ত সিগারেট টা নিচে পরে যায়। এটা নাহিদ কাকে দেখছে,, আবির!  সে বেচে আছে কি করে। নাকি মৃত্যুর পর আত্মা হয়ে এসেছে। আত্মা হলে তো নাহিদ একাই দেখতো,, কিন্তু আরাফও সাথে দেখেছে। তাহলে এটা আবিরের আত্মা না সত্যি সত্যিই আবিরই এটা। কিন্তু এটা কি করে সম্ভব,, আবির বেঁচে আছে। তাহলে!! 


 নাহিদ উওেজিত হয়ে সবাইকে উদ্দেশ্য করে বলে :-



• সামনে যে আবির আসছে এটা কি আরো কেউ দেখতে পারছিস,, নাকি আমি আর আরাফই দেখছি শুধু।( নাহিদ ) 



 সবাই অন্য রকম দৃষ্টিতে নাহিদের দিকে তাকায়,, ছেলেটা কি বলছে এটা,,, সামনে দিয়ে আবির নামের ছেলেটা তো স্ব শরীরে গুটি গুটি পায়ে হেঁটে আসছে। তাহলে নাহিদের এমন বলার কারণ কি। পাগল হয়ে যায় নি তো আবার,, বলাও যায় না,, নাহিদ যেই ভাবে প্রতিদিন মদ পান করে নেশা করে,, এর প্রতিত্রুিয়ায় হয়তো মাথার তার ছিড়ে গেলে। নাহিদের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা রিফাত বলে :-



• আমি তো আবির কে ভালো করেই দেখতেই পাচ্ছি। কেমন যেন  ক্ষেত টাইপের ছেলেটা,, বোকাসোকা চেহারা। অন্য রা দেখছে কি না এটা আমি জানি না। (রিফাত)



 রিফাতের কথা শুনে সবাই হ্যাঁ সূচক ইঙ্গিতে মাথা  নাড়ায় যার মানে সবাই আবির কে দেখতে পাচ্ছে। নাহিদ অবাক হয়ে যায় আবিরকে এমন ভাবে ক্যাম্পাসে আসতে দেখে। 



• আরাফ আবিরকে ডাক দে আর আমার সামনে আসতে বল তাড়াতাড়ি। (নাহিদ) 



 নাহিদের বলা কথায় আরাফ একটু জোরেই আবির কে ডাক দেয় :-



• আবির! এই আবির... কানে শুনতে পাস না নাকি,, এদিকে আয় নাহিদ ডাকছে তকে। (আরাফ)




 আরাফ অনেক টা জোরেই আবির কে ডাক দিয়েছে যার কারণে ক্যাম্পাসের মাঠে বসে থাকা আড্ডা দেওয়া স্টুডেন্ট গুলো সেদিকে নজর দেয়। আবির আরাফের ডাক শোনে সেদিকে তাকায়,, নাহিদের পাশে সারাদিন চাকরের মতো বসে থাকে আরাফ। ছেলেটা পুরো ই একটা ফাউল,, নিজের বাবার নেই কিছু অন্য জনের ক্ষমতা বিক্রি করে খায়। আবির সবচেয়ে বেশি অপছন্দ করে এই আরাফ ছেলেটাকে। আবির যেয়ে একেবারে নাহিদের সামনে দাঁড়ায়।  আশ্চর্যের ব্যাপার হচ্ছে এটা যে নাহিদ আবিরের এমন দূর সাহস দেখে কিছু বলছে না। নাহিদ কি কোনো কারণে আবিরের উপর ভয় পেয়ে আছে। নাহিদ কে দেখে তো এমন মনে হচ্ছে না । আগে কেউ কখনো এমন ভাবে নাহিদের সামনে এসে কাছাকাছি দাঁড়ায় নি। এই প্রথম আবির এমন করলো। গত এক বছর ধরে আবির এই ক্যাম্পাসে আসছে। কিন্তু নাহিদ তেমন কঠোর ভাবে আবির কে কখনো র্যাগ দেয় নি। ব্যাপার টা খুবই রহস্যজনক। 



 আবির এমন করে দাঁড়িয়ে আছে দেখে আরাফ রেগে বলে- 



• আবির তুই রকির সাথে দুইদিন চলেফিরে মনে হয় সাহস টা একটু বেরে গিয়েছে। নাহিদের সামনে এসে এমন কাছাকাছি দাঁড়িয়ে আছিস কেনো দূরে যেয়ে দাঁড়া। (আরাফ)




• আরাফ ভাই তুমার সমস্যা কোথায়,, নাহিদ ভাইয়ের সামনে আমি দাঁড়িয়ে আছি,, ওনি কিছু বলছে না তুমি এত লাফালাফি করছো কেন?? (আবির)




• দেখ আবির আমি কিন্তু রেগে যাচ্ছি। আর যদি একটা কথা বলিস তাহলে কিন্তু আমি কি করতে পারি সেটা তুই  বুঝতেই পারছিস । (আরাফ)




• যা করার করে ফেলো,, আমি এখন কাউকে ভয় পাই না। (আবির)



 নাহিদ চুপ করে বসে আছে,, আবির আর আরাফের ঝগড়ার মতো কথাবার্তা শুনে যাচ্ছে, কাউকে কিছু বলছে না। দুজনের নামের প্রথম অক্ষর অ দিয়ে শুরু,, আবার নামের মধ্যে অনেক মিল পাওয়া যায়। তাদের দুজনের উচিত ছিল নিজেদের মধ্যে বন্ধ সূলভ আচরণ করা কিন্তু তারা এটা না করে বাচ্চাদের মতো  ঝগড়াঝাটি করছে।

আরাফ যখন  রেগে আবির কে মারতে যাবে যাবে তখনই নাহিদ হাত দিয়ে  আরাফ কে বাঁধা দেয়। সবাই অবাক হয়ে নাহিদের দিকে তাকিয়ে আছে,, আবির মাথাটা নিচু করে মুচকি হাসি দেয়। 


নাহিদ নিজের নিরবতা ভেঙে বলে:-


• আরাফ আবিরের কথা টা কিন্তু সঠিক। সে আমার সামনে এসে দাড়িয়েছে আমি কিন্তু তাকে কিছু বলি নি তাহলে তুই এমন করছিস কেনো। (নাহিদ)




• কি বলছিস এটা তুই নাহিদ। আবিরের মতো ক্ষেত একটা ছেলে তর সামনে এসে এভাবে দাঁড়াবে এটা দেখে আমি চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকবো। (আরাফ)




• সব সময় সব জায়গায়,, সবার সাথে মাথা গরম করে কথা বলতে নেই। হয়তো সামনে দাঁড়িয়ে থাকা লোক টা অনেক বড় কিছু হতে পারে। (নাহিদ)




• এটা আমি জানি। কিন্তু এখনে সেই বড় ক্ষমতাবান লোকটা কোথায়। (আরাফ)



• হয়তো নেই আবার আছে। এর মধ্যেই লুকিয়ে আছে রহস্য। এখন এগুলো বাদ দে। পরে এটা নিয়ে কথা হবে। এখন আবির তকে যেই কারণে ডেকেছি। (নাহিদ)



• জ্বি ভাইয়া বলেন। (আবির)



 নাহিদের চোখ যায় আবিরের মাথার দিকে,, এতক্ষণ নাহিদ দেখেই নি যে আবিরের মাথায় সাদা কাপড়ের বেন্ডেজ করা। আবির কি তাহলে মাথায় কোনো বড় ধরনের আঘাত পেয়েছে। না হলে তো মাথায় এমন সাদা কাপড় দিয়ে বেন্ডেজ করা থাকতো না। কিন্তু আবির আঘাত পেয়েছে কিভাবে। 


নাহিদ আবির কে প্রশ্ন করে :-



• আবির তর কপালে এমন বেন্ডেজ করা কেন?  মাথায় কিভাবে ব্যাথা পেয়েছিস। (নাহিদ)



উপস্থিত সবাই আবিরের কপালের দিকে তাকায় ,, সত্যি ছেলেটা বড় কোনো আঘাত পেয়েছে,, সাদা কালারের বেন্ডেজের উপর রক্তের দাগ লেগে আছে। আবির নিজের কপালে হাত দিয়ে মুচকি হেসে বলে। :-



• তেমন কিছু না ভাই, রাস্তায় পরে গিয়ে সামান্য ব্যাথা পেয়েছি। (আবির)



• মিথ্যা কথা বলার প্রয়োজন নেই। আমি জানি তুই কিভাবে ব্যাথা পেয়েছিস। (নাহিদ)




 আবির অবাক হয়ে বলে :-



• আপনি জানেন মানে কিভাবে। আমার ব্যাথা পাওয়ার কথা আমি ছাড়া বাইরের কেউ জানে না,, আপনি কিভাবে জানলেন। (আবির)




• আমি তকে উওর দিতে বাধ্য নই। এখন তুই এটা বল যে তর কাছের বন্ধু রকি কোথায়। আমাকে সামান্য  মেরে ত চলে গেছে। আর ক্যাম্পাসে আসে না। (নাহিদ)




 আবির যেটার ভয় পাচ্ছিলো সেটাই হয়েছে। আবির একটা জিনিস বুঝতে পারছে না কিছুদিন ধরে সে যেগুলো ভাবছে তা সত্যি সত্যি হয়ে যাচ্ছে। মানুষ নাকি ভোরে সপ্ন দেখলে তা পূরণ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আবির দিনের বেলা যা চিন্তা করে ওর সাথে ঠিক তেমন টাই ঘটে। এর মধ্যে কোনো মিস যায় না । আজকে সে ভার্সিটিতে আসার সময় রাস্তায় দাঁড়িয়ে ভাবছিলো ক্যাম্পাসে নাহিদের সাথে দেখা হলে সে যদি রকির কথা জিজ্ঞেস করে তাহলে। এখন সেই কথাটার বাস্তব বলে নাহিদ প্রমাণ করে দিলো। আবির জানে নাহিদ অনেক খারাপ একটা ছেলে,, যখন তখন খারাপ কিছু করে দিতে পারে। এখন যদি আবির বলে সে জানে না রকি কোথায়, তাহলে নাহিদ কি করবে সেটা বেশ ভালোই উপলব্ধি করতে পারছে আবির।



আবির মিথ্যা কথা বলতে পারে না,, মুখ দিয়ে আটকে যায় মিথ্যা কথা বলার সময়। আবির আর কিছু ভাবতে চায় সত্যি কথা বলে দিবে এমন সিদ্ধান্ত নেয় সে। 




• ভাইয়া আমি আসলে জানি না রকি এখন কোথায়। সেই দিন আপনাদের সামনে যে আমার সাথে কথা বলে ছিলো এটাই আমার সাথে শেষ কথা হয়েছিলো রকির সাথে। (আবির)




 নাহিদ মুচকি হাসে আবির যে মিথ্যা  কথা বলছে এটা বুঝে গেছে সে। 




• তাই নাকি রকির সাথে তর কথা হয় না। রকির মতো এমন একটা ছেলে ভার্সিটিতে এসেই তর সাথে প্রথম বন্ধুত্ব করে আর তুই এখন বলছিস তর সাথে রকির কোনো যোগাযোগ নেই। (নাহিদ)




• সত্যি কথা! ভাই বিশ্বাস করেন আমাকে।  আমি মিথ্যা কথা বলতে পারি না,, মিথ্যা কথা বলতে গেলেই আমার কথা আটকে আসে। (আবির)




• এখন বিশ্বাস করা ছাড়া আমার আর কোনো উপায় নেই। সামনে আমার বাবা মেয়র নির্বাচন করবে। এখন আমি কারো সাথে কোন প্রকার ঝামেলা করবো না। আবির তুই এখন যেতে পারিস।  (নাহিদ)




 আবির নিজের মুখ টা নাহিদের কানের কাছে নিয়ে যায় আর ফিস ফিস করে বলে :-




• সিংহ জঙ্গলে চুপ করে থাকে দেখে মনে করো না তার কোনো পাওয়ার নেই। যখন সে রেগে যায় তখন তার এক গর্জনে জঙ্গল কিন্তু কেঁপে উঠে। (আবির)




 আবির নাহিদের কানের কাছ থেকে নিজের মুখ টা সরিয়ে নেয়। আবির নাহিদের থেকে একটু দূরে যেয়ে আবার পিছনে ফিরে তাকিয়ে একটা রহস্যময় মুচকি হাসি দেয়। 



… … নাহিদ তো পুরাই অবাক আবিরের মতো এমন একটা বোকা ছেলে এত রহস্যময় কথা আবার রহস্যময় মুচকি হাসি দিতে পারে। কে এই আবির জানা নেই কারো। আবিরের  একটাই পরিচয় জানে সবাই সেটা হলো সে একটা গরীব এতিম ছেলে,, ভার্সিটির পাশের বস্তিবাসীর সাথে থাকে সে। ছোট্ট বেলা নাকি আবিরের মা বাবা রোড এক্সিডেন্টে মারা যায় আর সেই থেকে আবির এখনো একা এই পৃথিবীতে। 



 • নাহিদ তুই আবিরকে এমন ভাবে ছেড়ে দিলি কেনো। ব্যায়াদপ টা অতি বেড়ে গেছে,, নতুন পাখা গজিয়েছে। ওর এই পাখা আমি ভেঙে দিবো। (আরাফ)




• নাহ্ ,, এখন এমন ভুল করা যাবে না সামনে বাবার মেয়র নির্বাচন আমি কোনো ঝামেলা করবো না। আমি চাই তরা সবাই এখন ঝামেলা থেকে মুক্ত থাক। (নাহিদ)




• আবির সালা কে আমার এক বিন্দুর জন্যও সহ্য হয় না। আরেক বার কাছে পেলে সুযোগ মতো ঠিক করে দিবো। (আরাফ)



• নির্বাচন টা শেষ হতে দে আগে। তারপর আমি নিজে আবিরের ব্যবস্থা করবো। সালা কে এমন মার দিবো যে কখনো আর এমন বড় বড়  কথা বলার সুযোগ পাবে না । (নাহিদ) 



.... …,… … ….... 



 মিমের বয়স বাইশ বছর চলে। 


 একজন রূপসী মেয়ের যা যা থাকতে হয় সব গুন ই মিমের মধ্যে বিদ্যমান। গায়ের রঙ সাদা। গড়গড়তা মেয়েদের তুলনায় মিম অনেক টা লম্বা। কাটা কাটা চোখ মুখ,, ঠোঁটের নিচে চোখে পরার  মতো কালো তিল। তবুই মিমের ধারণা  তার চেহারা অতি সাধারণ। আবার বাজেও। মিমের এমন মনে হওয়ার অনেক কারণ আছে এর মধ্যে একটা হলো বিয়ে। মিম কে আজ পর্যন্ত অনেক ছেলে পক্ষ  বিয়ের জন্য  দেখে গেছে কিন্তু কেউ মিম কে পছন্দ করে নি। কারণ মিম রান্নাবান্না কিছুই পারে না। ছেলে পক্ষের লোক প্রথমে এসেই জিজ্ঞেস করে,, মেয়ে রান্না জানে তো বিয়ের পর স্বামী কে রান্না করে ঠিক মতো খাওয়াতে পারবে তো। এমন কথা শুনে মিমের বাবা আশরাফ সাহেব ছেলে পক্ষ কে না করে দেয়। মিমের চেহারা দেখে সব ছেলেরা পাগল হওয়ার মতো কিন্তু মিমের ঐ একটাই সমস্যা রান্না করতে পারে না। অবশ্য মিম নিজেও চায় না  রান্না শিখতে,, রান্না শিখে ফেল্লে যে কোনো ছেলে পক্ষ মিম কে নিতে রাজি হবে। মিম চায় না মা বাবা কে ছেড়ে অন্য কোথাও চলে যেতে। কিন্তু মেয়ে হয়ে জন্ম নিলে তো স্বামীর ঘরে যেতেই হবে। এখন মিম বাসায় থাকলে তার একটাই কাজ মায়ের সাথে রান্না ঘরে রান্না শিখা। মিম এতে খুবই বিরক্ত বোধ করে।



 আজ দুই দিন পর মিম  বাসা থেকে বের হয়েছে ভার্সিটির উদ্দেশ্য। এই দুইদিন সে মায়ের সঙ্গে রান্না শিখেছে। অনেক টা শিখে গেছে রান্না। মিমের রান্নার প্রতি তেমন কোনো আকর্ষণ নেই। ক্যাম্পাসের মাঠের এক কোণে দাঁড়িয়ে আছে প্রিতি।  মিমের সাথে ১ম বর্ষে পড়ে সে। এখন বলতে গেলে প্রিতি আর মিম দুইজন খুব ভালো বন্ধু। তাদের মধ্যে সুন্দর একটা সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। মিম লম্বা লম্বা পায়ে এসে প্রিতির সামনে দাঁড়ায়। 



প্রিতি মিম কে দেখে নিজের হাত ঘড়ির দিকে তাকায়,, ঠিক পনেরো মিনিট লেট করেছে মিম। 


প্রিতি রেগে বলে:-


• এই তর আসার সময় হলো,, সেই কখন ফোন করে বলেছিলি অপেক্ষা করতে আর পাঁচ মিনিট লাগবে। এই তর পাঁচ মিনিট। (প্রিতি)



• আমি অনেক অনেক দুঃখীত প্রিতি। আসলে বাসার সামনে দাঁড়িয়ে ফোন করেছিলাম তকে,, যদি সঠিক সময়ে রিকশা পেয়ে যেতাম তাহলে ঠিকই চলে আসতাম। (মিম)




• পাঁচ মিনিটের রাস্তা সেটাও নাকি রিকশা দিয়ে আসতে হয়। (প্রিতি)




• ক্যাম্পাস থেকে আমার বাসা পাঁচ মিনিটের দূরত্ব  না। আরো বেশি সময় লাগে আসতে। (মিম)




• হয়েছে হয়েছে থাম এবার তুই,, ক্যাম্পাস থেকে তর বাসা কত টুকু দূরত্ব সেটা আমার জানা আছে। এখন এটা বল ,, গত শুত্রুবারে যে ছেলে পক্ষ তকে দেখতে এসেছিলো তারা কি বলে গেছে। (প্রিতি)




• আর বলিস না ছেলেটার কথা,, আমার থেকে অনেক খাটো,, আমি আর সে যাদি এক সাথে দাঁড়াই তাহলে আমার থেকে পাঁচ থেকে  ছয় ইঞ্চি ছোট দেখাবে। (মিম)




• এত ছোট হবে না মনে হয় তর থেকে। তা ছেলেটার চেহারা সম্পর্কে কিছু বল আমাকে। (প্রিতি)



• মুখ টা সাদা, ক্লিন শেপ করা ,, নাকের নিচে হিটলারী গোফ রেখেছে। মাথায় চুল তেমন একটা নেই বল্লেই চলে। কেমন যেন দেখতে। আর সবচেয়ে বড় কথা হলো ছেলেটা ছিলো ব্যাংকার। (মিম)




• বুঝতে পেরেছি,, এখন তর বাবা মা কি বল্লো ছেলে পক্ষ কে। (প্রিতি)



• কি আর বলবে, বলেছে পরে জানানো হবে তাদের। এরপর আর কি হয়েছে আমি তা জানি না। (মিম)



• ক্লাসের সময় হয়ে এসেছে,, চল ক্লাসের দিকে যাওয়া যাক। (প্রিতি)



 মিম আর প্রিতি ক্লাসের দিকে রওনা দেয়,, তখনই........... 



wait for the next part. 



