Monday, July 26, 2021

মাস্তানি অফ রাফিয়ান--পর্ব:- ২ -- RAJA Bhuiya. (মি.440)

 মাইন্ড সিটি 



# মাস্তানী অফ রাফিয়ান 

# RAJA Bhuiyan. (মি.440)

# পর্ব :- ২



.................


“ রাফাত পিছনের পকেট থেকে একটা মানিব্যাগ বের করে তার থেকে কচকচে একটা পাঁচশত টাকার নোট বের করে দোকানদারের সামনে এগিয়ে দেয়। দোকানি নোট টা ভালো করে দেখে বলতে থাকে ---



  

• বাবা এই বড় নোটের খুচরা আমার কাছে নেই। (দোকানি)



 • রাফাত মুচকি হেসে বলে -- লাগবে না বাকি টাকা পুরো টাকা টা আপনি রেখে দিন। (রাফাত)



• বাবা একটা কথা বলি - তোমাকে দেখে মনে হচ্ছে ঢাকা শহরে নতুন, জামা কাপড়ের অবস্থা তেমন ভালো না। বাকি টাকা টা বরং তুমি রেখে দাও। (দোকানি)



• হিহিহিহি... হয়তো শহরে নতুন কিন্তু এই অচেনা শহরে সবই আমার পরিচিত, জামা কাপড় কিনার পর্যাপ্ত টাকা আমার কাছে আছে। টাকাটা আপনি রেখে দিন। (দোকানি)



 “ দোকানির গলার স্বরে স্পস্ট বৈরাগ্য,, যেন বাকি টাকা টা না দিলেও তার কিছু আসে যায় না। রাফাত নতুন সিগারেটের পেকেট থেকে একটা সিগারেট ঠোঁটে চাপে দোকানের সামনে টানানো লাইটার টা দিয়ে আগুন জ্বালায় সিগারেটে। রাফাত সিগারেটে জোরে একটা টান দিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যায়। নিউ পল্টন লাইনের এই গলিটার বেশ কয়েকটি দোকান। কিন্তু মর্ডান সেলুন এবং পাশের ঘরটি ছাড়া সবই বন্ধ। রাফত মর্ডান সেলুনে ঢুকে পড়লো, রাস্তায় হাটাহাটি করার চেয়ে সেলুনে চুল কাটা নিয়ে ব্যস্ত থাকা ভাল। রাফাতের চুল গুলো অনেক টা বড় হয়ে গেছে। সেলুন টা এক সময় মাস্তান ছেলেপুলেদের আড্ডাখানা ছিলো। লম্বা চুলের চার পাঁচ টা ছেলে শার্টের বোকের  বোতাম খুলে বেঞ্চের উপর বসে থাকত। সেলুনে একটা ব্যান্ড ট্রানজিস্টার সারাক্ষণই বাজত। ট্রানজিস্টারের ব্যাটারির খরচ দিতে গিয়েই সেলুনের লাটে উঠার কথা কিন্তু তা ওঠেনি। রমরমা ব্যবসা করছে। আজ অবশ্যি জনশূন্য তবে ট্রানজিস্টার বাজছে। আগের মতো ফুল ভলুযমে নয়, মৃদু শব্দে, দেশাত্মবোধক গান। কথা ও সুর নজিবুল হয়। রাফাত বেশ অবাক হয় এমন উন্নত মানের একটা দোকানে পুড়োনো দিনের গান শোনে। রাফাত বেশ মন দিয়েই গান শুনতে লাগলো তবে চোখ রাখলেন রাস্তার উপর।। 




 • চুলটা একটু ছোট কর। (রাফাত)



“ নাপিত ছেলেটি বিস্মিত হলো। সে ইনার এক বন্ধুর চুল গত মঙ্গলবারে কেটেছিলো। কিন্তু ঐই দিন চুল বড় বড় থাকা সত্যেও কাটায় নি। তাহলে আজ হঠাৎ কাটাতে আসলো --”



  • ভাই চুল কাটাবেন? (নাপিত) 


ছেলেটার কথা শুনে রাফাত হালকা করে গাড়টা বাকা করে। ছেলেটার মুখটা হালকা কালো, চুলগুলো মর্ডান স্টাইলে কাটা, চুলের উপর দিয়ে হালকা হলদে রঙ করা। রাফাত কিছুদিন আগে ফাহাদ কে নিয়ে এখানে এসেছিলো তখন ছেলেটার চুল গুলো বড় বড় ছিলো। হয়তো কম সময়ের ভিতরে চুল গুলো কেটে ফেলেছে। 




  • পিছনের দিকে একটু ছোট করবি। (রাফাত)



 “ রাফাতের  কথা শুনে ছেলেটা কাঁচি যন্ত্রের মত খট খট করতে লাগল। কিছুদিন আগে যখন রাফাত এখানে এসেছিলো তখন ছেলেটার কথার যন্ত্রণায় অস্থির হতে হয়েছিলো। ছেলেটার কথা শুনতে রাফাতের খারাপ লাগে না। কিন্তু এই ছেলেটার কথা বলার সময় থুথুর ছিটা এসে লাগে। আজ সে নিঃশচুপি। থুথু গায়ে লাগার কোনো আশংকা নেই। দাম দেওয়ার সময় রাফাত জিজ্ঞেস করে -




  • রাতদিন ট্রানজিস্টার চালাস কিভাবে?  ব্যাটারির তো অনেক দাম। (রাফাত)


 নাপিত ছেলেটি কোনো জবাব দিল না গম্ভীর মুখে টাকা ফেরত দিয়ে বেঞ্চের উপর পা তুলে বসে রইল। রাফাত কোন উওর পেল না। ছেলেটা ঠান্ডা চোখে তাকিয়ে আছে। আজকাল কেউ বাড়তি কথা বলতে চায় না। চেনা মানুষের কাছেও না। 



রোদ উঠেছে কড়া এবং ঝাঁঝালো, কিন্তু এই কড়া রোদেও রাফাতের কেমন যেন শীত শীত করতে লাগলো। রাফাত সেই ছোট দোকানের সামনে দ্বিতীয়বার এসে দাঁড়ালেন। মনে করার চেষ্টা করলো ঘরে যথেষ্ট পরিমাণ সিগারেট আছে কি না। পাঁচটার পর কোথাও কিছু পাওয়া যাবে না৷ যেদিন শহরে প্রথম এসেছিলো রাফাত সেদিন রাতে সিগারেটের অভাবে খুব কষ্ট করেছে। রাফাত মানিব্যাগ খুললেন। চাচার দোকানে আগরবাতি জ্বালিয়েছে। সব দোকানদারের মধ্যে এই একটি নতুন অভ্যাস দেখা যাচ্ছে। আগরবাতি জ্বালানো। আগে কেউ সন্ধ্যাবেলা জ্বালাত। এখন প্রায় সারাদিনই জ্বলে, আগরবাতির গন্ধে মৃত্যুর কথা মনে করিয়ে দেয়। রাফাত দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে অস্বস্থি বোধ করতে লাগলো। 




  • চাচা আরো দুই পেকেট বেনসন সিগারেটের পেকেট দিন। (রাফাত)


দোকানদার চাচা সিগারেট বের করল। সিগারেটের দাম চড়ছে। ছেলে- ছোকরারা এখন সারাদিন ঘরে বসে থাকে এবং সিগারেট ফুকে। এছাড়া আর কি করবে? 



  • দু'টা ম্যাচও দিন। (রাফাত)


  • বাবা একটা কথা জিজ্ঞেস করি। (দোকানী) 


  • হে চাচা বলেন! (রাফাত)


  • তুমি কি কাউকে খুঁজতেছ। (দোকানী)


রাফাত চমকে উঠে। বলে কি এই ব্যাটা টের পেল কিভাবে? 



  • কারে খুঁজতেছ। (দোকানী) 



  • আরে না, কাকে খুঁজব? চুল কাটতে গিয়েছিলাম। চুল একটু বড় হলেই আমার অসহ্য লাগে,, এবার একটু বেশি বড় হয়েছিলো তাই ছোট করে এলাম। (রাফাত)



কথাটা বলে রাফাত আর সেখানে দাঁড়ায় না রওনা দেয় বাসার উদ্দেশ্য। গোরস্থান ঘেঁষে রাস্তা গিয়েছে। সেই জন্যেই কী গা ছমছম করছে রাফাতের?  না অন্য কোনো কারণ আছে। একটু কটু গন্ধ আসছে নিউ পল্টন লাইনের লোকজনদের ধারণা, বর্ষাকালে এই গন্ধ পাওয়া যায়। লাশ পচে গন্ধ ছড়ায়। এখন তো শীতকাল তাহলে এমন গন্ধ বুঝতে পারছে না রাফাত। 




“ অভিজ্ঞতাহীন মানুষ যর্থতা বিষয়ের মর্ম উপলব্ধি করতে পারে না। আর যে চিরসুখী সে তা কখনোই ব্যথিতের বেদনার স্বরূপ বুঝতে পারবে না। এ পৃথিবীতে দুঃখী মানুষের অভাব নেই।  কিন্তু সুখী ব্যক্তি সুখভোগে অভ্যস্ত থাকে বলে দুঃখের জ্বালা বুঝতে পারে না। নির্ধন যদি চায় ধনীর সহযোগিতা তবে ধনী কখনও দারিদ্র্যের ক্ষুধার কষ্ট বুঝতে পারে না। ”



 সন্ধ্যার পর থেকে রাফাতের কেমন যেন লাগতে লাগল। কেমন এক ধরনের অস্বস্তি। হঠাৎ ঘুম ভাঙলে যে রকম লাগে সে রকম। সমস্ত শরীর ঝিম ধরে আছে। অনেক দিন হলো কেনো শিকার করার সুযোগ হয় নি তার। মাথার ভেতরটা ফাঁকা ফাঁকা, রাফাত বারান্দায় এসে দাঁড়াল। এ বাড়ির বারান্দাটা সুন্দর। কল্যানপুরের দিকে শহর তেমন বাড়তে শুরু করে নি। গ্রাম গ্রাম একটা ভাব আছে, বারান্দায় দাঁড়ালে ঝিলের মতো খানিকটা জায়গা চোখে পড়ে। গত শীতের আগের শীতে ঝাঁকে ঝাঁকে বুনো হাঁস নেমেছিল। কী অদ্ভুত দৃশ্য! এ বৎসর নামবে কি না কে জানে। বোধহয় না। শহর এগিয়ে আসছে। পাখিরা শহর পছন্দ করে না। ঠান্ডা বাতাস দিচ্ছে। বেশ শীত পড়েছে এবার। রাফাত এই মনোরম পরিবেশে কি যেন একটা শূন্য অনুভব করছে। রাফাত পকেট থেকে একটা সিগারেটের পেকেট আর লাইটার টা বের করে একটা সিগারেট জ্বালায়। কত ধরনের মানুষ থাকে এই সংসারে। রাফাত ছোট একটা নিঃশ্বাস ফেলল। বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকতে ইচ্ছা করছে না। আবার ভেতরে যেতেও ইচ্ছা করছে না। কেমন যেন আজ রক্ত নিয়ে খেলা করতে ইচ্ছা করছে। 




“ রাফাত মেহেরাব সাহেব খবর পাঠিয়েছে ”



হঠাৎ পিছন থেকে কারো মোটা গলার শব্দ শোনে রাফাত পিছনে ফিরে তাকায়, সাদা কালারের একটা মোটা সুয়েটার আর মাথায় একটা ফেল্টের ক্যাপ পড়ে দাঁড়িয়ে আছে ফাহাদ। রাফাত আরেকটা সিগারেট ধরিয়ে উদাস চোখে দূরে থাকা বড় নিম গাছের দিকে তাকিয়ে রইল। এবার সে বেশ গম্ভীর গলায় বলে --



  • কোথায়, কখন দেখা করতে বলছে। (রাফাত)



  • উনার নিজের বাড়িতে আর তকে সময় বের করে বলছে আমার সাথে যেতে। (ফাহাদ)



  • রাফাত এক গাল হেসে বলে - দেখা করবো এক শর্তে ঐ বাড়িতে যে আমি যেয়ে ওনার মেয়ে আর স্ত্রী কে না দেখি, তুই এটা জানিয়ে দে। (রাফাত)




  • আমি সব ব্যাবস্থা করছি। রাফাত আমার কি মনে হয় জানিস। (ফাহাদ)



  • কী? (রাফাত)



  • মেহেরাব সাহেব তকে আবারো সেই জগতের রাজা বানাতে চায়। (ফাহাদ)



  • হিহিহিহিহি.. আমি তো সব সময় রাজা, আমাকে কে আবার নতুন করে রাজা বানাবে। (রাফাত)



  ফাহাদ সেখানে আর দাঁড়ায় না। সে জানে রাফাত এখন আর বেশি কথা বলবে না। সে চায় একা থাকতে। রাফাত বাইরে থেকে ভিতরে প্রবেশ করে,, বাইরে অনেক ঠান্ডা পড়েছে, কুয়াশায় শহর টা ছেয়ে গেছে। 




দরজায় কড়া নড়ছে। রাফাত লেপের ভেতর থেকে মাথা বের শব্দ শুনল, আবার লেপের ভেতর ঢুকে পড়ল। এর মধ্যেই মাথার পাশে রাখা ঘড়ি দেখে নিয়েছে, সাতটা চল্লিশ। রাফাত নিজেকে প্রতিনিয়ত একজন বুদ্ধিমান লোক মনে করে। কোনো বুদ্ধিমান লোক কঠিন শীতের মধ্যে ভোর সাতটা চল্লিশ মিনিটে লেপের ভেতর থেকে বেরুতে পারে না। যে কড়া নাড়ছে সে যদি বুদ্ধিমান হয় তাহলে, আরো কয়েকবার কড়া নেড়ে চলে যাবে। পাঠা শ্রেণির হলে যাবে না। বিপুল উৎসাহে কড়া নাড়তেই থাকবে। নাড়ুক ইচ্ছে হলে দরজা ভেঙে ফেলুক। হু কেয়ারস? এখন লেপের ভেতর থেকে বের হওয়া যাবে না। রাফাত গত রাতে একটু দেড়ি করেই ঘুমের দেশে পারি জমিয়েছিল। ঘুমটা ভালো হয় নি কারণ সে রাতে ঘুমাতে গেছে মোটামুটি ক্ষিধে নিয়ে। বেশি রাত জাগলে ক্ষিধে পায়। শরীরের জন্য বাড়তি কার্বোহাইড্রেটের প্রয়োজন হয়। সেই ব্যবস্থায় ঘরে থাকে দু তিন রকমের জেলী এবং পাউরুটি। কাল রাতে জেলী ছিল কিন্তু পাউরুটি ছিলো না। বিস্কুটের টিনে কিছু বিস্কুটের গুড়া পাওয়া গেল। এক চামচ মুখে দিয়ে মনে হলো সাবানের গুড়া খাচ্ছে। নাড়িভুড়ি উল্টে আসার উপক্রম। রাফাত সেই খালি পেটেই ঘুমাতে যায়, চোখ জোরা প্রায় ধরে এসেছে এমন সময় বাথরুম পেয়ে গেল। বাথরুম পাচ্ছে তবে সেই তাগিদ জোরালো নয়, উঠে যেতে ইচ্ছা করছে না। শীতের রাতে লেপের ভেতর একবার ঢুকে পড়লে বেরুতে 

ইচ্ছা করে না। 


এখনো খট খট শব্দ হচ্ছে, গাধা নাকি?  গাধা তো বটেই, অতি নিম্নমানের গাধা। গাধা সমাজের কলঙ্ক। রাফাত লেপের ভেতর থেকে মুখ বের করে উচু গলায় বলল,          ‘ইউ স্টুপিড অ্যাস ’ ইউ হ্যাভ নো বিজনেস হিয়ার। (রাফাত)



 রাফাতের এটা প্রিয় গালি। সে শিখেছে অনেক আগে সেই স্কুল জীবনে। ইংরেজি মেডামের কাছ থেকে প্রথম এই শব্দ টা শুনে রাফাত অনেক ভেবেছিল শব্দটার মানে কি ২ দিন পর যেয়ে সাহস নিয়ে মেডামকে জিজ্ঞেস করে ফেলল এই শব্দের  মানে কি। তিনি তৎক্ষনাৎ বাংলা তরজমাও করে বলেন ‘ ওহে বোকা গাধা, এখানে তোমার কোনো কর্ম নেই। ’ সেই ছোট বেলার বাক্য টা যেন রাফাতের মনে গেথে গেছে। তাই এই বাক্যটা সে রেগে গেলে বেশি ব্যবহার করে। 



এখনও কড়া নড়ছে,  রাফাত বিরক্ত হয়ে বিছানা থেকে নামতে নামতে দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলে ভাবলো - কে হতে পারে এটা। এমন পাগলের মতো করে দরজা ধাক্কাচ্ছে। রাফাত দরজা খুলল কিন্তু অবাক করার বিষয় হলো বাইরে কেউ নেই। সামনের ঘরটা ফাহাদের কিন্তু দেখে মনে হচ্ছে ভিতর থেকে আটকানো তাহলে কে হতে পারে। রাফাত এত কিছু চিন্তা না করে আবারো বিছানার দিকে আসবে তখনই তার চোখ পড়ল ফ্লোরের দিকে। গিফটের কাগজে মোড়ানো নতুন চিকচিক করা একটা গিফট পেকেট। রাফাত পেকেট টা হাতে নিয়ে নাড়াচাড়া করে, ভিতরে মনে হচ্ছে হালকা কোনো জিনিস, কি হতে পারে। বুক ভরা সাহস নিয়ে পেকেট টা খুলতে থাকে। অবাক করার বিষয় হলো পেকেটে একটা 9mm এর ছোট একটা পিস্তলের বুলেট আর পাশে লাল কালারের একটা কাগজ। রাফাত কাগজের ভাজ টা খোলে, ভিতরে কিছু লেখা, সে তা পড়তে শুরু করে - “ এই শীতের সকালে ঘুম থেকে তুলার জন্য আমি দুঃখীত কিন্তু কি করবো বলো,,, না উঠিয়ে উপায় নেই আমার শহরে এসেছো, আমি তোমাকে শুভেচ্ছা জানাবো না এটা কি হয়। ওয়েলকাম রাফাত ওয়েলকাম আমার অন্ধকার শহরে। যারা কাপুরুষ তারাই ভাগ্যের দিকে চেয়ে থাকে, পুরুষ চায় নিজের শক্তির দিকে। তোমার বাহু, তোমার মাথা তোমাকে টেনে তুলবে, তোমার কপাল নয়। ”

 আর কিছু লেখা নেই, লেখাটা পড়ে রাফাত একটু রহস্যময়ী হয়ে যায়। চিন্তা করতে থাকে কে এই চিঠিটা পাঠিয়েছে। তেমন কেউ তো এই শহরে রাফাত কে চিনে না, তবে কি!  সবই ধুয়াশা?? 




......




নিশিতা দেখ ক্ষেত ছেলেটা  আজকে আবারো কলেজে এসেছে। এটাকে দেখলেই আমার কেমন কেমন যেন ঘৃণ ঘৃণ লাগে। নাদিয়ার কথা শুনে সবাই কলেজের গেটের দিকে তাকায়, পুড়নো একটা লম্বা হাতার গেঞ্জি চকলেট কালারের ময়লা পেন্ট। চোখে মোটা ফ্রেমের সাদা চশমা, মাথা ভরা কোকড়া কোকড়া লম্বা চুল, কিন্তু কাছ থেকে চুল গুলো অতটা লম্বা বুঝা যাবে না।  কাঁধে একটা ছেঁড়া ব্যাগ ঝুলিয়ে সমান পায়ে রাফাত ছেলেটা এগিয়ে আসছে। রাফাতের দিকে ভালো করে তাকিয়ে নিশিতা বাকা হেসে বলতে থাকে --




  • নাদিয়া ক্ষেত টা কে ডাক দে। আজকে আমাদের সাথে নুসরাত আছে বেশ মজা হবে আজ। (নিশিতা)




  • হাহহাহাহাহা,,,কালকে কোনো মজাই করতে পারছি না আজকে ছেলেটাকে এমন অবস্থা করবো যা সে চিন্তাও করতে পারবে না। (নাদিয়া)




...........চলবে...............





[আগের পর্বে তেমন সাড়া পাই নি যার কারণে পোস্ট করতে দেড়ি হচ্ছে যদি গল্প টা ভালো না  লাগে তাহলে আমাকে কমেন্টের মাধ্যমে জানাবেন। 

আমি এটা না দেওয়ার চেষ্টা করবো। ] ধন্যবাদ 





wait for the next part. 

মাস্তানি অফ রাফিয়ান --পর্ব:- ১>>> RAJA Bhuiya. (মি.440)

মাইন্ড সিটি 



# মাস্তানী অফ রাফিয়ান 

# RAJA Bhuiyan. (মি.440)

# পর্ব :- ১

..........



“ রাফাত তুই এত সিগারেট খাস কেনো,, পরে কিন্তু বড় কোনো ধরনের সমস্যায় পরবি ”



কার্তিকের শেষ ইতিমধ্যেই ঢাকা শহরে বেশ ঠান্ডা পড়েছে। পায়ের দিকের খোলা জালানাটা দিয়ে ঝিরিঝিরি করে রাতের হাওয়া এসে ঢুকছে। রাতের অন্ধকারে নিঃশব্দ হিম ঝরছে, তারই আভাস মধ্যরাতের ঠান্ডা হাওয়ায় অন্ধকার আকাশের কোলে শূন্যে স্থির হয়ে আছে, ইতস্তত কয়েকটি আকাশ প্রদীপের আলো। রাফাত সেই খোলা জানালার সামনে দাঁড়িয়ে মনের সুখে একটার পর একটা সিগারেট টানছিলো তখনই একটা মোটা গলার স্বর শোনে পিছনে তাকায় রাফাত। সোফায় পায়ের উপর পা তুলে আরাম করে বসে আছে ফাহাদ। তার মাথায় একটা ফেল্টের ক্যাপ, যেটা ফাহাদ মাঝেমধ্যে পড়ে থাকে, পরিধানে মভ কালারের দামী জিন্স জ্যাকেট, মুখটা নিখুঁতভাবে কামানো। রাফাত মুচকি হেসে সোফায় এসে আরাম করে বসে হাতে থাকা সিগারেট টা প্রায় শেষের দিকে আরেকটা টান দিয়ে নিচে ফেলে দেয় সিগারেটের বাকি অংশ টা। এবার রাফাত গম্ভীর মুখো হয়ে রহস্যময় করে বলে--



  • অভ্যাস ভয়ানক জিনিস। একে হঠাৎ স্বভাব থেকে তুলে ফেলা কঠিন। মানুষ হবার সাধনাতেও তকে সহিষ্ণু হতে হবে। (রাফাত)



• মানে??  (ফাহাদ)



• হিহিহিহি,, আমার কথাটা বুঝতে পারিস নি তাই তো,, আমি উদাহরণ দিয়ে বুঝাচ্ছি - তুই জানিস আমি অনেক আগে থেকেই সিগারেট খাই এখন হুট করে আমি এটা ছেড়ে দিতে পারবো না। সিগারেট খাওয়াটা আমার পেশা না এটা আমার নেশা। আমি এটায় এমন ভাবে আটকে গেছি চাইলেও আর বের হতে পারবো না। (রাফাত)




 • রাফাত তুই হয়তো ভুলে গেছিস মানুষ পারে না এমন কোনো কাজ নেই। তুই চাইলেই তর এই বদ অভ্যাস টা ত্যাগ করতে পারিস। (ফাহাদ)



  • আরে বাদ দে এগুলো!!  আমি এখন আমার চিন্তা নি বেশি ভেবে ফেলছি, তাই সিগারেট টা একটু বেশিই টানছি যাতে টেনশন টা দূর হয়ে যায়। (রাফাত)



  • অতীত কে ভুলে যা। অতীতের দুশ্চিন্তার ভার অতীতকেই নিতে হবে। অতীতের কথা চিন্তা করে অনেক বোকারাই মরেছে। আগামীকালের বোঝা অতীতের বোঝার সাথে মিলে আজকের বোঝা সবচেয়ে বড় হয়ে দাঁড়ায়। তাই অতীতের ব্যর্থতার জন্য আক্ষেপ করে কিংবা ভবিষ্যতের সাফল্যের আশায় বর্তমান কে অবহেলা করা উচিত নয়। (ফাহাদ)




  • অতীত কে চাইলেও আমি ভুলতে পারবো না। আমার সেই কালো অতীতে রয়ে গেছে আমার পরিচয় কে আমি?  আমাকে সেটা জানার জন্য এই রঙহীন শহরে আসা। (রাফাত)




  • আমার জানা নেই তুই কি আসলেই তর আসল পরিচয় এখান থেকে পাবি না কি আবারো শূন্য হাতে ফিরে যাবি দূষিত সেই শহরে। (ফাহাদ)




  • আমি রাফাত কোনো সময় ভুল ডিসিশন নেই না। সঠিক সময়ে সঠিক কথা বলা, সঠিক সময়ে সঠিক জায়গায় থাকা আমার স্টাইল। নিজের ঠান্ডা মাইন্ড দিয়ে এই শহরের সব অশান্ত মাইন্ড গেমারদের উনমাদ করে দিবো আমি,, চাইলেও কেউ থামাতে পারবে না আমাকে, এটাই রাফাতের কথা, পিস্তলের বুলেট মিস হতে পারে কিন্তু আমার ডিসিশন ভুল হতে পারে না। (রাফাত)




  • রাফাত কালকে তো ঢাকা কলেজে তর প্রথম দিন তা তুই কি নিজের আসল পরিচয় নিয়ে কলেজে প্রবেশ করবি, না কি ছদ্মবেশ নিয়ে। (ফাহাদ)




  • হিহিহিহি,,, আসল পরিচয় দিয়ে কলেজে প্রবেশ করলে আমার সাথে কেউ মিশবে না, তার থেকে ভালো হবে ছদ্মবেশেই যাই। (রাফাত)




  • আমারো তাই মনে হয়। তবে কালকে তর সাথে কি হবে তা আমি নিজ চোখে দেখতেছি, কালকে তর ভাগ্য টাই খারাপ যাবে। (ফাহাদ)




  • এ জগতে অমঙ্গল ছাড়া মঙ্গলের কোনো অস্তিত্ব কল্পনাতীত। অন্ধকারে সাথে আলোর, সাদার সাথে কালোর, দুঃখের সুখের যে সম্পর্ক, অমঙ্গলের সাথে মঙ্গলেরও সেরূপ সম্পর্ক। অমঙ্গলের পাশেই মঙ্গল কে চেনা যায়। (রাফাত) 




* কথাটা বলে বসা থেকে উঠে দাঁড়ায় রাফাত। দুই তলা বাড়ির নিচ তলায় বসে বসে এতক্ষণ কথা বলছিলো তারা দুজন। রাফাত উপরের উঠার জন্য সিরির কাছে যেতে থাকে,, সময়  অনেক হয়েছে গভীর অন্ধকার মনোমুগ্ধকর রাত পাশে চাঁদের আলোয় সারা বাড়িটা ছেয়ে গেছে। ফাহাদ বসা থেকে উঠে নিজের ঘরের দিকে পা বাড়ায় *






চোখে মোটা ফ্রেমের স্টুডেন্ট চশমা, ফুল হাতার হালকা ময়লা সাদা কালারের শার্ট, কালো পেন্ট, মাথার চুল গুলো অনেক বড় বড়, মাথাটা নিচু করে ঢাকা কলেজের ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে রাফাত। পরিবেশ টা নিত্যান্ত মনোরম আশেপাশে অনেক স্টুডেন্ট কেউ বসে কেউ দাঁড়িয়ে আড্ডা দিচ্ছে। রাফাত ডান হাত দিয়ে চোখের চশমাটা ঠিক করে মাথাটা হালকা উচু করে,, কম বেশি সবাই রাফাতের দিকে ব্রু কুঁচকে তাকিয়ে আছে এটা দেখে রাফাত মুচকি হাসি দেয়। সবাই  হয়তো ভাবছে এমন একটা বড় কলেজে কিভাবে ক্ষেত ছেলেটা চান্স পেয়েছে। রাফাত মাথাটা নিচু করে ক্লাসের দিকে রওনা দেয়,, হঠাৎ পিছন থেকে মেয়েলি কন্ঠে কারো ডাকে রাফাত পিছনে ফিরে তাকায় দেখে কতগুলো মেয়ে মাঠের চওরে বসে বসে আড্ডা দিচ্ছে তার মধ্যে থেকে আকাশি কালারের ড্রেস পরা মেয়েটা রাফাত কে ডাক দেয়। রাফাত মেয়ে গুলোর সামনে যেয়ে বলে --





• আসসালামু আলাইকুম আপুরা, আমাকে কি জন্য ডেকেছেন। (রাফাত)




• রাফাতকে ডাক দেওয়া মেয়েটা নাম নিশিতা বলে -- এই ছেলে নাম কি তর। (নিশিতা)




• রাফাত আহম্মেদ । (রাফাত)




• নাম টা ত ভালো কিন্তু নামের সাথে পোশাকের চেহারার অবস্থা তো ভালো না,, বাড়ি কোথায় তর। (নিশিতা)




• কুমিল্লার ছোট একটা গ্রামে। (রাফাত)




• তার মানে তুই গ্রাম থেকে এসেছিস, তাই তো বলি এরকম একটা ক্ষেত ছেলে ঢাকা শহরের হবে কি করে। কথাটা বলে সব গুলো মেয়ে জোরে জোরে হাসতে থাকে। রাফাত কেবল বোকার মতো করে চেয়ে আছে, সে বুঝতে পারছে না যে কেনো তারা অহেতুক এবাবে হাসতেছে। নিশিতা হাসি থামিয়ে বলে -- কোন ইয়ারে ভর্তি হয়েছিস তুই। (নিশিতা)



• ২য় বর্ষে। (রাফাত)




• তুই তাহলে আমাদের সাথেই পরিস কিন্তু তর সাথে আমরা ক্লাস করবো কিভাবে। এখনই শরীর থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছে পরে যাদি ক্লাসের আবার কি অবস্থা হয়। আচ্ছা তুই এখন আমাদের একটা কাজ করে দে,, দোকান থেকে কিছু শুকনা খাবার এনে দে তাড়াতাড়ি যা। (নিশিতা)




• আপু আমার ক্লাসে যেতে হবে, আমি আপনাদের কাজ টা করতে পারবো না। (রাফাত)



• রাফাতের কথাটা শুনে নিশিতা রেগে বলে -- তুই চিনিস আমাকে, কি আমার পরিচয়, কে আমার বাবা। (নিশিতা)



• আপু ঢাকা শহরে আমি নতুন কাউকে চিনি না। আপনার পরিচয় টা যদি আপনি নিজ থেকে দিতেন তাহলে ভালো হতো। (রাফাত)



• এখন আমি যা বলবো এটা মাথায় গেথে রাখ -- আমি নিশিতা, আমার বাবা এই শহরের কমিশনার। কলেজের সবাই আমাকে ভয় পায়, আমার অর্ডার  অমান্য করার কারো সাহস নেই। আজ থেকে কথাটা যেন মনে থাকে,, এখন তুই যেয়ে খাবার গুলো নিয়ে আয়। রাফাত নিজ জায়গা থেকে সরে না, সেখানে মাথাটা নিচু করে স্থীর হয়ে দাঁড়িয়ে আছে এটা দেখে নিশিতা রেগে রাফাতের বাম গালে কষে একটা চড় মেরে বলতে থাকে -- তকে কয় বার বলতে হবে এক কথা, তবুও তুই এখানে মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে আছিস, সমস্যা কি তর যা এখান থেকে। (নিশিতা) 




• রাফাত বাম গালে হাত দিয়ে মাথাটা নিচু করেই বলে -- আপু আমার কাছে টাকা নেই। (রাফাত)




• হাহাহাহাহা... জানতাম এটাই বলবি তুই যা এখান থেকে, তর মতো ফকিরের টাকা দিয়ে আমি কিছু খাবো এটা তুই ভাবলি কি করে। (নিশিতা)




“ রাফাত কিছু বলে না সবার চোখের আড়ালে স্বপ্নের রূপকথার হাসি দেয় যার মানে এই কলেজে কেউ তাকে চিনতে পারছে না। রাফাত ২য় বর্ষের ক্লাস রুম খুঁজতে খুঁজতে ক্লাসে প্রবেশ করে। ক্লাসের পরিবেশ টা কতিপয় নিরব কারণ এখন আশরাফ স্যারের ক্লাস। ইকোনমিকস ক্লাস নেয় এই স্যার খুবই গম্ভীর। ইকোনমিকসের স্যারেরা এমনিতেই গম্ভীর হয়ে থাকেন। কঠিন হয়ে থাকতে ভালোবাসে আশরাফ স্যার। হাসি তামাশা, ঠাট্টা, ফাজলামি তার একেবারে সহ্য হয় না। তার কথা হলো - হাসি তামাশাই যদি শিক্ষার্থীরা করবে, তাহলে পড়াশোনা করবে। কখন? পৃথিবী টা কোনো নাট্যশালা না যে হাসি- তামাশা করে লোক হাসাতে হবে। আশরাফ স্যারের দুর্ভাগ্য তার আশেপাশে মানুষজনের স্বভাব তার স্বভাবের একেবারে উল্টো। স্টুডেন্টরা অনেক কষ্টে স্যারের সামনে হাসি আটকিয়ে রাখে। কিছুক্ষণ পর আশরাফ স্যার ক্লাসে প্রবেশ করে সবাই তাকে দাঁড়িয়ে সম্মান জানায়। আজ সোমবার আশরাফ স্যার অর্থনীতির কিছু গুরুত্বপূর্ণ ট্রপিক নিয়ে আলোচনা করবে তাই সকল স্টুডেন্ট সাবধান হয়ে আছে। এবার আশরাফ স্যার শীতল গলায় বলতে থাকে ----




  • আজকে কি নিয়ে আলোচনা করবো মনে আছে সবার। (আশরাফ) 



  • সবাই একসাথে জবাব দেয় - জ্বি স্যার। 



  “ আশরাফ স্যার কিছু বলতে যাবে তখনই তার চোখের দৃষ্টি যায় সবার লাস্ট বেঞ্চে। চোখে মোটা ফ্রেমের স্টুডেন্ট চশমা, হালকা ময়লা শার্ট পড়ে আছে যার জন্য শরীরের রঙটা ভালো করে বুঝা যাচ্ছে না, গুটি শুটি মেরে নিচের দিকে তাকিয়ে বসে আছে। ছেলেটাকে দেখে মনে হচ্ছে কোনো অসহায় পথিক এখানে এসে বিশ্রাম করার জন্য আশ্রয় নিয়েছে। ক্লাসের সময় কেউ অমনোযোগী হয়ে থাকবে এটা আশরাফ স্যার সহ্য করতে পারে না, তাই তিনি গম্ভীর মুখো হয়ে একটু শব্দ করে বলে --




  • এই কে তুমি?  আমার ক্লাসে নতুন মনে হচ্ছে। (আশরাফ) 



 হঠাৎ এরকম হুংকারে কম বেশি সবাই ভয় পেয়ে যায়। রাফাত নিজেকে স্বাভাবিক করে সামনের দিকে চেয়ে দেখে আশরাফ স্যার রাগি দৃষ্টিতে চেয়ে আছে। এটা দেখে রাফাত হালকা ভয়কাতর চোখে স্যারের দিকে তাকায়, আশরাফ স্যার আবারও বলে --



  • এই ছেলে তুমাকেই বলছি, এমন চুপ হয়ে বসে আছ কেনো, আমার প্রশ্নের জবাব দেও। (আশরাফ) 



  • রাফাত করুন দৃষ্টিতে চেয়ে নরম গলায় বলে - স্যা...স্যার আমি নতুন ভর্তি হয়েছি। আজই প্রথম ক্লাস তাও আবার আপনার বিষয়। (রাফাত)



  

  • বুঝতে পারছি, কিন্তু তোমার জামার অবস্থা এমন কেনো। মনে হচ্ছে জামা কাপড় কাঁচার সময় পাও না। তোমার সাথের ক্লাসমেট গুলোর জামা দেখছো কত পরিষ্কার, তারা কতো পরিপাটি হয়ে এসেছে ক্লাসে, কাল থেকে ভালো জামা পড়ে আসবে। (আশরাফ) 



  • স্যারের কথা শুনে রাফাত মুচকি হেসে বলে -- স্যার বর্তমান বিশ্বে জাতিতে জাতিতে বিভেদ ও বিচ্ছেদ একটি নিত্যনৈমিওিক ঘটনা। এর মধ্যে আবার উচু নিচুর বিভেদ। এবং এর মূলে আছে একটি শ্রেণির ক্ষমতা ও অধিকার লাভের হীন প্রচেষ্টা। আমি গরীব আমার যা আয় তা দিয়ে আমি চলি এখন ভালো ড্রেস টা আমার প্রয়োজন না। আমার সকল ড্রেস এরকমই ময়লা হালকা ছেড়া, কাপড় কাঁচলেও এমন থাকে। (রাফাত)




  • রাফাতের কথার মানে কিছুটা স্যার বুঝতে পারছে। তাই তিনি আবারো বলে -- মানুষ চাইলেই সব পারে তুমিও চেষ্টা করে দেখতে পারো। (আশরাফ) 



  • স্যার দারিদ্র্যের নির্মমতায় যে মানুষ বিড়ম্বিত, বিওবান আত্নীয়ের সম্পর্কে তার ক্ষোভের শেষ নেই। বিওবান চিরকাল বিওহীনকে তাচ্ছিল্য করে অস্বীকার করে। অর্থশালীর সাথে তার যে একটা রক্তের সম্পর্ক রয়েছে, সেই ঘনিষ্ঠ আত্নীয়তার কথাটি সে সবসময় অর্থশালীকে স্মরণ করিয়ে দিতে চায় এবং তার দ্বারস্থ হয়ে কিছু না পেলে তাকে স্বার্থপর বলে ধিক্কার দিতে থাকে। (রাফাত)




রাফাত কথা গুলো বলে থামে কতক্ষণ আগে  আশেপাশে অনেকেই হাসাহাসি করছিলো কিন্তু এখন পরিবেশ যেন থমকে গেছে পিনপিন নিরবতা বিরাজ করছে শুনা যাচ্ছে কিছু মানুষের নিশ্বাস ফেলার নিরব শব্দ। রাফাতের কথা গুলো  যেন সবার বুকে যেয়ে আঘাত করেছে। আশরাফ স্যার অনেক কঠিন মনের মানুষ কিন্তু আজ রাফাতের কথা শোনে উনার মন হালকা গলেছে কিন্তু তিনি এটা কাউকে প্রকাশ করে না। এবার সবার নিরবতা ভেঙে আশরাফ স্যার বলতে শুরু করে ---




  • তোমার নাম কি? কোথা থেকে এসেছো? তোমার কথা গুলো অনেক সুন্দর, আমার ভালো লেগেছে!! (আশরাফ) 




  • হিহিহিহি...স্যার আমার নাম টা অনেক ছোট রাফাত কিন্তু অনেকের কাছে আমার নামটাই অমঙ্গলের প্রতীক। আর আমার বাসা কুমিল্লার ছোট একটা গ্রামে। (রাফাত)




 “ আশরাফ স্যার বেশি কথা বলতে বা শোনতে পছন্দ করে না। তাই তিনি সেই প্রসঙ্গে আর কথা না বাড়িয়ে ক্লাসের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা শুরু করে। রাফাতের ড্রেস আর কথা বলা চলাফেরার স্টাইল দেখে অনেকে হাসাহাসি করছে অনেকে আবার কটু কথা বলছে সে কাউকে তেমন কোনো শক্ত জবাব দিতে পারছে না, কোনো এক বিশেষ কারণে। নিন্দা না থাকলে পৃথিবীতে জীবনের গৌরব কি থাকত? নীরব ভাষায় বৃক্ষ আমাদের সার্থকতা গান গেয়ে শোনায়। অনুভূতির কান দিয়ে সে গান শোনতে হবে। তাহলে বুঝতে পারা যাবে, জীবনের মানে বৃদ্ধি, ধর্মের মানেও তাই। প্রকৃতির যে ধর্ম মানুষেরও সে ধর্ম। পার্থক্য কেবল তরুলতা ও জীবজন্তুর বৃদ্ধির ওপর তাদের নিজেদের কোনো হাত নেই, মানুষের বৃদ্ধির উপরে তার হাত রয়েছে। আর এখানেই মানুষের মর্যাদা। মানুষের বৃদ্ধি কেবল দৈহিক নয়, আত্নিকও। মানুষ কে আত্না সৃষ্টি করে নিতে হয়, তা তৈরি পাওয়া যায় না। সুখ দুঃখ বেদনা উপলব্ধির ফলে অন্তরের যে পরিপক্বতা, তাইতো আত্না।  দুপুরের কড়া রোদ্রে কুয়াশা কেটে গেছে, এখন হালকা গরম লাগছে, শহরটা ঘনবসতি থাকার কারণে শীতটা এত পরিমাণে ফেস করা যায় না। রাফাত কলেজ থেকে বের হয় গেটের সামনে দাঁড়িয়ে আছে, রাস্তা ফাঁকা। রাফাত ব্যাগ থেকে সিগারেটের পেকেট বের করলো মাএ দুইটা সিগারেট আছে, সে পরপর দুইটা সিগারেট শেষ করলো। এর মধ্যে মাএ একটা রিকশা গেল। কিছুদিন আগেও দুপুর বেলায় রিকশার যন্ত্রণায় হাঁটা যেত না। রাফাত রাস্তার মোড় পর্যন্ত গেলো। সামনেই একটা ছোট দোকান দেখা যাচ্ছে যেটাতে চা, পান আরো কিছু জিনিস রয়েছে, রাফাত দোকানের সামনে দাঁড়ায়, এবার সে দোকানদার টা কে বলতে শুরু করে ---




  • চাচা বিত্রুি বাটা কেমন হয়? (রাফাত)




  • আর বিত্রুি। কিনব কে? কিনার মানুষ আছে? (দোকানী) 




  • দেখি একটা বেনসন সিগারেটের পেকেট দেন! (রাফাত)




 “ রাফাতের এখনো দুপুরের খাওয়া হয় নি, এক্ষুণি গিয়ে খেতে হবে। একটা দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে থাকার কোনো মানেই হয় না। ব্যাপার টা সন্দেহ জনক, এখন সময় খারাপ। আচার আচরণে কোন রকম সন্দেহের ছাপ থাকা ঠিক না। রাফাত দোকানদারের দিকে ভালো করে খেয়াল করলো তার মাথায় ঝুটি বিহীন একটা লাল ফেজ টুপি। কোথা থেকে জোগাড় করেছে কে জানে। চিবুকের কাছে অল্প দাঁড়ি, তাও আবার হালকা পেকে গেছে। 




  • দাম কত হয়েছে টাকা। (রাফাত)



  • দেও তুমি বাবা, তোমরা তো প্রতিনিয়ত সিগারেট খাও তবুও আমি কেন বলবো। (দোকানী) 




এবার রাফাত পিছনের পকেট থেকে একটা মানিব্যাগ বের করে তার থেকে কচকচে একটা পাঁচশত টাকার নোট বের করে দোকানদারের সামনে এগিয়ে দেয়। দোকানি নোট টা ভালো করে দেখে বলে ---





## চলবে ##




[ আমার গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা শেষ না করে গল্প টা লিখছি আশা করি সবাই একটা করে ভালো মন্তব্য করবেন। আরেক টা কথা এই গল্পের পরের পাঠ গুলো এই গ্রুপে না দেওয়ার সম্ভবনা বেশি,, পরবর্তী পাঠ গুলো আমার অফিসিয়াল ফেসবুক গ্রুপে দিবো ] ধন্যবাদ 





 wait for the next part. 


Monday, July 19, 2021

টোকাই যখন মাফিয়া ... পর্র--৫.. RAJA Bhuiya. (মি. 440)

মাফিয়া সিরিজ 



# টোকাই যখন মাফিয়া কিং 

# RAJA Bhuiyan (মি.440)

# পর্ব: ৫  (শেষ পর্ব) 


.............