অফিসিয়াল ফেসবুক গ্রুপ :

https://facebook.com/groups/996977107509672/

Wednesday, September 22, 2021

টোকাই যখন মাফিয়া কিং:- সিজন :- ২ -- পাঠ :- ২ -- RAJA Bhuiya. (মি.440)



মাফিয়া সিরিজ ২


# টোকাই যখন মাফিয়া কিং 

# RAJA Bhuiyan (মি.440)

#সিজন:- ২

#পর্ব:- ২


.................


  লোকটাকে দেখে  আবিরের ভয় পাওয়ার অবশ্য একটা কারণ আছে। সেটা হলো -- রুমের দরজার ঠেলে একজন ডাক্তার প্রবেশ করে পরনে তার সাদা কালারের অ্যাপ্রোন মুখে মাক্স,, একটা ইনজেকশন হাতে নিয়ে আবিরের সামনে দাঁড়ায়। আবির ছোট থেকেই ইনজেকশন কে অনেক ভয় পায়৷ বলতে গেলে কখনো বড় ধরনের অসুখ হলেও শরীরে ইনজেকশন পুশ করে না। কিন্তু আজকে সামান্য মাথা ব্যাথার জন্য ইনজেকশন নিবে এটা কি করে সম্ভব।  


 ডাক্তার সাহেব আবিরের  শরীর থেকে স্যালাইনের সুচ টা খুলে ফেলে। তুলার মধ্যে স্যানিটাইজা নিয়ে আবিরের হাতে লাগায়। ইনজেকশন টা ঠিক করে ডাক্তার সাহেব আবিরের হাতে পুশ করতে যাবে তখনই আবির নিজের হাত টা সরিয়ে নেয়। আবির এতক্ষণ বেডের উপর  শুয়ে ছিলো। এখন সে  উঠে বসে,, বেডের সাথে  হেলান দিয়ে বসে। আবিরের এমন কান্ডে  ডাক্তার সাহেব অবাক হয়ে যায়। আবির কে দেখে মনে হয় না সে একজন মানসিক রোগি। কোনো মানসিক রোগি ছাড়া সুস্থ ব্যক্তি  এমন কিছু করতে পারে না। ডাক্তারি জীবনে এই প্রথম একজনকে পেয়েছেন তিনি,, যে কি না মারাত্মক অবস্থায় থেকেও ইনজেকশন নিতে ভয় পাচ্ছে। 


ডাক্তার সাহেব আবির কে প্রশ্ন করে :-



• মি.আবির কি হয়েছে আপনার আপনি এমন করে হাত সরিয়ে নিলেন কেনো??  আমাকে ইনজেকশন পুশ করতে দিন। (ডাক্তার) 



 ডাক্তারের কথা শুনে আবির ভয় পাওয়া কন্ঠে জবাব দেয় ;-



• আসলে আমি কখনো ইনজেকশন নেই না। ছোট থেকেই এটা আমার বড় সমস্যা। ইনজেকশন দেখলেই আমার বুক কাঁপাকাপি করে। (আবির)




• এটা আবার কেমন কথা! আপনি এত বড় একটা ছেলে হয়ে সামান্য ছোট ইনজেকশনকে ভয় পাচ্ছেন কেনো। আর এমনিতেই আপনার মাথা ব্যাথা কমানোর জন্য এই ইনজেকশনের প্রয়োজন। (ডাক্তার) 




• আমার মাথা ব্যাথা আগের থেকে অনেক টা কমে গেছে । (আবির)



• দেখেন আমি একজন ডাক্তার! আপনার চেয়ে আমি রোগীর রোগ সম্পর্কে ভালো জানি। (ডাক্তার) 



•  আমি কখন এখন থেকে যেতে পারবো সেটা বলেন। (আবির)



• আপনি এত অস্থির হচ্ছেন কেনো। আপনার এখন বিশ্রামের প্রয়োজন। আর কিছুক্ষণ পর মেহেরাজ সাহেব আপনার সাথে দেখে করে আপনাকে নিয়ে চলে যাবে। (ডাক্তার) 



• কেন কেন?  আমি ঐ পুলিশ অফিসারের সাথে কেনো যাবো। আমি আমার বাসায় একা একাই যেতে পারবো। (আবির)



• আমি এতকিছু জানি না। তবে আমার মনে হয় মেহেরাজ স্যার আপনাকে কোনো কিছুর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা বাদ করবেন। (ডাক্তার) 



 আবির বুঝে গেছে পুলিশ অফিসার কি জিজ্ঞেস করবে। আবির নিজেকে প্রস্তুুত করে নেয়। ডাক্তার সাহেব বেরিয়ে যায় কেবিন থেকে। আবিরের দৃষ্টি এখন সেই দিকেই। 


……………………………



 প্রায় বিকেল হয়ে এসেছে সন্ধ্যার দিকে আবিরকে হাসপাতাল থেকে রিলিজ দেওয়া হবে। মেহেরাজ নিজের কেবিনে বসে আছে সামনে একটা লাঠি হাতে নিয়ে  দাঁড়িয়ে আছে শেখর। মেহেরাজ চেয়ারের হেলান দিয়ে উপরের দিকে তাকিয়ে আছে। তার মাথায় একটা জিনিস কিছুতেই আসতেছে না। আবিরের মতো এমন  একটা ছেলে। নাহ্ আর কিছু ভাবতে পারছে না মেহেরাজ। 



শেখর মেহেরাজের এমন চিন্তা মগ্ন চেহারা দেখে বলতে থাকে :-



• স্যার আপনি কি এমন ভাবছেন। আর আমি কতক্ষণ এইভাবে মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে থাকবো। অনেক তো হলো আপনি তো কিছু বলছেন না। [শেখর)




 মেহেরাজ শেখর কে প্রায় পনেরো থেকে বিশ মিনিট আগে নিজের কেবিনে ডেকে পাঠায়। শেখর তাড়াতাড়ি করে চলে আসে। কিন্তু এসে দেখে মেহেরাজ মাথা উপরের দিকে করে তাকিয়ে আছে। অনেকক্ষন পর শেখর মুখ খুলেছে। শেখরের কথায় মেহেরাজ উপর থেকে দৃষ্টি টা সরিয়ে নেয়, আর শেখরের উপর দৃষ্টি ফেলে মধ্যে বয়সী এই লোক টা যদি পুলিশের কনস্টেবল না হয়ে বড় কোনো অফিসার হতো তাহলে বেশ মানাতো তাকে। শেখরের অনেক সাহস,, যেমন কিছু দিন আগে এলাকার একটা মাস্তান কে সে নিজ হাতে ধরে থানায় ভিড় করিয়েছে। যেখানে মাস্তান টা কে ধরতে কেউ সাহস করে না সেখানে শেখর একাই কাজ টা করেছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় শেখর এই কাজ টা করার জন্য কোনো প্রমোশন পায় নি। মেহেরাজ সব সময় শেখর কে নিজের কাছাকাছি রাখে। 



এবার মেহেরাজ শেখরের কথার জবাব দেয় :-



• শেখর হাতে এখন দুইটা কেস চিন্তা আমার আকাশ ছুই ছুই অবস্থা। কোনটা আগে ধরবো সেটাই বুঝতে পারছি না। (মেহেরাজ) 




• স্যার আবির নামের ছেলেটাকে জিজ্ঞেস করলেই মনে হয় একটা কেসের সমস্যার সমাধান হবে। (শেখর)




• শেখর আমার কি মনে হয় জানো। আবির ছেলেটার সাথে অন্য জগতের কারো সাথে কোনো সম্পর্ক নেই। (মেহেরাজ) 




• আমারও তাই মনে হয় ছেলেটা খুবই বোকা সোকা। সে হাসপাতালে আমাদের দেখে বাচ্চাদের মতো ভয় পাচ্ছিলো। (শেখর)




• আমি আবির কে ভয় পেতে দেখি নি। আবিরের চোখে আমি ভয় দেখি নি,, অন্য কিছু দেখেছি। কিন্তু কি দেখেছি সেটার রহস্য টা এখনো দূর হয় হচ্ছে না। (মেহেরাজ) 




• আমি স্যার এতকিছু লক্ষ্য করি নি। তবে আবির ছেলেটা অনেক রহস্যময়ী মনে হচ্ছে। (শেখর) 



• ডাক্তার যে বল্লো সন্ধ্যায় আবিরকে রিলিজ দিয়ে দিবে,, এর আগেই কিন্তু আমাদের কে হাসপাতালে থাকতে হবে। (মেহেরাজ) 



• স্যার তাহলে কি গাড়ি বের করবো। (শেখর)




• বের করো যেয়ে,, সন্ধ্যার আগে যেয়ে আবিরের সাথে গুরুত্বপূর্ণ কথা বলতে হবে। (মেহেরাজ) 



 শেখর বেরিয়ে যায় মেহেরাজের কেবিন থেকে। আবির ছেলেটার চেহারা কি যেন একটা বলে। এমন বোকাসোকা চেহারা ওয়ালা মানুষ কে ই ব্যবহার করেছে মাফিয়া কিং রকি। কিন্তু মেহেরাজ একটা হিসাব এখনো মিলাতে পারছে না রকি কেনো আবির কে বেছে নিয়েছে । রকি চাইলেই কলেজের অন্য কাউকে নিজের বন্ধু বানাতে পারতো কিন্তু সে এটা না করে আবিরের মতো গরীব একটা ছেলেকেই কেনো বেছে নিয়েছে। রকির মতো এমন একটা ভয়ানক মাফিয়া, ছদ্মবেশ নিয়ে ঢাকা কলেজে এসেছে আর এসেই আবিরের সাথে বন্ধুত্ব করে নেয়। কিন্তু হঠাৎ ই আবার রকি হারিয়ে যায় শহর থেকে কোনো দূর অজানায়। এখন কোথায় আছে এই রকি। মেহেরাজ যদি কোনো ভাবে রকি কে ধরতে পারে তাহলে অনেক বড় প্রমোশন পাবে সে। রকির খোজ এখন একমাত্র আবিরই দিতে পারবে। 



……………….…….…..…



 এইমাত্র খাবার খেয়ে উঠেছে আবির, হাসপাতালের খাবার যেমন হয় আরকি,, এক প্লেট মোটা চাউলের ভাত,, বেশি পানি দিয়ে ডাল। আবির একদিনের বেশি সময় ধরে কিছু খায় নি,, আজকে  সকালে জ্ঞান ফিরার পরে ফলমূল ছাড়া অন্য কিছু খায় নি। বিকেলের দিকে ঘুম থেকে উঠে এখন মাত্র খেয়েছে আবির। শরীর টা এখন মোটামুটি ভালো। আবির যখন জানতে পেরেছে সন্ধ্যায় তাকে রিলিজ দেওয়া হবে তখনই মনের ভিতর অন্য রকম একটা অনুভূতি কাজ করছে.। কিন্তু পরে আবার মন খারাপ হয়ে গেলো এটা জেনে যে সকালের সেই পুলিশ অফিসার মেহেরাজ সাহেব আবির কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন জিজ্ঞাসা বাদ করবে। কি এমন প্রশ্ন করতে পারে মেহেরাজ যার কারণে আবিরের প্রতি এত যত্ন ওনার। জানা নেই আবিরের। 



 কেবিনের দরজাটা খোলার আওয়াজ পেয়ে আবির সেদিকে তাকায়। হু পুলিশ অফিসার  মেহেরাজ সাহেব  আর কনস্টেবল শেখর ভিতরে প্রবেশ করছে। আবির নিজের চশমা টা ঠিক করে নেয়। মুখটাকে একদম সহজ সরল স্বভাবের করে রাখে। যে কেউ আবির কে এমন দেখলে ইনোসেন্ট বয় হিসেবে আখ্যায়িত করবে। অথচ এই ছেলেটার কোনো এক সময়ের বন্ধু ছিলো বাংলাদেশের টপ মাফিয়া কিং এর। কেউ দেখলে আবির কে বলবে না সে এত বড় একটা ভয়ানক মাফিয়ার অতি কাছের বন্ধু। 


 আবির যেই  কেবিনে ভর্তি  সেখানে একটা স্ট্রিলের চেয়ার আছে । মেহেরাজ সেই চেয়ার টা টেনে বসে। পাশে দাঁড়িয়ে আছে শেখর,, পুলিশের চাকরি টাই এমন বড় অফিসার চেয়ারে বসবে আর কনস্টেবল গুলো অফিসারের পাশে মূর্তির মতো করে দাঁড়িয়ে থাকবে। মেহেরাজ কে দেখে এখন আর তেমন ভয় লাগছে না আবিরের। অন্য সব পুলিশ অফিসারের মতো ব্যবহার করছে না । আবির অসুস্থ দেখে এমন ব্যবহার নাকি মন থেকেই এমন ব্যবহার করছে। 



 তিন জনের মধ্যে প্রথমে মেহেরাজ নিজের মুখ খুলে বলে :-



• এখন কেমন বোধ করছো আবির। (মেহেরাজ)



• এখন আমি আগের থেকে  অনেক টা সুস্থ  বোধ করছি। (আবির)



• শুনে খুব ভালো লাগলো। এখন আমি যে তুমাকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা জিজ্ঞেস করবো সেই সমন্বয়ে ডাক্তার বা নার্স কিছু বলেছে তুমাকে। (মেহেরাজ)




 আবির মনে করার চেষ্টা করে দুপুরের দিকে একটা নার্স আসে। আর  এসেই বলে যায় আবিরকে সন্ধ্যার দিকে হাসপাতাল থেকে রিলিজ দেওয়া হবে তাকে। তার সাথে বিকেলের দিকে পুলিশ অফিসার মেহেরাজ সাহেব কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা জিজ্ঞেস করতে পারে। এইটুকুই বলেছিলো নার্স টা। আবির সেই কথা চিন্তা করে সামনে বসে থাকা মেহেরাজ কে বলে:-



• স্যার দুপুরের দিকে একটা নার্স এসে তাহলে আপনার কথাই বলে গেছে আমাকে। (আবির)



• হতে পারে। আমি হাসপাতালে ফোন দিয়ে বলে দিয়েছিলাম সন্ধ্যার কিছুক্ষন আগে তোমার সাথে খুবই গুরুত্বপূর্ণ  কথা বলবো। (মেহেরাজ)




• স্যার আমি আপনার সব প্রশ্নের জবাব দিবো,, তার আগে আপনি আমাকে এটা বলেন যে আপনি আমার নাম টা জানলেন কোথা থেকে। আমি তো আপনাকে আমার নিজের পরিচয় দেই নি। (আবির)




• আমি একজন  পুলিশ অফিসার,, তোমাকে আমি প্রশ্ন করতে পারি কিন্তু তুমি  আমাকে উল্টো প্রশ্ন করতে পারো না। (মেহেরাজ)




• সেটা আমি জানি স্যার। তবে আপনি যদি আমাকে প্রশ্নের জবাব টা দিতেন তাহলে আমার মনে এত জানার আগ্রহ থাকতো না। (আবির)




• তুমার সম্পর্কে বসতির লোকজনের কাছ থেকে জানতে পেরেছি। এখন এই সকল টপিক বাদ দেও। আমার হাতে বেশি সময় নেই। আমি এখন যেই প্রশ্ন গুলো করবো সব গুলোর সঠিক উওর দিবে। (মেহেরাজ) 




মেহেরাজ যেই ভাবে কথা বলছে,, এখন তাকে দেখে মনে হচ্ছে সে একজন কড়া পুলিশ অফিসার। আবির মাথা ঝাকিয়ে হ্যাঁ সূচক ইঙ্গিত করে। মেহেরাজ এটা দেখে আবির কে প্রশ্ন করতে শুরু করে :-



• আবির কালকে সারা দিন কোথায় ছিলে তুমি। আর আজকে সকালে আমরা তুমাকে এই অবস্থায় এনে হাসপাতালে ভর্তি করেছি। (মেহেরাজ)



 আবির মনে মনে এটাই ভাবছিলো,, পুলিশ অফিসার মেহেরাজ সাহেব প্রথমে এই প্রশ্ন টাই করবে। তাই আবির নিজের মাথায় এই প্রশ্নের উত্তর টা গুছিয়ে রেখেছিলো। যদি এই প্রশ্ন ছাড়া অন্য কোনো প্রশ্ন করতো তাহলেও আবির সঠিক উওর দেওয়ার চেষ্টা করতো। মেহেরাজের প্রশ্নের জবাবে আবির তার  সাথে যা ঘটেছে  সবকিছুই স্পষ্ট করে বলে দেয় মেহেরাজ কে। আবিরের এমন উত্তর শুনার পর মেহেরাজ অনেকটা অবাক হয়ে যায়। কারণ আজকে সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে থেকে যেই লাশ টা পাওয়া গেছে সেই লাশ টার সাথে আবিরের বর্ননার কাললে রাতে আবিরের উপর হামলা কারি লোকের সাথে মিল রয়েছে। তাহলে এখন একমাত্র খুনি হচ্ছে সেই রাতের আগন্তুক যে আবিরে কে মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করেছিলো। আবির বলছে সে আগন্তুক কে চিনে না আবার আগন্তুক নাকি মাক্স পরিধান করে এসেছিলো যার কারণে ভালো করে মুখ দেখতে পারে নি আবির। 