রকির এমন কথা শুনে নাহিদ ভয় পেয়ে যেয়ে রকির পা জড়িয়ে ধরে বলে --- ভাই আমি আপনাকে চিনতে পারি নি, আমার ভুল হয়ে গিয়েছে প্লিজ ভাই আমাকে মাফ করে দেন। (নাহিদ)




• রকি তার জলন্ত সিগারেট টা নাহিদের ডান হাতে চেপে ধরে। নাহিদ ভয়ে ও ব্যাথায় জোরে চিৎকার দিয়ে উঠে । এটা দেখে রকি ঠোঁটের কোনে হাসির ঝলক রেখে বলতে থাকে -- কি রে কেমন লাগে জলন্ত আগুনের ছেঁকা। আমাকে মারা এতো সহজ না, আমি তকে আজ মারবো না কারণ মশা মেরে হাত কালো করার কোনো প্রশ্নই আসে না। দুইটা স্টীক আর পাঁচ ছয়টা ছেলে নিয়ে বখাটেদের মতো মাস্তানী করা যায় কিন্তু মাফিয়া কিং হওয়া যায় না। মাফিয়া কিং হতে হলে বখাটে নয় মাইন্ড গেম খেলতে হবে। মাফিয়া জগৎ টাই এমন হয় মরো নয়তো শত্রুকে মারো,, এখানে যে যত বেশি ভালো করে মাইন্ড গেম খেলতে পারবে সে ততক্ষণ বেঁচে থাকতে পারবে। নাহিদ তুই আমাকে চিনবি কিভাবে আমি তো কখনো নিজের আসল পরিচয় নিয়ে মানুষের সামনে আসি না। তকে আজ মাফ করে দিবো তবে তুই গরীবদের  দেখতে পারিস না এই জন্য ছোট একটা শাস্তির ব্যবস্থা আছে। (রকি)





• ভাই আমি আপনার সম্পর্কে প্রকাশিত নোবেল থেকে জেনেছি আপনি অনেক ভয়ানক, আপনার চোখের ইশারায় মানুষের গলা পড়ে যায়, প্লিজ ভাই আমাকে প্রাণে মারবেন না আমি আপনার সব শাস্তি মানতে রাজি আছি। (নাহিদ)





• রকি হাতটা সামনের দিকে বাড়ায় একটা ছেলে রকির হাতে স্টীক টা দেয়। রকি স্টীক টা হাতে  নিয়ে, নিচে পরে থাকা নাহিদের ডান পায়ে একটা জোরে বারি মারে। নাহিদ জোরে চিৎকার করে কিন্তু নাহিদ কে বাঁচাতে কেউ সামনে আসে না। রকি হাসতে হাসতে বলে -- কি রে স্টীকের বারি কেমন লাগে। (রকি)





• ভাই আমাকে আর মারবেন না। আমার অনেক বড় ভুল হয়ে গেছে, আমার দ্বারা এমন ভুল আর কখনো হবে না। আমাকে ছেড়ে দেন প্লিজ আমি কারো সাথে আর এমন করবো না। (নাহিদ)





• রকি নাহিদ কে আর কিছু না বলে আবিরের কাছে যেয়ে বলে -- আবির তুই এমন ভয় পেয়ে আছিস কেনো। (রকি)





• আবির ভয়কাতর চেহারা নিয়ে করুন কন্ঠে বলে -- ভাই আমিও আপনাকে চিনতে পারি নি,, আপনার সাথে না বুঝে কত কিছু বলে ফেলেছি আমাকে মাফ করবেন প্লিজ। (আবির)





• আবির তুই আমার বন্ধু, ভার্সিটিতে এসে প্রথম তর সাথেই বন্ধুত্ব করেছি। তর মধ্যে ভালো গুন রয়েছে যা ভার্সিটির কারো মধ্যে নেই। আমার আসল পরিচয় টা আরো আগেই তকে বলতাম কিন্তু কোনো এক অজানা কারণে সেটা আর বলা হয় নি। আজ আমাকে যেতে হবে তর সাথে আবার দেখা হবে। (রকি)





 রকি কথাটা বলে ব্ল্যাক কালারের গাড়ি তে যেয়ে বসে। ক্যাম্পাসের কম বেশি সবারই রকির প্রতি ভয় সৃষ্টি হয়েছে। রকি গাড়ি টা স্টার্ট দেয় মোবাইলে একটা কল আসে মোবাইলের স্ক্রিনে স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে 'সাদ্দাম' রকি মুচকি হেসে মোবাইল টা কানে লাগায়। ফোনের ঐই পাশ থেকে সাদ্দাম গম্ভীর গলায় বলতে থাকে..... 





• রকি আজকে তুমি আমার সাথে দেখে করবে সেটাও আবার রাতে। (সাদ্দাম)




• রকি একটু ভাবে যে সাদ্দাম ভাই তো কখনো ফোন দিয়ে দেখা করার জন্য ডাকে না, তাহলে আজ কি হলো,, রকি সাদ্দাম কে জিজ্ঞেস করে -- সাদ্দাম ভাই আপনি তো কখনো ফোন দিয়ে দেখা করার জন্য আমাকে ডাকেন না তাহলে আজ হঠাৎ এমন করে নিয়ম ভাঙার কারণ কি?? (রকি)





• ফোনের ঐই পাশ থেকে সাদ্দাম হাসতে হাসতে বলে -- রকি আজ তুমার আমার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটা দিন,, আজ আমাদের দেখা করা টা বেশি জরুরী তাই ফোন দিয়েই ডাকলাম তুমাকে। (সাদ্দাম)





• রকি হালকা অবাক হয় কারণ সাদ্দাম আজ রহস্যময় কথা বলছে যা রকি নিজেও ব্যাখা করতে পারছে না তাই সে জিজ্ঞেস করে -- সাদ্দাম ভাই আজ আপনি এমন রহস্যময় কথা বলছেন কেন, জীবনের গুরুত্বপূর্ণ দিন মানে বুঝতে পারছি না। (রকি)





• হাহহাহাহাহা,,, সব সময় দেখে আসছি তুমি রহস্যময় কথা বলো যার ব্যাখা আমি নিজেও করতে পারি না। আজ না হয়  আমি রহস্যময় কথা বললাম তুমি তার ব্যাখা বের করে চলে আসো। (সাদ্দাম)





• কোথায় দেখা করতে হবে। (রকি)





• সেই আগের জায়গায় যেখানে থাকবে না কোনো তৃতীয় ব্যাক্তির আগমন,, কথা হবে তুমার আর আমার চলে এসো,, তুমার জন্য সারপ্রাইজ আছে যা তুমি কখনো কল্পনা করতে পারবে না। (সাদ্দাম)





• রকি কিছু বলতে যাবে এর আগেই সাদ্দাম ঐই পাশ থেকে ফোনটা কেটে দেয়। রকি বুঝতে পারছে না আজ তার সাথে কি হতে চলেছে। তাই সে গাড়ির স্টেয়ারিং এর দিকে মন দেয়।








“ সময় টা রাত ১১ টা ৩০ মিনিট রকি তার ব্ল্যাক কালারের R15. V3 টা নিয়ে সাদ্দামের দেওয়া জায়গায় যাচ্ছে। শহর থেকে খানিকটা দূরে জায়গা টা, রাস্তার অবস্থা বেশি একটা ভালো না, রকির বাইকের আলোয় স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে কিছু গাড়ি এখান দিয়ে গিয়েছে,, গাড়ির চাকার ছাপ এখনো স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে। রকি দেখতে পারছে  কিছু দূরে কয়েকটা গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে একটা গাড়ির লাইট জ্বলে আছে যার কারণে সামনের জায়গা টা বুঝা যাচ্ছে। রকির বাইকটা এসে থামে সেই গাড়ি গুলোর কাছে আশেপাশে সারি সারি গাছ, পাশে বড় একটা রাস্তা, তার পাশে ছোট খাটো একটা পুকুর, চাঁদের আলো এসে পুকুরে পড়ছে আর পুকুরে আলো প্রতিফলিত হয়ে জায়গা টা আলোকিত হয়ে উঠছে। রকি পরিবেশের অবস্থা টা দেখে সামনে চেয়ারে বসে থাকা সাদ্দামের দিকে যায়। সাদ্দাম একটা চেয়ারে বসে আছে সামনে একটা ছোট টেবিল তার ঐই পাশে আরেকটা চেয়ার। রকি যেয়ে খালি চেয়ারে পায়ের উপর পা তুলে আরাম করে বসে। কারো মুখে কোনো কথা নেই,  দুজনের মধ্যে নিরবতা বিরাজ করছে। নিরবতা ভেঙে প্রথমে রকি বলে ---





• সাদ্দাম ভাই এখানে ডাকার কি কারণ। (রকি)




• সাদ্দাম রকির দিকে ভালো করে চেয়ে দেখে শরীরে বড় একটা কালো কোর্ট, মাথায় বড় হুড ওয়ালা টুপি, মুখে কিছু নেই শুধু বুঝা যাচ্ছে সাদা মুখে কালো চাপ দাঁড়ি। সাদ্দাম টেবিলের উপর রাখা সিগারেটের পেকেট থেকে একটা সিগারেট বের করে তার ঠোঁটে চাপে, লাইটার দিয়ে সিগারেটে আগুন লাগায় জোরে একটা টান দিয়ে। সিগারেটের পেকেট আর লাইটার টা রকির দিকে ঢিল মারে। সাদ্দাম মুচকি হেসে বলে -- রকি তুমাকে আজ অনেক কারণে ডাকা হয়েছে, কথা গুলো শুনতে নিজেকে প্রস্তুত করো। (সাদ্দাম)





• রকি তার সামনে থেকে সিগারেটের পেকেট থেকে একটা সিগারেট বের করে জ্বালায়,, জোরে একটা টান দিয়ে বিষাক্ত ধোঁয়া গুলো উপরের দিকে ছেড়ে বলতে থাকে -- রকি কথা শুনতে নিজের সব সময় প্রস্তুত রাখে নয়তো এখন পর্যন্ত এখানে আসতে পারতো না,, আপনি বলতে পারেন কি বলতে চান আমি শুনতে প্রস্তুত। (রকি)





• রকি তুমার নাক দিয়ে সিগারেটের ধোঁয়া ছাড়ার অভ্যাস আর গেলো না। আচ্ছা তুমি আমাকে এটা বলো যে আমার এমপি নির্বাচন করার কি ব্যবস্থা করলে। (সাদ্দাম) 




• রকি আবারো নাক দিয়ে ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে বলে -- আমি এখন যেই কথাটা বলবো আপনিও নিজেকে প্রস্তুত করে নেন কথাটা শুনার জন্য। (রকি)




• রকি তুমার সাথে থাকতে থাকতে তুমার মতো হয়ে গেছি,, তুমি বলো!! (সাদ্দাম)




• সাদ্দাম ভাই আপনি এমপি নির্বাচন করতে পারবেন না। (রকি)




• কথাটা শুনে সাদ্দাম জোরে জোরে হাসতে থাকে আর বলে -- আমি জানতাম তুমি এমনই কিছু একটা বলবে।(সাদ্দাম)





• রকি ব্রু কুঁচকে বলে -- আমি এমন কিছু বলবো এটা আপনি জানতে কি করে। (রকি)




• নিজের বাবাকে কেউ নিজ হাতে মারতে পারে,, এমন সৎ সাহস তো কারো নেই, ঠিক বল্লাম তো আমি। (সাদ্দাম)




• রকি অবাক হয়ে যায় সাদ্দামের মুখে এমন কথা শুনে। রকি ভাবতে থাকে কিভাবে এটা সম্ভব। তাই সে প্রশ্ন করে ফেলে --- সাদ্দাম ভাই আপনি এগুলো কি বলছেন। রফিক চৌধুরী আমার বাবা হতে যাবে কেনো। ওনি ভালো মানুষ আর গরীব দুঃখীদের পাশে থাকে ভালো রাজনীতি করে তাই তাকে আমি তার সম্মানিত চেয়ার থেকে উঠাতে পারবো না। (রকি)





• হাহাহাহাহহা,,, রকি তোমার কি ছোট বেলার কথা মনে পরে। কোথায় ছিলে ছোট একটা বসতিতে থাকতে তুমার অসুস্থ মা কে নিয়ে। আর আজ আমি তুমাকে কোথায় নিয়ে এসেছি, চাইলেই কিন্তু আমি মাফিয়া কিং হতে পারতাম,, আমি তা করি নি ছোট সেই টোকাই ছেলেটা কে রাস্তা থেকে তুলে এনে বানিয়ে দিলাম মাফিয়া কিং। আর আজ সে আমার হয়ে কাজ করছে না আমার কথা শুনছে না, তাহলে এতে লাভ কি আমার। (সাদ্দাম)





• দেখেন সাদ্দাম ভাই আপনার উপকারের  কথা আমার মনে আছে কিন্তু একজন ভালো মানুষ কে আমি মারতে পারবো না। এখন যদি এটা করে আমি আপনার কথা অমান্য করি তাহলে এতে আমার কিছু করার নেই। (রকি)





• রকির কথা শুনে সাদ্দাম রেগে বলে -- রকি তর বাবার কথা কি মনে আছে। ঢাকার টপ ধনী ছিলো তর বাবা, আমার কাছের বন্ধু ছিলো তর বাবা,, শুনবি কিভাবে কি হয়েছিল তর বাবার সাথে তর মায়ের। (সাদ্দাম)





• রকি যেন বিশ্বাস করতে পারছে না সাদ্দাম ভাই এর কাছের বন্ধু তার বাবা। তবে বুঝ হওয়ার পর রকি কখনো দেখেনি তার বাবাকে। মায়ের কাছ থেকে শুনেছিলো তার বাবা নাকি অনেক ধনী ছিল। রকির অনেক জানার আগ্রহ ছিলো তার বাবার সম্পর্কে জানা কিন্তু তা আর হয়ে উঠে নি,,, তার আগেই অল্প বয়সে রকির মা  ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। শুরু হয়ে যায় রকি টোকাই জীবন,, বসতির কিছু ছেলের সাথে মিলে বোতল  টুকাই করতো। রকির যখন ১০ বছর বয়স তখন থেকেই সাদ্দাম এর সাথে পরিচয় আজ মাফিয়া কিং হওয়ার পিছনে সাদ্দামেরই অবদান আছে। রকি একটু আবেগ ময় হয়ে সাদ্দামকে উদ্দেশ্য করে বলে -- সাদ্দাম ভাই আমার অনেক জানার আগ্রহ ছিলো কে আমার বাবা কি আমার পরিচয় কিন্তু এখনো তা জানা হলো না। আপনি এখন আমাকে সব বলবেন। (রকি)





• সাদ্দাম মুচকি হেসে বলে -- তর বাবা ছিলো এই শহরের টপ ধনীর মধ্যে একজন আমাদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ন সম্পর্ক ছিলো। ভার্সিটি তে থাকতে আমি একটা মেয়ে কে ভালোবাসতাম কিন্তু সেই মেয়েকে আমি নিজের করে পাই নি কারণ শুধু একমাত্র তর বাবা। আমি যেই মেয়েকে ভালোবাসতাম তর বাবাও সেই মেয়েকে ভালোবাসতো,, মেয়েটা ছিলো গরীব তাই কেউ মেয়েটাকে মেনে নেয় নি বাদ্য হয়ে তারা দুজন পালিয়ে বিয়ে করে। কিছু বছর পর তুই পৃথিবীতে আসিস,, তর মা-বাবার সম্পর্কটা ভালোবাসায় পরিপূর্ণ ছিলো, যা আমার সহ্য হয় না, তাই একটা গেম খেলে তাদের সংসারে ভেঙে দেই। তর বাবা তকে আর তর মাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়, আমি গিয়েছিলাম তর মার কাছে কিন্তু সে আমাকে ফিরিয়ে দেয়। তর সম্পর্কে আমি সব জানতাম চেয়েছিলাম তকে একদিন মাফিয়া কিং বানাবো আমার হয়ে কাজ করবি তুই, তকে দিয়েই তর বাবাকে মারতে চেয়েছিলাম আমি কিন্তু তুই তাকে মারবি না। তাই আজকে তকে এখানে ডাকা। (সাদ্দাম)





• রকি এতক্ষণ মন দিয়ে সাদ্দামের কথাগুলো শুনছিলো। রকির হাতের সিগারেট টা পুড়ে প্রায় শেষ তবুও রাগে সে জলন্ত সিগারেটে হাত চেপে ধরে আছে। সামনে থেকে সিগারেটের পেকেট থেকে  আরেকটা সিগারেট বের করে টানতে থাকে। এভার বেশ গম্ভীর গলায় রকি বলে -- আমার বাবার নাম কি,, কি তার পরিচয়। (রকি)




• হিহিহিহিহি,,,,বাবার সম্পর্কে জানার আগ্রহ অনেক। তর বাবা হচ্ছে এই শহরের এমপি রফিক চৌধুরী যাকে মারার জন্য তকে বলেছিলাম। (সাদ্দাম)




** সাদ্দামের কথা শুনে  রকি বসা থেকে উঠে দাঁড়ায় পিছন থেকে একটা পিস্তল বের করে সাদ্দামের দিকে তাক করে,, সাদ্দাম রকি কে কিছু বলে না,, সাদ্দাম টেবিলের উপর হালকা ভর দিয়ে সিগারেটের পেকেট আর লাইটার টা নিয়ে পেকেট থেকে একটা সিগারেট বের করে ঠোঁটে লাগায়, মুচকি হাসে কিন্তু কিছু বলে না। রকি অবাক হয়ে যায় সাদ্দামের এমন নিরবতা দেখে,, রকি শত্রুকে সামনে রেখে সময় নষ্ট করতে চায় না তাই সে ট্রিগারে চাপ দিবে এমন সময় কেউ পিছন থেকে শক্ত কিছু দিয়ে রকির মাথার পিছনে আঘাত করে। রকির হাত থেকে পিস্তল টা পরে যায়, ডান হাত টা মাথার পিছনে চলে যায়, মাথায় ফেটে রক্ত বের হচ্ছে, রকি  নিচে পরে যায়। সাদ্দাম হাসতে হাসতে রকি মাথার কাছে নিচু হয়ে দেখে রকির শ্বাস এখনো চলছে।**





• সাদ্দাম বসা থেকে উঠে দাঁড়ায় সিগারেট টানতে টানতে বলে -- কতগুলো খুন করে মানুষ কে ভয় দেখিয়ে আসল মাফিয়া হওয়া যায় না। আসল মাফিয়া হতে হলে মাস্টার মাইন্ড থাকা লাগে,, বুকের ভিতর সাহসের প্রয়োজন হয়,, যা এই রকির ভিতর নেই। (সাদ্দাম)




“ তকে পাহাড়া দেওয়ার জন্য পালা কুত্তার প্রয়োজন হয় কিন্তু আমি একাই একশ ” রকি কথাটা বলই নিচে পরে থাকা পিস্তল টা হাতে পর পর পাঁচ টা গুলি করে,, আশেপাশে দাঁড়ানো বডিগার্ড গুলোর কারো বুকে কারো কাপালে যেয়ে লাগে,, সাদ্দামের পাশে থাকা দুইটা ছেলে গুলো করতে যাবে এর আগে রকির পিস্তল থেকে দুইটা বুলেট বের হয় দুটা বুলেটই যেয়ে তাদের কপালে লাগে। সাদ্দাম এগুলো দেখে ভয় পেয়ে যায়,, সাদ্দামের হাতে থাকা অর্ধেক পুড়া সিগারেট মাটিতে পরে যায়। রকি এক লাফে নিচ থেকে উঠে চেয়ার টা টান দিয়ে পায়ের উপর পা তুলে বসে একটা সিগারেট জ্বালায়। সিগারেটের বিষাক্ত ধোঁয়া গুলো নাক দিয়ে ছাড়তে থাকে। 





• রকি দেখ সবাই কে শেষ করলেও আমাকে তুই কিছু করতে পারবি না। কারণ তকে আমি এত টুকু পর্যন্ত নিয়ে এসেছি,, তুই আমাকে মারবি না। (সাদ্দাম)





• সাদ্দাম যেন কথাটা শেষ করতে পারছে না এর আগেই রকি একটা গুলি করে,, বুলেট টা যেয়ে সাদ্দামের ডান পায়ে লাগে, সাদ্দাম ব্যাথায় চিৎকার দিয়ে ওঠে,, রকি হাসতে হাসতে বলে -- মাইন্ড গেম তুই খেলতে পারিস নি তুই আমাকে নিয়ে মাইন্ড গেম খেলতে যেয়ে আমার মাইন্ড গেমের গুটি হয়ে গিয়েছিস। আমার মা মরার আগে বলে গিয়েছিলো একটা বেইমান আমাদের সুখের সংসার ধ্বংস করে দিয়েছে তার নাম সাদ্দাম খান ঢাকার ছোট একটা রাজনৈতিক দলের লিডার । তখন বেইমান কি এটা বুঝি নি, শুধু সাদ্দাম নাম টা মনে রেখেছি, পৃথিবীর যেখানে থাকুক তাকে খুঁজে বের করে মারাটা আমার টার্গেট ছিলো। কিন্তু দশ বছর বয়সেই তর সাথে দেখা চেয়েছিলাম সেখানেই তকে মেরে দিবো,, আমি তা করি নি তর একটা অফারের কথা শুনে নিজের মাইন্ড টা কে শান্ত করে মাস্টার মাইন্ড গেম খেলতে থাকি। আমি যার হাতে তৈরি তাকে আজ নিজ হাতে মারবো আমার মায়ের মৃত্যুর প্রতিশোধ নিবো। (রকি)





• রকি তুই আমাকে মারতে পারবি না কারণ তর একটা দুর্বল জিনিস আমার কাছে আছে। (সাদ্দাম)





• যার হারানোর কিছু নেই, তার ব্যাপারে সর্তক থাক,, আমার দুর্বল কোনো জিনিস নেই। (রকি)




• হিহিহিহি,, মনে করে দেখ ভার্সিটির একটা মেয়ে নাম মনে হয় মিম,, তুই পছন্দ করিস মেয়েটাকে। মেয়েটা তকে চিনেও না,, তর জীবনে কোনো দুর্বল পয়েন্ট নেই কিন্তু পছন্দের জিনিস টা তর মন কেরেছে এটা তর একটা দুর্বল পয়েন্ট। মেয়েটাকে নিবি আমাকে ছেড়ে দিবি, রাজি থাকলে ডিল ফাইনাল কর। (সাদ্দাম)





• রকি মেয়েটার কথা চিন্তা করে সাদ্দামের দেওয়া অফারে রাজি হয়ে যায়। মিম কোথায় সেটা বল তারপর তকে ছেড়ে দিবো। (রকি)




• সাদ্দাম নিচ থেকে কষ্ট করে উঠে মুচকি হেসে রকি কে বলে-- প্রথম ব্ল্যাক কালারের গাড়ির ভিতর আছে। (সাদ্দাম)




“ কথাটা বলার জন্য ধন্যবাদ তবে রকি বেইমানি করতে একটু বেশি পছন্দ করে তাই তর দেওয়া অফার টা নিয়ে তকে ক্রেডিট না দিয়েই বিদায় করে দিবো। গুড বায় কথাটা বলে রকি আরেকটা গুলি করে, বুলেট টা যেয়ে সোজা সাদ্দামের কপাল বরাবর লাগে, সাদ্দাম নিচে পরে যায় কপাল দিয়ে তার রক্ত পড়তে থাকে। পরিবেশ টা যেন থমকে আছে আশেপাশে জি জি পোকার ডাক, হিমেল হাওয়ার বয়ে যাচ্ছে, চাঁদের আলোয় রাত টা আরো বেশি মোহনীয় করে তুলছে। রকি ব্ল্যাক কালারের গাড়ির দরজাটা খোলে দেখে ভিতরে মুখ, হাত, পা বাঁধা অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে আছে মিম। মিমকে পাজা কোলে নিয়ে রকি তার বাইকে বসায়,, রকি বাইক টা সার্ট দেয় রওনা হয় অজানা এক গন্তব্যের উদ্দেশে। 




   ------------------- সমাপ্ত ------------------




[ আমার পরীক্ষার জন্য গল্প টা অল্পতেই মিলিয়ে দিলাম তার জন্য দুঃখীত। আর সবাই কে ঈদের দাওয়াত রইলো,, আমার প্রোফাইলে ঠিকানা দেওয়া আছে সবাই ইনশাআল্লাহ চলে আসবেন। ধন্যবাদ 

Saturday, July 17, 2021

টোকাই যখন মাফিয়া কিং--পর্ব:- ৪ -- RAJA Bhuiya. (মি.440)

মাফিয়া সিরিজ 



# টোকাই যখন মাফিয়া কিং 

# RAJA Bhuiyan. (মি.440)

# পর্ব:- ৪


.... ...........