মেহেরাজের এখন প্রচুর পরিমানে রাগ লাগছে দুই টা  কেসের সমাধান হবে তখন যখন সেই আগন্তুক ধরা পরবে। কিন্তু আগন্তুকের চেহারা কেমন সেটাই জানে না আবির। এবার মেহেরাজ আবির কে জিজ্ঞেস করে ;-



• আচ্ছা আবির আমি শুনেছি তুমি নাকি বাংলাদেশের টপ  মাফিয়া কিং রকির বন্ধু ছিলে। (মেহেরাজ)



• ছিলাম হয়তো এক সময় কিন্তু এখন না। (আবির)



• এখন রকির সাথে  বন্ধুত্ব আছে কি নাই, সেটা জেনে আমার কোনো প্রয়োজন নেই। তুমি এটা  বলো যে রকি এখন কোথায়। (মেহেরাজ) 




• স্যার সবাই এট নিয়ে কি শুরু করেছেন আমি তা বুঝতে পারছি না। রকি কোথায় সেটা আমি কিভাবে বলবো। হঠাৎ সেইদিন নাহিদের সাথে ঝগড়া হওয়ার পর রকি যে কোথায় হাড়িয়ে গেছে আমি এটা জানি না। (আবির)



• দেখো আবির আমাদেরকে সত্যি টা বলে দেও। রকি একটা মাস্তান,, দেশ কে ধ্বংস করে ফেলবে সে। আমরা যদি তাকে ধরতে পারি তাহলে দেশ থেকে একটা আতংক কমে যাবে। (মেহেরাজ)




• আমি যতদূর পর্যন্ত জানি রকি ভয়ংকর মাস্তান হলেও সত্যির পথে সে চলে। খারাপ মানুষ গুলো কে সে বেছে বেছে মারে আর এতেই দেশ থেকে খারাপ মানুষ ধ্বংস হয়ে যায়। (আবির)




• খারাপ মানুষ কে শাস্তি দেওয়ার জন্য আইন আছে। সে কেন এগুলো করে মানুষের মন থেকে সুখ কেরে নিচ্ছে। আমরা সবাই একত্রিত হয়ে বিচার করতাম। (মেহেরাজ)




• স্যার আপনি আমার কথা হয়তো বিশ্বাস করতে পারছেন না। আসলে রকি আমার বন্ধু ছিলো ঠিকই  কিন্তু সে আমাকে শেষ কথা এটাই বলে গেছিলো সে আবার আসবে তবে  কোথায় সে। (আবির)




• আমি বুঝতে পারছি বিষয় টা। এখন তোমার সাথে রকির কোনো যোগাযোগ নেই। তাহলে কে নিয়ে যেতে পারবে আমাকে রকির কাছে।  (মেহেরাজ)




• আমি শুনেছি স্যার রকির একটা ভাই  আছে কিন্তু কি যে তার নাম সেটাই মনে পরছে না। আর সে থাকে কোথায় এটাও জানি না। (আবির)



• সবাই নিজেকে গোপন রাখার চেষ্টা করছে। আমি রকি কে নিজ হাতে আমার থানার ১৪ সিকের ভিতর এনে  ভরবো। (মেহেরাজ) 




মেহেরাজের কথা শুনে আবির মুচকি হাসে। একটা সাধারণ পুলিশ অফিসার রকির মতো মাফিয়া কিং কে ধরে জেলে ঢুকাবে ভাবতেই অবাক লাগছে। এখন এটাই বিশ্বাস করতে হবে  আবির কে কারণ সামনে বসে আছে একটা পুলিশ তার সামনে যদি মাস্তানির পক্ষ নিয়ে কথা বলে তাহলে যা ঘটার তা তো ঘটেই যাবে। মেহেরাজ সাহেব আর কথা বাড়াতে চান না। এখানেই প্রশ্নবাদ শেষ করতে চান তিনি। আবিরের কেবিন থেকে চলে যায় মেহেরাজ সাহেব। 


-- তারপরই --


[ আপনারা গল্প পড়ে যদি লাইক কমেন্ট না করেন, তাহলে লিখার মন উঠে যায়। এই পাঠে আপনাদের সাপোর্ট পেলে পরবর্তী পাঠ তাড়াতাড়ি দিব। ]


wait for the next part. 


টোকাই যখন মাফিয়া কিং-- সিজন ২ - পর্ব:- ১



 মাফিয়া সিরিজ ১


# টোকাই যখন মাফিয়া কিং 

# RAJA Bhuiyan (মি.440)

#সিজন:- ২

#পর্ব:- ১


.................


 সময়টা  রাত  প্রায় দশটা বেজে একুশ  মিনিট  থানার ভিতর নিজের কেবিনে চেয়ারে বসে আছে মেহেরাজ হাতে  তার  জলন্ত  সিগারেট । মাথাটা উপরের দিকে করে বসে আসে সে। অনেক চিন্তা যখন মানুষের মাথায় ভিড়ে তখনই মানুষ উপরের আকাশের  দিকে চেয়ে অন্যমনষ্ক ভাবে সেই বিষয় টি নিয়ে ভাবতে থাকে। এক বস্তা চিন্তা এসে মাথায় বসে আছে। কি করবে বুঝতে পারছে না মেহেরাজ। নয় বছর ধরে পুলিশে আছে মেহেরাজ।  পুলিশের চাকরি জীবনে কখনো সে এরকম কেসের সম্মুখীন হয় নি।   কিছুক্ষন আগের ঘটনা টা নিয়ে বেশ গম্ভীর ভাবে চিন্তা করছে মেহেরাজ। 


[ একটু থামুন 🖐 আমি আগেই বলে দিচ্ছি যারা এই গল্পের সিজন ১ পড়েন নি তারা কিছু ই বুঝতে পারবেন না আগে যেয়ে সিজন ১ পড়েন।  ধন্যবাদ  ] এবার পড়তে শুরু করেন। ↓ 



কিছুক্ষণ আগে - - ☞



মেহেরাজ নিজের কেবিন বসে বসে পুরোনো কিছু ফাইল দেখছিলো তখনই তার কেবিনে প্রবেশ করে কনস্টেবল শেখর। মেহেরাজ নিজের হাতের ফাইল টা টেবিলের উপর রেখে শেখরের দিকে তাকায়,, উওেজিত হয়ে দাঁড়িয়ে শেখর, সবুজ রঙের শার্টের ভিতরে ঘেমে একাকার শেখর বেশ ভালোই বুঝতে পারছে মেহেরাজ। তাকে  দেখে মনে হচ্ছে কোথাও থেকে দৌড়ানি খেয়ে এসেছে কিন্তু পুলিশ কে আবার কেউ দৌড়ানি দিবে কার এত সাহস। ভেবে পায় না মেহেরাজ। 




• শেখর থানার বাইরে এত আওয়াজ শুনা যাচ্ছে কেনো। মনে হচ্ছে অনেক লোক দাঁড়িয়ে থানার বাইরে ঝামেলা করছে। আর তোমার এমন অবস্থা কেন?  (মেহেরাজ)




• স্যার আমার কথা বাদ দেন!  বাইরে কি হচ্ছে সেটা আগে দেখবেন চলেন। বসে থাকলে বাইরের লোক গুলো আরো বেশি ঝামেলা করবে। (শেখর)



• মানে?  কি বলতে চাচ্ছো সেটা ভালো করে বুঝিয়ে বল আমাকে। (মেহেরাজ)



• স্যার আপনি আমার সাথে বাইরে চলেন তাহলেই বুঝতে পারবেন আমার কথা। (শেখর)




শেখরের কথার উপর ভিওি করে মেহেরাজ কেবিন থেকে বের হয়। থানার সামনে অনেক লোক  দাঁড়িয়ে আছে, কিন্তু এত লোক এত রাতে থানার সামনে কি করছে। সবার মুখে একটাই কথা আবির কোথায়?  আমাদের আবির কে বের করে দিন। মেহেরাজ কিছুই বুঝতে পারছে না।  কে আবির?  এখানে এত লোকজন আসার মানে কি এই আবিরের জন্য। উওর টা নিজের মনেই করতে থাকে মেহেরাজ। 




• শেখর আমি কিছুই বুঝতে পারছি না,, এত রাতে থানার সামনে লোকজন এমন অবস্থা করছে কেনো। কে আবির?  কোথায় আবির?  আমি কিছু বুঝতে পারছি না, আমাকে একটু খুলে বলো সবকিছু। (মেহেরাজ)




• স্যার এখানে সবাই পাশের বস্তিবাসী,  সেখানে একটা ছেলে থাকতো তাদের সবার সাথে তার নামই আবির। গতকাল বিকেল থেকে সেই আবির কে কোথাও দেখা যাচ্ছে না। হঠাৎ কোথায় উধাও হয়ে গেছে আবির। এর জন্য মূলত সবাই এসে থানায় ভিড় জমিয়েছে। আপনি কিছু একটা করুন স্যার। (শেখর)




• শেখর আবির নামের ছেলেটার একটা ছবি নিয়ে সবাইকে পাঁচ মিনিটের মধ্যে থানা থেকে বের করে দেও। আবির কে পেলে আমরা তাকে বস্তিতে দিয়ে আসবো। (মেহেরাজ)



মেহেরাজের এমন কথা শুনে নিজেই বোকা বনে যায়,, শেখর। এক মাস হয় নি এখনো মেহেরাজের এই থানায় যোগ দেওয়ার। নতুন এসেই বেশ কড়া নিয়ম করে দিচ্ছে এই নতুন অফিসার। শেখর আবিরের একটা ছবি সংগ্রহ করে,, বস্তিবাসী কে থানা থেকে বিদায় করে দেয়। 




• স্যার এই যে আবির নামের ছেলেটার ছবি। (শেখর)



 শেখরের হাত থেকে ছবির কাগজ টা নেয় মেহেরাজ। ছবির দিকে তাকায় তিনি,, ফোল সাইজের একটা ছবি, লম্বা একটা ছেলে দাঁড়িয়ে আছে  কাঁধে ব্যাগ নিয়ে। মুখে চাপ দাঁড়ি,, শরীরের রঙটা হালকা  চাপা  ফর্সা, চোখে মোটা ফ্রেমের চশমা, পড়নে ঢিলেঢালা লম্বা হাতার কালো রঙের  একটা শার্ট,, কম দামি এক জোরা চটি পায়ে লেগে আছে। মেহেরাজ নিজেও বুঝতে পারছে না এমন একটা বোকা ছেলে হঠাৎ  আবার কোথায় উধাও হয়ে যাবে। 




• শেখর ছেলেটা কে দেখে মনে হচ্ছে অনেক বোকা টাইপের। আবিরের সম্পর্কে তুমি কি কি জানো। (মেহেরাজ)



• স্যার ছেলেটা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে। সেখানে গেলেই  জানা যাবে আবিরের সম্পর্কে। (শেখর)




• শেখর তুমি কি রকি কে চিনো। (মেহেরাজ)



• কোন রকি স্যার  মাফিয়া কিং? (শেখর)



• হু! মাফিয়া কিং রকি। সে ছদ্মবেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলো। কিছু দিন যেতে না যেতে হঠাৎ কোথায় যেন হাড়িয়ে যায় সে। (মেহেরাজ)




• রকি ভার্সিটির সভাপতির ছেলে নাহিদ কে স্টীক দিয়ে পুরো ভার্সিটির সকল স্টুডেন্টের সামনে পিটিয়েছিলো। ঐ দিনই ভার্সিটির শেষ দিন ছিলো রকির এর পর থেকে কেউ আর রকির চেহারা পর্যন্ত দেখে নি। (শেখর) 




• শেখর তুমি এখন আসতে পারো। (মেহেরাজ) 



শেখর বেরিয়ে যায় কেবিন থেকে,, মেহেরাজ চিন্তা করছে এমন একটা বোকা ছেলেকে কে আবার গুম করে দিবে। আবিরের সাথে কারো শএুত্বা থাকবে এটা কিভাবে সম্ভব। আগেও  এমন অনেক কেসের সম্মুখীন হয়েছেন মেহেরাজ কিন্তু এমন কোনো রহস্যময় কেসে কখনো সম্মুখীন হয় নি। মেহেরাজ নিজে একজন বড় মাইন্ড গেমার,, বড় বড় কেস একা সামলেছে তিনি কিন্তু এই টা কিভাবে সব কিছুই ধোঁয়াসা।  হাতে থাকা সিগারেট শেষ হয়ে এসেছে। কালকে সকালে ভার্সিটিতে গেলেই জানা যাবে আবিরের সম্পর্কে ততক্ষণ পুরনো কেসের ফাইল গুলো দেখতে থাকে মেহেরাজ৷ 



...................



 স্যার, স্যার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে একটা লাশ পাওয়া গেছে। মানুষজন আতংকিত হয়ে গেছে। 


 সকাল  নয়টা মেহেরাজ নিজের কেবিনে বসে বসে সদ্য গরম চায়ে চুমুক দিচ্ছিলো তখন তার কেবিনে প্রবেশ করে শেখর চোখে তার ভয়ের আভাস স্পষ্ট দেখতে পারছে মেহেরাজ। লাশের কথা শুনেই গরম চা টা টেবিলের উপর রেখে বসা থেকে উঠে দাঁড়ায় তিনি। পিস্তল টা কোমরের কাভার পয়েন্টে রাখে। টেবিলের উপর থেকে পুলিশের কালো কালারের লাঠি টা হাতে নেয় মেহেরাজ। গড়িতে যেয়ে বসে তিনি,,  উদ্দেশ্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে।




 একটা  লাশ রাস্তায় পরে আছে  কাফনের  কাপড় দিয়ে মুড়ানো। আশেপাশে কেমন যেন একটা গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে হয়তো এটা লাশের তাজা গন্ধ৷ মানুষজন মুখে কাপড় দিয়ে গন্ধ থেকে বাঁচার চেষ্টা করছে। এখনো লাশের মুখ কেউ দেখছে না, পুলিশ ছাড়া কেউ হাত দিতে সাহস পাচ্ছে না। মেহেরাজের হাতের ইশারায় শেখর যেয়ে ভয়ে ভয়ে লাশের কাফনে মুড়ানো মুখ টা খুলে দেয়। মৃত ব্যক্তির মুখ টা দেখে ভিষণ ভয় পেয়ে যায় শেখর। কারণ মৃত ব্যক্তির মুখ টা কিছুই বুঝা যাচ্ছে না মনে হয় কেউ বড় পাথর দিয়ে মুখটা থেতলিয়ে দিয়েছে। মুখ দেখে লাশ টা সনাক্ত করা সম্ভব না, মেহেরাজ লাশ টা পোস্টমর্টেম জন্য মর্গে পাঠিয়ে দেয়। শহরের অবস্থা বেশি একটা ভালো না সবাই আতংকিত। একদিন পরে পরে এমন মানুষ খুন হয়েই যাচ্ছে  , পুলিশ অফিসার রা খুনি কে এখনো ধরতে পারে নি। তাহলে কি এমন ভাবে শহরে খুন হতেই থাকবে। আর খুনি সাধারণ মানুষের ভিড়ে মিলিয়ে যাবে। এখন অপেক্ষা পোস্টমর্টেম রিপোর্টের জন্য। 



.............



 প্রায় দুই ঘন্টা পর মেহেরাজের হাতে পোস্টমর্টেমের ফাইনাল রিপোর্ট আসে। রিপোর্ট টা দেখে মেহেরাজ অনেক অবাক, কারণ - রিপোর্টে এসেছে,, লাশ টা একজন ছেলের।   মৃত ব্যক্তিকে কেউ গুলি করে মেরেছে প্রায় ছয়টা বুলেট শরীর থেকে  পাওয়া যায়। ছেলেটা মারা যাওয়ার পরও খুনি নিজের রাগ কমাতে বড় পাথর দিয়ে মৃত ব্যক্তির মুখ মন্ডলে মেরেছে। কোনো সাইকো টাইপের লোক ছাড়া এমন খুন কেউ করতে পারবে না। দুইটা কেস সামনে দাঁড়িয়ে আছে এক আবিরের নিখোঁজ, দুই সকলের খুনের তদন্তের। কখনো এমন নাজেহাল অবস্থায় পরে নি মেহেরাজ। 



.....................



 টিপ টিপ করে চোখ জোরা মেলে তাকায় আবির। নিজেকে কোন নরম বিছানার উপর আবিষ্কার করে সে,, আশেপাশে তাকায় সে, হাতের বাম পাশে ইনজেকশন নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে মধ্যে বয়সী  একটা মহিলা পরনে তার সাদা কালারের নার্সের ড্রেস,, আবির বুঝে গেছে সে কোনো হাসপাতালের বেডের উপর সুয়ে আছে। হাতের ডান পাশে পুলিশের পোশাক পড়ে গম্ভীর মুখো হয়ে দাঁড়িয়ে আছে একটা পুলিশ  অফিসার। পিছনে  দাঁড়ানো  একটা পুলিশ কনস্টেবল। ছোট থেকেই আবির পুলিশ কে ভয় পায়,, এখনও তেমন ভয় পাচ্ছে। আবির উঠে বসার চেষ্টা করে সাথে সাথে বাম  হাতে  হালকা ব্যথা অনুভব করে, আবিরের শরীরে স্যালাইন চলছে। আবির কে চোখ খুলা অবস্থায় দেখে ডান পাশে দাঁড়ানো পুলিশ অফিসার মেহেরাজ বলে। 




• আবির তুমি অনেক টা দুর্বল একটু রেস্ট করো এখন উঠে বসার প্রয়োজন নেই । (মেহেরাজ)



আবির অবাক হয় কারণ অচেনা অজানা একটা পুলিশ অফিসার আবিরের নাম ধরে ডাকছে। কিন্তু এই পুলিশ অফিসারের সাথে আবিরের কখনো দেখা বা কথা হয় নি তাহলে নাম কিভাবে জানলো। ভেবে পায় না আবির। কিছুই স্পষ্ট দেখতে পারছে না আবির,, নিজের মাইনাস ওয়ান পয়েন্টের চশমা টা নিজের চোখে নেই। 




• আমার চশমা,, আমার চশমা কোথায়?  আমি সব কিছু অস্পষ্ট দেখছি। (আবির)



• আবির উওেজিত হবার কোনো কারণ নেই। তুমার চশমার স্ত্র্যাচ টা ভেঙে গেছে, তুমার জন্য নতুন একটা চশমার ব্যবস্থা করা হয়েছে। (মেহেরাজ)



 বেডের পাশে টেবিলের উপর রাখা মোটা ফ্রেমের চশমাটা মেহেরাজ আবিরের হাতে দেয়। আবির চশমা টা চোখে লাগায় এখন সবকিছুই স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। 



• আবির এখন কেমন লাগছে তুমার? (মেহেরাজ)



• জ্বি ভালো! কিন্তু মাথায় অনেক ব্যথা করছে। কেমম যেন লাগছে মনে হয় মাথার ভিতর কিছু চলছে। (আবির)



• সব কিছু ঠিক হয়ে যাবে তুমি এখন রেস্ট করো আমরা তুমার জন্য বাইরে অপেক্ষা করছি। (মেহেরাজ) 


কথাটা বলেই বেরিয়ে যায় মেহেরাজ সাথে শেখরও। 


............



 আবির সামনের দেয়ালের দিকে তাকায়,, দেয়াল ঘড়িতে এখন সময় সকাল এগারোটা । সে  মনে  করার চেষ্টা করে কালকের ঘটনা। ভার্সিটির উদ্দেশ্য যখন বাসা থেকে বের তখনই তার সামনে একটা গাড়ি থামে,, আবির কিছু বলবে এর আগেই গাড়ির  ভিতর থেকে কেউ আবিরের মুখের রুমাল চেপে ধরে,, সে অজ্ঞান হয়ে যায়। প্রায় আট ঘন্টা পর আবিরের জ্ঞান ফিরে। নিজেকে কোনো বদ্ধ রুমে আবিষ্কার করে সে। মাথার উপর জ্বলছে ষাট ওয়াটের একটা হলদে বাল্ব। আশেপাশে পুরনো অনেক জিনিস পত্র রাখে দেখে মনে হচ্ছে এগুলো কেউ অনেক দিন ধরে ব্যবহার করে না। খুবই গরম রুমের ভিতর,, হঠাৎ রুমের সাটার টা উঠিয়ে একটা ছেলে  ভিতরে প্রবেশ করে। ছেলেটার হাতে ভয়ংকর একটা ধারালো  ছুরি। আবিরের সামনের চেয়ারের উপর আরাম করে বসে ছেলেটা। 




• কেমন আছিস মাফিয়া কিং এর বন্ধু? (ছেলেটা)



আবির  বুঝতে পারছে না ছেলেটা কেন মাফিয়া কিং এর বন্ধু বলছে। আবির  বোকাসোকা চেহারা করে বলতে থাকে... 



• মাফিয়া কিং এর বন্ধু মানে! কি বলছেন আপনি। (আবির)



• হাহাহাহাহা,, কেন বুঝতে পারছিস না আমি কি বলছি। নাকি বুঝেও না বুঝার চেষ্টা করছিস। 




• সত্যি ভাইয়া আমি আপনার কথা বুঝতে পারছি না । দয়া করে আমাকে বুঝিয়ে বলেন। (আবির)




• বাংলাদেশের  টপ মাফিয়া কিং রকি ভাই,, তর বন্ধু ছিলো না। একই সাথে একই ভার্সিটিতে পরতি তরা দুইজন। কোথায় এখন রকি সেটা বল আমাকে। (ছেলেটা)




আবির মনে করার চেষ্টা করে রকির কথা সেইদিন ভার্সিটিতে নাহিদের সাথে ঝামেলা করার পর থেকে রকির সাথে আর দেখা হয় নি আবিরের। রকি বলে গিয়েছিলো দেখা হবে কিন্তু এখন আবিরের সাথে দেখা হয় নি রকির। 




• আমার  সাথে রকির কোনো যোগাযোগ নেই। সেইদিন ভার্সিটিতে ওর সাথে আমার শেষ দেখা হয় এর পর আর দেখা হয় নি। আমি জানি না রকি কোথায়। (আবির)




আবিরের কথাটা বিশ্বাস করে না ছেলেটা। ধারালো ছুরি টা হাতে নিয়ে বলতে থাকে.... 



• সত্যি কথা বল বেঁচে যাবি! নয়তো এই চুরি টা দিয়ে এখনই শেষ করে দিবো। বল রকি কোথায়। (ছেলেটা) 




ছুরিটা দেখে আবির ভয় পেয়ে যায়। গলার পানি শুকিয়ে গেছে,, একটা ঢুক গিলে গলাটা হালকা ভিজিয়ে নেয় সে। ভয় কাতর গলায় বলতে থাকে.... 



• ভাই আমার কথাটা বিশ্বাস করেন,, আমার সাথে রকির কোনো দেখা হয় নি। আমাকে মারবেন না দয়া করে। ছেড়ে দেন প্লিজ। (আবির)




• মিথ্যা সব কিছু মিথ্যা,, তুই একমাত্র জানিস রকি এখন কোথায় আছে। তর সময় শেষ মৃত্যুর প্রহর গুনতে শুরু কর এখনই। (ছেলেটা)




কথাটা বলে ছেলেটা ধারালো ছুরি টা নিয়ে  আবিরের গলার  দিকে নিতে থাকে। আবির ভয় পেয়ে যায়। ছুরি টা আবিরের গলায় চালিয়ে দিবে এমত অবস্থায়,, রুমের সাটারে ঠাস ঠাস করে আওয়াজ হয়। ছেলেটা ছুরি টা নামিয়ে নেয়। আবির হাফঁ ছেড়ে বাঁচে,  হয়তো সৃষ্টিকর্তা আবিরকে বাঁচাতে কাউকে পাঠিয়েছেন। ছেলেটা ভয়ে ভয়ে সাটারের পাশে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করে.... 




• বাইরে কে?  কে সাটার ধাক্কা মেরেছে!  কোন সালা বাইরে দাঁড়িয়ে আছিস, কথা বলছিস না কেনো। (ছেলেটা) 



বাইরে থেকে কোনো প্রতি উওর আসে না,, ছেলেটা রেগে রুমের সাটার টা উপরের দিকে তুলে। বাইরে দাঁড়িয়ে আছে কোনো এক অচেনা আগন্তুক। আবির আর ছেলেটার স্তম্ভিত দৃষ্টির সামনে দিয়ে নীরবে এগিয়ে গিয়ে আগন্তুক টা শূন্য চেয়ারে বসে পরে। নিশ্চল নিরব। আগন্তুক এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে উপরে ঝুলে থাকা বাল্বের সহস্র আলোকরশ্মির কেন্দ্রস্থলে। ষাট ওয়াটের হলদে আলো- পরিসীমার মধ্যে কালো কালারের রকস্টার ড্রেস মুখে ভুতুড়ে মাক্স জ্বলজ্বল করছে। পিছন থেকে ছুরি হাতে নিয়ে এগুলো থেকে ছেলেটা আগন্তুকের দিকে। 




• এই কে তুই?  এখানে আসলি কি করে! আমার চেয়ারে বসে পড়লি। ভালোই ভালোই বলছি এখান থেকে চলে যা নয়তো তর অস্তিত্ব বিলীন করে দিবো। (ছেলেটা) 




আগন্তুক উচ্চ সরে হেসে উঠে। ওর মনের ভিতর মনে হয় না মৃত্যুর কোনো ভয় আছে। আবির বাঁচার ভরসা পায়। মৃত্যুর সামনে থেকে বাঁচার এটাই বড় সুযোগ। 




• কি রে তুই এমন করে হাসছিস কেনো,, মরার ভয় নেই। দাঁড়া তকে আর বেশি সুযোগ দেওয়া যাবে না। তকে মেরে আবির সালাকেও মেরে দিবো। (ছেলেটা)



কথাটা বলে ছেলেটা ধারালো ছুরি  আগন্তুকের পিছন দিয়ে আঘাত করবে। এর আগেই আগন্তুক পায়ের কাভার পয়েন্ট থেকে ছোট একটা পিস্তল বের করে,, পর পর দুইটা গুলি করে,, একটা বুলেট এসে ছেলেটার তল পেটে লাগে আরেকটা মিছ ফায়ার হয়ে পিছনের দিকে চলে যায়। ছুরি হাতে ছেলেটা নিচে পরে যায়, আগন্তুক বসা থেকে উঠে দাঁড়ায় ছেলেটার বুকের উপর ডান পা টা রেখে পিস্তলের সব গুলো বুলেট খরচ করে ছেলেটার উপর। এর পর কি হয় জানে না আবির। 





হাসপাতালের বেডের উপর সুয়ে সুয়ে এগুলো ভাবছিলো আবির তখনি রুমের দরজা ঠেলে একটা লোক প্রবেশ করে আবির লোকটাকে দেখে হালকা ভয় পেয়ে যায়। কারণ.......


[ সাড়া পেলে পরের পাঠ তাড়াতাড়ি দিব ]


wait for the next part. 


Monday, August 30, 2021

টিচার যখন সাইকো লাভার --পর্র:- ০১ -- RAJA Bhuiya. (মি.440)

 রোমান্টিক   সিরিজ ১




# টিচার যখন সাইকো লাভার। 

# লিখা:- RAJA Bhuiyan. (মি.440)

# পর্ব :- সূচনা "" 

...............


গ্রীষ্মের  দুপুর  সূর্য  মাথার  উপর থেকে  প্রচন্ড তাপ দিচ্ছে। এই গরমে কিছুই করা যায় না, নিজের কাছেই কেমন যেন একটা অস্বস্তি বোধ হয়। কলেজ  ক্যাম্পাসের  বড় কৃষ্ণচূড়া গাছের তলায় বসে আছে নুসরাত, মিম, জান্নাত, রিয়া সবার হাতে রয়েছে একটা করে আইসক্রিম। একেকজন একেকজনের বেস্টু, কেউ কাউকে ছাড়া কিছু বুঝে না। নুসরাত বলতে গেলে  এই কলেজের সবার ক্রাশ, দেখতে কোনো দিক দিয়ে কম না,, শ্যামলা শরীরের গঠন, গোলগাল মুখ,  হাসি দিলে গালের দুইপাশে টোল পড়ে। চোখ জোরা হালকা নীলাভ, কোনো ছেলে প্রথম দেখাতেই রাতের ঘুম হারাম হয়ে যাবে।  নুসরাতের  বাবা শহরের বড় একজন বিজনেস ম্যান,, বেশ নাম ডাক আছে শহরে তার বাবার। নুসরাত  খুব  দুষ্টু  প্রকৃতির মেয়ে,, বড় লোকের  আদরের সন্তান একটু পাজিঁ তো হবেই। 



সবাই গাছ তলায় বসে বসে আড্ডা দিচ্ছিলো। মাঝ থেকে মিম বলে উঠে.. 




• আজকে কলেজে ইকোনমিকস এর  নতুন স্যার আসছে। এই সম্বন্ধে কারো কোনো খেয়াল আছে। (মিম)



হঠাৎ মিমের এমন কথা শুনে সবাই মিমের দিকে সরু চোখে তাকায়। সবাই এমন ভাবে তাকিয়ে আছে মনে হচ্ছে মিম অন্য গ্রহ থেকে পালিয়ে এসেছে। 




• আরে জানি জানি, এই কলেজের সব গুলো স্যার বুড়া বুড়া সবার বিয়ে হয়ে গেছে। একটা ইয়াং স্যার আনলেই তো হয়। (নুসরাত) 




• কেনো  রে ইয়াং স্যার আসলে আবার অন্য ভাবে পড়া বুঝাবে নাকি পড়া তো একটাই নাকি। (মিম) 




• আরে দূর তুই কিছু বুঝিসই না!  আমি বলছি যদি একটা ইয়াং স্যার থাকতো তাহলে একটা  প্রেম করা যেতো। (নুসরাত) 




• কিহ্ তুই স্যারের সাথে প্রেম করতি। (মিম)



• এত অবাক হওয়ার কি আছে। স্যারের সাথে প্রেম করলে কি কোনো সমস্যা হবে নাকি,, আমাদের আরো বেশি ভালো হবে পরীক্ষায় ভালো নাম্বার পাবো। (নুসরাত) 




• নুসরাত তুই যে ভাবে বলছিস সেটা কিন্তু বাস্তবে সম্ভবই না। আর সবচেয়ে বড় কথা হলো এই কলেজে কখনো ইয়াং স্যার আসবে না। (জান্নাত)




• এটাই আমাদের দুরভাগ্য। এটা এমন একটা কলেজ কি আর বলবো নিজের কলেজের নামে। (মিম)




• থাক আর কিছু বলতে হবে না ! গেটের দিকে তাকিয়ে দেখ কে যেন গাড়ি নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করছে। (জান্নাত)



জান্নাতের কথা শুনে সবাই ক্যাম্পাসের গেটের দিকে তাকায়। ব্লেক কালারের একটা দামি গাড়ি ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে। সবাই বলাবলি করছে এত দামি গাড়ি নিয়ে কে কলেজে আসলো নিশ্চয়ই কোনো ক্ষমতাশালী ব্যক্তি হবে। সবাই প্রহর গুনছে কখন গাড়ি থেকে লোকটা নামবে। অবশেষে গাড়ি থেকে একটা সুদর্শন যুবক নামে লম্বায় ৬.৩ ফুট হবে। মাথায় এক বুঝা সিল্কি চুল, নিউ হেয়ার স্টাইলে। চোখে কালো স্টাইলিস চশমা, গোলাপি রঙের ঠোঁট জোরা। মুখে ক্লিন শেপ দেওয়া।  পরনে তার সাদা শার্ট   কালো পেন্টের সাথে ঈন করা। কলেজের সব মেয়েরা তো ছেলেটাকে দেখে অবাক হয়ে গেছে ছেলেটার গায়ের রঙটা একেবারে ফর্সা। সবাই বলাবলি করছে ছেলেটা কতো হ্যান্ডসাম, কিউট, হট। কিন্তু সেদিকে নুসরাতের কোনো খেয়ালই নেই এক মনে বসে বসে আইসক্রিম খাচ্ছে। 




• নুসরাত দেখছিস ছেলেটা কত্তো কিউট, এমন একটা ছেলে যদি আমার বয়ফ্রেন্ড থাকতো তাহলে সারাদিন শুধু ওকে দেখেই যেতাম। (মিম)




মিমের কথা নুসরাতের কাছে কেমন যেন বিরক্ত বিরক্ত লাগছে। একটা ছেলেকে নিয়ে এভাবে পরে থাকলে হবে। দুনিয়ায় মনে হয় না আর এমন ছেলে খুঁজে পাওয়া যাবে। 




• কি শুরু করেছিস তরা কতক্ষণ ধরে একটা ছেলেকে নিয়ে সবাই এমন করছিস কেনো। পৃথিবীতে কি এটাই একমাত্র ছেলে। আরো আছে। (নুসরাত) 




• আমার আর কোনো ছেলে চাই না এটা হলেই যথেষ্ট। এখন সামনে সুদর্শন ছেলে থাকতে পৃথিবী ঘুরতে হবে কেনো। (জান্নাত) 




• এবার থাম তরা,, ক্লাসের সময় হয়ে এসেছে তাড়াতাড়ি চল ক্লাসে যাই। (নুসরাত) 




নুসরাতের কথা শুনে সবাই বিরক্ত বোধ করে। কত সুন্দর করে বসে বসে মজার  আড্ডা দিচ্ছিলো  কিন্তু এই ক্লাসের যন্ত্রণায় তা আর হলো না। একদিন ক্লাস না করলে কি আর এমন হবে ভেবে পায় না কেউ। এখনো ক্লাসে স্যার আসে নি। নুসরাত সবসময়ই সামনের বেঞ্চে বসে। পড়াশোনা নিয়ে সে একটু সিরিয়াস,, মজার সময় মজা,, লেখাপড়ার সময় লেখাপড়া। 




• এখনো স্যার আসে নি আরো কিছুক্ষন বসে আড্ডা দিলে কতোই না ভালো হতো। এই নুসরাতের জন্য আসতে হয়েছে। (মিম)




• আরো কিছুক্ষণ বসে থাকতাম আর তরা সবাই সেই অচেনা ছেলেটার বিষয়ে কথা বলে আমাকে পাগল করে দিতি। (নুসরাত) 




• ছেলেটার সম্পর্কে আর কিছু বলতাম না। তুই আমাদের সাথে বসে আড্ডা দিলেই দেখতি। (জান্নাত)



• জানা আছে তদের সম্পর্কে। তদের এক এক টা কে আমি খুব ভালো করেই চিনা আছে আমার। (নুসরাত) 




• তবে নুসরাত তুই আর যাই বলিস না কেনো,, ছেলেটা কিন্তু সেই লেভেলের কিউট ছিলো। ফরেনার ফরেনার একটা ভাব আছে। (জান্নাত)




• ঐ ছেলেটার সম্পর্কে আমার কাছে যদি আরেকটা কথা বলিস তাহলে কিন্তু ভালো হবে না। (নুসরাত) 




• এই  নুসরাত আমি   তখন  থেকে একটা ব্যাপার  লক্ষ্য করছি   তুই ছেলেটার কথা শুনে এমন রেগে যাচ্ছিস। কিন্তু কেনো? (মিম)




• রাগবো না কেনো সেটা বল আমাকে!  একটা অচেনা অজানা ছেলেকে নিয়ে এমন এমন মন্তব্য করছিস যা শুনে আমার প্রচন্ড রাগ লাগতেছে। (নুসরাত) 




• আমরা একটা ছেলেকে নিয়ে এমন মন্তব্য করতেই পারি। সেটা আমাদের জানা শুনা বা অচেনা থাকলেও তর সমস্যা কোথায় সেটাই  ত বুঝতে পারছি না। (মিম)




• কি ব্যাপার নুসরাত মামুনি!  ছেলেটা কে দেখে তুইও মনে হয় ক্রাশ খেয়েছিস। নিজের পছন্দের জিনিস তো কখনো আমাদের কাউকে দিস না। তার মানে তুই ছেলেটার উপর ফিদা। (জান্নাত)




• কি বলতে চাচ্ছিস তুই! এই নুসরাত চৌধুরী কারো উপর ক্রাশ খাবে। আমি নুসরাত চৌধুরী কতো ছেলে আমার পিছনে পরে থাকে খবর নিয়ে দেখতে পারিস। আমার ক্রাশ হবে নাকি ঐ রকম একটা ছেলে। এটা তুই  ভাবলি কি করে। (নুসরাত) 





• হয়েছে হয়েছে থাম এবার তুই। প্রিন্সিপাল  স্যার আসছে মনে হয় সামনে দেখ। (জান্নাত)




জান্নাতের কথা শুনে সবাই সামনে দিকে তাকায় প্রিন্সিপাল স্যার ক্লাসে প্রবেশ করছে ওনার  পিছনে পিছনে কেউ আসছে কিন্তু সেই লোকটার মুখের ফেস টা স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে না। এইবার সবার সামনে এসে দাঁড়ায় প্রিন্সিপাল স্যার আর লোকটা,,, সবাই অবাক দৃষ্টিতে সেদিকে তাকিয়ে আছে বুঝার চেষ্টা করছে, কিছুক্ষণ আগে গাড়ি থেকে নামা হ্যান্ডসাম  ছেলেটা  এই ক্লাসে প্রিন্সিপাল স্যারের সাথে কিসের জন্য এসেছে কেউ বুঝতে পারছে না। প্রিন্সিপাল স্যার খুব মজার একটা মানুষ সবসময়ই হাসি খুশি থাকতে পছন্দ করেন। 




.........