• ভাই আমি ভুল করে ফেলেছি আমাকে মাফ করে দেন, আমাকে ছেড়ে দেন প্লিজ, আমার দ্বারা দ্বিতীয় বার আর এমন ভুল হবে না। (আরিয়ান)




• আরিয়ানের এমন কথা শুনে রকি উচ্চ সরে হাসতে হাসতে বলে -- তকে কি ধরে এনেছি ছেড়ে দেওয়ার জন্য। দ্বিতীয় বার যাতে আর এই ভুল না করতে পারিস সেই ব্যাবস্থা করার জন্য ধরে এনেছি তকে। (রকি)





• আরিয়ানের কাছে রকির কথা মুটেও ভালো লাগতেছে না, সে বুঝে ফেলেছে তার সময় শেষ আজকে। সামনে ভয়ংকর রকি কে দেখে বুঝা যাচ্ছে আরিয়ানের মৃত্যু যেন এখন মাথার উপর, আর কিছুক্ষন তারপরই তার চিরদিনের জন্য নিথর হয়ে যাওয়া। আরিয়ান ভয়কাতর চেহারা নিয়ে করুণ কন্ঠে বলে -- ভাই আমাকে ছেড়ে দেন, আমি ঐই বসতি টা আবার ওদের দিয়ে দিবো, প্লিজ বিশ্বাস করেন আমাকে৷ (আরিয়ান)





• আরিয়ান তকে একটা গল্প শুনাই। শহরে গরীব একটা ছেলে ছিলো যার বাবা মা কেউ নেই পৃথিবীতে সে এতিম, ছেলেটা তার পেটের ক্ষুধা মেটানোর জন্য ছোট একটা চা স্টলে+ হোটেলে  কাজ করতো। তার কাজ ছিলো টেবিল পরিষ্কার করা আর প্রতিটা টেবিলে যেয়ে খাবার সার্ভ করা। কিন্তু হটাৎ করে একদিন  ছেলেটা কাস্টমার কে পানি দিতে যেয়ে কারো সাথে ধাক্কা গেলে হাতের গ্লাস টা সেই লোকটার উপর পরে। গ্লাসের পুরো পানি টা লোকটার শার্টের উপরের পরার কারণে সে ছেলেটা কে কষে তিনটা চড় দেয় আর খাবাপ ভাষা বলে গালি দিতে থাকে। মৃত মা - বাবাকে গালি দেওয়ায় ছেলেটা তা সহ্য করতে না পেরে নিচে পড়ে থাকা ভাঙা অর্ধেক গ্লাস টা দিয়ে লোকটার গলায় চালিয়ে দেয়। দোকানের মালিক ভয় পেয়ে যায় এটা দেখে তাই সে পুলিশ কে ফোন দিয়ে ছোট ছেলেটা কে ধরিয়ে দেয়। কথা গুলো বলে থামে রকি,, সামনে থাকা টেবিলের উপর সিগারেটের পেকেট টা হাতে নিয়ে তার থেকে একটা সিগারেট বের করে  নিজের ঠোঁটে চাপে,, জলন্ত সিগারেটে  যেন রকির ঠোঁট জোরা পুরে যাচ্ছে তবু সে থেমে নেই এক মনে সিগারেট টানছে। রকি এভার একটু রহস্যময়ী হয়ে বলে -- আরিয়ান আমার গল্প টা শুনে কি তর কিছু মনে পরছে। (রকি)





• আরিয়ান রকির কথা শুনে অনেক টা অবাক হয়ে যায় করণ রকি এতক্ষণ আরিয়ানের ছেলে ভেলার গল্প বলছিলো। প্রতিদিন রাতে ঘুমাতে যাওয়ার সময় আরিয়ান চোখ জোরা বন্ধ করলেই ছোট ভেলার কিছু দৃশ্য তার চোখের সামনে ভেসে বেড়ায়। আরিয়ান যতই অতীত কে ভুলতে চায় কিন্তু অতীত তাকে তত হ্রাস করে ফেলে চাইলেও যেন এটা সে ভুলতে পারে না। সে অবাক হয়ে রকিকে জিজ্ঞেস করে -- কে তুই আর তুই আমার ছোটবেলার কথা জানিস কিভাবে। (আরিয়ান)




• রকি সিগারেটে আরেকটা টান দিয়ে বল -- তকে আগেই বলেছি আমি কে তা তর না জানলেও চলবে। আর তর ছোটবেলার গল্পও আমার অজানা নয়,, এখনো কিছু ঘটনা বাকি আছে শুনতে থাক। ‘ ছেলেটার বয়স কম থাকায় তার শাস্তি কম হয়, দীর্ঘ চৌদ্দ বছর পর ছেলেটা জেল থেকে ছাড়া পায় চলে আসে পুরোনো সেই বসতিতে যেখানে সে ছোট থেকে বড় হয়েছে। বসতির সবাই ছেলেটাকে মুন্না নামে চিনতো,, এলাকায় ছোটখাটো মাস্তানী করতো কিন্তু একদিন ভাগ্য তার সহায় হয়।  এলাকার সবচেয়ে ধনী ব্যাক্তির বাড়িতে সে আর তার কিছু বন্ধু মিলে ডাকাতি করে,,এভাবে তারা একটা গ্যাং তৈরী করে ফেলে যার লিডার হয়ে যায় মুন্না ভাই। কিছু বড় বড় রাজনৈতিক নেতার সাথে ঘুরাঘুরি কে রাজনীতি তে ডুকে যায় আস্তে আস্তে রাজনীতি করতে করতে ভালো পজিশনে পৌঁছে যায় জনগণ তাঁকে আরিয়ান আহাম্মেদ নামে চিনতে থাকে। আর এখন সে একজন ধনী এবং ক্ষমতাশালী রাজনৈতিক নেতা আরিয়ান আহাম্মেদ। (রকি)





• তুই আমার সম্পর্কে এত কিছু জানলি কিভাবে। আমি জানি তুই সাধারণ কেউ না, কিন্তু তুই আমার সাথে এমন করে কি পাবি তর যত টাকা লাগে আমি দিবো তবুও আমাকে এখান থেকে মুক্তি দে। (আরিয়ান)





• থাক না কিছু কথা অজানা, মানুষ জাতি টাই এমন সারা জীবন সফল জীবনযাপন করে মৃত্যুর সময় আফসোস করে মারা যায়। তর ভুল একটাই তুই গরীব দুঃখীদের প্রতি অবিচার আর অত্যাচার করিস। তর অনেক টাকা হয়ে গেছে,, অর্থ মানুষকে পিশাচ করে তুলে, আবার অর্থই মানুষকে মহৎও করে তুলে। তুই তর নাম টা ভালো জায়গায় নিয়ে গেলি না। এখন তর জীবন বাঁচাতে তর টাকা ক্ষমতা কোনো টাই কাজে আসবে না। (রকি)





• দয়া করে আমাকে ছেড়ে দেও আমি এখন থেকে গরীব দুঃখীদের প্রতি অবিচার আর অত্যাচার করবো না। (আরিয়ান)




• হিহিহিহিহিহি......আমি কাউকে দ্বিতীয় বার সুযোগ দেই না, আর   পৃথিবীতে খারাপ মানুষ রেখে লাভ নেই,, মানুষ নিজের মৃত্যু নিজেই কামণা করে । কথাটা বলে রকি পিছন থেকে একটা পিস্তল ডান হাতে নিয়ে নাড়াচাড়া করে বলে -- এই পিস্তলে পাঁচ টা বুলেট আছে সব গুলোই তর কপালে করবো। (রকি)




• আরিয়ান চেয়ারের সাথে হেলান দিয়ে বসে আছে, চরম অসহায়ত্ব ফুটে উঠেছে তার চেহারা চাহনিতে। আরিয়ান বিশ্বাসই করতে পারছে না যে আজ তার এই পৃথিবীতে শেষ দিন। মাথাটা নিচু করে হাত দুটোর দিকে তাকায়, এই দুই হাত দিয়ে কতোই না মানুষ হত্যা করেছে সে। আরিয়ান মৃত্যুর কথা বারবার জপছে,  জীবনের এই শেষবেলায় সে নিজের অপরাধ নিয়েও চিন্তিত। নীচু গলায় রকি কে উদ্দেশ্য করে বলে--

  “ আকাশ সমান আমার অপরাধ ”

  “ তবুও তুমার কাছে আমার আর্তি ”

  “ তুমার দয়া আমার জন্য সম্ভাবনা ”

  “ হিসেবে শুধু শাস্তি আমার পাওনা ”





• আরিয়ানের এমন আবেগিয় কথায় রকির মন একটুও নরম হয় না। পিস্তল টা সোজা কপাল বরাবর তাক করে, আরিয়ান কিছু বলতে পারে না এর আগেই রকি পিস্তলের ট্রিগারে চাপ দেয় 100°c তাপমাত্রার গরম বুলেট আরিয়ানের কপাল টা ভেদ করে চলে যায়। কপাল থেকে তাজা রক্ত বের হচ্ছে, আরিয়ানের প্রবল ভয় আর অস্থিরতা গ্রাস করেছে,, মৃত্যুে কে এতো কাছ থেকে দেখে। আরিয়ানের এমন অবস্থা দেকে রকি ‘হিহিহিহি’ করে হেসে বলে -- মরণের কষ্ট কেমন লাগে আরিয়ান, দেখ কতো নিষ্পাপ মানুষ খুন করেছিস তুই। (রকি)





• আরিয়ানের শ্বাস ভারি হয়ে আসছে, মুখ টা হা করে কি যেন বলতে চাচ্ছে সে, সবার আগ্রহ তার দিকে। আওয়াজ থেমে গেছে, মুখ বন্ধ হয়ে এলো আরিয়ানের বিশ্ব কাঁপানো একটা ডেক তুলে ঢলে পড়লো চেয়ারের সাথে, তার প্রান পাখি তখন আকাশের পথে। রকি চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ায় হাতের সিগারেট টা শেষ হয়ে গেছে সেটা মাটিতে ফেলে রুমের সাটারের দিকে যেতে থাকে তখনই পিছন থেকে সোহেল বলে.....





• বস শালাকে কোথায় ফেলে দিবো। (সোহেল)




• ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইন গেটের সামনে আর পাশে M.K আর কংকালের ট্যাটু আঁকতে ভুলবি না। (রকি)




• আচ্ছা বস!! (সোহেল)




 রকি সেখানে আর দাঁড়ায় না, বাইরে চলে আসে, বৃষ্টি টা এখন কমে গেছে তাই সে নিজে হেঁটে গাড়িতে যেয়ে উঠে রাতের আধারে মিলিয়ে যায়। 



....




“ আজ সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইন গেটের সামনে থেকে, ঢাকার সবচেয়ে ধনী এবং ক্ষমতাশালী রাজনৈতিক নেতা আরিয়ান আহাম্মেদের মৃত দেহ পাওয়া গেছে। দু দিনে দুইটা ক্ষমতাশালী ব্যাক্তির মৃত দেহ পাওয়া গেছে এটা নিয়ে শহরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে। পুলিশের ধারণা বাংলাদেশের মাফিয়া কিং  M.K (মি.King) এই খুন দুইটা করেছে। পুলিশ এখনো তদন্ত করে কোনো ক্লো বের করতে পারছে না। এতক্ষণ আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।” ( সাংবাদিক )





 আবির আর রকি ছোট একটা চা স্টলে বসে চা খাচ্ছিলো তখনই টেলিভিশনে সাংবাদিক কথাটা বলছে। এই কথাটা শুনে আবির রকি কে উদ্দেশ্য করে বলে। 





• দেশে যে কি হচ্ছে বুঝতে পারছি না। একের পর এক খুন হয়ে যাচ্ছে, পুলিশ কি করে কে জানে। (আবির)




• আবিরের কথা শুনে রকি মুচকি হেসে বলে -- টেলিভিশনে দেখলি কি বল্লো খুন গুলো কে করেছে, M.K করেছে। তার সম্পর্কে মনে হয় তর কোনো ধারণা নেই, সারা বাংলাদেশের সবচেয়ে ভয়ংকর  মাফিয়া কিং, ছোট বাচ্চা না ঘুমালে মায়ের M.K এর নাম বল্লে বাচ্চারা ভয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। এমপি মন্ত্রী মেয়র যা আছে সব তার আন্ডারে। ( রকি ) 




• তুই M.K সম্পর্কে এত কিছু কিভাবে জানিস, তুই কি কখনো তাকে দেখেছিস। (আবির)




• হিহিহিহিহি....M.K সম্পর্কে আমার অনেক কিছু জানা যা সে নিজেও জানে না। আমি M.K কে কিভাবে দেখবো যেখানে তার নিজের লোকেরাও আজ পর্যন্ত দেখে নি। M.K কে দেখা যায় না শুধু অনুভব করা যায়, ঝড়ের বেগে তার অস্তিত্বের বাতাস বুঝা যায়। কোনো এক অচেনা অজানা শহরের শান্ত একটা ঠান্ডা মাইন্ড গেমার নামক ছেলে যার পদবী M.K দেওয়া হয়েছে। সে যেই শহরে পা রাখে ঐই শহর টা ওর হয়ে যায়, শত্রুর মনে ভয়ানক কম্পন সৃষ্টি তৈরি করে । ( রকি ) 




• আবির সন্দেহের দৃষ্টিতে তাকিয়ে রকি কে বলে -- রকি তর আসল পরিচয় কি, কে তুই। (আবির)




• তুই কি আমাকে কোনো ভাবে সন্দেহ করছিস তাহলে সেটা ভুল, আমি তর বন্ধু রকিই। (রকি)




• আমার কাছে তকে কেমন যেন রহস্যময় রহস্যময় লাগছে। তুই M.K সম্পর্কে এত কিছু জানিস, আমার মনে হয় না কোনো পুলিশ প্রশাসন এত কিছু জানে। তাই তকে একটু সন্দেহ করছি এই আরকি। (আবির)




• আমাকে আবার কি রকম রহস্যময় লাগে, আমি সব সময় এই রকম করে কথা বলতে পছন্দ করি। আর M.K সম্পর্কে এত কিছু জানি আমার এক বড় ভাইয়ের কাছ থেকে। আমাকে সন্দেহ করার কোনো মানেই হয় না। (রকি)





• রকি সামনে তাকিয়ে দেখ নাহিদ রা হাতে স্টীক নিয়ে আমাদের দিকেই আসছে চল এখান থেকে চলে যাই। (আবির)




• আবিরের কথা শুনে রকি পাশে তাকিয়ে দেখে নাহিদ, আরাফ, সিয়াম, আরো তিনটা ছেলে সবার হাতে মোটা স্টীক, রকি পকেট থেকে মোবাইল টা বের করে কাকে যেন একটা মেসেজ পাঠায়। আবিরের দিকে চেয়ে দেখে আবির ভয় পেয়ে আছে, রকি আবিরের পিঠে হালকা বারি দিয়ে বলে -- আমরা এখান থেকে কোথাও যাবো না এখানে বসে থাকবো। (রকি)





• তুই কি পাগল হয়ে গেছিস, আমরা এখানে বসে থাকলে  আমাদের কি করবে বুঝতে পারছিস,,চল এখান থেকে। (আবির)




 আবির রা আর সেখান থেকে যেতে পারে না, এর আগেই নাহিদের ছেলেপেলে রা চলে আসে। নাহিদ তার ডান হাতে স্টীক টা নিয়ে বাম  হাতে আস্তে বারি দিতে দিতে বলে..




• কিরে পালিয়ে যাওয়ার ব্যাবস্তা করছিলি নাকি। (নাহিদ)




• পালিয়ে যাব কেনো, আবির হালকা ভয় পাচ্ছিলো তাই আমাকে চলে যাওয়ার জন্য বলছিলো.।(রকি)





• হাহাহাহাহা....আবির ভয় পাচ্ছিলো কিন্তু তুই ভয় পাচ্ছিলি না আমাদের দেখে। (নাহিদ)




• রকি মুচকি হেসে বলে -- তুমাদের ভয় পাওয়ার কি আছে, যার জন্য ভয় পাবো। (রকি)




• কালকে তো খুব ভাব নিয়ে বলে গিয়েছিলি আমার কথা শোনবি না। আজ এর উপযুক্ত শাস্তি দিবো তকে দেখবো বড় বড় কথা কোথায় যায়। (নাহিদ)




• এত চার পাঁচ টা ছেলে নিয়ে আমাকে মারার জন্য চলে এসেছো, হিহিহিহিহি... এরা আমাকে মারবে হাসি পাচ্ছে আমার। (রকি)





* নাহিদ স্টীক টা দিয়ে রকির বাম পায়ে জোরে একটা বারি মারে। রকি নিচে পরে যায়, কিন্তু ব্যাথায় কোনো চিৎকার করছে না, চোখ জোরা বন্ধ করে ব্যাথাটা সহ্য করে নেয়। নাহিদ রকির শার্টের কলার ধরে উঠায় মুখের কাছে মুখ নিয়ে বলতে থাকে... 





• কিরে কেমন ব্যাথা করে, একটু চিৎকার কর আমার মন টা যেন শান্তি পায়। তকে মারার জন্য আমি একাই যথেষ্ট, কিন্তু ওদের এনেছি আমার ক্ষমতা দেখানোর জন্য। (নাহিদ)





• হিহিহিহিহি.....আমি এত টাই দুর্বল না যে তর মতো ছেলে আমাকে মেরে দিবো,, আর কিছুক্ষণ অপেক্ষা কর আমার ক্ষমতা দেখিয়ে দিবো৷ (রকি)





• তর ক্ষমতা,, হাহাহাহা,, এই ক্যাম্পাসে শুধু আমার রাজ্যত্ব চলে তর কোনো ক্ষমতা আজ কাজে লাগবে না। কথাটা বলে নাহিদ আবারো রকির ডান পায়ে বারি মারে। রকি কিছু বলে না, এই ব্যাথা যেন ওর কাছে কোনো কিছু না। নাহিদের কাছে রকির এই নিরব ভঙ্গি ভালো লাগতেছে না তাই সে উচ্চ সরে বলতে থাকে -- এই কুত্তার বাচ্চা তুই চিৎকার করছিস না কেনো, কি দিয়ে তৈরী তর শরীর, এত জোরে জোরে বারি মেরেছি তর কোনো প্রতিক্রিয়া নেই। (নাহিদ)





রকি কিছু বলে না মুচকি হাসে। নাহিদ আবারো রকির শার্টের কলার ধরে উঠিয়ে কিছু বলতে যাবে তখনই ক্যাম্পাসের গেট দিয়ে তিন টা ব্ল্যাক কালারের গাড়ি আর পিছনে চারটা বাইক নিয়ে কিছু ছেলে প্রবেশ করে। প্রথম গাড়ি থেকে একটা ছেলে নামে পড়নে তার জিন্স জ্যাকেট, মাথায় কালো একটা রুমাল বাঁধা, মুখে জলন্ত সিগারেট। পিছনের গাড়ি গুলো থেকে এরকম অনেক ছেলে নেমে রকিদের কাছে আসতে থাকে। এতক্ষণে ভার্সিটি তে অনেক স্টুডেন্ট জমে গেছে। ছেলেগুলো কে দেখে নাহিদ বোকার মতো চেয়ে আছে আর রকি জোরে জোরে হাসতে থাকে। প্রথম গাড়ি থেকে নামা আরাফাত নামের ছেলেটা এসে পকেট থেকে একটা সিগারেটের পেকেট বের করে তার থেকে একটা সিগারেট রকির ঠোঁটে দেয়, লাইটার দিয়ে সিগারেটে আগুন লাগায়, রকি সিগারেট টা টানতে থাকে, আম গাছের নিচের পাকা মিনারের উপর আরাম করে বসে। সবাই অবাক হয়ে চেয়ে আছে, সবচেয়ে অবাক হচ্ছে আবির কারণ রকির এমন এটিটিউড দেখে। আশেপাশে থাকা কম বেশি সকল স্টুডেন্ট শক খায় রকির এমন এটিটিউড দেখে। রকি তার ডান হাত টা আরাফাতের সামনে ধরে, আরাফাত পিছন থেকে একটা পয়েন্ট 38 এর পিস্তল বের করে রকির হাতে দেয় আর  সিগারেট টানতে টানতে নাহিদ কে উদ্দেশ্য করে বলে --





• কিরে নাহিদ অবাক হয়েছিস মনে হয়। হঠাৎ করে আমার এমন এটিটিউড দেখে, আসলে আমি চাই নি আজই এই শহরে আমার আসল পরিচয় প্রকাশ পাক কিন্তু ভাগ্য বলে যে কিছু একটা আছে, সে সব কিছু আজই শেষ করে দিতে চায়। তুই তর বাবার ক্ষমতা দেখিয়ে মানুষ কে ভয় দেখাস কিন্তু আমি আমার ক্ষমতা নিজে তৈরী করে দেখাই তাও আবার মানুষের ভালোর জন্য। খারাপ ধনী  আর অহংকার দুটাকে আমি সবচেয়ে বেশি অপছন্দ করি। আমি নিজে খারাপ কিন্তু যে খারাপ কাজ করে তাকে আমার পছন্দ না। আমি কে তুই হয়তো চিনিস না,, M.K নাম শুনেছিস কখনো আমি সেই মাফিয়া কিং গড ফাদার ইন বাংলাদেশ। (রকি)





 রকির কথা শুনে নাহিদ ভয় পেয়ে যায় আর যেয়ে........ 







@@@ চলবে @@@





[ ব্লগে পোস্ট করলে মনে হয় অনেকে পড়ে না। আমি চেষ্টা করবো ফেসবুকেই পোস্ট করার। ] ধন্যবাদ 




wait for the next part. 


Friday, July 16, 2021

টোকাই যখন মাফিয়া কিং-- পর্ব:--৩--RAJA Bhuiyan(মি.440)

মাফিয়া সিরিজ 



#টোকাই যখন মাফিয়া কিং 

#RAJA Bhuiyan.(মি.440)

# পর্ব:- ৩


...........