 @@ It will continue @@




☞☞☞Copying can be done with my permission or copying is prohibited☜☜☜🙏🙏



wait for the next part. 



লেখকের আইডি লিংক :- https://www.facebook.com/rayan.rahmanraja


☞ RAJA Bhuiyan. (মি.440)



Monday, July 26, 2021

মাস্তানি অফ রাফিয়ান--পর্ব:- ২ -- RAJA Bhuiya. (মি.440)

 মাইন্ড সিটি 



# মাস্তানী অফ রাফিয়ান 

# RAJA Bhuiyan. (মি.440)

# পর্ব :- ২



.................


“ রাফাত পিছনের পকেট থেকে একটা মানিব্যাগ বের করে তার থেকে কচকচে একটা পাঁচশত টাকার নোট বের করে দোকানদারের সামনে এগিয়ে দেয়। দোকানি নোট টা ভালো করে দেখে বলতে থাকে ---



  

• বাবা এই বড় নোটের খুচরা আমার কাছে নেই। (দোকানি)



 • রাফাত মুচকি হেসে বলে -- লাগবে না বাকি টাকা পুরো টাকা টা আপনি রেখে দিন। (রাফাত)



• বাবা একটা কথা বলি - তোমাকে দেখে মনে হচ্ছে ঢাকা শহরে নতুন, জামা কাপড়ের অবস্থা তেমন ভালো না। বাকি টাকা টা বরং তুমি রেখে দাও। (দোকানি)



• হিহিহিহি... হয়তো শহরে নতুন কিন্তু এই অচেনা শহরে সবই আমার পরিচিত, জামা কাপড় কিনার পর্যাপ্ত টাকা আমার কাছে আছে। টাকাটা আপনি রেখে দিন। (দোকানি)



 “ দোকানির গলার স্বরে স্পস্ট বৈরাগ্য,, যেন বাকি টাকা টা না দিলেও তার কিছু আসে যায় না। রাফাত নতুন সিগারেটের পেকেট থেকে একটা সিগারেট ঠোঁটে চাপে দোকানের সামনে টানানো লাইটার টা দিয়ে আগুন জ্বালায় সিগারেটে। রাফাত সিগারেটে জোরে একটা টান দিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যায়। নিউ পল্টন লাইনের এই গলিটার বেশ কয়েকটি দোকান। কিন্তু মর্ডান সেলুন এবং পাশের ঘরটি ছাড়া সবই বন্ধ। রাফত মর্ডান সেলুনে ঢুকে পড়লো, রাস্তায় হাটাহাটি করার চেয়ে সেলুনে চুল কাটা নিয়ে ব্যস্ত থাকা ভাল। রাফাতের চুল গুলো অনেক টা বড় হয়ে গেছে। সেলুন টা এক সময় মাস্তান ছেলেপুলেদের আড্ডাখানা ছিলো। লম্বা চুলের চার পাঁচ টা ছেলে শার্টের বোকের  বোতাম খুলে বেঞ্চের উপর বসে থাকত। সেলুনে একটা ব্যান্ড ট্রানজিস্টার সারাক্ষণই বাজত। ট্রানজিস্টারের ব্যাটারির খরচ দিতে গিয়েই সেলুনের লাটে উঠার কথা কিন্তু তা ওঠেনি। রমরমা ব্যবসা করছে। আজ অবশ্যি জনশূন্য তবে ট্রানজিস্টার বাজছে। আগের মতো ফুল ভলুযমে নয়, মৃদু শব্দে, দেশাত্মবোধক গান। কথা ও সুর নজিবুল হয়। রাফাত বেশ অবাক হয় এমন উন্নত মানের একটা দোকানে পুড়োনো দিনের গান শোনে। রাফাত বেশ মন দিয়েই গান শুনতে লাগলো তবে চোখ রাখলেন রাস্তার উপর।। 




 • চুলটা একটু ছোট কর। (রাফাত)



“ নাপিত ছেলেটি বিস্মিত হলো। সে ইনার এক বন্ধুর চুল গত মঙ্গলবারে কেটেছিলো। কিন্তু ঐই দিন চুল বড় বড় থাকা সত্যেও কাটায় নি। তাহলে আজ হঠাৎ কাটাতে আসলো --”



  • ভাই চুল কাটাবেন? (নাপিত) 


ছেলেটার কথা শুনে রাফাত হালকা করে গাড়টা বাকা করে। ছেলেটার মুখটা হালকা কালো, চুলগুলো মর্ডান স্টাইলে কাটা, চুলের উপর দিয়ে হালকা হলদে রঙ করা। রাফাত কিছুদিন আগে ফাহাদ কে নিয়ে এখানে এসেছিলো তখন ছেলেটার চুল গুলো বড় বড় ছিলো। হয়তো কম সময়ের ভিতরে চুল গুলো কেটে ফেলেছে। 




  • পিছনের দিকে একটু ছোট করবি। (রাফাত)



 “ রাফাতের  কথা শুনে ছেলেটা কাঁচি যন্ত্রের মত খট খট করতে লাগল। কিছুদিন আগে যখন রাফাত এখানে এসেছিলো তখন ছেলেটার কথার যন্ত্রণায় অস্থির হতে হয়েছিলো। ছেলেটার কথা শুনতে রাফাতের খারাপ লাগে না। কিন্তু এই ছেলেটার কথা বলার সময় থুথুর ছিটা এসে লাগে। আজ সে নিঃশচুপি। থুথু গায়ে লাগার কোনো আশংকা নেই। দাম দেওয়ার সময় রাফাত জিজ্ঞেস করে -




  • রাতদিন ট্রানজিস্টার চালাস কিভাবে?  ব্যাটারির তো অনেক দাম। (রাফাত)


 নাপিত ছেলেটি কোনো জবাব দিল না গম্ভীর মুখে টাকা ফেরত দিয়ে বেঞ্চের উপর পা তুলে বসে রইল। রাফাত কোন উওর পেল না। ছেলেটা ঠান্ডা চোখে তাকিয়ে আছে। আজকাল কেউ বাড়তি কথা বলতে চায় না। চেনা মানুষের কাছেও না। 



রোদ উঠেছে কড়া এবং ঝাঁঝালো, কিন্তু এই কড়া রোদেও রাফাতের কেমন যেন শীত শীত করতে লাগলো। রাফাত সেই ছোট দোকানের সামনে দ্বিতীয়বার এসে দাঁড়ালেন। মনে করার চেষ্টা করলো ঘরে যথেষ্ট পরিমাণ সিগারেট আছে কি না। পাঁচটার পর কোথাও কিছু পাওয়া যাবে না৷ যেদিন শহরে প্রথম এসেছিলো রাফাত সেদিন রাতে সিগারেটের অভাবে খুব কষ্ট করেছে। রাফাত মানিব্যাগ খুললেন। চাচার দোকানে আগরবাতি জ্বালিয়েছে। সব দোকানদারের মধ্যে এই একটি নতুন অভ্যাস দেখা যাচ্ছে। আগরবাতি জ্বালানো। আগে কেউ সন্ধ্যাবেলা জ্বালাত। এখন প্রায় সারাদিনই জ্বলে, আগরবাতির গন্ধে মৃত্যুর কথা মনে করিয়ে দেয়। রাফাত দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে অস্বস্থি বোধ করতে লাগলো। 




  • চাচা আরো দুই পেকেট বেনসন সিগারেটের পেকেট দিন। (রাফাত)


দোকানদার চাচা সিগারেট বের করল। সিগারেটের দাম চড়ছে। ছেলে- ছোকরারা এখন সারাদিন ঘরে বসে থাকে এবং সিগারেট ফুকে। এছাড়া আর কি করবে? 



  • দু'টা ম্যাচও দিন। (রাফাত)


  • বাবা একটা কথা জিজ্ঞেস করি। (দোকানী) 


  • হে চাচা বলেন! (রাফাত)


  • তুমি কি কাউকে খুঁজতেছ। (দোকানী)


রাফাত চমকে উঠে। বলে কি এই ব্যাটা টের পেল কিভাবে? 



  • কারে খুঁজতেছ। (দোকানী) 



  • আরে না, কাকে খুঁজব? চুল কাটতে গিয়েছিলাম। চুল একটু বড় হলেই আমার অসহ্য লাগে,, এবার একটু বেশি বড় হয়েছিলো তাই ছোট করে এলাম। (রাফাত)



কথাটা বলে রাফাত আর সেখানে দাঁড়ায় না রওনা দেয় বাসার উদ্দেশ্য। গোরস্থান ঘেঁষে রাস্তা গিয়েছে। সেই জন্যেই কী গা ছমছম করছে রাফাতের?  না অন্য কোনো কারণ আছে। একটু কটু গন্ধ আসছে নিউ পল্টন লাইনের লোকজনদের ধারণা, বর্ষাকালে এই গন্ধ পাওয়া যায়। লাশ পচে গন্ধ ছড়ায়। এখন তো শীতকাল তাহলে এমন গন্ধ বুঝতে পারছে না রাফাত। 




“ অভিজ্ঞতাহীন মানুষ যর্থতা বিষয়ের মর্ম উপলব্ধি করতে পারে না। আর যে চিরসুখী সে তা কখনোই ব্যথিতের বেদনার স্বরূপ বুঝতে পারবে না। এ পৃথিবীতে দুঃখী মানুষের অভাব নেই।  কিন্তু সুখী ব্যক্তি সুখভোগে অভ্যস্ত থাকে বলে দুঃখের জ্বালা বুঝতে পারে না। নির্ধন যদি চায় ধনীর সহযোগিতা তবে ধনী কখনও দারিদ্র্যের ক্ষুধার কষ্ট বুঝতে পারে না। ”



 সন্ধ্যার পর থেকে রাফাতের কেমন যেন লাগতে লাগল। কেমন এক ধরনের অস্বস্তি। হঠাৎ ঘুম ভাঙলে যে রকম লাগে সে রকম। সমস্ত শরীর ঝিম ধরে আছে। অনেক দিন হলো কেনো শিকার করার সুযোগ হয় নি তার। মাথার ভেতরটা ফাঁকা ফাঁকা, রাফাত বারান্দায় এসে দাঁড়াল। এ বাড়ির বারান্দাটা সুন্দর। কল্যানপুরের দিকে শহর তেমন বাড়তে শুরু করে নি। গ্রাম গ্রাম একটা ভাব আছে, বারান্দায় দাঁড়ালে ঝিলের মতো খানিকটা জায়গা চোখে পড়ে। গত শীতের আগের শীতে ঝাঁকে ঝাঁকে বুনো হাঁস নেমেছিল। কী অদ্ভুত দৃশ্য! এ বৎসর নামবে কি না কে জানে। বোধহয় না। শহর এগিয়ে আসছে। পাখিরা শহর পছন্দ করে না। ঠান্ডা বাতাস দিচ্ছে। বেশ শীত পড়েছে এবার। রাফাত এই মনোরম পরিবেশে কি যেন একটা শূন্য অনুভব করছে। রাফাত পকেট থেকে একটা সিগারেটের পেকেট আর লাইটার টা বের করে একটা সিগারেট জ্বালায়। কত ধরনের মানুষ থাকে এই সংসারে। রাফাত ছোট একটা নিঃশ্বাস ফেলল। বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকতে ইচ্ছা করছে না। আবার ভেতরে যেতেও ইচ্ছা করছে না। কেমন যেন আজ রক্ত নিয়ে খেলা করতে ইচ্ছা করছে। 




“ রাফাত মেহেরাব সাহেব খবর পাঠিয়েছে ”



হঠাৎ পিছন থেকে কারো মোটা গলার শব্দ শোনে রাফাত পিছনে ফিরে তাকায়, সাদা কালারের একটা মোটা সুয়েটার আর মাথায় একটা ফেল্টের ক্যাপ পড়ে দাঁড়িয়ে আছে ফাহাদ। রাফাত আরেকটা সিগারেট ধরিয়ে উদাস চোখে দূরে থাকা বড় নিম গাছের দিকে তাকিয়ে রইল। এবার সে বেশ গম্ভীর গলায় বলে --



  • কোথায়, কখন দেখা করতে বলছে। (রাফাত)



  • উনার নিজের বাড়িতে আর তকে সময় বের করে বলছে আমার সাথে যেতে। (ফাহাদ)



  • রাফাত এক গাল হেসে বলে - দেখা করবো এক শর্তে ঐ বাড়িতে যে আমি যেয়ে ওনার মেয়ে আর স্ত্রী কে না দেখি, তুই এটা জানিয়ে দে। (রাফাত)




  • আমি সব ব্যাবস্থা করছি। রাফাত আমার কি মনে হয় জানিস। (ফাহাদ)



  • কী? (রাফাত)



  • মেহেরাব সাহেব তকে আবারো সেই জগতের রাজা বানাতে চায়। (ফাহাদ)



  • হিহিহিহিহি.. আমি তো সব সময় রাজা, আমাকে কে আবার নতুন করে রাজা বানাবে। (রাফাত)



  ফাহাদ সেখানে আর দাঁড়ায় না। সে জানে রাফাত এখন আর বেশি কথা বলবে না। সে চায় একা থাকতে। রাফাত বাইরে থেকে ভিতরে প্রবেশ করে,, বাইরে অনেক ঠান্ডা পড়েছে, কুয়াশায় শহর টা ছেয়ে গেছে। 




দরজায় কড়া নড়ছে। রাফাত লেপের ভেতর থেকে মাথা বের শব্দ শুনল, আবার লেপের ভেতর ঢুকে পড়ল। এর মধ্যেই মাথার পাশে রাখা ঘড়ি দেখে নিয়েছে, সাতটা চল্লিশ। রাফাত নিজেকে প্রতিনিয়ত একজন বুদ্ধিমান লোক মনে করে। কোনো বুদ্ধিমান লোক কঠিন শীতের মধ্যে ভোর সাতটা চল্লিশ মিনিটে লেপের ভেতর থেকে বেরুতে পারে না। যে কড়া নাড়ছে সে যদি বুদ্ধিমান হয় তাহলে, আরো কয়েকবার কড়া নেড়ে চলে যাবে। পাঠা শ্রেণির হলে যাবে না। বিপুল উৎসাহে কড়া নাড়তেই থাকবে। নাড়ুক ইচ্ছে হলে দরজা ভেঙে ফেলুক। হু কেয়ারস? এখন লেপের ভেতর থেকে বের হওয়া যাবে না। রাফাত গত রাতে একটু দেড়ি করেই ঘুমের দেশে পারি জমিয়েছিল। ঘুমটা ভালো হয় নি কারণ সে রাতে ঘুমাতে গেছে মোটামুটি ক্ষিধে নিয়ে। বেশি রাত জাগলে ক্ষিধে পায়। শরীরের জন্য বাড়তি কার্বোহাইড্রেটের প্রয়োজন হয়। সেই ব্যবস্থায় ঘরে থাকে দু তিন রকমের জেলী এবং পাউরুটি। কাল রাতে জেলী ছিল কিন্তু পাউরুটি ছিলো না। বিস্কুটের টিনে কিছু বিস্কুটের গুড়া পাওয়া গেল। এক চামচ মুখে দিয়ে মনে হলো সাবানের গুড়া খাচ্ছে। নাড়িভুড়ি উল্টে আসার উপক্রম। রাফাত সেই খালি পেটেই ঘুমাতে যায়, চোখ জোরা প্রায় ধরে এসেছে এমন সময় বাথরুম পেয়ে গেল। বাথরুম পাচ্ছে তবে সেই তাগিদ জোরালো নয়, উঠে যেতে ইচ্ছা করছে না। শীতের রাতে লেপের ভেতর একবার ঢুকে পড়লে বেরুতে 

ইচ্ছা করে না। 


এখনো খট খট শব্দ হচ্ছে, গাধা নাকি?  গাধা তো বটেই, অতি নিম্নমানের গাধা। গাধা সমাজের কলঙ্ক। রাফাত লেপের ভেতর থেকে মুখ বের করে উচু গলায় বলল,          ‘ইউ স্টুপিড অ্যাস ’ ইউ হ্যাভ নো বিজনেস হিয়ার। (রাফাত)



 রাফাতের এটা প্রিয় গালি। সে শিখেছে অনেক আগে সেই স্কুল জীবনে। ইংরেজি মেডামের কাছ থেকে প্রথম এই শব্দ টা শুনে রাফাত অনেক ভেবেছিল শব্দটার মানে কি ২ দিন পর যেয়ে সাহস নিয়ে মেডামকে জিজ্ঞেস করে ফেলল এই শব্দের  মানে কি। তিনি তৎক্ষনাৎ বাংলা তরজমাও করে বলেন ‘ ওহে বোকা গাধা, এখানে তোমার কোনো কর্ম নেই। ’ সেই ছোট বেলার বাক্য টা যেন রাফাতের মনে গেথে গেছে। তাই এই বাক্যটা সে রেগে গেলে বেশি ব্যবহার করে। 



এখনও কড়া নড়ছে,  রাফাত বিরক্ত হয়ে বিছানা থেকে নামতে নামতে দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলে ভাবলো - কে হতে পারে এটা। এমন পাগলের মতো করে দরজা ধাক্কাচ্ছে। রাফাত দরজা খুলল কিন্তু অবাক করার বিষয় হলো বাইরে কেউ নেই। সামনের ঘরটা ফাহাদের কিন্তু দেখে মনে হচ্ছে ভিতর থেকে আটকানো তাহলে কে হতে পারে। রাফাত এত কিছু চিন্তা না করে আবারো বিছানার দিকে আসবে তখনই তার চোখ পড়ল ফ্লোরের দিকে। গিফটের কাগজে মোড়ানো নতুন চিকচিক করা একটা গিফট পেকেট। রাফাত পেকেট টা হাতে নিয়ে নাড়াচাড়া করে, ভিতরে মনে হচ্ছে হালকা কোনো জিনিস, কি হতে পারে। বুক ভরা সাহস নিয়ে পেকেট টা খুলতে থাকে। অবাক করার বিষয় হলো পেকেটে একটা 9mm এর ছোট একটা পিস্তলের বুলেট আর পাশে লাল কালারের একটা কাগজ। রাফাত কাগজের ভাজ টা খোলে, ভিতরে কিছু লেখা, সে তা পড়তে শুরু করে - “ এই শীতের সকালে ঘুম থেকে তুলার জন্য আমি দুঃখীত কিন্তু কি করবো বলো,,, না উঠিয়ে উপায় নেই আমার শহরে এসেছো, আমি তোমাকে শুভেচ্ছা জানাবো না এটা কি হয়। ওয়েলকাম রাফাত ওয়েলকাম আমার অন্ধকার শহরে। যারা কাপুরুষ তারাই ভাগ্যের দিকে চেয়ে থাকে, পুরুষ চায় নিজের শক্তির দিকে। তোমার বাহু, তোমার মাথা তোমাকে টেনে তুলবে, তোমার কপাল নয়। ”

 আর কিছু লেখা নেই, লেখাটা পড়ে রাফাত একটু রহস্যময়ী হয়ে যায়। চিন্তা করতে থাকে কে এই চিঠিটা পাঠিয়েছে। তেমন কেউ তো এই শহরে রাফাত কে চিনে না, তবে কি!  সবই ধুয়াশা?? 




......




নিশিতা দেখ ক্ষেত ছেলেটা  আজকে আবারো কলেজে এসেছে। এটাকে দেখলেই আমার কেমন কেমন যেন ঘৃণ ঘৃণ লাগে। নাদিয়ার কথা শুনে সবাই কলেজের গেটের দিকে তাকায়, পুড়নো একটা লম্বা হাতার গেঞ্জি চকলেট কালারের ময়লা পেন্ট। চোখে মোটা ফ্রেমের সাদা চশমা, মাথা ভরা কোকড়া কোকড়া লম্বা চুল, কিন্তু কাছ থেকে চুল গুলো অতটা লম্বা বুঝা যাবে না।  কাঁধে একটা ছেঁড়া ব্যাগ ঝুলিয়ে সমান পায়ে রাফাত ছেলেটা এগিয়ে আসছে। রাফাতের দিকে ভালো করে তাকিয়ে নিশিতা বাকা হেসে বলতে থাকে --




  • নাদিয়া ক্ষেত টা কে ডাক দে। আজকে আমাদের সাথে নুসরাত আছে বেশ মজা হবে আজ। (নিশিতা)




  • হাহহাহাহাহা,,,কালকে কোনো মজাই করতে পারছি না আজকে ছেলেটাকে এমন অবস্থা করবো যা সে চিন্তাও করতে পারবে না। (নাদিয়া)




...........চলবে...............





[আগের পর্বে তেমন সাড়া পাই নি যার কারণে পোস্ট করতে দেড়ি হচ্ছে যদি গল্প টা ভালো না  লাগে তাহলে আমাকে কমেন্টের মাধ্যমে জানাবেন। 

আমি এটা না দেওয়ার চেষ্টা করবো। ] ধন্যবাদ 





wait for the next part. 

মাস্তানি অফ রাফিয়ান --পর্ব:- ১>>> RAJA Bhuiya. (মি.440)

মাইন্ড সিটি 



# মাস্তানী অফ রাফিয়ান 

# RAJA Bhuiyan. (মি.440)

# পর্ব :- ১

..........



“ রাফাত তুই এত সিগারেট খাস কেনো,, পরে কিন্তু বড় কোনো ধরনের সমস্যায় পরবি ”



কার্তিকের শেষ ইতিমধ্যেই ঢাকা শহরে বেশ ঠান্ডা পড়েছে। পায়ের দিকের খোলা জালানাটা দিয়ে ঝিরিঝিরি করে রাতের হাওয়া এসে ঢুকছে। রাতের অন্ধকারে নিঃশব্দ হিম ঝরছে, তারই আভাস মধ্যরাতের ঠান্ডা হাওয়ায় অন্ধকার আকাশের কোলে শূন্যে স্থির হয়ে আছে, ইতস্তত কয়েকটি আকাশ প্রদীপের আলো। রাফাত সেই খোলা জানালার সামনে দাঁড়িয়ে মনের সুখে একটার পর একটা সিগারেট টানছিলো তখনই একটা মোটা গলার স্বর শোনে পিছনে তাকায় রাফাত। সোফায় পায়ের উপর পা তুলে আরাম করে বসে আছে ফাহাদ। তার মাথায় একটা ফেল্টের ক্যাপ, যেটা ফাহাদ মাঝেমধ্যে পড়ে থাকে, পরিধানে মভ কালারের দামী জিন্স জ্যাকেট, মুখটা নিখুঁতভাবে কামানো। রাফাত মুচকি হেসে সোফায় এসে আরাম করে বসে হাতে থাকা সিগারেট টা প্রায় শেষের দিকে আরেকটা টান দিয়ে নিচে ফেলে দেয় সিগারেটের বাকি অংশ টা। এবার রাফাত গম্ভীর মুখো হয়ে রহস্যময় করে বলে--



  • অভ্যাস ভয়ানক জিনিস। একে হঠাৎ স্বভাব থেকে তুলে ফেলা কঠিন। মানুষ হবার সাধনাতেও তকে সহিষ্ণু হতে হবে। (রাফাত)



• মানে??  (ফাহাদ)



• হিহিহিহি,, আমার কথাটা বুঝতে পারিস নি তাই তো,, আমি উদাহরণ দিয়ে বুঝাচ্ছি - তুই জানিস আমি অনেক আগে থেকেই সিগারেট খাই এখন হুট করে আমি এটা ছেড়ে দিতে পারবো না। সিগারেট খাওয়াটা আমার পেশা না এটা আমার নেশা। আমি এটায় এমন ভাবে আটকে গেছি চাইলেও আর বের হতে পারবো না। (রাফাত)




 • রাফাত তুই হয়তো ভুলে গেছিস মানুষ পারে না এমন কোনো কাজ নেই। তুই চাইলেই তর এই বদ অভ্যাস টা ত্যাগ করতে পারিস। (ফাহাদ)



  • আরে বাদ দে এগুলো!!  আমি এখন আমার চিন্তা নি বেশি ভেবে ফেলছি, তাই সিগারেট টা একটু বেশিই টানছি যাতে টেনশন টা দূর হয়ে যায়। (রাফাত)



  • অতীত কে ভুলে যা। অতীতের দুশ্চিন্তার ভার অতীতকেই নিতে হবে। অতীতের কথা চিন্তা করে অনেক বোকারাই মরেছে। আগামীকালের বোঝা অতীতের বোঝার সাথে মিলে আজকের বোঝা সবচেয়ে বড় হয়ে দাঁড়ায়। তাই অতীতের ব্যর্থতার জন্য আক্ষেপ করে কিংবা ভবিষ্যতের সাফল্যের আশায় বর্তমান কে অবহেলা করা উচিত নয়। (ফাহাদ)




  • অতীত কে চাইলেও আমি ভুলতে পারবো না। আমার সেই কালো অতীতে রয়ে গেছে আমার পরিচয় কে আমি?  আমাকে সেটা জানার জন্য এই রঙহীন শহরে আসা। (রাফাত)




  • আমার জানা নেই তুই কি আসলেই তর আসল পরিচয় এখান থেকে পাবি না কি আবারো শূন্য হাতে ফিরে যাবি দূষিত সেই শহরে। (ফাহাদ)




  • আমি রাফাত কোনো সময় ভুল ডিসিশন নেই না। সঠিক সময়ে সঠিক কথা বলা, সঠিক সময়ে সঠিক জায়গায় থাকা আমার স্টাইল। নিজের ঠান্ডা মাইন্ড দিয়ে এই শহরের সব অশান্ত মাইন্ড গেমারদের উনমাদ করে দিবো আমি,, চাইলেও কেউ থামাতে পারবে না আমাকে, এটাই রাফাতের কথা, পিস্তলের বুলেট মিস হতে পারে কিন্তু আমার ডিসিশন ভুল হতে পারে না। (রাফাত)




  • রাফাত কালকে তো ঢাকা কলেজে তর প্রথম দিন তা তুই কি নিজের আসল পরিচয় নিয়ে কলেজে প্রবেশ করবি, না কি ছদ্মবেশ নিয়ে। (ফাহাদ)




  • হিহিহিহি,,, আসল পরিচয় দিয়ে কলেজে প্রবেশ করলে আমার সাথে কেউ মিশবে না, তার থেকে ভালো হবে ছদ্মবেশেই যাই। (রাফাত)




  • আমারো তাই মনে হয়। তবে কালকে তর সাথে কি হবে তা আমি নিজ চোখে দেখতেছি, কালকে তর ভাগ্য টাই খারাপ যাবে। (ফাহাদ)




  • এ জগতে অমঙ্গল ছাড়া মঙ্গলের কোনো অস্তিত্ব কল্পনাতীত। অন্ধকারে সাথে আলোর, সাদার সাথে কালোর, দুঃখের সুখের যে সম্পর্ক, অমঙ্গলের সাথে মঙ্গলেরও সেরূপ সম্পর্ক। অমঙ্গলের পাশেই মঙ্গল কে চেনা যায়। (রাফাত) 




* কথাটা বলে বসা থেকে উঠে দাঁড়ায় রাফাত। দুই তলা বাড়ির নিচ তলায় বসে বসে এতক্ষণ কথা বলছিলো তারা দুজন। রাফাত উপরের উঠার জন্য সিরির কাছে যেতে থাকে,, সময়  অনেক হয়েছে গভীর অন্ধকার মনোমুগ্ধকর রাত পাশে চাঁদের আলোয় সারা বাড়িটা ছেয়ে গেছে। ফাহাদ বসা থেকে উঠে নিজের ঘরের দিকে পা বাড়ায় *






চোখে মোটা ফ্রেমের স্টুডেন্ট চশমা, ফুল হাতার হালকা ময়লা সাদা কালারের শার্ট, কালো পেন্ট, মাথার চুল গুলো অনেক বড় বড়, মাথাটা নিচু করে ঢাকা কলেজের ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে রাফাত। পরিবেশ টা নিত্যান্ত মনোরম আশেপাশে অনেক স্টুডেন্ট কেউ বসে কেউ দাঁড়িয়ে আড্ডা দিচ্ছে। রাফাত ডান হাত দিয়ে চোখের চশমাটা ঠিক করে মাথাটা হালকা উচু করে,, কম বেশি সবাই রাফাতের দিকে ব্রু কুঁচকে তাকিয়ে আছে এটা দেখে রাফাত মুচকি হাসি দেয়। সবাই  হয়তো ভাবছে এমন একটা বড় কলেজে কিভাবে ক্ষেত ছেলেটা চান্স পেয়েছে। রাফাত মাথাটা নিচু করে ক্লাসের দিকে রওনা দেয়,, হঠাৎ পিছন থেকে মেয়েলি কন্ঠে কারো ডাকে রাফাত পিছনে ফিরে তাকায় দেখে কতগুলো মেয়ে মাঠের চওরে বসে বসে আড্ডা দিচ্ছে তার মধ্যে থেকে আকাশি কালারের ড্রেস পরা মেয়েটা রাফাত কে ডাক দেয়। রাফাত মেয়ে গুলোর সামনে যেয়ে বলে --





• আসসালামু আলাইকুম আপুরা, আমাকে কি জন্য ডেকেছেন। (রাফাত)




• রাফাতকে ডাক দেওয়া মেয়েটা নাম নিশিতা বলে -- এই ছেলে নাম কি তর। (নিশিতা)




• রাফাত আহম্মেদ । (রাফাত)




• নাম টা ত ভালো কিন্তু নামের সাথে পোশাকের চেহারার অবস্থা তো ভালো না,, বাড়ি কোথায় তর। (নিশিতা)




• কুমিল্লার ছোট একটা গ্রামে। (রাফাত)




• তার মানে তুই গ্রাম থেকে এসেছিস, তাই তো বলি এরকম একটা ক্ষেত ছেলে ঢাকা শহরের হবে কি করে। কথাটা বলে সব গুলো মেয়ে জোরে জোরে হাসতে থাকে। রাফাত কেবল বোকার মতো করে চেয়ে আছে, সে বুঝতে পারছে না যে কেনো তারা অহেতুক এবাবে হাসতেছে। নিশিতা হাসি থামিয়ে বলে -- কোন ইয়ারে ভর্তি হয়েছিস তুই। (নিশিতা)



• ২য় বর্ষে। (রাফাত)




• তুই তাহলে আমাদের সাথেই পরিস কিন্তু তর সাথে আমরা ক্লাস করবো কিভাবে। এখনই শরীর থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছে পরে যাদি ক্লাসের আবার কি অবস্থা হয়। আচ্ছা তুই এখন আমাদের একটা কাজ করে দে,, দোকান থেকে কিছু শুকনা খাবার এনে দে তাড়াতাড়ি যা। (নিশিতা)




• আপু আমার ক্লাসে যেতে হবে, আমি আপনাদের কাজ টা করতে পারবো না। (রাফাত)



• রাফাতের কথাটা শুনে নিশিতা রেগে বলে -- তুই চিনিস আমাকে, কি আমার পরিচয়, কে আমার বাবা। (নিশিতা)



• আপু ঢাকা শহরে আমি নতুন কাউকে চিনি না। আপনার পরিচয় টা যদি আপনি নিজ থেকে দিতেন তাহলে ভালো হতো। (রাফাত)



• এখন আমি যা বলবো এটা মাথায় গেথে রাখ -- আমি নিশিতা, আমার বাবা এই শহরের কমিশনার। কলেজের সবাই আমাকে ভয় পায়, আমার অর্ডার  অমান্য করার কারো সাহস নেই। আজ থেকে কথাটা যেন মনে থাকে,, এখন তুই যেয়ে খাবার গুলো নিয়ে আয়। রাফাত নিজ জায়গা থেকে সরে না, সেখানে মাথাটা নিচু করে স্থীর হয়ে দাঁড়িয়ে আছে এটা দেখে নিশিতা রেগে রাফাতের বাম গালে কষে একটা চড় মেরে বলতে থাকে -- তকে কয় বার বলতে হবে এক কথা, তবুও তুই এখানে মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে আছিস, সমস্যা কি তর যা এখান থেকে। (নিশিতা) 




• রাফাত বাম গালে হাত দিয়ে মাথাটা নিচু করেই বলে -- আপু আমার কাছে টাকা নেই। (রাফাত)




• হাহাহাহাহা... জানতাম এটাই বলবি তুই যা এখান থেকে, তর মতো ফকিরের টাকা দিয়ে আমি কিছু খাবো এটা তুই ভাবলি কি করে। (নিশিতা)




“ রাফাত কিছু বলে না সবার চোখের আড়ালে স্বপ্নের রূপকথার হাসি দেয় যার মানে এই কলেজে কেউ তাকে চিনতে পারছে না। রাফাত ২য় বর্ষের ক্লাস রুম খুঁজতে খুঁজতে ক্লাসে প্রবেশ করে। ক্লাসের পরিবেশ টা কতিপয় নিরব কারণ এখন আশরাফ স্যারের ক্লাস। ইকোনমিকস ক্লাস নেয় এই স্যার খুবই গম্ভীর। ইকোনমিকসের স্যারেরা এমনিতেই গম্ভীর হয়ে থাকেন। কঠিন হয়ে থাকতে ভালোবাসে আশরাফ স্যার। হাসি তামাশা, ঠাট্টা, ফাজলামি তার একেবারে সহ্য হয় না। তার কথা হলো - হাসি তামাশাই যদি শিক্ষার্থীরা করবে, তাহলে পড়াশোনা করবে। কখন? পৃথিবী টা কোনো নাট্যশালা না যে হাসি- তামাশা করে লোক হাসাতে হবে। আশরাফ স্যারের দুর্ভাগ্য তার আশেপাশে মানুষজনের স্বভাব তার স্বভাবের একেবারে উল্টো। স্টুডেন্টরা অনেক কষ্টে স্যারের সামনে হাসি আটকিয়ে রাখে। কিছুক্ষণ পর আশরাফ স্যার ক্লাসে প্রবেশ করে সবাই তাকে দাঁড়িয়ে সম্মান জানায়। আজ সোমবার আশরাফ স্যার অর্থনীতির কিছু গুরুত্বপূর্ণ ট্রপিক নিয়ে আলোচনা করবে তাই সকল স্টুডেন্ট সাবধান হয়ে আছে। এবার আশরাফ স্যার শীতল গলায় বলতে থাকে ----