• আচ্ছা রকি তুমি তো নতুন তাহলে তোমাকে সহজ একটা প্রশ্ন জিজ্ঞেস করি-- অনেকেই বলে ধনীরা নাকি গরীবের হক মেরে খায় এই সম্পর্কে তুমার কি মতামত তুমি নিজ থেকে ব্যাখা করো। (স্যার)





 “ রকি স্যারের প্রশ্ন শুনে মুচকি হাসে করণ প্রশ্নের উত্তর টা তার জানা আছে তাই সে বলতে থাকে-- স্যার সব ধনী লোক যে গরীবের কাছ থেকে তার হক মেরে খায় এটা আমি বলবো না,,কারণ মানুষের মধ্যে ভালো খারাপ আছেই। হয়তো কিছু লোক মনে করে গরীবের হক মেরে নিজে আরো ধনী হয়ে যাবে আবার কিছু লোক নিজের সম্পদ কমানোর জন্য গরীব দুঃখীদের দান করে দেয়। এই শহরে এমন অনেক প্রভাবশালী লোক আছে যারা গরীবের হক মেরে খায় কিন্তু দেখ গেছে কিছুদিন পর ই সে কোনো কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে। আমি জানি না কেনো ধনীরা গরীবদের সাথে এমন করে, তবে আমার জীবনের একটা বড় লক্ষ্য এই গরীব দুঃখীদের জন্য কিছু একটা করে যাওয়া। স্যার আমার অবস্থান টা  যতই দূরে বা বড় হক না কেন গরীবের সাথে কেমন যেন একটা আত্নার সম্পর্কে প্রকাশ পায় আমার মাঝে।  আমি এখানে  কারো প্রিয় হওয়ার জন্য মিথ্যে মিথ্যে কথা বা উদ্দেশ্য  করি নি যত টুকু পেরেছি নিজ থেকে উপস্থাপন করেছি,,ধন্যবাদ।( রকি) 




• রকি তুমি ঠিক বলেছো আমাদের সবারই উচিৎ গরীবদের জন্য নিজের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া।(স্যার)





রকি অনুমতি নিয়ে নিজের সিটে বসে ক্লাস সম্পূর্ণ করে। ক্লাস শেষ করে বাইরে বেড়িয়ে যায় আবির আর রকি। আজ প্রচন্ড গরম পড়েছে  গ্রীষ্মের দুপুর সূর্য মাথার উপর সোজা কিরণ দিচ্ছে। রকি আর আবির আম গাছটার নিচে যেয়ে বসে আছে কারো মুখে কোনো কথা নেই পিনপিন নিরবতা বিরাজ করছে দুজনের মধ্যে, নিরবতা ভেঙে প্রথমে রকি বলা শুরু করে.. 




• কিরে আবির চুপ করে আছিস কেনো মন খারাপ নাকি।(রকি)




• না রে বসে বসে তর কথা চিন্তা করছি।(আবির)




• রকি অবাক হয়ে বলে-- আমার কথা আবার কি চিন্তা করছিস।(রকি)




• আবির মুচকি হাসি দিয়ে বলে-- তুই একজন ধনী পরিবারের ছেলে হয়েও গরীবের প্রতি তর কতো ভালো ভালো ধারনা। কিন্তু কিছু ধনী ছেলে মেয়ে আছে যারা গরীবদের যেন সহ্য করতে পারে না,, তুই তাদের তুলনায় কত আলাদা এটা চিন্তা করছিলাম।(আবির)




• আবির শুন --   যখন তর কাছে অনেক অনেক টাকা থাকবে, তখন তুই ভুলে যাবি যে তুই কে । আর যখন তর কাছে টাকা থাকবে না, তখন সমস্ত পৃথিবী ভুলে যাবে তুই কে।(রকি)





• রকি তুই কি জানিস তুই খুবই রহস্যময় কথা বলিস।(আবির)




• রকি মুচকি হাসে,, জানি আমি রহস্যময় কথা বলি কিন্তু তা বের করার জন্য রহস্যময় লোকের প্রয়োজন। (রকি)




• রকি সকালের সংবাদ দেখেছিস,, কাল রাতে কে বা কারা যেন আহাদ চৌধুরী কে মেরে পালিয়ে গেছে।(আবির)




• আহাদ চৌধুরী সেটা আবার কে, আমি তো চিনি না। তবে সকালে ভার্সিটিতে আসার সময় অনেকের মুখে বলতে শুনেছি আহাদ চৌধুরী নামে কাউকে সন্ত্রাসীরা মেরে পালিয়ে গেছে।(রকি)




• তুই ঢাকায় থাকিস আর আহাদ চৌধুরী কে চিনিস না। আহাদ চৌধুরী হচ্ছে ঢাকার টপ বিজনেসম্যান কিন্তু লোকটা বেশি ভালো ছিলো না।(আবির)




• কেনো ওনি আবার কি করেছে। (রকি)





• কিছু দিন আগে ওনার একটা বিল্ডিং ভেঙে পঞ্চাশ জনের মতো লোক মারা গেছে সবাই আমাদের বসতিতেই থাকতো,, মৃত শ্রমিকের পরিবার কে ক্ষতিপূরন হিসেবে দশ হাজার টাকা করে দিয়েছে। ওনার কাছে একজন গরীব শ্রমিকের জীবনের মূল্য মাএ দশ হাজার টাকা। তাই আমার কাছে মনে হয়েছে আহাদ চৌধুরীর মৃত্যু হওয়াতে অনেকেই খুশি।(আবির)




• আমার কি মনে হয় আবির আহাদের খুন টা হয়েছে তার এই অপকর্মের জন্য। লোকটা কে দেখতেই কেমন জানি খারাপ খারাপ মনে হয়। (রকি)




• ঠিক বলিছিস তুই। রকি দেখ সামনে তাকিয়ে নাহিদ ভাই আমাদের হাতের ইশারায় ডাকছে,,চল আমরা এখান থেকে চলে যাই নয়তো ওনি কোনো না কোনো ঝামেলা করবে আমাদের সাথে।(আবির)




• সিনিয়র বড় ভাই ডাকছে এখনতো যেতেই হবে, যতই ঝামেলা করুক চল আমার সাথে।(রকি)




• কিরে আবির কতক্ষণ দরে তদের  ডাকতেছি আসতে এত দেরি হলো কেনো। (নাহিদ)




• আবির মাথাটা নিচু করে জবাব দেয় -- ভাই হাতে ইশারায় ডাকছিলেন তো তাই বুঝতে পারছিলাম না কাকে ডাকছিলেন,,দুঃখীত ভাই। (আবির)




• হু বুঝতে পারছি, তা এই নতুন ছেলেটা কে ভার্সিটিতে নতুন এসেছে মনে হচ্ছে। (নাহিদ)




• জ্বি ভাই নতুন ভর্তি হয়েছে আমাদের সাথেই। (আবির)




• এই তর নাম কি, রকিকে উদ্দেশ্য করে কথাটা বলে। (নাহিদ)




• ভাই ওর নাম রকি। (আবির)



• আমি তকে জিজ্ঞেস করছ। (নাহিদ)



• আবির মাথাটা নিচু করে বলে-- জ্বি না ভাই। (আবির)




• এই রকি তুই কি আমাকে চিনিস আমি কে। (নাহিদ)




• না ভাইয়া আমি আপনাকে চিনি না আর আমি তো কালকে মাএ ভর্তি হয়েছি কারো সাথে তেমন পরিচয় হয় নি,, তা এবার আপনার পরিচয় টা দিয়ে দেন। (রকি)




• আমি নিজের পরিচয় নিজে দিতে পছন্দ করি না। কিছু দিন ভার্সিটিতে ঘুরাঘুরি কর এমনিতেই আমার পরিচয় পেয়ে যাবি। (নাহিদ)




• ভাইয়া যদি কোনো গুরুত্বপূর্ণ কিছুর জন্য ডেকে থাকেন তাহলে বলেন, নয়তো আমারা চলে যাই । ( রকি )




• রকির কথা শুনে নাহিদ পকেট থেকে একটা সিগারেট বের করে জ্বালায় আর মুখের বিষাক্ত ধোঁয়া গুলো রকির মুখের উপর ছেড়ে দিয়ে বলতে থাকে-- বড় ভাই যখন ডাক দিয়েছি তাহলে সেটা গুরুত্বপূর্ণ কথাই হতে পারে। তকে আমি কাল থেকে দেখছি তুই ভার্সিটিতে এসে অনেক ভাব নিয়ে ঘুরাঘুরি করছিস, কালই বলতাম কিন্তু প্রথম দিন তাই কিছু বলি নি, আজ আবারও তুই একই ভুল করলি, কেনো ভার্সিটিতে এত ভাব দরে আসতে হবে কেনো। কাল থেকে যেন আমি এমন আর না দেখি আজ সাবধান করে দিলাম মনে থাকে যেন কথাটা, তরা এখন যেতে পারিস।  (নাহিদ)




• রকি বুকের উপর ঝুলিয়ে রাখা চশমা টা ফু দিয়ে চোখে লাগিয়ে ভাব নিয়ে বলতে থাকে-- ক্যাম্পাসটা কারো বাবার না,, যার যেমন ইচ্ছে সে সেই ভাবে চলবে আর আমি কাল থেকে আরো বেশি করে ভাব নিয়ে ভার্সিটিতে আসবো দেখি আপনি আমার কি করতে পারেন। কথাটা বলেই আবিরে হাতটা ধরে টানতে টানতে চলে আসে সেখান থেকে । ( রকি ) 





• দেখছিস নাহিদ ছেলেটা কেমন খারাপ তর সাথে কেমন ব্যবহার করে গেলো এটা কিন্তু মানা যায় না,, কিছু একটা ব্যবস্তা করতে হবে। (সিয়াম)




• আমি দেখছি ব্যাপার টা তদের চিন্তা করতে হবে না,, ওর সব ভাব নেওয়া আমি বের করবো। ( নাহিদ) 




আবির আর রকি এসে আবার আম গাছের নিচে বসে পরে, আবিরের চোখে ভয় বিরাজ করছে, কারণ নাহিদের সাথে কেউ খারাপ ব্যবহার করলে তার ফল ভালো হয় না৷  এখন যদি রকির এমন কিছু করে   এটা ভেবেই আবিরের বুক কেঁপে উঠছে,, 





• রকি তুই নাহিদের সাথে এমন না করলেও পারতি,, এর পরিমান কিন্তু ভয়ংকর হতে পারে মনে রাখিস আমার কথাটা । ( আবির) 





• রকি মুচকি হেসে বলে -- আবির তকে আগেই বলেছি নাহিদ আমার কাছে কোনো ব্যাপার না, হাতের ময়লা। আর তুই এটা বল যে সামনে দিয়ে আসছে মেয়েটা কে। (রকি)




• আবির সামনের দিকে চেয়ে দেখে নীল রঙের জামা পড়ে একটা মেয়ে এদিকেই আসছে,, কিন্তু আবির মেয়েটাকে চিনতে পারছে না, আজই ভার্সিটিতে প্রথম দেখছে। তাই রকিকে বলে-- রকি মেয়েটা মনে হয় ক্যাম্পাসে নতুন, আগে তো কখনো দেখি নি। (আবির)





• মেয়েটার চেহারায় একটা মায়া কাজ করে, কেমন যেন ইনোসেন্ট ইনোসেন্ট ভাব রয়েছে তার মধ্যে। ( রকি) 





• কি ব্যাপার রকি, মেয়েটা কে দেখে প্রেমে পড়ে গেলি নাকি। (আবির)





• আরে দূর আমি কি বলছি মেয়েটাকে ভালোবাসি, প্রথম দেখাতে কি ভালোবাসা হয়ে যায়। তবে মেয়েটা দেখতে খারাপ না, আমার পছন্দ হয়েছে এর সম্পর্কে আমার জানতেই হবে। (রকি)





• আরে সমস্যা নেই একই ভার্সিটিতে যখন পড়ে, মেয়েটার সম্পর্কে সব জানা যাবে। (আবির)




• আবির আর ক্লাস করবো না চল কোথাও থেকে ঘুরে আসি। (রকি)




• আরে ক্লাস ফাঁকি দিয়ে এখন ঘুরতে যাওয়া যাবে না। (আবির)




• আবির চল আমার সাথে ক্যাম্পাসে আর ভালো লাগছে না। বলে রকি তার বাইক টা নিয়ে আবিরের সামনে দাঁড়িয়ে বলে-- উঠ কাছেই একটা জায়গায় যাবো। (রকি)




• রকি ক্লাস ফাঁকি দিয়ে যাওয়াটা ঠিক হবে না। (আবির)



• আবির উঠ বলতেছি আমার কিন্তু রাগ হচ্ছে। ( রকি)




 রকির জোড়াজুড়ি তে আবির বাইকের পিছনে উঠে বসে। রকি বাইক টা চালিয়ে শহর থেকে একটু দূরে একটা লেকের পাড়ে দাঁড় করায়। বাইক থেকে নেমে আবির অবাক হয়ে যায় এমন একটা মনোরম পরিবেশ দেখে। সামনে একটা বড় ঝিল, আশেপাশে গাছপালা, হিমেল হাওয়া বয়ে যাচ্ছে চারিপাশে, এখানে এসে মন টা ভালো হয়ে গেছে তাই রকি কে উদ্দেশ্য করে বলে -- 





• রকি জায়গা টা খুবই সুন্দর,, কিন্তু  তুই এমন জায়গার খুজ পেলি কিভাবে, আগেও আসছিস মনে হয়। ( আবির)




• রকি মুচকি হেসে জবাব দেয় -- আরে নাহ আমি আগে কখনো এখানে  আসি নি,,এই জায়গার নাম অনেক শুনেছি তাই আসলাম তকে নিয়ে। (রকি)





 আবির আর রকি কিছুক্ষণ পর সেখান থেকে চলে আসে। আবির কে নামিয়ে দিয়ে চলে আসবে তখনই রকির মোবাইলে একটা কল আসে রকি বাইক টা থামিয়ে পিছনের পকেট থেকে মোবাইল টা বের করে হাতে নিয়ে দেখে স্কিনের উপর সোহেল নাম টা ভেসে উঠছে, রকি ফোনটা রিসিভ করে বলতে থাকে.... 





• সোহেল ঐদিকের কি অবস্থা। (রকি)




• বস শালাকে ধরে এনেছি, এখন কি করবো। (সোহেল)




• আমার আস্তানায় নিয়ে বেধে রাখ আমি আমার সময় চলে আসবো। (রকি)




 আজকে ঢাকার সবচেয়ে ধনী এবং ক্ষমতাশালী রাজনৈতিক নেতা ‘ আরিয়ান আহাম্মেদ কে ধরে আনার জন্য রকি কিছু ছেলে পাঠিয়েছে। আরিয়ান আহাম্মেদ কে ধরে আনার পর সোহেল নামের একটা ছেলে রকি কে ফোন দিয়ে জানায়। রকি মুচকি হেসে বাইক টা স্টার্ট  দেয়।





“ সময় রাত ১১ টা ৪৫ মিনিট রকি BMW টা নিয়ে, তার পুরোনো আস্তানার সামনে দাঁড়িয়ে আছে,, বাইরে হালকা বৃষ্টি পড়ছে,, একজন ছেলে হাতে একটা ছাতা নিয়ে রকির গাড়ির গেট খুলে দিলো, রকি প্রথমে তার পা জোরা বের করে পরে মাথাটা বের করে। পড়নে তার কালো ড্রেস, কালো হাত মোজা উপরের অংশ কাটা,,লম্বা হুড ওয়ালা টুপি, কাটা মাক্স দিয়ে মুখটা ডাকা,, হাতের থাকা অর্ধেক জ্বলন্ত সিগারেট টা কয়েক বার জোরে টান দিয়ে বৃষ্টিতে ভেজা রাস্তায় ফেলে রুমের দিকে যেতে থাকে। ছেলেটা ছাতা টা বন্ধ করে রুমের সাটার টা খুলে,, রকি ভিতরে প্রবেশ করে, চল্লিশ ওয়াটের একটা বাল্বে ছোট আটকা রুম টা হলদে আলোয় আলোকিত হয়ে গেছে,, সামনে চেয়ারের সাথে বাঁধা আরিয়ান আহাম্মেদ, তার চোখে মুখের অবস্থা বেশি ভালো না, চোল গুলো কপালে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে, ডান গালে  মনে হয় কেউ জোরে চড় দিয়েছে যার কারণে ঠোঁটের কোণায় রক্ত জমাট বেঁধে কালো হয়ে গেছে। আরিয়ান কে শক্তিশালী ড্রাক্স পুশ করার জন্য, তার এখনো জ্ঞান ফিরে নি তাই রকি হাতের ইশারায় পিছনে দাঁড়িয়ে থাকা আরিফ নামের ছেলেটাকে  আরিয়ানের মুখে পানি মারার জন্য ইশারা দেয়। আরিফ আরিয়ানের মুখের উপর পানি দেয়,, যার ফলে সে কিছুক্ষণ পর চোখ মেলে তাকায় আর নিজেকে চেয়ারের সাথে বাঁধা অবস্থায় আবিষ্কার করে। আরিয়ান এটা দেখে উত্তেজিত কন্ঠে বলে-- 




• ভাই কে আপনারা আর আমাকে এখানে ধরে এনে বেঁধে রাখার মানে কি?? আমার সম্পর্কে কোনো ধারণা আছে আপনাদের, দেখেন ভালোই ভালোই বলছি আমাকে ছেড়ে দেন, নয়তো আপনাদের সবগুলোর এমন অবস্থা হবে যা ভাবতেও পারবেন না। (আরিয়ান)





• রকি মুচকি হেসে বলতে থাকে -- আমি কে সেটা তর জানা লাগবে না। তুই কে সেটা সবাই ভালো করে জানে কিন্তু কি বলতো আমার জগৎে সবাই আমাকে ভয় পায় আর আমার কথা শোনে এবং মানে। তর ক্ষমতা সম্পর্কে  সবার ধারনা আছে কিন্তু এখানে তর কোনো ক্ষমতাই কাজে লাগবে না, এটা আমার আস্তানা, এখানে আর কথা শোনবে সবাই তকে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। (রকি)




• আমাকে এখানে ধরে আনার কারণ কি, আমার ভুল বা দোষ কি?? (আরিয়ান)




• এত অস্থির হচ্ছিস কেনো, আমি বলবো তুই শোনবি তর কি দোষ বা ভুল। তুই তো ঢাকার টপ ধনীর মধ্যে একজন আবার রাজনীতিও করিস। কিন্তু এত টাকার পাহাড় বানালি কিভাবে। (রকি)




• আমার একটা ছোট বিজনেস আছে সেটা থেকেই আর পার্টি থেকে পাটনারশিপ পাই এগুলো দিয়েই তৈরি করেছি। (আরিয়ান)




• রকি জোরে হাসতে হাসতে বলে -- তুই যে মিথ্যা কথা বলছিস সেটা তর চেহারার হাব ভাব দেখেই বুঝা যাচ্ছে। (রকি)




• আমি সত্যি বলছি বিশ্বাস করুন আমাকে,, এগুলো ছাড়া আর কোনো ইনকাম করার সোর্স নেই আমার। (আরিয়ান)




• কথাটা শুনে রকি রেগে যায়, পাশে থাকা শক্ত স্টীক টা দিয়ে আরিয়ানের বাম হাঁটু তে জোরে একটা বারি মেরে বলে-- আমি তর সম্পর্কে সব কিছু জানি তাই তর সব অপকর্মের কথা তুই নিজের মুখে শিকার করবি এই জন্য তকে প্রশ্ন টা করেছি। আমি মিথ্যা বাদি কে একদম পছন্দ করি না আর যারা বেশি কথা বলে তাদেরকেও পছন্দ করি না। তুই ঢাকার নামকরা একজন রাজনৈতিক নেতা, তুই মানুষের সেবা করবি কোনটা করলে তাদের জন্য ভালো হবে সেটা করবি কিন্তু তুই কি করিস,, স্মাগলিং করিস, গরীবের হক মেরে খাস,,মনে আছে ধানমন্ডি তে একটা ছোটো খাটো বসতি ছিলো গরীব দুঃখীদের বাসস্থান ছিলো কিন্তু তুই কি করলি সরকারি একটা বড় প্রজেক্টের জন্য সব গরীব দুঃখীদের সেখান থেকে বের করে দিলি। এই কাজ টা করার পর থেকেই আমার চোখে পরে গিয়েছিলি তকে ছোট একটা চান্স দিয়েছিলাম কিন্তু তুই দ্বিতীয় বার একই ভুল করলি। এখন বল এগুলোর জন্য তকে কি শাস্তি দেওয়া যায়। (রকি)





• ভাই আমাকে ছেড়ে দেন আমার দ্বারা এমন ভুল দ্বিতীয় বার আর হবে না। (আরিয়ান)




• কথাটা শুনে রকি উচ্চ সরে হাসতে হাসতে বলে.......... 





@@@ চলবে @@@





[ আপনারা যদি সাপোর্ট না করেন তাহলে কিভাবে আমি গল্প লিখবো। যদি ভালো মন্তব্য করেন তাহলে ইনশাআল্লাহ পরের পাঠ তাড়াতাড়ি দিবো।] ধন্যবাদ 





wait for the next part. 

টোকাই যখন মাফিয়া কিং--পর্ব:- ২---RAJA Bhuiya. (মি.440)

 মাফিয়া সিরিজ 



# টোকাই যখন মাফিয়া কিং

# RAJA Bhuiyan.(মি.440)


#পর্ব: >> ২ <<


.............