  • আজকে কি নিয়ে আলোচনা করবো মনে আছে সবার। (আশরাফ) 



  • সবাই একসাথে জবাব দেয় - জ্বি স্যার। 



  “ আশরাফ স্যার কিছু বলতে যাবে তখনই তার চোখের দৃষ্টি যায় সবার লাস্ট বেঞ্চে। চোখে মোটা ফ্রেমের স্টুডেন্ট চশমা, হালকা ময়লা শার্ট পড়ে আছে যার জন্য শরীরের রঙটা ভালো করে বুঝা যাচ্ছে না, গুটি শুটি মেরে নিচের দিকে তাকিয়ে বসে আছে। ছেলেটাকে দেখে মনে হচ্ছে কোনো অসহায় পথিক এখানে এসে বিশ্রাম করার জন্য আশ্রয় নিয়েছে। ক্লাসের সময় কেউ অমনোযোগী হয়ে থাকবে এটা আশরাফ স্যার সহ্য করতে পারে না, তাই তিনি গম্ভীর মুখো হয়ে একটু শব্দ করে বলে --




  • এই কে তুমি?  আমার ক্লাসে নতুন মনে হচ্ছে। (আশরাফ) 



 হঠাৎ এরকম হুংকারে কম বেশি সবাই ভয় পেয়ে যায়। রাফাত নিজেকে স্বাভাবিক করে সামনের দিকে চেয়ে দেখে আশরাফ স্যার রাগি দৃষ্টিতে চেয়ে আছে। এটা দেখে রাফাত হালকা ভয়কাতর চোখে স্যারের দিকে তাকায়, আশরাফ স্যার আবারও বলে --



  • এই ছেলে তুমাকেই বলছি, এমন চুপ হয়ে বসে আছ কেনো, আমার প্রশ্নের জবাব দেও। (আশরাফ) 



  • রাফাত করুন দৃষ্টিতে চেয়ে নরম গলায় বলে - স্যা...স্যার আমি নতুন ভর্তি হয়েছি। আজই প্রথম ক্লাস তাও আবার আপনার বিষয়। (রাফাত)



  

  • বুঝতে পারছি, কিন্তু তোমার জামার অবস্থা এমন কেনো। মনে হচ্ছে জামা কাপড় কাঁচার সময় পাও না। তোমার সাথের ক্লাসমেট গুলোর জামা দেখছো কত পরিষ্কার, তারা কতো পরিপাটি হয়ে এসেছে ক্লাসে, কাল থেকে ভালো জামা পড়ে আসবে। (আশরাফ) 



  • স্যারের কথা শুনে রাফাত মুচকি হেসে বলে -- স্যার বর্তমান বিশ্বে জাতিতে জাতিতে বিভেদ ও বিচ্ছেদ একটি নিত্যনৈমিওিক ঘটনা। এর মধ্যে আবার উচু নিচুর বিভেদ। এবং এর মূলে আছে একটি শ্রেণির ক্ষমতা ও অধিকার লাভের হীন প্রচেষ্টা। আমি গরীব আমার যা আয় তা দিয়ে আমি চলি এখন ভালো ড্রেস টা আমার প্রয়োজন না। আমার সকল ড্রেস এরকমই ময়লা হালকা ছেড়া, কাপড় কাঁচলেও এমন থাকে। (রাফাত)




  • রাফাতের কথার মানে কিছুটা স্যার বুঝতে পারছে। তাই তিনি আবারো বলে -- মানুষ চাইলেই সব পারে তুমিও চেষ্টা করে দেখতে পারো। (আশরাফ) 



  • স্যার দারিদ্র্যের নির্মমতায় যে মানুষ বিড়ম্বিত, বিওবান আত্নীয়ের সম্পর্কে তার ক্ষোভের শেষ নেই। বিওবান চিরকাল বিওহীনকে তাচ্ছিল্য করে অস্বীকার করে। অর্থশালীর সাথে তার যে একটা রক্তের সম্পর্ক রয়েছে, সেই ঘনিষ্ঠ আত্নীয়তার কথাটি সে সবসময় অর্থশালীকে স্মরণ করিয়ে দিতে চায় এবং তার দ্বারস্থ হয়ে কিছু না পেলে তাকে স্বার্থপর বলে ধিক্কার দিতে থাকে। (রাফাত)




রাফাত কথা গুলো বলে থামে কতক্ষণ আগে  আশেপাশে অনেকেই হাসাহাসি করছিলো কিন্তু এখন পরিবেশ যেন থমকে গেছে পিনপিন নিরবতা বিরাজ করছে শুনা যাচ্ছে কিছু মানুষের নিশ্বাস ফেলার নিরব শব্দ। রাফাতের কথা গুলো  যেন সবার বুকে যেয়ে আঘাত করেছে। আশরাফ স্যার অনেক কঠিন মনের মানুষ কিন্তু আজ রাফাতের কথা শোনে উনার মন হালকা গলেছে কিন্তু তিনি এটা কাউকে প্রকাশ করে না। এবার সবার নিরবতা ভেঙে আশরাফ স্যার বলতে শুরু করে ---




  • তোমার নাম কি? কোথা থেকে এসেছো? তোমার কথা গুলো অনেক সুন্দর, আমার ভালো লেগেছে!! (আশরাফ) 




  • হিহিহিহি...স্যার আমার নাম টা অনেক ছোট রাফাত কিন্তু অনেকের কাছে আমার নামটাই অমঙ্গলের প্রতীক। আর আমার বাসা কুমিল্লার ছোট একটা গ্রামে। (রাফাত)




 “ আশরাফ স্যার বেশি কথা বলতে বা শোনতে পছন্দ করে না। তাই তিনি সেই প্রসঙ্গে আর কথা না বাড়িয়ে ক্লাসের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা শুরু করে। রাফাতের ড্রেস আর কথা বলা চলাফেরার স্টাইল দেখে অনেকে হাসাহাসি করছে অনেকে আবার কটু কথা বলছে সে কাউকে তেমন কোনো শক্ত জবাব দিতে পারছে না, কোনো এক বিশেষ কারণে। নিন্দা না থাকলে পৃথিবীতে জীবনের গৌরব কি থাকত? নীরব ভাষায় বৃক্ষ আমাদের সার্থকতা গান গেয়ে শোনায়। অনুভূতির কান দিয়ে সে গান শোনতে হবে। তাহলে বুঝতে পারা যাবে, জীবনের মানে বৃদ্ধি, ধর্মের মানেও তাই। প্রকৃতির যে ধর্ম মানুষেরও সে ধর্ম। পার্থক্য কেবল তরুলতা ও জীবজন্তুর বৃদ্ধির ওপর তাদের নিজেদের কোনো হাত নেই, মানুষের বৃদ্ধির উপরে তার হাত রয়েছে। আর এখানেই মানুষের মর্যাদা। মানুষের বৃদ্ধি কেবল দৈহিক নয়, আত্নিকও। মানুষ কে আত্না সৃষ্টি করে নিতে হয়, তা তৈরি পাওয়া যায় না। সুখ দুঃখ বেদনা উপলব্ধির ফলে অন্তরের যে পরিপক্বতা, তাইতো আত্না।  দুপুরের কড়া রোদ্রে কুয়াশা কেটে গেছে, এখন হালকা গরম লাগছে, শহরটা ঘনবসতি থাকার কারণে শীতটা এত পরিমাণে ফেস করা যায় না। রাফাত কলেজ থেকে বের হয় গেটের সামনে দাঁড়িয়ে আছে, রাস্তা ফাঁকা। রাফাত ব্যাগ থেকে সিগারেটের পেকেট বের করলো মাএ দুইটা সিগারেট আছে, সে পরপর দুইটা সিগারেট শেষ করলো। এর মধ্যে মাএ একটা রিকশা গেল। কিছুদিন আগেও দুপুর বেলায় রিকশার যন্ত্রণায় হাঁটা যেত না। রাফাত রাস্তার মোড় পর্যন্ত গেলো। সামনেই একটা ছোট দোকান দেখা যাচ্ছে যেটাতে চা, পান আরো কিছু জিনিস রয়েছে, রাফাত দোকানের সামনে দাঁড়ায়, এবার সে দোকানদার টা কে বলতে শুরু করে ---




  • চাচা বিত্রুি বাটা কেমন হয়? (রাফাত)




  • আর বিত্রুি। কিনব কে? কিনার মানুষ আছে? (দোকানী) 




  • দেখি একটা বেনসন সিগারেটের পেকেট দেন! (রাফাত)




 “ রাফাতের এখনো দুপুরের খাওয়া হয় নি, এক্ষুণি গিয়ে খেতে হবে। একটা দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে থাকার কোনো মানেই হয় না। ব্যাপার টা সন্দেহ জনক, এখন সময় খারাপ। আচার আচরণে কোন রকম সন্দেহের ছাপ থাকা ঠিক না। রাফাত দোকানদারের দিকে ভালো করে খেয়াল করলো তার মাথায় ঝুটি বিহীন একটা লাল ফেজ টুপি। কোথা থেকে জোগাড় করেছে কে জানে। চিবুকের কাছে অল্প দাঁড়ি, তাও আবার হালকা পেকে গেছে। 




  • দাম কত হয়েছে টাকা। (রাফাত)



  • দেও তুমি বাবা, তোমরা তো প্রতিনিয়ত সিগারেট খাও তবুও আমি কেন বলবো। (দোকানী) 




এবার রাফাত পিছনের পকেট থেকে একটা মানিব্যাগ বের করে তার থেকে কচকচে একটা পাঁচশত টাকার নোট বের করে দোকানদারের সামনে এগিয়ে দেয়। দোকানি নোট টা ভালো করে দেখে বলে ---





## চলবে ##




[ আমার গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা শেষ না করে গল্প টা লিখছি আশা করি সবাই একটা করে ভালো মন্তব্য করবেন। আরেক টা কথা এই গল্পের পরের পাঠ গুলো এই গ্রুপে না দেওয়ার সম্ভবনা বেশি,, পরবর্তী পাঠ গুলো আমার অফিসিয়াল ফেসবুক গ্রুপে দিবো ] ধন্যবাদ 





 wait for the next part. 


Monday, July 19, 2021

টোকাই যখন মাফিয়া ... পর্র--৫.. RAJA Bhuiya. (মি. 440)

মাফিয়া সিরিজ 



# টোকাই যখন মাফিয়া কিং 

# RAJA Bhuiyan (মি.440)

# পর্ব: ৫  (শেষ পর্ব) 


.............



রকির এমন কথা শুনে নাহিদ ভয় পেয়ে যেয়ে রকির পা জড়িয়ে ধরে বলে --- ভাই আমি আপনাকে চিনতে পারি নি, আমার ভুল হয়ে গিয়েছে প্লিজ ভাই আমাকে মাফ করে দেন। (নাহিদ)




• রকি তার জলন্ত সিগারেট টা নাহিদের ডান হাতে চেপে ধরে। নাহিদ ভয়ে ও ব্যাথায় জোরে চিৎকার দিয়ে উঠে । এটা দেখে রকি ঠোঁটের কোনে হাসির ঝলক রেখে বলতে থাকে -- কি রে কেমন লাগে জলন্ত আগুনের ছেঁকা। আমাকে মারা এতো সহজ না, আমি তকে আজ মারবো না কারণ মশা মেরে হাত কালো করার কোনো প্রশ্নই আসে না। দুইটা স্টীক আর পাঁচ ছয়টা ছেলে নিয়ে বখাটেদের মতো মাস্তানী করা যায় কিন্তু মাফিয়া কিং হওয়া যায় না। মাফিয়া কিং হতে হলে বখাটে নয় মাইন্ড গেম খেলতে হবে। মাফিয়া জগৎ টাই এমন হয় মরো নয়তো শত্রুকে মারো,, এখানে যে যত বেশি ভালো করে মাইন্ড গেম খেলতে পারবে সে ততক্ষণ বেঁচে থাকতে পারবে। নাহিদ তুই আমাকে চিনবি কিভাবে আমি তো কখনো নিজের আসল পরিচয় নিয়ে মানুষের সামনে আসি না। তকে আজ মাফ করে দিবো তবে তুই গরীবদের  দেখতে পারিস না এই জন্য ছোট একটা শাস্তির ব্যবস্থা আছে। (রকি)





• ভাই আমি আপনার সম্পর্কে প্রকাশিত নোবেল থেকে জেনেছি আপনি অনেক ভয়ানক, আপনার চোখের ইশারায় মানুষের গলা পড়ে যায়, প্লিজ ভাই আমাকে প্রাণে মারবেন না আমি আপনার সব শাস্তি মানতে রাজি আছি। (নাহিদ)





• রকি হাতটা সামনের দিকে বাড়ায় একটা ছেলে রকির হাতে স্টীক টা দেয়। রকি স্টীক টা হাতে  নিয়ে, নিচে পরে থাকা নাহিদের ডান পায়ে একটা জোরে বারি মারে। নাহিদ জোরে চিৎকার করে কিন্তু নাহিদ কে বাঁচাতে কেউ সামনে আসে না। রকি হাসতে হাসতে বলে -- কি রে স্টীকের বারি কেমন লাগে। (রকি)





• ভাই আমাকে আর মারবেন না। আমার অনেক বড় ভুল হয়ে গেছে, আমার দ্বারা এমন ভুল আর কখনো হবে না। আমাকে ছেড়ে দেন প্লিজ আমি কারো সাথে আর এমন করবো না। (নাহিদ)





• রকি নাহিদ কে আর কিছু না বলে আবিরের কাছে যেয়ে বলে -- আবির তুই এমন ভয় পেয়ে আছিস কেনো। (রকি)





• আবির ভয়কাতর চেহারা নিয়ে করুন কন্ঠে বলে -- ভাই আমিও আপনাকে চিনতে পারি নি,, আপনার সাথে না বুঝে কত কিছু বলে ফেলেছি আমাকে মাফ করবেন প্লিজ। (আবির)





• আবির তুই আমার বন্ধু, ভার্সিটিতে এসে প্রথম তর সাথেই বন্ধুত্ব করেছি। তর মধ্যে ভালো গুন রয়েছে যা ভার্সিটির কারো মধ্যে নেই। আমার আসল পরিচয় টা আরো আগেই তকে বলতাম কিন্তু কোনো এক অজানা কারণে সেটা আর বলা হয় নি। আজ আমাকে যেতে হবে তর সাথে আবার দেখা হবে। (রকি)





 রকি কথাটা বলে ব্ল্যাক কালারের গাড়ি তে যেয়ে বসে। ক্যাম্পাসের কম বেশি সবারই রকির প্রতি ভয় সৃষ্টি হয়েছে। রকি গাড়ি টা স্টার্ট দেয় মোবাইলে একটা কল আসে মোবাইলের স্ক্রিনে স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে 'সাদ্দাম' রকি মুচকি হেসে মোবাইল টা কানে লাগায়। ফোনের ঐই পাশ থেকে সাদ্দাম গম্ভীর গলায় বলতে থাকে..... 