সাদ্দামের কথাটা শুনে রকি শব্দ করে হেসে বলে-- সাদ্দাম ভাই সবাই জানে  গুরুত্বপূর্ণ কথার সময় আমার হাসি আসে, কি জন্য হাসি পায় জানি না আমি, তবে আমার মাইন্ড খেলার জন্য হাসাটা খুবই প্রয়োজন। আমি জানতাম আজ হঠাৎ কেনো আমাকে ডেকেছেন তাই হেসেছি তবে পরের বার এমপি নির্বাচন করতে হলে ত রফিক চৌধুরীকে সরিয়ে দিতে হবে। (রকি)


• সাদ্দামও পকেট থেকে একটা সিগারেট বের করে টানতে থাকে আর রকি কে বলে--আমি জানি তুমি চাইলে কোনো কিছু ব্যাপার না তবে রফিক চৌধুরী কে সরানো টা এতটা সহজ হবে আমার মনে হয় না।(সাদ্দাম)


• রকির কানে কথাটা বার বার বাজতে থাকে তাই সে রেগে পাশে থাকা কাচের ফুলদানি টা ভেঙে ফেলে জোরে চিৎকার দিয়ে বলে-- এই রকির কাছে কোনো কিছু অসম্ভব নেই। আমি পারি সব পারি আমি রফিক চৌধুরী কেন আরো উপরের কাউকে মারতে আমার সময় লাগবে না একটা ফোনই যথেষ্ট। আপনি পরের বার এই সিটির এমপি হবেন।(রকি)


• সাদ্দাম মুচকি হাসে সে জানে রকি পারে না এমন কোনো কাজ নেই। রকি একবার যেই কাজে হাত দেয় ঐই টা ছিনিয়ে নেওয়ার বুক আছে তার। ‘ রকি তুমার কি অতীতের কথা মনে পরে '(সাদ্দাম)


• রকি চোখ জোরা বন্ধ করে অতীতের কিছু ঘটনা তার চোখের সামনে ভেসে উঠছে। রকি চায় না অন্ধকার অতীত কে সামনে এনে সদ্য ভবিষ্যৎ কে নষ্ট করা তাই সে বসা থেকে উঠে দাঁড়ায় আর সাদ্দাম কে উদ্দেশ্য করে বলে--এই শহরে আমার পরিচয় আমি  আর আপনি ছাড়া কেউ জানে না। আমি চাই না কেউ আমার সম্পর্কে কিছু জানুক তাহলে কিন্তু, পরেরটা আর না ই বল্লাম। আসি আমি রাতে একটা মিশনে যেতে হবে। (রকি)


• শহরে নতুন এসেই ঝামেলা টা না করলেই পারতে,,তা আজ রাতে আর শেষ দিন।(সাদ্দাম)


• হয়তো কোনো এক পাপিষ্ঠের,, গরীবদের কাছ থেকে টাকা লুটে নিজের ব্যাংক ব্যালেন্স বাড়াচ্ছে। কথাটা বলে রকি মেইন দরজা টা খুলে বাইরে বেরিয়ে যায়। সাদ্দাম চাইলেও রকি কে আটকাতে পারবে না তাই বৃথা চেষ্টা করে লাভ নেই।


..


 ঢাকার একজন প্রভাবশালী ব্যবসায়ী আহাদ চৌধুরী, আজ মিরপুরের অফিসে বড় একটা মিটিং ছিল যার জন্য আসতে একটু রাত হয়ে গেছে। গুলসানের নির্জন এলাকা দিতে গাড়িটা চালাচ্ছে আহাদ চৌধুরীর ড্রাইভার শামীম, আহাদ চৌধুরী ভিতরে বসে বসে মোবাইল চালাচ্ছে। চারিদিকে অন্ধকার দূরে দূরে দেখা যাচ্ছে ল্যাম্পোস্টের আলো হঠাৎ ই শামীম দেখতে পায় রাস্তার মাঝে বাইকের উপর আরাম করে বসে আছে কোনো আগন্তুক  মুখে তার জ্বলত্ব সিগারেট। শমীম দূর থেকে গাড়ির হর্ণ বাজায় কিন্তু আগন্তুক টা বাইকের উপর স্থির হয়ে বসে আছে। শামীম রেগে গাড়িটা থামায়।


• আহাদ গম্ভীর গলায় বলে-- শামীম তাড়াতাড়ি গাড়ী চালাও বাসায় যেতে হবে অনেক রাত হয়েছে৷ তুমি এখন আবার গাড়ী থামালে কেনো।(আহাদ)


• শামীম জবাব দেয়-- স্যার সামনে কে যেন বাইক দাঁড়া করিয়ে বাইকের উপর বসে সিগারেট টানছে। (শামীম)


• গাড়ী থেকে নেমে দেখো, হয়তো মদ পান করে নেশায় ধরেছে তাই পাগলের মতো এখানে বসে আছে।(আহাদ)


• শামীম গাড়ী থেকে নেমে আগন্তুক কে উদ্দেশ্য করে বলে-- এই কে তুই মদ খেয়ে মাঝ রাস্তায় বাইকের উপর বসে মাতলামো করছিস। রাস্তা থেকে বাইক টা  সরা তাড়াতাড়ি, কিন্তু আগন্তুক টা বাইকের উপর স্থির হয়ে বসে বসে সিগারেট টানছে। শামীম রেগে যেয়ে আগন্তুকের কাছে যায়,, আগন্তুকের পরনে কালো মাফিয়া ড্রেস, কাটা মাক্সের জন্য মুখ টা বুঝা যাচ্ছে না। শামীম আগন্তুকের  কলার ধরতে যাবে তখন ই কোথা থেকে যেন একটা স্নাইপারের বুলেট এসে শামীমের হাতে লাগে শামীম জোরে চিৎকার দিয়ে দূরে ছিটকে পরে। 


• আগন্তুক টা এটা দেখে জোরে জোরে হাসতে থাকে। হঠাৎ বাইরে থেকে জোরে চিৎকারের আওয়াজ পেয়ে আহাদ গাড়ি থেকে নেমে দেখে শামীম নিচে বসে বসে চিৎকার করে কান্না করছে,,সামনে বাইকের উপর আরাম করে বসে সিগারেট টানছে একটা কালো অভয়, আহাদ চিৎকার দিয়ে বলে-- এই কে তুই শামীমের হাতে গুলি করেছিস কেনো। (আহাদ)


• আগন্তুক টা বাইক থেকে নেমে দাঁড়িয়ে বাম হাতে থাকা অর্ধেক  সিগারেট টা নিচে ফেলে পা দিয়ে পিসে দেয়। আগন্তুক টা হাসতে থাকে আর বলতে থাকে-- আমি কে হিহিহিহিহিহি.. আমাকে তুই চিনবি না কিন্তু আমি তকে খুব ভালো করে চিনি। ঢাকার অন্যতম ড্রাক ব্যবসায়ী, গরীবের টাকা লুটে নিজের ব্যাংক ভরতেছিস গুন্ডা দিয়ে চাঁদা তুলিছ আর সবার সামনে ভালো মানুষের মুখোশ পরে আছিস, এগুলো কেউ জানে না। (আগন্তুক)


• আহাদ অবাক হয়ে যায়, এত কিছু করে কিন্তু কেউ জানে না তার এই গোপনে করা ব্যাবসার কথা। তাই আহাদ ভয়ে ভয়ে বলতে থাকে-- কে তুমি আর আমার সম্পর্কে এগুলো কি করে জানো।(আহাদ)


• আগন্তুক মাক্সের ভিতর মুচকি হেসে জবাব দেয়-- আমি তর সম্পর্কে অারো অনেক কিছু জানি তিন টা বউ তর কিন্তু কোনো বউ এ কথা জানে না,,রাতের পর রাত মেয়ের নেশায় ডুবে থাকিস তুই,, আরো শুনবি।(আগন্তুক) 


• এভার আহাদ কান্না করে দেয়-- তুমি এগুলো জানো কিভাবে, প্লিজ ভাই বিষয় টা আমাদের মধ্যে রেখে দেও। তুমি এবাবে শমীম কে গুলি করলে কেনো, কি চাও তুমি বলো আমি দিয়ে দিবো এখনই তবুও আমাকে কিছু করো না প্লিজ। (আহাদ)


• আগন্তুক টা জোরে হাসতে হাসতে বলে-- তুই আমাকে কি দিবি, এখন তো আমি তকে তর জীবন টা ভিক্ষা দিতে পারি। কিন্তু আমি তা করবো না কারণ আমার একটা সমস্যা আছে তুই আমার অপছন্দের কিছু কাজ করেছিস যেটা আমার সহ্য হয় নি তাই তকে আজ একেবারে শান্ত করতে চলে এলাম।(আগন্তুক)


• ভাই বলেন অামি আপনার অপছন্দের কি কাজ করেছি, যার জন্য আমার সাথে এমন করছেন।(আহাদ)


• তুই গরীব দুঃখীদের টাকা মেরে খাস তাদের কাজের সঠিক পারিশ্রমিক দিস না।(আগন্তুক) 


• ভাই এখন থেকে সব সঠিক ভাবে  দিবো, আমাকে ছেড়ে দেন প্লিজ। ভাই আপনাকে কত দিতে হবে বলেন আমি দিয়ে দিবো তবুও আমাকে প্রাণে মারবেন না প্লিজ।  (আহাদ)


• মনে আছে কিছু মাস আগের কথা, তর একটা বিল্ডিং তৈরি করতে যেয়ে ৫০ জন শ্রমিক মারা গেছে, কিন্তু তুই একটা মৃত শ্রমিকের পরিবার কে দশ হাজার টাকা করে দিয়েছিস। সেই গরীব শ্রমিকের জীবনের মূল্য কি দশ হাজার টাকা,, বল আমাকে।(আগন্তুক)


• ভাই গরীবের জীবনের কোনো মূল্য নেই এরা বেঁচে থেকে শুধু দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধি করছে। আর আমি এখন আপনাকে একটা অফার করছি- গাড়িতে পঞ্চাশ লক্ষ টাকার একটা ব্রিটকেস আছে আপনি সব গুলো টাকা নিয়ে আমাকে ছেড়ে দেন।(আহাদ)


• কথাটা শুনে আগন্তুক টা পিছন থেকে একটা ধারালো ছুরি বের করে আহাদের দিকে এগিয়ে যায়, আগন্তুকের কান্ডে আহাদ ভয় পেয়ে পিছিয়ে যায় কিন্তু আগন্তুক টা আহাদের ডান হাত টা ধরে কেটে ফেলে,,হালকা চাঁদের আলো দূর থেকে ল্যাম্পোস্টের আলোয় স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে তাজা রক্ত গুলো পিচঢালা  রাস্তায় ঝড়ে পরছে,,কুনই আর কব্জির মাঝ বরাবর থেকে কাটা হয়েছে হাতটা ,কাটা অংশ টুকু রাস্তায় পরে আছে। আহাদ ব্যাথায় জোরে জোরে চিৎকার করে কান্না করছে, আগন্তুক টা জোরে জোরে হাসতে হাসতে বলে-- তর কি মনে হয় আমি মাটি দিয়ে তৈরি না, আমি পাথর দিয়ে তৈরি, হতে পারে মাটির তৈরি কিছু মানুষ আজ কাগজের তৈরি টাকার কাছে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে কিন্তু আমি তেমন না। একটা গরীবের জীবনে মূল্য তর কাছে দশ হাজার টাকা কিন্তু তর জীবন টার দাম অনেক বেশি পঞ্চাশ লক্ষ টাকা। গরিব মানুষ পৃথিবীতে থাকা মানে পৃথিবীর জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়া,, আরে ওদের মতো গরিব বেঁচে না থাকলে তর মতো ধনীদের নিজের কাজ নিজে করে খেতে হতো। আমি যেই ডিসিশন একবার নিয়ে নেই সেটা ভাঙার ক্ষমতা কারো নেই।(আগন্তুক) 


• আহাদের ভয় আর ব্যাথায় গলা শুকিয়ে গেছে এখন যদি পানি পান করতে পারতো তাহলে একটু শান্তি পেতো। আহাদ এখন নিজের মৃত্যু যেন নিজের সামনে দেখতে পাচ্ছে, সে কাঁপা কাঁপা গলায় বলতে থাকে-- ভা.ভাই আম..আমাকে আরেকটা সুযোগ দেন আমি আর কখনো এমন করবো না,, আমাকে আমার জীবন টা ভিক্ষা দেন প্লিজ। (আহাদ)


• সুযোগ... হাহাহাহা.. এই রকি কাউকে দ্বিতীয় বার চান্স  দেয় না, তর সময় চলে এসেছে বলেই ধারালো ছুরি টা দিয়ে লম্বা করে বকের পাশে একটা আচর দেয়, আহাদের মুখ দিয়ে রক্ত বের হয়ে রাস্তায় পড়তে থাকে। আগন্তুক ছুরি টা দিয়ে আবারো আহাদের পেটের মাঝ বরাবর ঢুকিয়ে দেয়, আহাদ নিচে পরে যায় চোখ জোরা খোলা অবস্থায় ই পৃথিবীর মায়া ছেড়ে চলে যায়। আগন্তুক টা আহাদের মৃত দেহের পাশে একটা কংকালের ট্যাটু একে বাইক টা নিয়ে গভীর অন্ধকার রজনীতে মিলিয়ে যায়। 


..


“ ব্রেকিং নিউজ কাল রাতে কে বা কারা যেন গুলশানের ১৪নং রোডে  ঢাকার টপ বিজনেসম্যান আহাদ চৌধুরীকে মারাত্মক ভাবে খুন করে পালিয়ে যায়। আহাদ চৌধুরীর লাশের পাশে ওনার গাড়ির ড্রাইভার শামীম কে আহত অবস্থা পাওয়া যায়,, শামীম কে ঘটনাস্থল থেকে হসপিটালে ভর্তি করা হয়,, শামীমের জ্ঞান ফিরলে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। আহাদ চৌধুরীর লাশ টা ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এখনো কোনো ক্লো পাওয়া যায় নি খুর সম্পর্কে। আজ এই পর্যন্ত ই, এতক্ষণ আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ ”  শহরের সব জায়গায় খবর টা ছড়িয়ে পড়েছে। আবির ভার্সিটিতে আসার সময় একটা দোকানে দাঁড়িয়ে চা খাচ্ছিলো আর টিভিতে সংবাদ টা দেখছিলো, সংবাদ দেখে তার শরীরের লোম দাঁড়িয়ে যায় আবার আহাদের লাশের পাশে কংকালের ট্যাটু পাশে বড় করে(MK) লেখা তার মানে খুনটা মিস্টার কিং করেছে। ভাবতেই আবিরের ঘাম বেড়িয়ে যাচ্ছে সে এত কিছু না ভেবে ভার্সিটির দিকে রওনা দেয়। 


..


রকি আজও তার R15 টা নিয়ে ভার্সিটিতে প্রবেশ করে। বাইক টা পার্ক করে ক্লাস রুমের দিকে আসবে তখনই কোথা যেন একটা মেয়ে এসে রকিকে জরিয়ে ধরে। রকি অবাক হয়ে যায় হঠাৎ করে অজানা অচেনা একটা মেয়ে এমন কাজ করবে ভাবতেই পারছে না। 


• এই কে আপনি আর আমাকে এভাবে জরিয়ে ধরার মানে কি।(রকি)


• আমি নীলা তুমার সাথেই পরি, কাল তুমাকে দেখে তুমার উপর ক্রাশ খেয়েছি জীবনের প্রথম কোনো ছেলেকে দেখে আমার এত পছন্দ হয়েছে, আমি তোমাকে ভালোবাসি।(নীলা)


• হোয়াট ?? কি বলছেন আপনি আপনার মাথা ঠিক আছে। কালকের দেখায় আজই ভালোবাসে ফেলেছেন আমাকে,, এগুলোকে ভালোবাসা বলা  হয় না আবেগ সব কিছুদিন পর সব ঠিক হয়ে যাবে।(রকি)


• রকি সত্যি আমি তোমাকে ভালোবাসে ফেলেছি,, এটা আবেগ না এটা আমার ভিতর থেকে আসা অনুভুতি বিশ্বাস করো আমাকে প্লিজ এক্সেপ্ট করে নেও আমাকে।(নীলা)


• দেখোন নীলা আপনাকে আমি আজ প্রথম দেখেছি আর আজই ভালোবাসি বলে দিবো এটা সম্ভব না। ভালোবাসার প্রধান অস্ত্র হলো মন, দুইটা মন মিল থাকলে ভালোবাসা হয় কিন্তু আমি এখনো আপনার প্রতি কিছু ফিল করতে পারছি না। তাই এটা কে বোকামি ছাড়া আর কিছুই বলবো না আমি।(রকি)


• আচ্ছা সময় নেও কিন্তু বেশি সময় আমি দিতে পারবো না আর আরেকটা কথা তুমি এখন আমার জিনিস কোনো মেয়ের দিকে চোখ তুলে তাকাবে না,, বুঝতে পারছো আমার কথা।(নীলা)


• রকি বিরক্ত বোধ করছে নীলার সাথে কথা বলতে, মেয়েটা বেশি কথা বলে যা রকির একটুও ভালো লাগে না তাই মাথাটা নাড়িয়ে ক্লাসের দিকে চলে আসে। ক্লাসে এসেই চোখ যায় পিছনের ছিটে আবিরের সাথে কিছু ছেলে মজা করছে আর আবির মাথাটা নিচু করে সব সহ্য করছে। রকির যেন একটা সহ্য হয় না তাই রেগে সেখানে যেয়ে বলতে থাকে- এখানে কি হচ্ছে, সবাই আবিরের সাথে এমন করছো কেনো।(রকি)


• পিছন থেকে রকির গলার আওয়াজ পেয়ে সবাই পিছনে ফিরে তাকায় দেখে রকি রাগি মুডে দাঁড়িয়ে আছে। ছেলেগুলোর মধ্যে থেকে ইয়াছিন নামের ছেলেটা হাসতে হাসতে বলে-- সবাই দেখ আবিরের বড়লোক বন্ধু চলে এসেছে,, সালা যে কি করেছে কে জানে যার জন্য রকির মতো ধনী একটা ছেলে ক্ষেতটার সাথে বন্ধুত্ব করেছে।(ইয়াছিন)


• এই ছেলে মুখ সামলে কথা বলো, আবির প্রথমে এসে আমার সাথে বন্ধুত্ব করে নি বরং আমিই আগে যেয়ে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিয়েছি। তুমাদের যা বলার আমাকে বলো আবির কে এগুলো বলছো কেনো।(রকি)


• রকির কথা শুনে সবাই অবাক,, রকি ছেলেটা বলে কি এত ধনী হয়েও গরীব ছেলের সাথে নিজ ইচ্ছায় বন্ধুত্ব করেছে। ছেলেগুলো সেখানে আর দাঁড়ায় না চলে আসে নিজ নিজ সিটে। রকি যেয়ে আবিরের পাশে বসে আবির মাথাটা উচু করে রকিকে বলে-- রকি আমার জন্য তকে অনেক কথা শুনতে হবে, এর চেয়ে ভালো হবে তুই আমার সাথে আর বন্ধুত্ব না রাখ।(আবির)


• আবিরের কথা শুনে রকি মুচকি হেসে বলে-- বন্ধুত্ব যখন করেছি সেটা ধরে রাখার শক্তি আমার আছে। কথায় আছে না যে পিছু লোকে কিছু বলে ঠিক তেমনই অনেকে অনেক কিছু বলবে কিন্তু তকে থামা যাবে না তাহলেই তুই উচ্চ শিখরে পৌছাতে পারবি। আচ্ছা আবির তুই আমাদের ক্লাসের নীলা নামের মেয়েটা কে চিনিস।(রকি)


• হু ভালো করেই চিনি, কেনো তুই হঠাৎ নীলার কথা জিজ্ঞেস করছিস কেনো কিছু হয়েছে।(আবির)


• না তেমন কিছু হয় নি, ক্লাসে আসার আগে আমাকে প্রপোজ করেছে কিন্তু আমি সময় নিয়েছি, বলতে পারিস বিরক্ত লাগে মেয়েটাকে এখন নীলার সম্পর্কে তুই যা জানিস আমাকে বল।(রকি)


• নাহিদের ছোট বোন নীলা খুবই রাগি একটা মেয়ে, আমাকে একদমই সহ্য করতে পারে না। গরীবদের দুচোখে দেখতেই পারে না,, বড়লোকের মেয়ে ভাব একটু বেশি দেখায়, ভালো না মেয়েটা আমার কাছে মনে হয় এবার তুই ভেবে দেখ সম্পর্কে করবি নাকি করবি না।(আবির)


• আমার কাছেও মেয়েটা ভালো মনে হয় নি, আবার সামনে আসলে না করে দিবো আর আমি ভালো মেয়ে না পেলে এইসবে জড়াবো না।(রকি)


• আবির কিছু বলতে যাবে এর আগেই স্যার ক্লাসে প্রবেশ করে। সবাই স্যার কে সম্মান জানায়, ক্লাস করাতে করাতে একসময় স্যার রকি কে প্রশ্ন করে-- এই নতুন ছেলে রকি তুমি দাঁড়াও। (স্যার)


• রকি বসা থেকে উঠে দাঁড়ায় আর বলে-- জ্বি স্যার 


• স্যার এমন একটা প্রশ্ন করে যা শুনে রকি মুচকি হেসে জবাব দিতে শুরু করে...........


@@@ চলবে @@@


[ গল্প টা কেউ YOUTUBE এ আপলোড দিতে পারবেন না কারণ গল্প টা আমার কাছ থেকে একজন YouTuber নিয়েছে। যদি কেউ অনুমতি ছাড়া আপলোড দেন তাহলে চ্যানেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ কর হবে  ]ধন্যবাদ 


wait for the next part.

টোকাই যখন মাফিয়া কিং--পর্ব:-১----RAJA Bhuiya. (মি.440)

মাফিয়া সিরিজ 



# টোকাই যখন মাফিয়া কিং 

#RAJA Bhuiyan.(মি.440)


# পর্ব: >> ১ <<

.............


  দামি মডেলের বাইক R15 নিয়ে রকি  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের ভিতর প্রবেশ করে,,পড়নে তার সাদা কালারের ট্রি শার্ট, কালো কালারের জিন্স পেন্ট, ডান হাতে ড্রাগনের ট্যাটু করা, চোখে স্টাইলিস চশমা, গলায় মোটা চেইন, ট্রি শার্টের ভিতর দিয়ে সিক্স প্যাক বডি টা ভালোই বুঝা যাচ্ছে। প্রায় অনেক ছেলে মেয়ে চেয়ে আছে রকির দিকে, কিছু ছেলের হিংসা হচ্ছে রকির প্রতি আর কিছু মেয়ের মুখে রাগের আভা ফুটে উঠেছে করণ রকি তাদের বয়ফ্রেন্ডদের থেকে বেশিই সুন্দর। রকি বাইক টা পার্ক করে আশেপাশে তাকায় অনেক মেয়ে তার দিকে ঘোর লাগা দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। রকি মুচকি হেসে মাথাটা উচু করে ক্লাসের উদ্দেশ্য রওনা দেয়। 


...


ছেলেটা কে আর ভার্সিটিতে নতুন মনে হচ্ছে এত স্টাইল করে ভার্সিটিতে আসার কি দরকার ওর সম্পর্কে আমার সব ডিটেইলস চাই,, কথাটা বলে থামে নাহিদ। ভার্সিটির সভাপতির ছেলে নাহিদ বড় ছোট সবার জন্য নাহিদ একটা আতংক, বড় ছোট সবাইকে র্যাগ দেয় সে। এত ক্ষন বসে বসে রকির দিকে তাকিয়ে ছিলো সে আর দেখছিলো রকির এটিটিওড, প্রায় সব মেয়েই চেয়ে আছে রকির দিকে যার জন্য নাহিদ রেগে যেয়ে তার বন্ধুদের কথাটা বলে। নাহিদ পকেট থেকে আরেক টা সিগারেট বের করে জ্বালায় আর বিষাক্ত ধোঁয়া গুলো মুক্ত বাতাসে ছেড়ে দেয়। পিছন থেকে আরাফ নামের একটা ছেলে দৌড়ে এসে হাঁপাতে হাঁপাতে নাহিদের সামনে দাঁড়িয়ে বলতে থাকে.. 