• রকি আজকে তুমি আমার সাথে দেখে করবে সেটাও আবার রাতে। (সাদ্দাম)




• রকি একটু ভাবে যে সাদ্দাম ভাই তো কখনো ফোন দিয়ে দেখা করার জন্য ডাকে না, তাহলে আজ কি হলো,, রকি সাদ্দাম কে জিজ্ঞেস করে -- সাদ্দাম ভাই আপনি তো কখনো ফোন দিয়ে দেখা করার জন্য আমাকে ডাকেন না তাহলে আজ হঠাৎ এমন করে নিয়ম ভাঙার কারণ কি?? (রকি)





• ফোনের ঐই পাশ থেকে সাদ্দাম হাসতে হাসতে বলে -- রকি আজ তুমার আমার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটা দিন,, আজ আমাদের দেখা করা টা বেশি জরুরী তাই ফোন দিয়েই ডাকলাম তুমাকে। (সাদ্দাম)





• রকি হালকা অবাক হয় কারণ সাদ্দাম আজ রহস্যময় কথা বলছে যা রকি নিজেও ব্যাখা করতে পারছে না তাই সে জিজ্ঞেস করে -- সাদ্দাম ভাই আজ আপনি এমন রহস্যময় কথা বলছেন কেন, জীবনের গুরুত্বপূর্ণ দিন মানে বুঝতে পারছি না। (রকি)





• হাহহাহাহাহা,,, সব সময় দেখে আসছি তুমি রহস্যময় কথা বলো যার ব্যাখা আমি নিজেও করতে পারি না। আজ না হয়  আমি রহস্যময় কথা বললাম তুমি তার ব্যাখা বের করে চলে আসো। (সাদ্দাম)





• কোথায় দেখা করতে হবে। (রকি)





• সেই আগের জায়গায় যেখানে থাকবে না কোনো তৃতীয় ব্যাক্তির আগমন,, কথা হবে তুমার আর আমার চলে এসো,, তুমার জন্য সারপ্রাইজ আছে যা তুমি কখনো কল্পনা করতে পারবে না। (সাদ্দাম)





• রকি কিছু বলতে যাবে এর আগেই সাদ্দাম ঐই পাশ থেকে ফোনটা কেটে দেয়। রকি বুঝতে পারছে না আজ তার সাথে কি হতে চলেছে। তাই সে গাড়ির স্টেয়ারিং এর দিকে মন দেয়।








“ সময় টা রাত ১১ টা ৩০ মিনিট রকি তার ব্ল্যাক কালারের R15. V3 টা নিয়ে সাদ্দামের দেওয়া জায়গায় যাচ্ছে। শহর থেকে খানিকটা দূরে জায়গা টা, রাস্তার অবস্থা বেশি একটা ভালো না, রকির বাইকের আলোয় স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে কিছু গাড়ি এখান দিয়ে গিয়েছে,, গাড়ির চাকার ছাপ এখনো স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে। রকি দেখতে পারছে  কিছু দূরে কয়েকটা গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে একটা গাড়ির লাইট জ্বলে আছে যার কারণে সামনের জায়গা টা বুঝা যাচ্ছে। রকির বাইকটা এসে থামে সেই গাড়ি গুলোর কাছে আশেপাশে সারি সারি গাছ, পাশে বড় একটা রাস্তা, তার পাশে ছোট খাটো একটা পুকুর, চাঁদের আলো এসে পুকুরে পড়ছে আর পুকুরে আলো প্রতিফলিত হয়ে জায়গা টা আলোকিত হয়ে উঠছে। রকি পরিবেশের অবস্থা টা দেখে সামনে চেয়ারে বসে থাকা সাদ্দামের দিকে যায়। সাদ্দাম একটা চেয়ারে বসে আছে সামনে একটা ছোট টেবিল তার ঐই পাশে আরেকটা চেয়ার। রকি যেয়ে খালি চেয়ারে পায়ের উপর পা তুলে আরাম করে বসে। কারো মুখে কোনো কথা নেই,  দুজনের মধ্যে নিরবতা বিরাজ করছে। নিরবতা ভেঙে প্রথমে রকি বলে ---





• সাদ্দাম ভাই এখানে ডাকার কি কারণ। (রকি)




• সাদ্দাম রকির দিকে ভালো করে চেয়ে দেখে শরীরে বড় একটা কালো কোর্ট, মাথায় বড় হুড ওয়ালা টুপি, মুখে কিছু নেই শুধু বুঝা যাচ্ছে সাদা মুখে কালো চাপ দাঁড়ি। সাদ্দাম টেবিলের উপর রাখা সিগারেটের পেকেট থেকে একটা সিগারেট বের করে তার ঠোঁটে চাপে, লাইটার দিয়ে সিগারেটে আগুন লাগায় জোরে একটা টান দিয়ে। সিগারেটের পেকেট আর লাইটার টা রকির দিকে ঢিল মারে। সাদ্দাম মুচকি হেসে বলে -- রকি তুমাকে আজ অনেক কারণে ডাকা হয়েছে, কথা গুলো শুনতে নিজেকে প্রস্তুত করো। (সাদ্দাম)





• রকি তার সামনে থেকে সিগারেটের পেকেট থেকে একটা সিগারেট বের করে জ্বালায়,, জোরে একটা টান দিয়ে বিষাক্ত ধোঁয়া গুলো উপরের দিকে ছেড়ে বলতে থাকে -- রকি কথা শুনতে নিজের সব সময় প্রস্তুত রাখে নয়তো এখন পর্যন্ত এখানে আসতে পারতো না,, আপনি বলতে পারেন কি বলতে চান আমি শুনতে প্রস্তুত। (রকি)





• রকি তুমার নাক দিয়ে সিগারেটের ধোঁয়া ছাড়ার অভ্যাস আর গেলো না। আচ্ছা তুমি আমাকে এটা বলো যে আমার এমপি নির্বাচন করার কি ব্যবস্থা করলে। (সাদ্দাম) 




• রকি আবারো নাক দিয়ে ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে বলে -- আমি এখন যেই কথাটা বলবো আপনিও নিজেকে প্রস্তুত করে নেন কথাটা শুনার জন্য। (রকি)




• রকি তুমার সাথে থাকতে থাকতে তুমার মতো হয়ে গেছি,, তুমি বলো!! (সাদ্দাম)




• সাদ্দাম ভাই আপনি এমপি নির্বাচন করতে পারবেন না। (রকি)




• কথাটা শুনে সাদ্দাম জোরে জোরে হাসতে থাকে আর বলে -- আমি জানতাম তুমি এমনই কিছু একটা বলবে।(সাদ্দাম)





• রকি ব্রু কুঁচকে বলে -- আমি এমন কিছু বলবো এটা আপনি জানতে কি করে। (রকি)




• নিজের বাবাকে কেউ নিজ হাতে মারতে পারে,, এমন সৎ সাহস তো কারো নেই, ঠিক বল্লাম তো আমি। (সাদ্দাম)




• রকি অবাক হয়ে যায় সাদ্দামের মুখে এমন কথা শুনে। রকি ভাবতে থাকে কিভাবে এটা সম্ভব। তাই সে প্রশ্ন করে ফেলে --- সাদ্দাম ভাই আপনি এগুলো কি বলছেন। রফিক চৌধুরী আমার বাবা হতে যাবে কেনো। ওনি ভালো মানুষ আর গরীব দুঃখীদের পাশে থাকে ভালো রাজনীতি করে তাই তাকে আমি তার সম্মানিত চেয়ার থেকে উঠাতে পারবো না। (রকি)





• হাহাহাহাহহা,,, রকি তোমার কি ছোট বেলার কথা মনে পরে। কোথায় ছিলে ছোট একটা বসতিতে থাকতে তুমার অসুস্থ মা কে নিয়ে। আর আজ আমি তুমাকে কোথায় নিয়ে এসেছি, চাইলেই কিন্তু আমি মাফিয়া কিং হতে পারতাম,, আমি তা করি নি ছোট সেই টোকাই ছেলেটা কে রাস্তা থেকে তুলে এনে বানিয়ে দিলাম মাফিয়া কিং। আর আজ সে আমার হয়ে কাজ করছে না আমার কথা শুনছে না, তাহলে এতে লাভ কি আমার। (সাদ্দাম)





• দেখেন সাদ্দাম ভাই আপনার উপকারের  কথা আমার মনে আছে কিন্তু একজন ভালো মানুষ কে আমি মারতে পারবো না। এখন যদি এটা করে আমি আপনার কথা অমান্য করি তাহলে এতে আমার কিছু করার নেই। (রকি)





• রকির কথা শুনে সাদ্দাম রেগে বলে -- রকি তর বাবার কথা কি মনে আছে। ঢাকার টপ ধনী ছিলো তর বাবা, আমার কাছের বন্ধু ছিলো তর বাবা,, শুনবি কিভাবে কি হয়েছিল তর বাবার সাথে তর মায়ের। (সাদ্দাম)





• রকি যেন বিশ্বাস করতে পারছে না সাদ্দাম ভাই এর কাছের বন্ধু তার বাবা। তবে বুঝ হওয়ার পর রকি কখনো দেখেনি তার বাবাকে। মায়ের কাছ থেকে শুনেছিলো তার বাবা নাকি অনেক ধনী ছিল। রকির অনেক জানার আগ্রহ ছিলো তার বাবার সম্পর্কে জানা কিন্তু তা আর হয়ে উঠে নি,,, তার আগেই অল্প বয়সে রকির মা  ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। শুরু হয়ে যায় রকি টোকাই জীবন,, বসতির কিছু ছেলের সাথে মিলে বোতল  টুকাই করতো। রকির যখন ১০ বছর বয়স তখন থেকেই সাদ্দাম এর সাথে পরিচয় আজ মাফিয়া কিং হওয়ার পিছনে সাদ্দামেরই অবদান আছে। রকি একটু আবেগ ময় হয়ে সাদ্দামকে উদ্দেশ্য করে বলে -- সাদ্দাম ভাই আমার অনেক জানার আগ্রহ ছিলো কে আমার বাবা কি আমার পরিচয় কিন্তু এখনো তা জানা হলো না। আপনি এখন আমাকে সব বলবেন। (রকি)





• সাদ্দাম মুচকি হেসে বলে -- তর বাবা ছিলো এই শহরের টপ ধনীর মধ্যে একজন আমাদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ন সম্পর্ক ছিলো। ভার্সিটি তে থাকতে আমি একটা মেয়ে কে ভালোবাসতাম কিন্তু সেই মেয়েকে আমি নিজের করে পাই নি কারণ শুধু একমাত্র তর বাবা। আমি যেই মেয়েকে ভালোবাসতাম তর বাবাও সেই মেয়েকে ভালোবাসতো,, মেয়েটা ছিলো গরীব তাই কেউ মেয়েটাকে মেনে নেয় নি বাদ্য হয়ে তারা দুজন পালিয়ে বিয়ে করে। কিছু বছর পর তুই পৃথিবীতে আসিস,, তর মা-বাবার সম্পর্কটা ভালোবাসায় পরিপূর্ণ ছিলো, যা আমার সহ্য হয় না, তাই একটা গেম খেলে তাদের সংসারে ভেঙে দেই। তর বাবা তকে আর তর মাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়, আমি গিয়েছিলাম তর মার কাছে কিন্তু সে আমাকে ফিরিয়ে দেয়। তর সম্পর্কে আমি সব জানতাম চেয়েছিলাম তকে একদিন মাফিয়া কিং বানাবো আমার হয়ে কাজ করবি তুই, তকে দিয়েই তর বাবাকে মারতে চেয়েছিলাম আমি কিন্তু তুই তাকে মারবি না। তাই আজকে তকে এখানে ডাকা। (সাদ্দাম)





• রকি এতক্ষণ মন দিয়ে সাদ্দামের কথাগুলো শুনছিলো। রকির হাতের সিগারেট টা পুড়ে প্রায় শেষ তবুও রাগে সে জলন্ত সিগারেটে হাত চেপে ধরে আছে। সামনে থেকে সিগারেটের পেকেট থেকে  আরেকটা সিগারেট বের করে টানতে থাকে। এভার বেশ গম্ভীর গলায় রকি বলে -- আমার বাবার নাম কি,, কি তার পরিচয়। (রকি)




• হিহিহিহিহি,,,,বাবার সম্পর্কে জানার আগ্রহ অনেক। তর বাবা হচ্ছে এই শহরের এমপি রফিক চৌধুরী যাকে মারার জন্য তকে বলেছিলাম। (সাদ্দাম)




** সাদ্দামের কথা শুনে  রকি বসা থেকে উঠে দাঁড়ায় পিছন থেকে একটা পিস্তল বের করে সাদ্দামের দিকে তাক করে,, সাদ্দাম রকি কে কিছু বলে না,, সাদ্দাম টেবিলের উপর হালকা ভর দিয়ে সিগারেটের পেকেট আর লাইটার টা নিয়ে পেকেট থেকে একটা সিগারেট বের করে ঠোঁটে লাগায়, মুচকি হাসে কিন্তু কিছু বলে না। রকি অবাক হয়ে যায় সাদ্দামের এমন নিরবতা দেখে,, রকি শত্রুকে সামনে রেখে সময় নষ্ট করতে চায় না তাই সে ট্রিগারে চাপ দিবে এমন সময় কেউ পিছন থেকে শক্ত কিছু দিয়ে রকির মাথার পিছনে আঘাত করে। রকির হাত থেকে পিস্তল টা পরে যায়, ডান হাত টা মাথার পিছনে চলে যায়, মাথায় ফেটে রক্ত বের হচ্ছে, রকি  নিচে পরে যায়। সাদ্দাম হাসতে হাসতে রকি মাথার কাছে নিচু হয়ে দেখে রকির শ্বাস এখনো চলছে।**





• সাদ্দাম বসা থেকে উঠে দাঁড়ায় সিগারেট টানতে টানতে বলে -- কতগুলো খুন করে মানুষ কে ভয় দেখিয়ে আসল মাফিয়া হওয়া যায় না। আসল মাফিয়া হতে হলে মাস্টার মাইন্ড থাকা লাগে,, বুকের ভিতর সাহসের প্রয়োজন হয়,, যা এই রকির ভিতর নেই। (সাদ্দাম)




“ তকে পাহাড়া দেওয়ার জন্য পালা কুত্তার প্রয়োজন হয় কিন্তু আমি একাই একশ ” রকি কথাটা বলই নিচে পরে থাকা পিস্তল টা হাতে পর পর পাঁচ টা গুলি করে,, আশেপাশে দাঁড়ানো বডিগার্ড গুলোর কারো বুকে কারো কাপালে যেয়ে লাগে,, সাদ্দামের পাশে থাকা দুইটা ছেলে গুলো করতে যাবে এর আগে রকির পিস্তল থেকে দুইটা বুলেট বের হয় দুটা বুলেটই যেয়ে তাদের কপালে লাগে। সাদ্দাম এগুলো দেখে ভয় পেয়ে যায়,, সাদ্দামের হাতে থাকা অর্ধেক পুড়া সিগারেট মাটিতে পরে যায়। রকি এক লাফে নিচ থেকে উঠে চেয়ার টা টান দিয়ে পায়ের উপর পা তুলে বসে একটা সিগারেট জ্বালায়। সিগারেটের বিষাক্ত ধোঁয়া গুলো নাক দিয়ে ছাড়তে থাকে। 





• রকি দেখ সবাই কে শেষ করলেও আমাকে তুই কিছু করতে পারবি না। কারণ তকে আমি এত টুকু পর্যন্ত নিয়ে এসেছি,, তুই আমাকে মারবি না। (সাদ্দাম)





• সাদ্দাম যেন কথাটা শেষ করতে পারছে না এর আগেই রকি একটা গুলি করে,, বুলেট টা যেয়ে সাদ্দামের ডান পায়ে লাগে, সাদ্দাম ব্যাথায় চিৎকার দিয়ে ওঠে,, রকি হাসতে হাসতে বলে -- মাইন্ড গেম তুই খেলতে পারিস নি তুই আমাকে নিয়ে মাইন্ড গেম খেলতে যেয়ে আমার মাইন্ড গেমের গুটি হয়ে গিয়েছিস। আমার মা মরার আগে বলে গিয়েছিলো একটা বেইমান আমাদের সুখের সংসার ধ্বংস করে দিয়েছে তার নাম সাদ্দাম খান ঢাকার ছোট একটা রাজনৈতিক দলের লিডার । তখন বেইমান কি এটা বুঝি নি, শুধু সাদ্দাম নাম টা মনে রেখেছি, পৃথিবীর যেখানে থাকুক তাকে খুঁজে বের করে মারাটা আমার টার্গেট ছিলো। কিন্তু দশ বছর বয়সেই তর সাথে দেখা চেয়েছিলাম সেখানেই তকে মেরে দিবো,, আমি তা করি নি তর একটা অফারের কথা শুনে নিজের মাইন্ড টা কে শান্ত করে মাস্টার মাইন্ড গেম খেলতে থাকি। আমি যার হাতে তৈরি তাকে আজ নিজ হাতে মারবো আমার মায়ের মৃত্যুর প্রতিশোধ নিবো। (রকি)





• রকি তুই আমাকে মারতে পারবি না কারণ তর একটা দুর্বল জিনিস আমার কাছে আছে। (সাদ্দাম)





• যার হারানোর কিছু নেই, তার ব্যাপারে সর্তক থাক,, আমার দুর্বল কোনো জিনিস নেই। (রকি)




• হিহিহিহি,, মনে করে দেখ ভার্সিটির একটা মেয়ে নাম মনে হয় মিম,, তুই পছন্দ করিস মেয়েটাকে। মেয়েটা তকে চিনেও না,, তর জীবনে কোনো দুর্বল পয়েন্ট নেই কিন্তু পছন্দের জিনিস টা তর মন কেরেছে এটা তর একটা দুর্বল পয়েন্ট। মেয়েটাকে নিবি আমাকে ছেড়ে দিবি, রাজি থাকলে ডিল ফাইনাল কর। (সাদ্দাম)





• রকি মেয়েটার কথা চিন্তা করে সাদ্দামের দেওয়া অফারে রাজি হয়ে যায়। মিম কোথায় সেটা বল তারপর তকে ছেড়ে দিবো। (রকি)




• সাদ্দাম নিচ থেকে কষ্ট করে উঠে মুচকি হেসে রকি কে বলে-- প্রথম ব্ল্যাক কালারের গাড়ির ভিতর আছে। (সাদ্দাম)




“ কথাটা বলার জন্য ধন্যবাদ তবে রকি বেইমানি করতে একটু বেশি পছন্দ করে তাই তর দেওয়া অফার টা নিয়ে তকে ক্রেডিট না দিয়েই বিদায় করে দিবো। গুড বায় কথাটা বলে রকি আরেকটা গুলি করে, বুলেট টা যেয়ে সোজা সাদ্দামের কপাল বরাবর লাগে, সাদ্দাম নিচে পরে যায় কপাল দিয়ে তার রক্ত পড়তে থাকে। পরিবেশ টা যেন থমকে আছে আশেপাশে জি জি পোকার ডাক, হিমেল হাওয়ার বয়ে যাচ্ছে, চাঁদের আলোয় রাত টা আরো বেশি মোহনীয় করে তুলছে। রকি ব্ল্যাক কালারের গাড়ির দরজাটা খোলে দেখে ভিতরে মুখ, হাত, পা বাঁধা অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে আছে মিম। মিমকে পাজা কোলে নিয়ে রকি তার বাইকে বসায়,, রকি বাইক টা সার্ট দেয় রওনা হয় অজানা এক গন্তব্যের উদ্দেশে। 




   ------------------- সমাপ্ত ------------------




[ আমার পরীক্ষার জন্য গল্প টা অল্পতেই মিলিয়ে দিলাম তার জন্য দুঃখীত। আর সবাই কে ঈদের দাওয়াত রইলো,, আমার প্রোফাইলে ঠিকানা দেওয়া আছে সবাই ইনশাআল্লাহ চলে আসবেন। ধন্যবাদ 

KGF of Diamond City. ৪ # লিখা :- RAJA Bhuiyan. (মি.440) # পর্ব :- ০ ৪

 # গল্প :- KGF of Diamond City. ৪ # লিখা :- RAJA Bhuiyan. (মি.440) # পর্ব :- ০ ৪ ............. আকাশে তাজা সূর্যের তীব্র আলো। শকুন আর গাংচিলদ...