• নাহিদ নতুন ছেলেটার নাম রকি, ৩য় বর্ষে পড়ে আমাদের থেকে ১ ক্লাস নিচে। (আরাফ)


• আরাফের কথা শুনে নাহিদ সিগারেট টানতে টানতে বলে-- তাহলে তো বেশ ভালো হবে আমার, কারন সে তো আমার জুনিয়র,, হাহাহাহাহা(নাহিদ)


• নাহিদ সামনে চেয়ে দেখ ভাই একটা গরম মাল আসতাসে। ( সিয়াম)


• সিয়ামের কথা শুনে নাহিদ ক্যাম্পাসের গেটের দিকে তাকায় দেখে একটা মেয়ে আসতেছে পরনে তার হলুদ একটা জামা, চোখে স্টুডেন্ট চশমা ব্যাগ টা কাঁধে ঝুলিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করছে। নাহিদ সিয়াম কে বলে-- সিয়াম মাল টা কে ডাক দে, নাহিদের অনুমতি পেয়ে সিয়াম মেয়েটা কে ডাক দেয়।


..


মিম মধ্যবিত্ব পরিবারের মেয়ে তার বাবা সরকারি চাকরি করে, ছোট একটা ভাই আছে সে ক্লাস 9 এ পড়ে।মিমের ছোট  থেকেই স্বপ্ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করবে, তাই কলেজ পাশ করেই, ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হয়ে ১ম বর্ষে ভর্তি হয়। আজ তার ভার্সিটির প্রথম দিন তাই হলুদ একটা জামা পড়ে ব্যাগ টা কাঁধে ঝুলিয়ে ক্যাম্পাসে ডুকে পরে। ক্যাম্পাসটা খুবই সুন্দর আর বড় তাই সে ঘুরে দেখছিলো তখনই পিছন থেকে কেউ “ এই হলদে পরি ” কথাটা বলে জোরে ডাক দেয়। মিম চমকে উঠে পিছনে ফিরে তাকায় দেখে বাইকের উপর আরাম করে একটা ছেলে বসে বসে সিগারেট টানছে আর  তিনটা ছেলে পাশে দাঁড়িয়ে আছে। মিম বুঝতে পারছে না কাকে ডাকছে হলদে পরি বলে তাই সে আবার ঘুরে ঘুরে দেখতে থাকে ক্যাম্পাসটা। কিন্তু আবার কেউ “ এই চোখে চশমা হলুদ ড্রেস তুমাকেই ডাকছি ” কথাটা বলে ডাক দেয়। মিম আশপাশে তাকিয়ে দেখে ক্যাম্পাসে এমন হলুদ ড্রেস সে ছাড়া আর কেউ পড়ে নি, তাই সে ছেলেগুলো কাছে যেতে থাকে। মিম সবাইকে উদ্দেশ্য করে বলে-- জ্বি ভাইয়া আমাকে এভাবে ডাকার কি কারণ।(মিম)


• মিমের কথা শুনে নাহিদ হালকা করে ছোট একটা হাসি দেয়। সিয়াম মিম কে বলে-- মামনি কি ভার্সিটিতে নতুন এসেছো।(সিয়াম)


• মিম বুঝতে পারছে তার সাথে এখন কি হবে তাই সে জবাব দেয়-- জ্বি ভাইয়া ১ম বর্ষে ভর্তি হয়েছি।(মিম)


• আরাফ নিজের জায়গা থেকে হালকা সরে এসে মিমের পাশে দাঁড়িয়ে বলতে থাকে-- তা মামুনি দেখতে তো খুব সুন্দর, রূপে তো আগুন ধরছে তা সেই আগুনে পোড়ার একটু সুযোগ দেও আমাদের। (আরাফ)


• মিম বুঝতে পারছে না কি বলছে এগুলো তাই সে প্রশ্ন করে-- ভাইয়া কি বলছেন বুঝতে পারছি না। (মিম)


• মিমের কথা শুনে নাহিদ বাইক থেকে নেমে সিগারেটের শেষ অংশে জোরে একটা টান দিয়ে মুখের সমস্ত ধোঁয়া গুলো মিমের মুখের উপর ছাড়ে। মিম জোরে জোরে কাশতে থাকে যেন নিশ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম। মিমের অবস্থা দেখে সবাই জোরে জোরে হাসতে থাকে, নাহিদ মিমের একেবারে কাছাকাছি চলে আসে, দুজনের নিশ্বাস দুজনের মুখের উপর পড়ছে, মিমের খারাপ লাগছে তবুও নাহিদ কে কিছু বলছে না। নাহিদ ডান হাত দিয়ে মিমের চুলের পিছন চাপ দিয়ে ধরে কানের কাছে মুখটা নিয়ে বলতে থাকে- তকে আমার পছন্দ হয়ে গেছে, তুই শুধু একটা রাত আমার বিছানা টা গরম করে দিবি,,তর এই রূপের আগুনে আমি নিজেকে পুরাতে চাই। (নাহিদ)


• নাহিদের কথাটা শেষ হওয়ার সাথে সাথে মিম সামান্য দূরে যেয়ে নাহিদের বাম গালে কষে একটা চড় মেরে চিৎকার করে বলে-- তুই কি আমাকে সেই সব মেয়েদের মতো পেয়েছিস যারা  দেহ বিক্রি করে খায়,,আমি কি পতিতা, এতই যদি মেয়েদের দেহের লোভ থাকে তাহলে পতিতালয়ে চলে যা। কথাটা বলে মিম থামে না দৌড়ে ক্লাসের দিকে চলে আসে আর নাহিদ সেখানে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে বাম গালে হাত দিয়ে রাগে ফুসতে থাকে। 


“ এই ছেলে তুমি অনেকক্ষন ধরে দেখছি বাইরের দিকে চেয়ে আছো, নতুন এসেছো আর এখনই ক্লাসে মনোযোগ নেই, বাইরে তাকিয়ে কি দেখো ” কথাটা শুনে রকি বাইরে থেকে দৃষ্টি টা সরিয়ে সামনে থাকা স্যারের দিকে তাকায় তিনিই রকি কে উদ্দেশ্য করে কথাটা বলে। রকি এতক্ষণ বাইরের নাহিদের কর্ম কান্ড দেখছিলো আর রাগে ফুসছিলো। রকির ক্লাসের জালানা দিয়া ভালো করেই বুঝা যায়, যেখানে নাহিদ রা বসে থাকে। রকি নিজের মাথাটা কে ঠান্ডা করে স্যার কে জবাব দেয়-- স্যার কিছু দেখছিলাম না,, এমনি ভালো লাগতেছিলো না তাই বাইরের দিকে তাকিয়ে ছিলাম।(রকি)


• স্যার চশমা টা ঠিক করে রকিকে বলে-- নতুন জায়গায় প্রথম প্রথম এমন মনে হবে, আস্তে আস্তে ঠিক হয়ে যাবে। তা তুমি কোথা থেকে এসেছো। (স্যার)


• রকি উওর দেয় - আমার নিজের কোনো শহর নেই, যেই শহরে পা রাখি ঐটাই আমার শহর হয়ে যায়। রকির এমন উওর শুনে সবাই অবাক বলে কি ছেলেটা নিজের কোনো নির্দিষ্ট শহর নেই। রকি সবার দিকে চেয়ে ছোট করে একটা মুচকি হাসি দেয়। স্যার ক্লাস সম্পূর্ণ করে বাইরে চলে যায়, অনেক স্টুডেন্ট রকির সাথে বন্ধুত্ব করতে আসে কিন্তু রকি ধনী পরিবারের কারো সাথে বন্ধুত্ব করতে চায় না। রকির দৃষ্টি যায় সবার লাস্ট বেঞ্চে বসে থাকা একটা ছেলের দিকে যার পরণে ময়লা ঢিলেঢালা সাদা কালারের শার্ট, চোখে মোটা ফ্রেমের চশমা, চুলগুলো খানিক টা বড় মুখে দাঁড়িতে ভরে গেছে, শরীরের রঙটা হালকা কালো। কিন্তু কেউ ছেলেটার পাশে বসছে না কারণ ক্লাসের সবাই ধনী পরিবারের সন্তান, ভালো ভালো জামাকাপড় পড়া কিন্তু ছেলেটা গরীব শরীরে নেই ভালো জামাকাপড় তাই তার পাশে কেউ বসছে না। রকি নিজের ছিট থেকে উঠে দাঁড়ায় আর ছেলেটির পাশে যেয়ে বসে। রকিকে দেখে ছেলেটা অবাক হয়ে যায় কেননা যেখানে কোনো স্টুডেন্ট তার আশেপাশে বসে না তার সাথে বন্ধুত্ব করে না কিন্তু আজ হঠাৎ করে নতুন একটা ধনী পরিবারের  ছেলে নিজ ইচ্ছায় তার পাশে বসছে এটা যেন তার বিশ্বাস হচ্ছে না। রকি ছেলেটার হালকা উজ্জ্বল মুখ টা দেখে মুচকি হেসে ছেলেটা কে বলে-- নাম কি তুমার?? (রকি)


• ছেলেটা মাথাটা নিচু করে জবাব দেয়-- আবির। 


• আমরা কি ফ্রেন্ড হতে পারি,,আমি রকি,, বলেই হাতটা বাড়িয়ে দেয় আবিরের দিকে। আবির অবাক হয়ে যায়, বলে কি ছেলেটা গরীব ছোটলোক একটা  ছেলের সাথে ওর মতো স্মার্ট ছেলে ফ্রেন্ড হওয়ার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে,, বুঝতে পারছে না আবির কি করবে।তবুও ভদ্রতার জন্য আবির কাঁপতে কাঁপতে হাত টা রকির সাথে মিলায়। রকি স্মিথ হাসে,,রকি কখনো ধনীদের পছন্দ করে না, গরীবের প্রতি সে নিজের একটা টান অনুভব করে তাই সে গরীবের উপর অত্যাচার সহ্য করতে পারে না। রকি আবির কে নিয়ে ক্লাস থেকে বেড়িয়ে আসে ক্যাম্পাসের আম গাছের নিচে বসে পরে,,আবির রকির সাথে কথা বলতে কেমন যেন একটা লজ্জা লজ্জা লাগছে। রকি আবির কে প্রশ্ন করে-- আবির ঐইখানে কতগুলো ছেলে বাইকের উপর বসে থাকে ওরা কারা,জানিস বা চিনিস তুই। (রকি)


• আবিরের খুবই পরিচিত ছেলেগুলো, নাহিদ, সিয়াম,আরাফ, সাকিন যারা ভার্সিটির প্রথম দিন থেকে আবিরকে র্যাগ দেয়। আবির চায় না নাহিদদের কাছে যাতে রকি র্যাগ খায় তাই সে সাবধান করার জন্য বলে দেয়-- বাইকের উপর আরাম করে যে বসে থাকে ওর নাম নাহিদ, এই ভার্সিটির সভাপতির ছেলে খুবই খারাপ, ছোট বড় সবার জন্য একটা আতংক কারন সে প্রতিদিন ই কারো না কারো সাথে র্যাগিং করে। আর পাশে যারা থাকে সবাই তার বন্ধু, বড় লোক ঘরের সন্তান তাই ক্ষমতার জোরে এগুলো করে। তুই নাহিদদের কাছ থেকে দূরে দূরে থাকবি।(আবির)


• রকি হাসতে থাকে আবিরের কথা শুনে আর বলতে থাকে-- আবির তুই হয়তো জানিস না আমি কে আমার ক্ষমতা কতটুকু, তাই ঐই নাহিদ কে ভয় পাওয়ার কিছু নেই, হতে পারে আমার পরিচয় পেলে আমার সাথে এমন করবে না, আমি দেখি সে আমার সাথে কি কি করতে পারে। (রকি)


• আবির সন্দেহের দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে রকির দিকে,, সে বুঝতে পারছে না রকির কি এমন ক্ষমতা আছে যার কারণে সে নাহিদ কে ভয় পাচ্ছে না। তাই সে প্রশ্ন করে ফেলে-- রকি তর কি এমন ক্ষমতা যার জন্য তুই নাহিদ কে ভয় পাচ্ছিস না। (আবির)


• রকি কাছে আবিরের করা প্রশ্ন টা ভালো লাগে কিন্তু রকি এখনই তার পরিচয় কাউকে দিতে চায় না। তাই আবির কে বলে- আবির তুই কি MK (মি.KING) কে চিনিস। আবির মাথা নাড়ায় যার মানে সে MK কে চিনে। জানিস ই তো  তার কি ক্ষমতা আছে,, আমার একটা বড় ভাই আছে যে MK সাথে কাজ করে। এখন যদি নাহিদ আমার সাথে খারাপ কিছু করে তাহলে বড় ভাই কে বল্লে সে এসে নাহিদ কে যা করার তাই করবে, তবে আমি দেখতে চাই সে আমার সাথে কিছু করে কি না।(রকি)


• রকির কথা শুনে আবিরের কেমন যেন বুকের ভিতর প্রশান্তির বাতাস বয়ে যায় যেন অনেক দিনের কিছু আশা পূরন হতে যাচ্ছে। ‘আচ্ছা রকি তুই তো কত ধনী পরিবারের সন্তান কিন্তু তুই নিজে স্মার্ট হয়ে কেনো একটা বসতির গরীব ছেলের সাথে ফ্রেন্ডশিপ করলি,,তুই চাইলেও ত কত ধনী ছেলে মেয়েদের সাথে বন্ধুত্ব করতে পারতি কিন্তু তা করিস নি কেনো।(আবির)


• রকি নিজের চোখ জোরা বন্ধ করে সামনে ভেসে উঠে তার মায়ের রক্তাক্ত দেহ টার কথাটা। সে দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলে আবির কে জবাব দেয়--জানিস আমিও তর মতো কোনো এক সময় গরীব, বসতিতে থাকতাম কিন্তু সময়ের সাথে সব বদলে আমার জীবন টা উচ্চ শিখরে পৌছে গেছে, আমার মার নিষেধ ধনী পরিবারের সন্তানের সাথে যেন  চলাফেরা না কি আর এমনিতেই আমার এই বিলাশিতার জীবন ভালো লাগে না। তাই মূলত আমি তর সাথে বন্ধুত্ব করেছি, এই আর কি, আর কি না।(রকি)


• রকির এরকম উওরে রকির প্রতি আবিরের শ্রদ্ধা বৃদ্ধি পায়। আবির আবারও রকিকে প্রশ্ন করে-- আচ্ছা রকি তখন যে স্যার তকে জিজ্ঞেস করেছিলো তুই কোন শহর থেকে এসেছিস তখন এমন রহস্যময় উওর দিয়েছিস কেনো সেটা বল।(আবির)


• রকি মুচকি হেসে জবাব দেয়--আমি রহস্যময় ছেলে হতে পারি কিন্তু সব জায়গায় রহস্যময় কথা বলি না। আমার ঐই কথার মানে চাইলেই স্যার বের করতে পারবে,,এখন তকে আর বলতে হবে না তুই নিজেই আমার কথার উত্তর পেয়ে যাবি। কথাটা বলে রকি বসা থেকে উঠে দাঁড়ায় আর আবিরকে বলে -- চল আবির তকে বাসা পর্যন্ত ড্রপ করে দিয়ে আসি।(রকি)


• আবিরও বসা থেকে উঠে দাঁড়ায় আর রকিকে বলে--ভাই তুই গরীবের সাথে চলাফেরা করতে পারিস কিন্তু গরীবের বাড়িতে যেতে পারবি না কারণ গরীবদের বাসার অবস্থা অনেক খারপ যা তুই সহ্য করতে পারবি না।(আবির)


• রকি মুচকি হাসে--চোখটা বন্ধ করলে ছোটবেলার কিছু দৃশ্য তার চোখের সামনে ভেসে উঠে। রকি আবিরের পিঠে হালকা বারি দিয়ে, পকেট থেকে বাইকের চাবি টা বের করে হাতে ঝাকাতে ঝাকাতে বাইকের কাছে যায়। রকি বাইকটা জোরে টান দিয়ে আবিরের সামনে এনে থামায়,, হাতের ইশারায় বাইকে উঠতে বলে আবিরকে। আবির কিছু একটা ভেবে বাইকের পিছনে উঠে বসে। ভার্সিটির অনেকের কাছে এটা যেন সহ্য হচ্ছে না,,এত ধনী পরিবারের ছেলে একটা গরীব ক্ষেত ছেলেকে তার বাইকের পিছনে বসিয়েছে। রকি বাইক টা ছোট একটা বসতির সামনে থামায়,, আবির বাইক থেকে নেমে রকি কে বলে-- ভদ্রতার জন্য বলতাম বাসায় আসার জন্য কিন্তু ব্যাচেলার মানুষ একা থাকি আবার বাসার পরিবেশ ভালো না তাই বাসায় আসার জন্য বল্লাম না,, কিছু মনে করিস না।(আবির)


• রকি মুচকি হেসে বলে-- আরে তুই না বল্লেও আমি যেতাম কিন্তু আমার কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ আছে যার জন্য আজ যেতে পারবো না অন্য আরেক দিন অবশ্যই যাবো তুই না করলেও।(রকি)


• আবির ঠোঁটের কোনে হাসির রেখা ফুটিয়ে রকি কে বিদায় জানায়। আর ভাবতে থাকে রকির সম্পর্কে,, হঠাৎ কোথা থেকে যেন আবিরের কাছে উদয় হলো এক অজানা অচেনা আগন্তুক আর এসেই ভাইয়ের মতো বন্ধুর হাত বাড়িয়ে দেয়। 


..


“ রকি আমি পরের বার এমপি নির্বাচন করতে চাই, তুই এটার ব্যবস্থা করে দিবে  ”


 কিছুক্ষন আগেই মেয়র সাদ্দাম খান রকি কে দেখা করার জন্য ডাকে। আবিরকে নামিয়ে দিয়েই রকি সাদ্দামের বাগায় বাড়িতে চলে আসে। দুজন দুজনের সামনাসামনি বসে আছে কারো মুখে কোনো কথা নেই, সাদ্দাম জানে রকি ঠান্ডা মাথার খেলোয়ার, তাই সে নিজ থেকে রকি কে উদ্দেশ্য করে কথাটা বলে। রকি কিছু বলে না পকেট থেকে সিগারেটের পেকেট বের করে একটা সিগারেট জ্বালায় আর বিষাক্ত ধোঁয়া গুলো নাক দিয়ে ছাড়তে থাকে,, সাদ্দাম জানে রকির এই একটা বদ অভ্যাস আছে সেটা হলো সে সিগারেটের ধোঁয়া নাক দিয়ে বেশি ছাড়ে। রকি একটু শব্দ করে হাসে যেই    হাসিতে লেগে আছে রহস্যময় কিছু আভা আর সাদ্দাম কে বলে-- 


@@@ চলবে @@@


[ প্লিজ কেউ গল্প টা YouTube এ আপলোড দিবেন না। একজন YouTuber গল্প টা আমার কাছ থেকে নিয়েছে। যদি কেউ চুরি করে আপলোড করেন তাহলে তার চ্যানেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হবে ]


wait for the next part.

খুনি দ্যা মাস্টার মাইন্ড--পর্ব:-২৫ --RAJA Bhuiya. (মি.440)

 রহস্যময় মাফিয়া সিরিজ 



# খুনী দ্যা মাস্টার মাইন্ড 

# RAJA Bhuiyan.(মি.440)

# পর্বঃ ২৫


............


আনাফ সবার দিকে তাকায় দেখে সবাই তার দিকে আগ্রহের দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। আনাফ মুচকি হেসে পকেট থেকে আরেকটা সিগারেট বের করে টানতে থাকে, সেখানে এক প্রকার নিরবতা বিরাজ করছে, নিরবতা ভেঙে আনাফ সাহেব বলে --  যার কথার চেয়ে কাজের পরিমান বেশী, সাফল্য তার কাছেই এসে ধরা দেয়। কারণ, যে নদী যত গভীর তার বয়ে যাওয়ার শব্দ তত কম। আমি মাফিয়ার সেই সিংহাসনে বসার জন্য কত কষ্ট করেছি বছরের পর বছর, মাইন্ড গেম খেলেছি কিন্তু হঠাৎ ই দুইটা ছেলে এসে আমার সব প্লেন শেষ করে দিয়েছে। আমার কাজের পরিমাণ অনেক ছিলো কিন্তু সব শেষ হয়ে যাওয়ার পরও আমি হাল ছাড়ি নি শুরু করলাম নতুন মাইন্ড গেম খেলা যেই খেলা শুরুও করবো আমি শেষও করবো আমি। আজ সেই খেলার সমাপ্তি ঘটবে। কি রে রাফি না মানে রাফিন অবাক হয়েছিস আমার কথা আর আগমনে। (আনাফ)


• এই রাফিন কখনো অবাক হয় না কারণ রাফিন সব জায়গায় সঠিক মাইন্ড গেম খেলতে ভালোবাসে। আমি সত্যি জানতাম না যে তর ভালো চেহারার ভিতর লুকিয়ে আছে এমন এক হিংস্র রূপ। কিন্তু আমি এখনো একটা বিষয় বুঝতে পারছি না যে তুই আমাকে কিভাবে চিনতে পেরেছিস। (রাফি)


• হাহাহাহাহা.... তদের সাথে ছোট একটা মাইন্ড গেম খেল্লাম এখানে,, নুসরাত আমার নিজের মেয়ে না সে আমারই কাছের এক বন্ধুর মেয়ে। আমার নিজের ত একটাই ছেলে আর সেটা হলো রিয়াজ,, হাহহাহা,, এখনো শেষ হয় নি আরো একটু টুয়িস্ট বাকি আছে। রিয়াজ কে মাফিয়া টিমে ডুকাই বিশ্বাসের সাথে কিছু দিন ভালো কাজ করায় তরা রিয়াজ কে তদের সাথে নিয়ে নিলি বেছ আমার কাজ শেষ, ভাবলাম তদের মাস্টার মাইন্ডের সাথে আমিও একটু খেলি। ঠিক তেমন ভাবে একটা গেম সাজাই, রিয়াজ খবর দেয় রাফিন আর রাফসান কোনো এক মিশনে ঢাকায়  এসেছে। আমি টার্গেট করি রাফিন কে তাই তো সে দিন সকালে আমার কিছু লোক দিয়ে আমার উপরই হামলা করতে বলি যেটা দেখে রাফিন আমার সাহায্য করতে চলে আসে আর আমি তাকে কোনো কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে আমার বাসায় থাকতে দেই। রাফিনের প্রতি টা পদক্ষেপ আমি লক্ষ্য করি তার পিছু নিতে নিতে আজ গেম টা শেষ করতে চলে এলাম। (আনাফ)


• সবাই আনাফের কথা শুনে অবাক হয়ে যায়। ঢাকার একজন টপ বিজনেসম্যানের মাথায় এত কিছু ছিলো কেউ বুঝতে পারছিলো না। রাফি দাঁতে দাঁত চেপে বলে -- রিয়াজ বেইমানি টা না করলেও পারতি,, আমার সাথে মাইন্ড গেম খেলতে ভালোবাসি এর মানে এটা না যে তুই আমাকে তদের মাইন্ড গেমের গুটি হিসেবে ব্যবহার করবি। (রাফি)


• আনাফ পকেট থেকে একটা পিস্তল বের করে, দেখেই বুঝা যাচ্ছে পিস্তল টা আগে থেকেই রিলোড দেওয়া। আনাফ পিস্তল টা রাজের দিকে তাক করে কেউ কিছু বলার আগেই আনাফ পিস্তলের ট্রিগারে চাপ দেয়, বুলেট টা যেয়ে রাজের পায়ে লাগে, রাজ ব্যাথায় কুঁকড়ে উঠে, অতিরিক্ত ব্যাথা রাজ নিচে পরে যায়। এটা দেখে আনাফ জোরে জোরে হাসতে থাকে আর সবাই কে উদ্দেশ্য করে বলে -- আমি অনেক মাইন্ড গেম খেলেছি এবার একটু মাস্তানী টাইপের রকস্টার হয়ে গেলাম, এখানে সবাই সবার শত্রু কেউ টাকা আর ক্ষমতার লোভে এসেছে আবার কেউ প্রতিশোধের নেশায় এসেছে৷ সবার উদ্দেশ্যই আলাদা আলাদা, এত দিন মাইন্ড গেমার হয়ে ভালো লাগতেছে না তাই হাত টা কে ফ্রেশ করতে আমার হালকা মাস্তানী খেলা দেখাবে। (আনাফ)


• রাফি চিৎকার দিয়ে গালি দিয়ে বলে-- কুত্তার বাচ্চা তুই এটা কি করলি রাফসান কে গুলি করলি কেনো। তকে আজ আমি নিজ হাতে মারবো কিন্তু এখন না, আমার এখন মাইন্ড গেম খেলার নেশা চেপেছে তদের সবার সাথে মাইন্ড গেম খেলতে চাই আমি। (রাফি)


• হাহাহাহাহা,, মাইন্ড গেম,, এই খেলাটা খেলতে সময় পাবি না, আমি আর অপেক্ষা করতে পারবো না, আমি খেলাটা কে এখানেই শেষ করবো। (আনাফ)


“ আনাফ কথাটা বলে রাফির দিকে পিস্তল টা তাকে করে ট্রিগারে চাপ দিবে তখনই পাশ থেকে মেহেরাব জোরে জোরে হাত তালি দিতে থাকে। সবার দৃষ্টি এখন মেহেরাবের দিকে, এতক্ষন চুপ করে থাকা ব্যক্তি টা এখন শব্দ করলো,,যেন ঘুমন্ত বাঘ হঠাৎ করে জেগে উঠেছে। মেহেরাব ঠোঁট থেকে সিগারেট টা বাম হাতে নিয়ে একটু সামনের দিকে এগিয়ে যায়। 

মেহেরাব সামনে যেয়ে একটু শব্দ করে বলে -- আনাফ খেলাটা ছিলো আমাদের হঠাৎ করে তর আগমন এটা কিন্তু ঠিক না। আমাদের খেলা আমরা খেলবো তুই চলে যা এটা তর জন্য ভালো হবে। (মেহেরাব)


• হাহাহাহাহা,, শোন মেহেরাব এক সময় তুই আমার বন্ধু ছিলি কিন্তু তর বেইমানীর কারণে তুই আমার শত্রু হয়ে গিয়েছিস। আজকের দিন টা কারো সামনে আসতো না শুধু মাএ তর বেইমানীর জন্য এই অবস্থা। (আনাফ)


• আমি বেইমানি করি নি করেছিস তুই, কিং হওয়ার জন্য তুই আমাকে মারতে চেয়েছিলি, তাই আমিও তর সাথে বেইমানী করতে বাধ্য হয়েছি। (মেহেরাব)


• সত্যি বলতে কি, তকে আরো আগে মেরে ফেলা উচিত ছিলো, তাহলে আজ তর কারণে সময় নষ্ট হতো না। (আনাফ)


• হাহহাহা,, চাইলেও তুই আজ আমাকে মারতে পারবি না।(মেহেরাব)


“ মেহরাবের কথা শুনে আনাফ তার রিলোড দেওয়া পিস্তল টা মেহেরাবের দিকে তাক করে, এটা দেখে কেউ কিছু বলছে না সবাই কেবল বোকার মতো চেয়ে আছে। আনাফ ট্রিগারে চাপ দিবে তখনই দূর থেকে সাইলেন্সার লাগানো স্নাইপারের বুলেট এসে আনাফের ডান হাতের কব্জি তে লাগে। আনাফের হাত থেকে গান টা পরে যায় মাটিতে, আনাফ বাম হাত দিয়ে ব্যাথা কমানোর বৃথা চেষ্টা করে। মেহেরাব শব্দ করে হাসতে হাসতে নিচে পড়া পিস্তল টা হাতে নিয়ে নাড়াচাড়া করতে থাকে। দূর থেকে কেউ আসছে যার কারণে সামনের আলো গুলো বাধা পাচ্ছে সবার দৃষ্টি সেদিকে,, কালো রকস্টারের ড্রেস মাথায় কালো লম্বা টুপি, মুখে মাফিয়া মাক্স, হাতে কালো কালারের AWM, নিয়ে সবার সামনে দাঁড়ায়। মেহেরাব ছাড়া সবাই আগন্তুক টা কে চিনার চেষ্টা করছে, কিন্তু কেউ আগন্তুক টা কে চিনতে পারছে না। সবার দৃষ্টি যখন আগন্তুকের দিকে তখন মেহেরাব পাশে AK নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা বডিগার্ডের বুকে গুলি চালায়। হঠাৎ করে গুলি চালানোর শব্দ সবাই মেহেরাবের দিকে তাকায়... 


মেহেরাব একটু হাসে, একবার আগন্তুক টার দিকে চেয়ে জোরে জোরে বলতে থাকে -- চলে এসেছে আমার খেলোয়ার, নিজ হাতে তৈরী করেছি আমি তাকে। মাস্তানির এই জগতে আমি মাস্টার মাইন্ড খেলতাম আর মাস্তানী করতো সে। এখন খেলাটা শেষ করে আমি আমার অপেক্ষার সমাপ্তি ঘটাবো। (মেহেরাব)


* সবাই অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে আগন্তুক টার দিকে বুঝার চেষ্টা করছে কে এই আগন্তুক যাকে মেহেরাব নিজ হাতে তৈরী করেছে। কিন্তু সবার চিন্তা চেতনা বৃথা যায় কেউ চিনতে পারছে না তাকে। সবার এমন অবাক হওয়া চাওয়া দেখে আগন্তুক টা মুচকি হেসে, মাথার লম্বা টুপি টা সরায়, মুখ থেকে মাক্স টা সরায়। 


• আগন্তুক টা কে দেখে রাফি মুখ ফোটে বলে উঠে -- নুসরাত তুমি। (রাফি)


• Yes আই এম নুসরাত,, মাস্তানী শহরের ছোট একটা মাস্তান। ছোট থেকেই মাফিয়াদের স্টাইল আমার কাছে ভালো লাগতো কিন্তু কখনো সামনে থেকে সেই ভয়ংকর মাফিয়া গুলোর মুখ দেখতে পেতাম না। আজ আমার কিছু স্বপ্ন পূরন হতে চলেছে নিজ হাতে কিছু মাফিয়া শিকার করবো। কথাটা বলেই AWM টা রিয়াজের দিকে তাক করে চোখের পলকের আগে নুসরাতের স্নাইপার থেকে একটা বুলেট যেয়ে রিয়াজের কপাল টা বেদ করে বাইরে চলে যায়। পাশে দাঁড়িয়ে থাকা আনাফ যেন বিশ্বাস ই করতে পারছে না, নুসরাত এমন কিছু করবে আনাফ ভয় পেয়ে যায়। নুসরাত স্নাইপার টা রিলোড দিয়ে আনাফের দিকে তাকে করে বলে -- Get ready for death Mr. Anaf. (নুসরাত) 


• আনাফ কথাটা শুনে ভয়ে একটা ঢোক গিলে বলে -- নুসরাত তুই ত আমার একমাত্র মেয়ে তুই আমার সাথে এটা কিভাবে করতে পারিস। হাত থেকে গান টা নামা আমার লেগে যেতে পারে। (আনাফ)


• হাহাহাহাহা,, আমি জানি মি.আনাফ আপনি আমার বাবা না, আমার বাবার নাম শামিম আহম্মেদ যে এক সময় আপনার অতি কাছের বন্ধু ছিলো কিন্তু আপনি আমার বাবার সাথে বেইমানি করে মেরে ফেলেছেন। আমাকে ছোট থেকে নিজের মেয়ে হিসেবে লালিত পালিত করেছেন। আমি আজকের এই দিন টার জন্য অপেক্ষা করছিলাম,, আজ তা এসে গেছে। (নুসরাত)


• নুসরাত মামুনি এগুলো মিথ্যা কথা আমি তোমার আসল বাবা, তুমি আমার নিজের মেয়ে। (আনাফ)


• হাহাহাহাহা,, আনাফ আজ যতই মিথ্যা বলিস না কেনো বাঁচতে পারবি না তুই। মৃত্যুর সামনে দাঁড়িয়ে আছিস তুই এখন সত্যি টা বলে দে। (মেহেরাব)


• কি সত্যি বলবো আমি, এটা যে শামিম কে আমি মারি নি। নুসরাত শুন আমার কথা তর বাবাকে মেরেছে.........  আনাফ আর কোনো কথা বলতে পারে না নুসরাতের হাতে থাকা স্নাইপার থেকে একটা বুলেট বের হয় যেটা গিয়ে আনাফের গলায় লাগে, পরিবেশ টা নিস্তব্ধ হয়ে যায়। আশেপাশে শুনা যাচ্ছে মানুষ গুলোর নিশ্বাস ছাড়ার শব্দ। এবার নুসরাত বলে -- মেহেরাব সাহেব আমার বাবার মৃত্যুর প্রতিশোধ নেওয়া শেষ এবার আপনার খেলাটা শেষ করার পালা কাকে শেষ করতে হবে। (নুসরাত) 


• মেহেরাবে হাতে থাকা সিগারেট টা প্রায় শেষের দিকে চলে এসেছে একটা জোরে টান দিয়ে ধোঁয়া গুলো নিরবচ্ছিন্ন মুক্ত  বাতাসে ছেড়ে দেয়। তিনি এবার বেশ গম্ভীর গলায় বলতে থাকে -- গেম খেলা শেষ কিন্তু একসন ত এখন শুরু হবে। নুসরাত  আমার মাইন্ড গেমের সেই মাস্তান। (মেহেরাব)


• রাফি আর দেরি করতে চায় না। পায়ের কাভার পয়েন্ট থেকে ছোট পিস্তল টা বের করে একটা গুলি করে বুলেট টা যেয়ে নুসরাতের বাম হাতে লাগে,, নুসরাতের হাত থেকে AWM টা নিচে পরে যায়। রাফি হাসতে হাসতে বলে --  তদের খেলা খেলতে খেলতে আমার সময় নষ্ট করে ফেলেছিস আমি আর বেশি টাইম নষ্ট করতে চাই না, এখানে যত সময় নষ্ট হবে মৃত্যু তত তার কাছে হানিয়ে আসবে। মাস্তানীর জগৎ টা শুধু রক্তের খেলা এখানে সবাই রক্তের নেশায় মেতে উঠে। যার পিস্তল থেকে যত তাড়াতাড়ি সঠিক নিশানায় বুলেট বের হবে সেই বেচে যায়। যারা পিছন থেকে মেরে দেয় তারা লুজার না তারাই আসল মাস্তান। (রাফি)


• সবার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সালমান একটার পর একটা সিগারেট টেনে যাচ্ছে এভার সে একটু সামনে যেয়ে বলতে থাকে -- তদের এই বিরক্তিকর  কাহিনী আমার কাছে ভালো লাগতেছে না। আমি মাফিয়া কিং হতে চাই, এখন তদের কাউকে বাঁচত দিবো না। সালমান কথাটা বলে কোমরের পিছন থেকে একটা পিস্তল বের করে, চোখের পলকের আগে দুইটা গুলি করে, প্রথম বুলেট টা যেয়ে নুসরাতের কপালে লাগে গরম বুলেটে নুসরাতের নরম চামড়া বেদ করে মাথার পিছন দিয়ে বেড়িয়ে যায়। দ্বিতীয় বুলেট টা যেয়ে সোজা মেহেরাবের ডান পায়ে লাগে। মেহেরাব ব্যাথায় চিৎকার দিয়ে নিচে পরে যায়। সবাই অবাক সালমানের এমন কান্ডে। সালমান নিচে পরে থাকা সিগারেটের পেকেট আর লাইটার টা হাতে নিয়ে তার থেকে একটা সিগারেট বের করে জ্বালায়। মনের সুখে বড় করে একটা টান দিয়ে বলে-- আমি জানি মেহেরাব মাফিয়া কিং হওয়ার জন্য আমাকে আর ফরহাদ কে ব্যবহার করছে। মেহেরাব বেইমানি করে আমাদের দুজন কে মেরে দিবে তাই নিজ হাতে গুলি টা করলাম তাকে। (সালমান)


• সালমান তুই এটা কি করলি আমি রাফিন আর রাফসান কে মেরে তকে মাফিয়া কিং বানিয়ে দিতাম তবে কেনো তুই পিছন থেকে আমার সাথে বেইমানি টা করলি। ( মেহেরাব)


 • হাহহাহা,, পিছন থেকে মারাটা আমার স্টাইল তাও আবারো ছোট থেকে। (সালমান)


“ পরিবেশ টা থমকে গেছে সালমানের অবাক করা কান্ডে। রাফি আর রাজ জানে সালমান সবার সাথে বেইমানি করে কিন্তু সবার সামনে এবাবে বেইমানি করবে ভাবাচ্ছে দুজন কে। রাজ এতক্ষণ মাটিতে পরে ব্যাথায় কাতরাচ্ছিল কিন্তু এখন উঠে দু হাঁটু বাজ করে বসে হাতে একটা পিস্তল নাড়াচাড়া করছে। সবার দৃষ্টি টা এখন রাজের দিকে,, এবার রাজ শব্দ করে হেসে বলে... 


• মাফিয়ার শহরে রাফিয়ানের শত্রু থাকবেই, তাই বলে কি শত্রুকে কিছু না বলে ছেড়ে দিবো। আমি শত্রুর সামনে নিজেকে দুর্বল করি, কারণ হলো শক্তিশালী শত্রু কখনো দুর্বল কে মারে না। আমি চান্স দিতে নয় চান্স নিতে ভালোবাসি। আমার মাইন্ড গেম খুবই আলাদা টাইপের, আমি কাউকে কপি করে মাইন্ড গেম খেলি না নিজে নিজের মতো করে গেম সাজাই আর সেটা জিতে বাড়ি ফিরি। (রাজ)


• অনেকক্ষণ চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তি - ফরহাদ এবার রেগে কথা বলতে শুরু করে -- সালমান এই সালাকে আগে মারার দরকার,, বেশি কথা বলে ফেলছে কিন্তু। (ফরহাদ)


• ফরহাদের কথা শেষ হওয়ার সাথে সাথে রাজ একটা গুলি করে বুলেট টা যেয়ে ফরহাদের বুকের বাম পাশে লাগে। ফরহাদ বুকে হাত দিয়ে মাটিতে পরে যায়,, মুরগীর বাচ্চার মতো করে হাত পা নাড়াচাড়া করতে করতে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করে। এটা দেখে সালমানের হাতে থাকা পিস্তল টা রাজের দিকে তাজ করে  জোরে জোরে বলতে থাকে -- এই কুত্তার বাচ্চা তুই কি করলি এটা ফরহাদ কে মেরে দিলি কেনো,, তকে আমি এখনই শেষ করবো । (সালমান)


“ হিহিহিহিহিহি.... আমার গেম খেলা এখনো শেষ হয় নি,, আরেকটা খেলা দেখবি, দেখ তাহলে রাজ কথাটা বলে শেষ করার সাথে সাথে আশেপাশের সব বডিগার্ড গুলো নিচে পড়তে থাকে। কোথা থেকে যেন সাইলেন্সার লাগানো স্নাইপার চালানো হচ্ছে যার কারণে কারো কপালে কারো বুকে এসে বুলেট গুলো পতিত হচ্ছে। “


• সালমান তুই আমাদের সাথে বেইমানি করেছিস,, সেটার কঠিন শাস্তি তুই এখন পেয়ে যাবি। (রাজ)


“  রাজের কথা শুনে সালমান ভয় পেয়ে যায় আর পিছাতে থাকে। রাফি হাতে গান টা নিয়ে, সালমানের চুল গুলো ধরে সালমানের মুখটা হা করিয়ে পর পর তিন টা গুলি করে। সব গুলো বুলেট সালমানের মুখের ভিতরে খরচ হয়। রাফি উঠে এসে মেহেরাবের সামনে দাঁড়ায়,, আর রাজ কোনো মতে পরে, থাকা চেয়ার টা টান দিয়ে পায়ের উপর পা তুলে বসে একটা সিগারেট জ্বালায়। রাফি মেহেরাবের মাথা বরাবর পিস্তল টা তাক করে পিস্তলের ট্রিগারে চাপ দিবে তখনই দুইটা ব্ল্যাক কালারের বাইক এসে থামে তাদের সামনে। বাইকের হালকা ধাক্কায় রাফির হাত থেকে পিস্তল টা নিচে পরে যায়, রাফি তার ডান হাতে হালকা ব্যাথা পায়। বাইক থেকে আগন্তুক দুইটা নামে পরনে তাদের মাফিয়া রকস্টার কালো ড্রেস। এবার আগন্তুক দুইটা নিজেদের জুকার মাক্স খুলে ফেলে।” 


 রাফি আর রাজ আগন্তুক দুটোর চেহারা দেখে  বলে  -- রিমি,,, জান্নাত। 


রিমি যেয়ে মেহেরাবের সামনে দাঁড়ায়। 


• মেহেরাব নিচে হালকা করে দু হাঁটু বাজ করে বসার চেষ্টা করে। হাহাহাহাহা করে হাসতে হাসতে বলে -- চলে এসেছে আমার মেয়ে এখন তদের সব কটাকে মেরে শেষ করে দিবে। (মেহেরাব)


• মেহেরাবের কথা শুনে রিমি মুচকি হেসে বলে -- আজ আমি তোমাকে বাঁচাতে আসি নি বাবা, আমার মায়ের মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে এসেছি। (রিমি)


• মেহেরাব অবাক হয়ে বলে-- মানে? (মেহেরাব)


• হিহিহিহিহি... তুমি আমাকে মিথ্যা একটা গল্প শুনিয়েছিলে যে আমার মাকে তুমার বড় ভাই মেরেছে। কিন্তু আমি তুমার গোপন ডাইরিটা পড়ে সব জেনে গিয়েছি,, আজ আমি সেই প্রতিশোধ নিবো। (রিমি)


“ মা এটা মিথ্যা কথ..... মেহেরাব আর কথা বলতে পারে না এর আগেই রিমি পিছন থেকে দুইটা পিস্তল বের করে গুলি করতে থাকে যতক্ষণ না পর্যন্ত বুলেট শেষ না হয় ততক্ষণ পর্যন্ত গুলি করতে থাকে। মেহেরাব ফ্যালফ্যাল করে আছে আকাশে দিকে। রিমি পিস্তল দুইটা নিচে ফেলে দিয়ে রাজদের কাছে আসে। রিমি যেয়ে রাজের পাশে দাঁড়ায়,, ”


জান্নাত রাফির সামনে এসে হাঁটু বাজ করে রোমান্টিক ভাবে প্রপোজ করার স্টাইলে বসে বলতে থাকে -- জীবনটা অনেক সুন্দর, যদি কারো ভালোবাসায় এ জীবন পূর্ণতা পায়, যদি কেউ তোমার কষ্টটা ভাগ করে নিতে চায়। আর আমি তোমার কষ্ট গুলো নিতে চাই। আমার সকল আনন্দ তোমার মাঝে বিলিয়ে দিতে চাই। ভালোবেসে সারাজীবন ভালোবাসায় বেঁধে রাখবো,যদি একটি বার সাড়া দাও। বিধাতাও কষ্ট পাবে যদি তুমি আমার না হও। জীবনে মরণে বেঁধে রাখিবো প্রিয়তম জনম জনম ধরে, সখা যদি হাত দুটি বাড়াও। ভালোবাসার সংজ্ঞা আমার জানা নেই। যদি কাউকে দেখার জন্য বারবার মন আনচান করার নাম ভালোবাসা হয়, তবে আমি তোমাকে ভালোবাসি। যদি শয়নে স্বপনে তাঁকে নিয়েই হৃদয় মাঝে ছবি আঁকানোর নাম ভালোবাসা হয় তবে আমি তোমায় ভালোবাসি। যদি অনুমতি দাও, সারাজীবন ভালবাসতে চাই,, ভালোবাসি রাফি অনেক ভালোবাসি তুমাকে।( জান্নাত) 


“ শুরু হয়ে যায় বৃষ্টি. ' রাফি জান্নাত কে নিচে থেকে উঠে দাঁড় করিয়ে জরিয়ে ধরে। এটা দেখে রাজ ও রিমি মুচকি হেসে দুজন দুজনকে ভালোবাসার আভেসে জরিয়ে ধরে ”


--------------- শুভ সমাপ্তি ---------------


[ গল্প টা অনেক দিন ধরে লিখছি অনেকে পাশে ছিলো যারা সাপোর্ট করেছে তাদের জন্য  অনেক অনেক ভালোবাসা রইলো। যারা গল্প টা পড়েছেন দয়া করে ভালো করে এক লাইনের একটা মন্তব্য করবেন আজ] ধন্যবাদ 


----------- ❤❤❤❤❤❤-----------

KGF of Diamond City. ৪ # লিখা :- RAJA Bhuiyan. (মি.440) # পর্ব :- ০ ৪

 # গল্প :- KGF of Diamond City. ৪ # লিখা :- RAJA Bhuiyan. (মি.440) # পর্ব :- ০ ৪ ............. আকাশে তাজা সূর্যের তীব্র আলো। শকুন আর গাংচিলদ...